আলু সমস্যার সমাধান দিনে ২ টা করে আলু খান

 

ড. নিয়াজ পাশা

 

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও প্রচুর পরিমাণে আলু উৎপাদন হয়েছে এবং সংরক্ষণের অভাবে উচিত দাম না পেয়ে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ এবং লাগসই সংরক্ষণ প্রযুক্তির সহজলভ্যতার অভাব এবং খাদ্য হিসাবে কম পরিমাণে ক্ষণই মূলত এজন্য দায়ী।আলুকে শুধু তরকারি হিসাবে না ভেবে বহুমূখী খাদ্যের উপকরণ, রকমারি খাদ্যের উপাদান এবং আরো বিভিন্নভাবে ব্যবহারের কথা ভাবতে হবে। সারা বছরই আলু খাওয়া হয় কিন্ত সারা বছল আস্ত আলু সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়। অন্য কিভাবে আলু সংরক্ষণ ও খাওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে।আলুর এই বাম্পার ফলন আমাদের প্রতি আল্লাহর অশেষ রহমত। আল্লাহর রহমতকে অবজ্ঞা করা কোন মতেই উচিত নয়। অমরা অফিস, আদালত বা কর্মক্ষেত্রে সকাল ১১টা বা বিকেলে কিছু না কিছু খেয়ে নাস্তা করে থাকি।  এ ক্ষেত্রে আলু হতে পারে একটি অন্যতম উপাদেয় খাদ্য। কর্মক্ষেত্রে কয়েকটি সিদ্ধ আলু নিয়ে পুড়া মরিচ বা গুল মরিচের গুড়ার সাথে লবনের মিশ্রণ মিশিয়ে মুখ রোচক খাবার হিসাবে খাওয়া যাবে। আরো অনেক কিছুর সাথে অনেকভাবে আলু খাওয়া যেতে পারে। স্লাইস করে শুকিয়ে ভেজেও খাওয়া যেতে পারে। আমাদের আলু উৎপাদন হয় ৮৬ লক্ষ মেট্রিক টন মাত্র এবং লোক সংখ্যা ১৬ কোটি। প্রত্যেকটা আলুর গড় ওজন ১০০-১৫০ গ্রাম। মোট লোক সংখ্যার মধ্যে যদি ১০ কোটি লোক প্রতিদিন একটি করে আলু খায় তবে, প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন আর ২ টি করে আলু খেলে ৩০ হাজার মেট্রিক টন আলুর প্রয়োজন। সে হিসাবে মোট উৎপাদিত আলু খেতে মাত্র ২৮৬ দিন সময় লাগবে। আমাদের বীজ আলুর প্রয়োজন হয় প্রায় ৭ লক্ষ মেট্রিক টন। এ ক্ষেত্রে আরো কম দিন লাগবে।
গড়ে আমাদের জনপ্রতি বছরে মাত্র ১৩-১৪ কেজি আলু খাওয়া হয়। অপরপক্ষ্যে ইউরোপের দেশ বেলারোশে মাথা পিছু বছরে ১৬৭ কেজি আলু খায়। পৃথিবীর অনেক দেশেই আলু প্রধান খাদ্য। আমাদের আলু খাওয়ার পরিমাণ বাড়ানো এবং খাওয়ার পদ্ধতির ভিন্নতা আনতে হবে। কৃষকদের পাশে লাভজনক দাম দিয়ে কিনে দাঁড়াতে হবে, যেন কৃষক উৎপাদন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে পারে। প্রত্যেক পরিবার যদি তাঁর সারা বছরের আলুর চাহিদার কিছু অংশ এখন কিনে সিদ্ধ করে স্লাইস আকারে শুকিয়ে সংরক্ষণ করে এবং নাস্তা হিসাবে খায়, তবে সমস্যার অনেকটা সমাধান হয়ে যাবে। এতে আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা কিছুটা পালন হবে বটে। আলু দিয়ে তৈরী বিভিন্ন প্রকার খাদ্য মেলা ও সংরক্ষণ পদ্ধতি উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে। সরকার ও মিডিয়াকেই এ বিষয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারি অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

লেখক: কৃষি প্রকৌশলী, কৃষি সাংবাদিক ও হাওর ভূমিপুত্র।

সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টার, ঢাকা।

niazpasha@yahoo.com

মোবাইলঃ ০১৭২৭ ০৭৪ ৫৮৪.

 

কাঁঠালের ভাল ফলন পেতে করণীয়
লক্ষণসমুহঃ
(১) রোগের প্যাথোজেন প্রথমে পুষ্পমঞ্জুরীতে আক্রমণ করে। (২) অপরিপক্ক ফলে পানি ভেজা দাগ পড়ে। (৩) আক্রান্ত ফল সাদা মাইসেলিয়াম দ্বারা আবৃত হয় এবং পরবর্তীতে ফল কাল বর্ণ ধারণ করে। (৪) আক্রান্ত ফল কুচকে যায় এবং ঝরে পড়ে।
দমন ব্যবস্থাঃ (ক) আক্রান্ত পুস্পমঞ্জুরী, ফল সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। (খ) বাগান পরিস্কার পরিছন্ন রাখতে হবে। (গ) ফুল ফোটার সময় ডায়াথিন-এম-৪৫ বা নোয়িন ছত্রাক নাশক ০.৩ % হারে ১০-১৫ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে। অথবা (ঘ) ফলে এ রোগ দেখাগেলে ০.২ % হারে রোভরাল  স্প্রে   করতে হবে।
(ই) পোকা দমন :

ফলের মাজরা পোকাঃ এ পোকা কাঁঠালের ব্যাপক পরিমাণ ক্ষতি করে থাকে। এর কারনে ফলন শুন্যে কাছাকাছি আসতে পারে।
লক্ষণসমূহ : (১) কুঁড়ি, মুচি, ছোট ফল এদের দ্বারা আক্রান্ত হয়। (২) এ পোকার কীড়া ফল ছিদ্র করে ভিতরে প্রবেশ করে খেয়ে নষ্ট করে। (৩) আক্রান্ত স্থানে পানি ভেজা দাগ দেখা যায় ও পচন শুরু হয়। (৪) আক্রান্ত ফল কালো হয়ে কুঁচকে যায় এবং ঝরে পড়ে।

বীটল ও কান্ডের মাজরা পোকা :
লক্ষণসুহঃ (১) কুঁড়ি, বিটপ, কান্ড,মাটির উপরে মুল প্রভৃতি স্থানে এ পোকা দ্বারা আক্রান্ত হয়। পোকার কীড়া এ সবের মধ্যে প্রবেশ করে কলা সমূহ খেয়ে নষ্ট করে ফেলে। (২) এ পোকার অন্যতম লক্ষণ হল যেখানে ছিদ্র করে সেখানে গর্তের মুখে এদের বিষ্টা ঝুলতে থাকে। (৩) গাছের যে অংশে আক্রমণ করে সে অংশ দুর্বল হয়ে যায় বা মরে যায়।
দমন ব্যবস্থাঃ (ক) গর্তে শিক ঢুকিয়ে পোকা মারতে হবে। (খ) কাদা বা মোম দিয়ে গর্তের মুখ বন্ধ করে দিতে হবে। (৩) ডায়াজিনন ৫০ ইসি বা ম্যালাথিয়ন-৫৭ ইসি ০.২ % হারে পানিতে মিশে প্রয়োগ করলে এ রোগ দমন করা সম্ভব।

 

লেখক : পি-এইচ ডি গবেষক, রাবি।
প্রভাষক কৃষিশিক্ষা
নাটোর সিটি কলেজ, নাটোর।
মোবাইল : ০১৭২২-৪০৩২২০

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *