আল কোরানের আলোকে কৃষি উৎপাদনে উপকরণের গুরুত্ব

ড. মোঃ আবু বকর*

পূণঃ প্রকাশ

কৃষি উৎপাদন কার্যক্রমে উপকরণ সরবরাহের গুরুত্ব অপরিসীম। আধুনিক কৃষি, উন্নত উপকরণ সরবরাহ ও উৎপাদন বৃদ্ধি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কৃষিতে ব্যবহৃত উপকরণ সমূহের মধ্যে বীজ, সার ও পানি সর্বাধিক গুরুত্বের অধিকারী। উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি বা বংশ বিস্তার এর ক্ষেত্রে বীজ একটি অতীব গুরুত্ব পূর্ণ উপকরণ যা না হলে বংশবিস্তার সম্ভব নয়। উদ্ভিদ বিজ্ঞানের ভাষায় বীজ বলতে যা বুঝায় তা হচ্ছে উদ্ভিদের প্রকৃত বীজ কিংবা উদ্ভিদের অংশ বিশেষ যার মাধ্যমে তার বংশবৃদ্ধি করা ও বংশগতি ঠিক রাখা যায়। এদিক থেকে বিচার করলে মসুর, মাসকলাই, মুগ ইত্যাদি ফসলের প্রকৃত বীজ যেমন বীজ, আবার ইক্ষু কান্ডের অংশবিশেষ কিংবা রুপান্তরিত কান্ড যথা: আদা, হলুদ, গোল আলু ইত্যাদি বীজ হিসেবে বিবেচিত হয়। শস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমরা প্রকৃতপক্ষে শস্যের বংশবিস্তারেরই ব্যবস্থা করে থাকি। এ শস্য উৎপাদন কৃষির মূল টার্গেট। শস্য উৎপাদন কার্যক্রম শস্যের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভালগুণ সম্পন্ন বীজ একটি অতীব গুরুত্বর্পর্ণ চাহিদা। ভাল বীজের যে সকল গুণ থাকা প্রয়োজন তার সর্বপ্রথমটি   হচ্ছে অঙ্কৃরোদগম ক্ষমতা। প্রকৃত পক্ষে অঙ্কুরোদগম ক্ষমতাই হচ্ছে বীজের জীবন। আর এ জীবন বা প্রাণ হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশ। এ জীবন সম্পর্কে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, “ইয়াছ আলুনাকা আনিররুহ, কুলির রুহু মিন আমরি রাব্বি ওয়ামা উতিয়তুম মিনাল ইলমি ইল্লা কালিলা।”

“(হে নবী) আপনার কাছে লোকেরা রুহ্ সম্পর্কে জানতে চায় আপনি বলে দিন রুহ হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশ মাত্র। আর প্রকৃতপক্ষে এ বিষয়ে তোমাদেরকে সামান্যই জ্ঞান দেয়া হয়েছে।” কাজেই বুঝা যাচ্ছে যে, বীজের অঙ্কুরে ফসলের যে প্রাণ লুকিয়ে থাকে তা সমগ্র বিশ্বের ¯্রষ্টা ও পালনকার্তা আল্লাহর নির্দেশ। বীজের প্রতি আল্লাহর নির্দেশ হলেই সুপ্ত  সে প্রাণটির আবিভার্ব ঘটতে পারে অন্যথায় তা খড় কুটা ও ভুষিতে রুপান্তরিত হতে বাধ্য।  এ বিষয়ে আল্লাহ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন- “আফা রা আইতুম মা তাহরুছুন আআন-তুম তাজরাউ নাহু আম নাহনুজ্জারিয়ূন। লাও নাশাও লাজায়ালনাহু হুতামান ফাজোয়ালাতুম  তাফাক্কাহুন। ইন্না ল্লা মুগরামুন বাল নাহনু মাহরুমুন।” (সুরা ওয়াকিয়া: ৬৩-৬৮)। “অর্থাৎ তোমরা যে বীজ বপন কর সে সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করে দেখছ কি? সে বীজ কি তোমরা অঙ্কুরিত কর না আমি অঙ্কুরিত করি।  আমি ইচ্ছা করলে তা খরকুটায় পরিণত করতে পারি। তখন তোমরা হত-বুদ্ধি হয়ে পড়বে আর বলবে আমাদিগের তো সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে। আমরা তো সর্বস্ব হারিয়েছি।” আল্লাহ রব্বুল আলামীন পরিত্র কোরআনে এ সম্পর্কে আরো বলেন-“ইন্নাল্লাহা ফা-লিকুল হাব্বি ওয়ান নাওয়া ইয়ূখরিজুল হাইয়্যা মিনাল মাইয়্যেতে ওয়া মুখরিজুল মাইয়্যেতে মিনাল হাইয়্যে জালিকুমুল্লাহু ফা আন্না তু’ফাকুন।” (সুরা আল-আনআম: ৯৫)। “অর্থাৎ দানা ও বীজ দান কারী হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা। তিনিই জীবনকে মৃত হতে বের করেন এবং মৃতকে বের করেন জীবন্ত হতে। এসব কাজেরই আসল কর্তা হচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ তা’য়ালা। তাহলে তোমরা কোথায় ভ্রান্ত হয়ে যাচ্ছ?” কাজেই ভাল বীজ বপন করাই শেষ কথা নয় একজন ঈমান ওয়ালা কৃষকের কৃষিতে অধিক ফলনের শেষ কথা হচ্ছে  আল্লাহর নির্দেশ হওয়া। আর আল্লাহর নির্দেশ পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে ধরণা দেওয়া ও একজন মুসলমান কৃষকের জন্য জরুরী। তবে শর্ত এই যে, ব্যক্তিকে যে সকল বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে বা যে সকল ব্যবস্থাপনা করা অধিক উৎপাদনের জন্য নির্ধারিত হয়েছে সেগুলো যথাযথ ভাবে সম্পাদন করতে হবে। আল্লাহর উপর নির্ভরতা বা তাওয়াক্কুল নিজের দিক থেকে সাধ্যমত ব্যবস্থা নেওয়ার পরই করতে হবে। শর্তপূরণ না করে তাওয়াক্কুলের মূল্য নেই। আর সে জন্য কোন কৃষক যেখানে ভাল বীজ অঙ্কুরোদগমের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ আর্দ্রতা নেই সেখানে বপন করবেনা। কৃষি উৎপাদনে অধিক ফলন লাভের জন্য বীজের পর যে উপকরণ সরবরাহ করা প্রয়েজন তা হল পানি বা সেচ। কারন পানি ব্যতিত জীবনের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। যেখানে জীবন সেখানেই পানি। আর এজন্যই পানির অপর নাম জীবন। আমরা যদি পূণরায় বীজের কথা মনে করি তাহলে বুঝবো বীজে একটা নির্দিষ্ট মাত্রায় পানি থাকতে হয় অন্যথায় বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা লোপ পায় অর্থাৎ জীবনের অস্তিত্ব লোপ পায়। পানির প্রয়োজন শুধু জীবনের অস্তিত্বের জন্যই নয় বরং জীবনের বৃদ্ধি ও বিকাশ সাধনের জন্যও পানি একান্তই অপরিহার্য একটি উপাদান।  এ জমিনে যদি পানি সরাবরাহের ব্যবস্থা না থাকতো তাহলে তা শুষ্ক প্রাণহীন ও মৃতবত পড়ে থাকতো। পানি বিহীন জমিনের অবস্থা কেমন থাকে আল্লাহ তা’য়ালা তা মানুষের জন্য উপস্থাপন করেছেন- সুরা হাজ্জ্বে। ইরশাদ হচ্ছে- “ওয়া তারাল আরদ্বা হা-মিদাতান ফাইজা আনজালনা আ’লাইহাল মাআহতাজ্জাত ওয়ারাবাত ওয়া আমবাতাত্ মিন কুল্লি যাওযিম বাহিয” (সুরা হাজ্জ্ব: ৫)। “অর্থাৎ তোমরা দেখতে পাও জমিন শুষ্কবস্থায় পড়ে রয়েছে। পরে যখনই আমরা এর উপর (বৃষ্টির মাধ্যমে) পানি বর্ষণ করলাম সহসাই উহা সতেজ হয়ে ফুলে উঠলো। অত:পর সকল প্রকার নয়নাভিরাম উদ্ভিদ উৎপাদন করতে শুরু করলো।” একই বিষয়ে অন্যত্র আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-“ওয়ামিন আয়াতিহি আন্নাকা তারায়াল আরদ্বা খাসিয়াতান, ফাইজা আজালনা আ- লাইহাল মা আহ তাজ্জাত ওয়ারা বাত।  ইন্নাল্লাজি আহইয়াহি  ল্লাহলামুহিল মাওতা, ইন্নাল্লাহা আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বাদীর।” “অর্থাৎ আর আল্লাহর নির্দেশসমূহের মধ্যে একটি এই যে, তুমি দেখতে পাচ্ছ যমীন শুষ্ক জীর্ণ হয়ে পড়ে রয়েছে। পরে যখনই আমরা এর উপর পানি বর্ষণ করলাম, সহসা উহা উথলে উঠে স্ফীত হলো। যে খোদা এ মৃত যমীনকে জীবন্ত করে দেন তিনি মানুষদেরকেও নি:সন্দেহে জীবন দান করবেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রত্যেকটি জিনিসের উপর ক্ষমতাবান।”

উল্লিখিত আয়াতগুলো দ্বারা সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, আল্লাহ তা’য়ালা শুষ্ক জমিনে   উদ্ভিদের  উদ্ভব ঘটানোর জন্য পানি বর্ষণ করেন। কাজেই পানি কৃষি উৎপাদনে যে অতীব গুরুত্বের দাবী রাখে তা বলাই বাহুল্য। সমগ্র পৃথিবীতে পানি সেচের দায়িত্ব আল্লাহ তা’য়ালা নিজ হাতে রেখেছেন। কিভাবে তিনি সে কার্য সমাধা করেন সে বিষয়ে আল্লাহ বলেন- “ওয়াহু  আল্লাজি ইউর ছিলুর রিয়াহা বুশরাম বাইনা ইয়া দাইয়্যা রাহমাতিন হাত্তা ইজা আক্কালাত সাহাবাছ ছোকনাহুলিবালাদিম মাইয়্যেতিন ফা আনজালনা বিহিল  মা আ  ফা  আখরাজনা  বিহি মিন  কুল্লিছ ছামারাত; কাজালিকা  নুখরিজুল মাওতা লা আল্লাকুম তাযাক্কারুন।” (সুরা আরাফ-৫৭)। অর্থাৎ “আর তিনিই আল্লাহ যিনি বাতাসকে স্বীয়  রহমতের আগে আগে  সুসংবাদবাহী রুপে পাঠিয়ে দেন। পরে যখন উহা পানি ভারাক্রান্ত   মেঘমালা উত্থিত করে তখন উহাকে কোন মৃত জমিনের  দিকে  চালিয়ে দেন এবং  সেখানে বৃষ্টি বর্ষণ করিয়ে (সে মৃত জমিন থেকে) নানা রকম ফল উৎপাদন করেন।  লক্ষ্য কর এভাবে আমরা মৃত থেকে জীবনের  উদ্ভব ঘটাই। সম্ভবত: তোমরা এ পর্যবেক্ষণ হতে শিক্ষা গ্রহণ করবে।”  অন্যত্র তিনি বলেন, “ওয়া আনজালনা মিনাল  মু’ছিরাতি মা আন ছাজ্জাজা,  লি নূখরিজা বিহি হাব্বাও ওয়ানাবাতা। ওয়া জান্নাতিন আলফা-ফা।” (সুরা নাবা:১৪- ১৬)। অর্থাৎ “এবং আমি  মেঘমালা হতে অবিশ্রান্ত ধারায় বৃষ্টি বর্ষিয়েছি এ উদ্দেশ্যে যে এর সাহায্যে শস্য, শাকসবজি ও ঘন সন্নিবদ্ধ বাগবাগিচা উদ্ভাবন করবো।” অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন, “ওয়া আর সালনার রীয়া লাওয়া কিহা ফা আনজালনা মিনাস্সামায়ি মা আমফা আছকাইনা কুমুহু  ওয়ামা আনতুম লাহু বিখাজিনিন।” (আল হিজর-২২)। অর্থাৎ “এবং আমরা বৃষ্টি গর্ভ বাতাস প্রেরণ করি অত:পর আকাশ হতে ভারি বর্ষণ করি এবং এ পানি তোমরা পান কর। এ পানির সংরক্ষক তোমরা নও আমি তার  সংরক্ষণকারী।” উপরের আয়াত গুলোতে আল্লাহ তা’য়ালা

জীবনের উদ্ভব ঘটানো, জীবন সংরক্ষণ ও  জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে পানির গুরুত্বের দিক গুলো এবং সেই সাথে পানি  বিতরনের ক্ষেত্রে খোদায়ী  নীতিও উল্লেখ  রয়েছে। কাজেই কৃষি উৎপাদনে পানি যে  একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ তা ব্যাখ্যা করার  অপেক্ষা রাখে না। তবে এ উপকরণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে অন্তর্নিহিত উপদেশটি রয়েছে তা হচ্ছে এই যে, মানুষ এ উপকরণের মালিক নয়। কেউ  যখন কোন  বস্তুর মালিক  হন তখন তিনি তার ইচ্ছা  মতো তা ব্যয় বা ব্যবহার করতে পারেন। মালিক না হয়ে তা নিজের ইচ্ছা মতো ব্যবহার করবেন এ অধিকার কাউকেই  দেয়া হয়না। পানি সম্পদ তা প্রাকৃতিকই হোক আর কৃত্রিমভাবে তৈরী করাই হোক তা যখন অন্যের মালিকানায় থাকলো   তখন মানুষের জন্য তার ব্যবহার বিধি  মালিকের  কাছ  থেকেই  জেনে নিতে  হবে  এবং সে মোতাবেক তা ব্যবহার করতে  হবে। উপরোল্লিখিত  আয়াত সমূহের  ভিত্তিতে এটা নির্ধারিত হয়ে যায় যে, পানি নামক যে গুরুত পূর্ণ কৃষি উপকরণ আছে তার প্রকৃত মালিক হচ্ছেন আল্লাহ তা’য়ালা। আল্লাহর নির্দেশিত  পথেই  তা  ব্যবহার  করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে এ বিধান শুধু  আল্লাহ প্রদত্ত পানি ব্যবহারের জন্যই নয়  বরং জীবন পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রেই তা মেনে চলা প্রয়োজন। কারণ সৃষ্টি যার বিধান মানতে হবে তারই।

কৃষি তথা  শস্য  উৎপাদন প্রক্রিয়ায় তৃতীয় যে উপকরণটি প্রয়োজন তা হচ্ছে সার বা ফসলের  খাদ্য। খাদ্য ব্যতিত কোন জীব ই   বাঁচতে পারেনা। শস্যাদিও তার  ব্যতিক্রম নয়। ইতোপূর্বে আমরা উল্লেখ করেছি যে, মৃতবৎ জমিনকে  বৃষ্টির মাধ্যমে পানি বর্ষণ দ্বারা  জীবনের অর্থাৎ ফল শস্য গাছ  গাছালীর আবির্ভাব ঘটান স্বয়ং  আল্লাহ রব্বুল আলামিন। এ  জমিনের সকল স্থানের মাটিতে  সঠিক খাদ্য প্রদান করেননি।  আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, “ওয়াল বালাদূত তোয়াইয়্যেব ইয়াখ রুজু নাবাতাহু মিন আমরি রব্বি, ওয়াল্লাজি খাবুছাত লা ইয়াখরুজু ইল্লা নাকিদা কাজালিকা নুর্ছারিফুল আয়াতিহি লিকওমি  ইয়াশকুরুন।” (সুরা আল আরাফ- ৫৮)। অর্থাৎ যে জমি উত্তম (পবিত্র ও উর্বর) তা উহার রবের হুকুমে খুব সহজেই শস্য, ফলরাজি ও ফুল ফলায়। আর যে জমি খারাপ অনুর্বর ও অপবিত্র তা থেকে কঠোর পরিশ্রম ও পরিচর্যা ব্যতিত ভাল ফসল  ফলানো যায় না। এভাবেই আমরা আমাদের   নিদর্শন সমূহ বারংবার পেশ করে থাকি  তাদের  জন্য যারা কৃতজ্ঞতা  স্বীকার করতে ইচ্ছুক। আল্লাহ  রাব্বুল  আলামীনের  নাযিল কৃত এ আয়াত থেকে এ ধারণাই  পাওয়া যায় যে, পৃথিবী পৃষ্ঠের চাষোপযোগী সকল জমিন সমান উর্বরতার অধিকারী নয়। কোন কোন জমি যথেষ্ট উর্বর যা থেকে সহজেই অর্থাৎ কোন সার বা খাদ্য প্রদান ব্যতিতই ভাল ফলন পাওয়া যায়। পক্ষান্তরে কোন কোন মাটি অপবিত্র ও অনুর্বর যা থেকে কঠোর পরিশ্রম করে সার ও জমির খাদ্য প্রয়োগ ও বিভিন্ন কলা কৌশল প্রয়োগ ও ব্যবহার করে ফল শস্যাদি ফলাতে হয়। কাজেই আমরা দেখতে পাচ্ছি, কৃষি জাত দ্রব্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কৃষি উপকরণের সঠিক সরবরাহ ও ব্যবহার আবশ্যক। তবে এ উপকরণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আল্লাহকে স্মরণ রাখা ও তার নির্দেশ সর্বত্র মেনে চলা প্রয়োজন। কারণ তার নির্দেশমত জীবন চলার পদক্ষেপ না নিলে দুনিয়ায়ও কল্যান লাভ করা যাবে না এবং মৃত্যুর পর সে আখেরাতের অনন্ত জিন্দেগী অপেক্ষা  করছে  সেখানেও সফলতা লাভ করা যাবে না। আখেরাত বা পরকালের জবাব দিহিতার বিষয়ে ও উপরোল্লিখিত আয়াতে বলা হয়েছে যে, “লক্ষ্য কর এভাবেই আমরা মৃত থেকে জীবনের উদ্ভব ঘটাই সম্ভবতঃ তোমরা এ পর্যবেক্ষণ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে।” উদ্ধৃত আয়াতের আলোকে আমাদের জন্য যে শিক্ষামূলক বিষয় গুলো রয়েছে তা হলো মহান  আল্লাহ সকল ক্ষমতার মালিক, ক্ষমতার উৎস ও আধার যদি কোন জিনিস সৃষ্টি করতে হলে  শুধু  বলেন হও আর অমনি তা হয়ে অস্তিত্বে এসে যায়। কিন্তু এর পর মৃতবৎ শুষ্ক জমিন থেকে ফসল  উৎপাদনের জন্য পানি ও সার ব্যবহারের জন্য শিক্ষা দিয়েছেন। কাজেই কৃষিতে অধিক ফলন  লাভের জন্য ভাল  বীজ, সেচ ও সার প্রয়োগ করতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করে  জীবন যাপনের তৌফিক দিন।

—————————————

*লেখকঃ

প্রাক্তন চীফ সায়েন্টিফিক অফিসার ও প্রকল্প পরিচালক, (অবসর প্রাপ্ত) বারী,

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, জয়দেবপুর, গাজীপুর।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *