আলকোরআন এর আলোকে বৃষ্টির কল্যাণ

ড. মো. আবু বকর*

 

(বাকী অংশ)

আমরা বলেছি যে, শস্যের ক্ষেত্রে ও জীবনের দুইটি ভিন্ন ভিন্ন রূপ আছে যথা (১) শারীরীক রূপ ও (২) আত্মীক রূপ। আমরা যদি উদাহরন স্বরূপ গম কিংবা যবের কথা সামনে রাখি তা হলে দেখবো তার একটি বীজ রয়েছে। সে বীজ মাটিতে বুনলে অথবা বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার জন্য যথাযথ অবস্থা সৃষ্টি করলে অঙ্কুরিত হয়ে একটি শিশু গাছের জম্ম দেয়। এখানে যে প্রশ্নটি থেকে গেলো তা হচ্ছে এই যে, বীজ থেকে তো শিশু গাছ জম্মালো কিন্তু বীজ জন্মালো কোত্থেকে। এখানেই হলো সেই কুশলী মাহন আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি কৌশলের বিশেষত্ব। তিনি যেমনি পারেন কোন কিছুর অনুরূপ বা কোন কিছু থেকে কিছু সৃষ্টি করতে তেমনি সক্ষম কোন কিছু ছাড়াই কিছু সৃষ্টি করতে। কাজেই কোরানে হাকীমের ভাষ্যমতে আদি সৃষ্টিটি আল্লাহ তায়ালা নিজেই অস্তিত্বে এনেছেন। মানুষ তার নিজস্ব ক্ষমতায় না কোন বীজ সৃষ্টি করতে পারে আর না কোন বীজকে অঙ্কুরিত করে কোন পূর্নরূপ গাছে পরিণত করতে পারে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা তার একচ্ছত্র ক্ষমতার কথা জানাছেন এভাবে, “আফারআইতুম মা তাহরুছূন, আ-আন্তুম তাজরা-উনাহু আমনাহনুয্ যারি’উন, লাও নাশাউ লাযায়’লনা-হু হুতোয়ামান ফাযোয়ালতুম তাফাক্কা-হুন (আল-ওয়াকেয়া: ৬৩-৬৫)। অর্থাৎ তোমরা (যমীনে) যে বীজ বপন করে আসো সে সম্পর্কে কি কখনোও চিন্তা করেছো? তা থেকে ফসলের উৎপাদন কি তোমরা করো না আমিই তার উৎপাদনকারী? অথচ আমি যদি চাই তা হলে সব বীজ খড়কুটায় পরিণত করে দিতে পারি। আর তা দেখে তোমরা হতভম্ব হয়ে পড়বে। উপরোক্ত উদৃতি থেকে বুঝা গেলো যে বীজ অঙ্কুরিত করানো বা শস্য উৎপাদন এর সর্বময় ক্ষমতা মহান আল্লাহ তায়ালার হাতে ন্যস্ত রয়েছে। তবে এ ক্ষমতার তিনি যথেচ্ছ বা অযৌক্তিক ব্যবহার কখনও করেন না। এ পর্যায়ে আমরা শস্যের ক্ষেত্রে জীবনের দুইটি রূপ যথা: শারীরীক রূপ ও আত্মীক রূপ এর আলোচনায় ফিরে যাবো। ইতোপূর্বে আমরা উল্লেখ করেছি যে গম কিংবা যব শস্য উৎপাদনের জন্য জমিতে বীজ বুনার পর বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার প্রয়োজনীয় অবস্থা বিরাজ করলে বীজের অভ্যন্তরে সংরক্ষিত ভ্রুণ অঙ্কুরিত হয়ে শিশু গাছের জম্ম দেয়। শিশু গাছ ক্রমান্বয়ে বড় হয়ে একটি পূর্ণ বয়স্ক গাছে রূপান্তরিত হলে তা থেকে ফুল বের হয়ে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন বীজ হয়। একটি নির্দিষ্ট সময়ে সেই পূর্ণ বয়স্ক শস্যের গাছটি বীজের মাধ্যমে তার ভবিষ্যৎ বংশগতি রেখে মারা যায়। কৃষক তার জমি থেকে গাছের পরিপক্ক বীজগুলো সংগ্রহ করে রাখে এবং নতুন বীজ থেকে পূণরায় অনুরূপ শস্য উৎপাদন সম্ভব হয়। এমনকি নুতন বীজের শুধুমাত্র ভ্রুণটি সম্ভব সংরক্ষণ করে টিস্যু রিজেনারেশন পদ্ধতিতে নুতন গাছের উদ্ভব ঘটানো সম্ভব। এখানে লক্ষনীয় হচ্ছে এই যে, গাছের বিভিন্ন অবস্থা এবং পরিশেষে এর মৃত্যু হচ্ছে উক্ত শস্যটি শারীরিক রূপ, আর বীজ অথবা ভ্রুণ হচ্ছে তার আত্মীক রূপ। আত্মাকে পূর্ণ দেহ বিশিষ্ট মানুষে রূপান্তর করেন আল্লাহ তায়ালা। তারই প্রতিরূপটি কার্যকরী হয়ে আছে মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্ট সকল জীবের মাঝে। জীবের এ শারীরিক রূপটিকে প্রতিপালনের জন্য প্রয়োজন হয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহের এবং তা একেক প্রাণীর জন্য ভিন্ন ভিন্ন। অনুরূপভাবে তা গাছ পালা বৃক্ষরাজী ও শস্যের জন্য প্রাণী থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে। আমাদের আলোচনার বিষয় ছিল বৃষ্টিপাত শসোৎপাদনে কিরূপে কল্যাণ করে থাকে। এ বিষয়টির আলোচনায় আমাদের মনে রাখতে হবে যে প্রতিটি জীবনের জন্য পানি অপরিহার্য, হউক তা প্রাণী কিংবা উদ্ভিদ। অন্য কথায় আমরা যাকে শস্যও বলছি, এ শস্যের জীবনের শারীরিক রূপটির গঠনের একক গঠন বস্তু হচ্ছে এক একটি কোষ যেরূপ একটি ইমারতের একক গঠন উপাদান হচ্ছে এক একটি ইট। এ কোষ গুলোর সর্বাধিক অংশ হচ্ছে প্রোটাপ্লাজম যা মূলত: জলীয় উপাদানে তৈরি ফলে কোষের এ জলীয় অংশে সর্বদাই পানি দ্বারা সিক্ত ও পরিপূর্ণ রাখতে হয়। এই কোষের জলীয় অংশ শুকিয়ে গেলে কোষের মৃত্যু ঘটে। কাজেই বিষয়টি সহজেই বুঝা যাচ্ছে, শস্য উৎপাদন তথা কোন উদ্ভিদ জম্মানোর ক্ষেত্রে পানি হচ্ছে সর্বাধিক প্রয়োজনীয় উপকরন। আর এ উপকরনটি সরবরাহের মাধ্যমে বৃষ্টিপাত শস্যোৎপাদনে প্রভুত কল্যাণ সাধন করে থাকে। যেখানে কিংবা যে সময়ে বৃষ্টিপাত হয়না সে এলাকায় ঐ সময়ে শস্য জম্মাতে হলে কৃত্রিম উপায়ে পানি সেচ প্রদান করা অতীব প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। পানি ব্যতীত কোন শস্যই আবাদ করা সম্ভব হয় না। সুরা আন নাহলের ১০ থেকে ১১ নং এ দুটি আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা বৃষ্টিপাতের ফলে মানুষের যে পাঁচটি কল্যাণের কথা উল্লেখ করেছেন তার তৃতীয়টি হলো এই যে (৩) বৃষ্টি পশু খাদ্য উৎপাদনে সহায়তা করে। আয়াতের উদৃতাংশে বলা হয়েছে, “মিনহু শাজারুন ফীহি তুসিমুন” অর্থাৎ এ বৃষ্টি থেকে যে সকল গাছ গাছালী পয়দা হয় তা যেমনি তোমাদের খাদ্য শস্যের অন্তরভূক্ত আছে অনুরূপ ভাবে তোমাদের পশু গুলোর জন্যও তো খাদ্যের প্রয়োজন। মহান আল্লাহ তায়ালা শুধু মানুষের প্রভূ নন। তিনি সকল সৃষ্টির প্রভূ লালন পালন কর্তা ও ‘রব’। আর সে জন্যই তিনি মানুষের খাদ্যের সংস্থানের পাশাপাশি পশু খাদ্যের কথাও ভুলে যাননি। খোদা প্রদত্ত বৃষ্টি পাতের ফলে যেমনি গাছ-গাছালীর উদ্ভব হয় তেমনি বেড়ে ওঠে পশু চারণ ভূমির পশু খাদ্যের উপযোগী ঘাসগুলো। পশু মানুষের জন্য একই ভাবে প্রয়োজনীয় যেমনি প্রয়োজনীয় তার খাদ্য শস্য। খাদ্য শস্য থেকে মানুষ সাধারণ ভাবে পেয়ে থাকে শ্বেতসার বা শর্করা জাতীয় খাদ্য আর পশুর গোশত থেকে পায় প্রাণীজ আমিষ। খাদ্যের দুটো উপাদানই মানুষের অতীব প্রয়োজনীয়। ফলে মহান আল্লাহ খাদ্য শস্যের উৎপাদনের পাশাপাশি পশু খাদ্যের বিষয়টি উল্লেখ করে তার উৎপাদনে বৃষ্টির কল্যাণকারীতার বিষয়টির প্রতি মানুষের দৃষ্টি নিক্ষেপ এর সুযোগ করে দিয়েছেন। উদৃত আয়াতে বৃষ্টি পাতের দ্বারা চতুর্থ যে কল্যাণ এর কথা উল্লেখ করেছেন তা হচ্ছে (৪) ফল চাষে পানি সরবরাহ বা সেচ প্রদান। ইতোপূর্বে আমরা মানুষের মৌলিক খাদ্যোপাদানগুলির মধ্যে পানি, শর্করা (খাদ্য শস্য) ও প্রাণিজ আমিষের (গৃহ পালিত পশু) সংস্থানে বৃষ্টির কল্যাণ এর বিষয়গুলোর উপর আলোকপাত করেছি। এবার ফল অবাদে বৃষ্টির কল্যাণ বিষয়টা সামনে আনা যায়। মানুষের খাদ্যের অন্য দুইটি মৌলিক উপাদান হল ভিটামিন ও মিনারেলস বা খনিজ যা মূলত: পাওয়া যায় ফল ফলাদী থেকে। কাজেই মহান আল্লাহ তায়ালা বৃষ্টির কল্যাণ নির্দেশ করতে যেয়ে মানুষের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় ভিটামিনস ও খনিজ সরবরাহকারী ফলের উৎপাদনে বৃষ্টি কি অবদান রাখে তা এড়িয়ে যাননি। আমরা জানি ফল প্রদানকারী উদ্ভিদ মূলত: উদ্ভিদই যার গঠন মৌলিক ভাবে শস্য প্রদানকারী উদ্ভিদ এর অনুরূপ হলেও কিছু বুনিয়াদী পার্থক্যের কারণে তা নিয়ে পৃথক আলোচনা প্রয়োজন। শস্যের ক্ষেত্রে উদ্ভিদ এর জীবন কাল সুনির্দিষ্ট। এর একটি মৌসুম ভিত্তিক জীবন পরিধি আছে। মৌসুম শেষে তার পরিসমাপ্তি ঘটে। কিন্তু ফলবান বৃক্ষ (ঞৎবব ঋৎঁরঃ) এর জীবন কাল মৌসুম দ্বারা আবদ্ধ নয়। তবে শস্যের জন্য তার শারীরীক বৃদ্ধির জন্য যে সকল খাদ্যেপাদান প্রয়োজন হয় ফল প্রদানকারী বৃক্ষের জন্যও অনুরূপ খাদ্য প্রয়োজন হয়। বিধায় বৃষ্টির পানি শস্যের ন্যায় ফলবান গাছের জন্যও প্রয়োজন। এখানে পার্থক্য এতটুকু যে ফলবানগাছ বহুবছর বেঁচে থাকার প্রয়োজনে তার শিকড় সমূহ মাটির গভীরে প্রবেশ করে থাকে এবং তার পানির প্রয়োজনীয়তার অনুভূতিটা প্রবল ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। এমতাবস্থায় যখন বৃষ্টিপাত হয় তখন বৃষ্টির পানি যেমনি ফলগাছের কর্মগভীরে থাকা শিকড় গুলো তা গ্রহণের সুযোগ পায় তেমনি মাটির গভীরে প্রবিষ্ট হওয়া শিকড় ও পানি প্রাপ্ত হয়। ফলে এ জাতীয় গাছ শিকড়ের মাধ্যমে অধিক সময় ব্যাপী পানি প্রাপ্ত হয়ে থাকে যা মাঠে জম্মানো মৌসুমী ফসলের ক্ষেত্রে হয় খুবই কম সময়। সর্বোপরি এ ব্যাপারে এ উপসংহারে আসা যায় যে মহান আল্লাহ তায়ালা প্রদত্ত বৃষ্টি শস্য ও ফল উৎপাদনে সমান কল্যাণ সাধন করে থাকে। উদৃত আয়াত দুটিতে মহান আল্লাহ বৃষ্টিপাতের ফলে মানুষের সর্বশেষ যে কল্যাণটির কথা উল্লেখ করেছেন তা হচ্ছে এই যে (৫) এ বৃষ্টির কারণে মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টি কৌশলের বিষয়ে গবেষণার উপলক্ষ্য সৃষ্টি হয়। মহান আল্লাহ বলেন, “ইন্নাফীজালিকা লা আয়াত্তাল্লি কাওমিই ইয়াতাফাক্কারূন”। অর্থাৎ বৃষ্টি দ্বারা শস্য, ফল ফলাদী উৎপাদন ও চারণ ভূমিতে গবাদী পশুর খাদ্যোৎপাদন, প্রক্রিয় ইত্যাদির সৃষ্টি কৌশল অবলোকনের পর মানুষ এ সৃষ্টি কৌশল নিয়ে গবেষনায় ব্রতী হবে। ফলে তারা জানতে পারবে নূতন নূতন উৎপাদন কৌশল ও তার অর্šÍরনিহীত বিভিন্ন তথ্য ও তত্ত্ব যা ব্যবহার করে মানুষের আরও বহুমাত্রিক কল্যাণ সাধন সম্ভব হবে। সর্বোপরি মানুষ তাফাক্কুর বা গভীর চিন্তার মাধ্যমে তার জীবন পরিচালনার গতিপথ ও চালিকা শক্তি নির্ণয়ে সক্ষম হবে। মানুষ বিষয়টি স্পষ্ট করে বুঝতে সক্ষম হবে যে তার এ পার্থিব জীবনই শেষ নয়, তাকে মহান ¯্রষ্টা ও পরমকুশলী আল্লাহ তায়ালা পূর্ণবার অনুরূপ অবয়ব ও আকৃতিতে সৃষ্টি করতে সক্ষম। বৃষ্টি বর্ষণের মাধ্যমে যেরূপ মৃতবৎ জমির থেকে আল্লাহ তায়ালা জীবনের উদ্ভব ঘটান তেমনি মানুষকে তার মৃত্যুর পর তিনি পূর্ণবার সৃষ্টি করতে সক্ষম। এ সংক্রান্ত বিষয়ে মহান আল্লাহ তায়ালা আরও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন কুরআনুল কারীমের সূরা আল আরাফে। এরশাদ হচ্ছে, “ওয়াহুয়াল্লাজী ইয়ূরছিলুর রিয়াহা বুশরাম বাইনা ইয়াদাই রাহমাতিহী, হাত্তা ইজা আক্বাল্লাৎ ছাহাবান ছিকালান ছুকনাহু লিবালাদিম্ মাইয়্যেতিন ফা আঞ্জালনা বিহিল মাআ ফা আখরাজনা বিহী মিন্ কুল্লিস্ সামারাত; কাজালিকা নূখরিজুল মাওতা লা’আল্লাকুম তাযাক্কারুন (সুরা আল আ’রাফ: ৫৭)”। অর্থাৎ তিনি সেই (মহান) আল্লাহ যিনি বাতাসাকে স্বীয় রহমতের আগে আগে সুসংবাদ বাহীরূপে প্রেরণ করেন। পরে যখন উক্ত বাতাস পানি ভাড়াক্রান্ত মেঘমালা উত্থিত করে, তখন তাকে কোন মৃত জমীনের দিকে চালিয়ে দেন এবং সেখানে বৃষ্টি বর্ষণ করিয়ে (সেই মৃত জমিন থেকে) নানাহ রকম ফল উৎপাদন করেন। লক্ষ্য কর, এভাবেই আমরা মৃত অবস্থা থেকে জীবিত করে বের করব। সম্ভবত: তোমরা এ পর্যবেক্ষণ হতে শিক্ষা গ্রহণ করবে। তাই মানুষকে যেমনি জানানো হয়েছে যে তাকে পূর্ণবার সৃষ্টি করে তার বর্তমান ও পার্থিব জীবনে কৃত সকল কর্মের ও কর্মপ্রচেষ্টার পূঙ্খানুপূঙ্খ হিসাব দিতে হবে তেমনি সেদিন সাফল্য লাভের জন্য এ পার্থিব জীবন পরিচালনায় গতিবিধি নির্ধারন করে দেয়া হয়েছে। চিন্তাশীল মানুষ তার সঠিক চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে জীবন পরিচালনায় যথাযথ পথ ও পন্থা অবলম্বন করতে পারলে সে যেমনি পার্থিব জীবনে সাফল্য লাভ করবে তেমনি তার পারলৌকিক জীবনেও যথাযথ কল্যান অর্জনে সক্ষম হবে।

————————————–

*লেখকঃ চীফ সায়েন্টিফিক অফিসার ও প্রকল্প পরিচালক

(অবসর প্রাপ্ত) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট

জয়দেবপুর, গাজীপুর।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare