এ প্রশ্নোত্তরে কৃষি

কৃষিবিদ ড. এম. এ. মান্নান

প্রশ্নঃ হ্যালো কৃষিবার্তা, অনেক শুভেচ্ছা নিন। কৃষি বার্তা আমার একটি প্রিয় পত্রিকা। আমাদের বাড়ির পাশে এক খন্ড ছায়াযুক্ত জায়গা আছে। ভূমির পরিমাণ ৫ শতাংশ। আমি মিষ্টি আলুর চাষ করতে চাই। মিষ্টি আলু লাগাবার নিয়ম কী? কোন জাতের মিষ্টি আলু সহজে বেশি ফলন হয়ে থাকে?

শরদার ইসহাক আলী

আড়াইসিধা, আশুগঞ্জ

ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া

উত্তর ঃ  ইসহাক ভাই, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। মিষ্টি আলু চাষের নিয়ম জানতে চেয়েছেন তাই আবারও ধন্যবাদ। আসলে মিষ্টি আলু উৎপাদনের মাধ্যমেই প্রতি একক জমি থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ ক্যালরি উপাদন সম্ভব। মাত্র ১৩ গ্রাম মিষ্টি আলু থেকে একজন লোকের ভিটামিন ৩ এর অভাব করা পূরণ সম্ভব।

মিষ্টি আলুর বেশী ফলন দায়ক জাত তথা উন্নত জাত সমূহ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন।

সবচেয়ে বেশী উৎপাদনক্ষম জাত সমূহ হচ্ছে ঃ

 

আসলে নভেম্বর মাসই মিষ্টি আলু চাষের উত্তম ও উপযুক্ত সময়।

  • জমি চাষ মই দিয়ে জমি তৈরী করে সারিতে মিষ্টি আলুর লতা লাগাতে হয়।
  • সারি থেকে সারি দূরত্ব হবে ৬০ সে.মি. এবং লতা থেকে লতার দূরত্ব হবে ৩০ সে.মি।
  • লতা এমনভাবে টুকরা করতে হবে যাতে ২-৩টি গিট মাটির নিচে থাকে।
  • শতক প্রতি ৪০ কেজি গোবর, ৫০০ গ্রাম টিএসপি, ৩০০ গ্রাম ইউরিয়া এবং ৩০০ গ্রাম এমপি জমি চাষের সময় প্রয়োগ করতে হবে।
  • লতা লাগানোর ২ মাস পরে ৩০০ গ্রাম ইউরিয়া এব ৪০০ গ্রাম এমপি কেইলেব পাশের মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।
  • এ সময় এবার হালকা সেব দেওয়া দরকার। এ দ্বারা জমির আর্দ্রতা বুঝে আরও ১-২টি সেচ দিতে হবে।
  • মিষ্টি আলুতে তেমন রোগ বা পোকা হয় না। মিষ্টি আলুর উইভিল পোকার আক্রমণ হতে পারে। মাটি দিয়ে আলু ঢেকে রাখলে উইভিলের আক্রমণ হয় না।
  • চারা রোপণের ১৩০-১৫০ দিনের মধ্যে মিষ্টি আলু উঠানো যায়।

প্রশ্নঃ ধান ক্ষেতের মাঝে মাঝে হাঠাৎ করে কিছু জায়গা প্রথমে হলুদ হয়ে যায় পরে শুকিয়ে যায়। গাছের গোড়ার দিকে মাজরা পোকার মত ছোট ছোট বাদামী পোকা পাওয়া যায়। এ পোকার নাম কি? এর দমন ব্যবস্থা কি?

শ্রী জোতিষ রায়

গ্রামঃ চাপোড়, পার্বতীপুর

থানাঃ রানীসংচাইল, জেলাঃ ঠাকুরগাঁও।

উত্তরঃ জোতিষ বাবু আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।

এটা মাজরা পোকা না। এটাকে বলে বাদামী গাছ ফড়িং বা বিপিএইচ।

  • প্রথমে আক্রান্ত গাছগুলি হলুদ হয়ে যায়। পরে শুকিয়ে মারা যায়।
  • পূর্ন বয়স্ক পোকা এবং নিম্ফ উভয়ই গাছের গোড়ার দিকে থাকে। এবং গাছের রস খেয়ে ক্ষতি করে ফলে পাতা শুকিয়ে খড়ের রং ধারণ করে।
  • বিপিএইচ প্রতিরোধী জাত ব্যবহার করতে হবে।
  • পোকার আক্রমণ হলে জমির পানি সরিয়ে দিতে হবে।
  • অতিমাত্রায় ইউরিয়া সার ব্যবহার পরিহার করতে হবে।
  • আলোর ফাঁদ ব্যবহার করতে হবে। ধানের চারা দূরে দূরে লাগাতে হবে।
  • ক্ষেতে মাকড়সা সংরক্ষণ করতে হবে।
  • আক্রান্ত ক্ষেতের ধান কাটার পর পুতে ফেলতে হবে।
  • মার্শাল বা সুমিথিয়ন কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।
  • আশা করি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন ধন্যবাদ।

প্রশ্নঃ কৃষিবার্তার সকলকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা। আমার ১টা নারিকেল গাছ আছে। কিন্তু নারিকেলে পানি নেই। এর সমাধান জানালে খুশি হবো।

মো. শাহাদাৎ

আলমনগর, রংপুর

উত্তরঃ ভাই শাহাদাৎ হোসেন আপনার প্রশ্নের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনি জানতে চেয়েছেন যে আপনার নারিকেলে পানি নেই। ভাই শাহাদাৎ নারিকেলের ভেতর সাধারণতঃ পানি না থাকার কয়েকটি কারণ আছে।

১. নারিকেল গাছে প্রতি বছর সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ না করা। নারিকেল গাছে পটাশ সারের ঘাটতি হলে ডাবের ভেতরে পানি হয় না।

২. কচি ডাব গঠনের সময় পানির অভাব হলে ভেতরে পানি হয় না।

৩. খরার সময় সেচ না দিলে ডাবের ভেতরে পানি হয় না। এসময়ে গাছের গোড়ায় খড় বা শুকনো কচুরি পানা দিয়ে আচ্ছাদনের ব্যবস্থা করতে হয়। এত গাছের গোড়ায় রস সঞ্চিত থাকে।

৪. সঠিকভাবে পরাগায়ন না হলেও ডাবের ভেতরে পানি হয় ন্

৫. গাছে অতিরিক্ত ফল ধারনের ফলেও কিছু কিছু ডাবে বা নারিকেলের ভেতরে পানি থাকে না। এক একটি ১০ বা তার বেশি বয়সী নারিকেল গাছে প্রতি বছর বর্ষার আগে ও পরে দু’বার এক কেজি ইউরিয়া, এক কেজি টিএসপি এবং দেড় কেজি পরিমাণ এমওপি (পটাশ) সার প্রয়োগ করতে হয়। এর সাথে বেলে ধরনের মাটি হলে ১০০ গ্রাম বোরণ সারও দিতে হয়। আশা করি আপনার প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন। আবারও আপনাকে ধন্যবাদ।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare