আমন ধান বীজের কৃত্রিম সংকট

এখন বর্ষাকাল। সারা দেশে চলছে আমন ধানের বীজতলা তৈরির কাজ। কৃষকরা যখন  আমন মৌসুমে ফলন বাড়ানোর কাজে ব্যস্ত, ঠিক তখন এক শ্রেণির অতিলোভী বীজ ডিলার ও ব্যবসায়ী বাজারে আমন বীজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন। তারা নির্ধারিত দামের দ্বিগুণ মূল্যে আমন ধানের বীজ বিক্রি করে সাধারণ কৃষকদের প্রতারিত করছেন। জানা গেছে, বিএডিসির আমন ধানের ১০ কেজি ওজনের প্রতি প্যাকেট ভিত্তি বীজের সরকার নির্ধারিত মূল্য ৪০০ টাকা এবং প্রত্যায়িত ও মান ঘোষিত বীজের দাম যথাক্রমে ৩৫০ ও ৩৪০ টাকা।  অথচ  বিএডিসির সেই বীজ স্থান ও ডিলার ভেদে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা। এর ফলে ১০ কেজি ওজনের প্রতি প্যাকেট বীজ থেকে ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছেন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। দেশের প্রায় প্রতিটি এলাকায় বিএডিসির ডিলাররা উত্তোলনকৃত আমন ধানের বীজ ন্যায্য মূল্যে কৃষকদের নিকট বিক্রি না করে কালো বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন অথবা নিজেরাই কৃষকদের নিকট দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছেন বলে পত্র পত্রিকায় খবর বের হয়েছে।

পত্রিকান্তরের প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, নরসিংদী জেলার মনোহরদীতে আমন মৌসুমে ধান বীজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে প্রকাশ্যে দ্বিগুণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ডিলাররা। কৃষকরা হাটে-বাজারে সরকার অনুমোদিত বিএডিসির ডিলারদের দোকানে দোকানে ঘুরে নির্ধারিত দামে বীজ পাচ্ছেন না। ডিলাররা এসব বীজ কালো বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করে দিচ্ছেন।  এ কারণে বীজের অভাবে চাষাবাদ ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশংকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। অনেক কৃষক হতাশ হয়ে খোলা বাজার থেকে নিম্নমানের বীজ কিনে বীজতলা স্থাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কারণে আমন মৌসুমে ধানের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, কোথাও কোথাও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের খবরও বের হয়েছে। সম্প্রতি নেত্রকোনার কমলাকান্দা সদরে আমন ধানের বীজ কালো বাজারে বিক্রির দায়ে বীজ ব্যবসায়ী মোঃ মানিক মিয়াকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ বছর অতিবৃষ্টি, পাহাড়ী ঢল ও ব্লাষ্ট রোগের কারণে বোরো ধানের উৎপাদন অনেক কম হয়েছে এবং সম্প্রতি মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে কৃষকের খরিপ মৌসুমে রোপণকৃত সবজি ও মসলা ফসল বিনষ্ট হয়ে গেছে। তারপরও তাঁদেরকে যদি আমন ধানের বীজ সংগ্রহ করতে গিয়ে এভাবে হয়রানীর শিকার হতে হয়, দ্বিগুণ মূল্য দিতে হয়, তাহলে কৃষকরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? আর কেনই বা তাঁরা ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আমন ধান চাষ করে প্রতারণা ও বিড়াম্বনার শিকার হবেন এমন প্রশ্নতো উঠা অবান্তর নয়। পরিশেষে, কৃষক ও খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মহলকে এখনই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, নতুবা এর জন্য সমগ্র জাতিকে বিরাট মাশুল গুণতে হবে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করেন ।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare