কালোজিরার রয়েছে নানা গুণাগুণ

ড. এম. মনজুরুল আলম মন্ডল

নবী মুহাম্মদ (স:) “বলেছেন কালো জিরা বীজ মৃত্যু ব্যতীত আর সব কিছুই আরোগ্য করতে পারে”। কালো জিরা আসলে অসাধারণ নিরাময় এবং স্বাস্থ্য বৈশিষ্ট্য যে এটা মানুষের জানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঔষধি উদ্ভিদের একটি। কালো জিরার বীজ মিডিল ইস্ট, ভূমধ্যসাগর এবং ভারতে বহু শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইদানিং, কালো জিরা তাদের বীজে এক ধরণের স্বাদের কারণে বিশ্ব জুড়ে একটি টক মসলা হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অধিকন্ত তাদের রন্ধন সম্পর্কীয় ব্যবহারসমূহ ছাড়াও কালো জিরা স্বাস্থ্য সুরায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে এবং ইতিহাসের সবচেয়ে লালিত ঔষধি বীজের একটি। কালো জিরার  বীজ ১০০ টিরও বেশি রাসায়নিক যৌগ থাকে। কালো জিরার বীজে আছে Thymoquinone, বিটা sitosterol, myristic অ্যাসিড, পামিটিক এসিড, Palmitoleic এসিড, Stearic এসিড, অলিক এসিড, Linoleic এসিড, Linolenic এসিড, arachidonic এসিড, প্রোটিন, ভিটামিন ই১, ভিটামিন ই২, ভিটামিন ই৩, ফলিক এসিড, ক্যালসিয়াম, লোহা, তামা, দস্তা, এবং ফসফরাস।

কালোজিরা মানব স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। বদহজমে কলো জিরার বীজ ভেজে খেলে বদহজম সেরে যায়। কালো জিরার বীজ ব্যবহার মাথাব্যাথা ও খুশখুশে কাশি সেরে যায়। কালোজিরা হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা উপশম করে। কালো জিরার তেল চুল পড়া বন্ধ করে। কালো জিরার বীজে ক্যান্সার বিরোধী বৈশিষ্ট্য আছে বলে বিভিন্ন গবেষণা তথ্য থেকে জানা যায়। কালো জিরা বীজ তেল অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারের বিরুদ্ধে বেশ কার্যকর। কালো জিরা এর সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং কার্যকর ব্যবহারের এক শ্বসনতন্ত্র এর সাথে সম্পর্কিত রোগের চিকিৎসা: হাঁপানি, ব্রংকাইটিস, বাত এবং ঠান্ডা উপসর্গ সহ মায়ের বুকের দুধের প্রবাহ বাড়াতে সাহায্য করে। কালো জিরার বীজের তেল নিয়মিত ব্যবহার করলে হৃদরোগ এবং স্তন ক্যানসার, ব্রেন ক্যানসার, মুখের ক্যানসার এবং মলাশয়ের ক্যানসার হবার সম্ভাবনা কমে যায়।

কালোজিরা আমাদের দেহকে রক্ষা করে অনেক ধরণের রোগের হাত থেকে। এটি ডায়াবেটিক রোগীদের রক্তের গ্লুকোজ কমিয়ে দেয়। এতে করে কালোজিরা ডায়বেটিক নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এটি দেহের কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণ করে উচ্চরক্ত চাপ হ্রাস করে এবং শরীরে রক্ত চাপের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখে। সেই সঙ্গে এটি নিম্ন রক্তচাপকে বৃদ্ধি করে স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে।

নতুন গবেষণায় জানা গেছে, কালোজিরা খেলে আমাদের দেহে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমত হয়।

————————————–

লেখকঃ

প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার, বিনা, ময়মনসিংহ ।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare