এখন গ্রীষ্ম-বর্ষাকাল বৃক্ষরোপণের উপযুক্ত সময়

কৃষিবিদ মোঃ তারিক হাসান

জীবনের নানা প্রয়োজনে গাছ আমাদের উপকার করে থাকে। গাছ আমাদের পরম বন্ধু। এখন গ্রীষ্মকাল। গ্রীষ্ম-বর্ষাকাল বৃক্ষরোপণের উপযুক্ত সময়। বৃক্ষরোপণ করলেই শুধু হবে না বৃক্ষরোপণ  সফল বাস্তবায়নে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হবে।

১। রোপণের পদ্ধতি যেমনঃ ক) একক লাইন খ) চতুর্ভূজ  গ) ষড়ভূজ ঘ) আয়তাকার।

২। বৃক্ষের আকারভেদ যেমন বড়, মাঝারী এবং ছোট আকারের গাছ।

৩। বৃক্ষের প্রকারভেদ যেমন, ফলদ, বনদ, ঔষধী।

৪। রোপণের সময় যেমন মে-জুন মাস অথবা জুলাই-আগষ্ট মাস।

৫। চারা- কলমের ধরণ ও উৎস।

তবে গাছ রোপণের আগে একটা গর্ত তৈরী করে গাছ রোপণ উপযোগী করা জরুরী কেননা একটি গাছ বহুবছর ধরে একই জায়গায় অবস্থান করে ডালপালা ছাড়িয়ে মাটির তলায় বিস্তৃত এলাকায় শিকড়ের প্রসার ঘটায়, যার মাধ্যমে মাটি থেকে খাদ্য-রস সংগ্রহের সাথে সাথে স্থিরতা (অহপযড়ৎধমব) স্থাপন করে। এজন্য গর্ত তৈরী চওড়া ও গভীর করে নিতে হবে। গর্ত তৈরীকরণ ও তাতে কি পরিমাণ সার ও মাটি দিয়ে ভরাট করতে হবে তা হলোঃ

(ক) বড় ধরণের গাছের জন্য (আম, কাঁঠাল, জাম, ইত্যাদী)ঃ বড় গর্তের মাপ: ৩ী৩ী৩ ফুট।

(খ) মাঝারী ধরণের গাছের জন্য (কামরাঙ্গা, কুল, পেয়ারা, লেবু, ইত্যাদী)ঃ এই গর্তের মাপ হবে ২.৫ী২.৫ী২.৫ ফুট  ফুট।

(গ) ছোট আকারের গাছের জন্য (ডালিম, লেবু, করমচা, ইত্যাদী) তা হবে ঃ ২ী২ী২   ফুট মাপের।

গর্ত তৈরী করে এ গর্তকে কয়েক দিন রোদ খাওয়ানো দরকার। গর্ত ভরাটকালে পোকা ও রোগের উপদ্রব এড়াতে গর্তের মাটির সঙ্গে কীট নাশক ও ছত্রাক নাশক মিশানো প্রয়োজন। মাটি বেশী এঁটেল বা কাঁকরময় হলে তাতে ১৫-২০ কেজি বালি ও ৫-১০ কেজি কোকো ডাষ্ট (নারিকেল ছোবড়া থেকে প্রাপ্ত পাউডার) মিশিয়ে মাটিকে শিকড় ছড়ানোর উপযোগী করে নিতে হবে।

তবে বৃক্ষরোপণ সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে কতিপয় মৌলিক বিষয় পালন করা একান্ত আবশ্যকীয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ-

ক) সুস্থ-সবল গাছের চারা নির্বাচন এবং সংগ্রহ।

খ) গাছের ধরণ/আকারের ভিত্তিতে নির্ধারিত মাপে গর্তখনন।

গ) প্রতি গর্তে প্রাথমিক ভাবে দোঁয়াশ মাটি, জৈব ও অজৈব সার ব্যবহার করে মাদা তৈরি, যেমন;-

             প্রতি গর্তের জন্য পরিমাণমত  দোঁয়াশ মাটি

             প্রতি গর্তের জন্য ৩০ কেজি গোবর সার/ ৪ কেজি কৃষিবিদ জৈব সার

             প্রতি গর্তের জন্য টিএসপি ৫০০ গ্রাম

             প্রতি গর্তের জন্য পটাশ সার ৩০০ গ্রাম

             এলাকার মাটি এঁটেল হলে প্রতি গর্তে ১৫ কেজি বালি

ঘ) প্রতি মাদায় যথাযথ ভাবে গাছের চারা স্থাপন/বসানোর পর খুটি দিয়ে বেধে দেওয়া এবং পানি দেওয়া

ঙ) লাগানো গাছের চারার জন্য বাশেঁর খুটি এবং চারিপাশে বেড়া দিয়ে ঘিরে দেয়া প্রয়োজন।

ঘ) প্রতি মাদায় যথাযথ ভাবে গাছের চারা স্থাপন/বসানোর পর খুটি দিয়ে বেধে দেওয়া এবং পানি দেওয়া।

ঙ) লাগানো গাছের চারার জন্য বাশেঁর খুটি এবং চারপাশে বেড়া দিয়ে ঘিরে দেয়া।

————————————–

লেখকঃ

চেয়ারম্যান কেএমসিএসএল, কৃষি ফাউন্ডেশন ও সাবেক মহা-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) ।

 

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *