কুল চাষে কোটিপতি

কৃষিবিদ জাহেদুল আলম রুবেল মাঠে-ঘাট, পুকুরপাড়, মত্‍স্য ঘেরের চারপাশের গাছে ভরে গেছে কুলে-কুলে৷ সবুজ পাতায় ঢাকা ডালে-ডালে থোকায় থোকায় রঙ বেরঙয়ের কুল সব বয়সের মানুষের নজর কাড়ছে৷ বাগেরহাটের গোটাপাড়ার হালদার বাড়ির কুল ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকা শহরেও ৷ আধুনিক পদ্ধতিতে কুল চাষ করে নারায়ণ হালদার এলাকায় সাড়া জাগিয়েছেন৷ অধিক লাভের আশায় এ অঞ্চলের শিক্ষিত বেকার যুবক থেকে শুরু করে কৃষকরা কুল চাষে ঝুকে পড়েছেন৷ সফল এ চাষি একমাসে ওই বাগান থেকে অর্ধকোটি টাকার কুল বিক্রি করেছেন৷ কৃষি বিভাগের কাছে সফল এ কুলচাষি এখন দেশের গর্ব৷ বাগেরহাট শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে উত্তর দিকে ভৈরব নদী পার হয়ে গোটাপাড়া গ্রামে হালদার বাড়িতে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাটি দিয়ে উচু বাঁধ তৈরি করে (বিশেষ পদ্ধতিতে লবণ পানি প্রতিরোধ করে) একই জমিতে খন্ডখন্ড করে কুল, ধান ও মাছের চাষ করা হচ্ছে৷ বাড়ির চতুর্দিকে যতদূরে চোখ যায় শুধু কুল আর কুল৷ পাখিকূলের হাত থেকে কুল বাঁচাতে গোটা বাগান ঘিরে রাখা হয়েছে জাল দিয়ে৷ স্কুল, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষাথর্ী থেকে শুরু করে নানা বয়সী নারী ও পুরুষেরা গাছ থেকে কুল ছিড়ঁছেন৷ তিন দফা হাত বদলের পর বাজারজাত করার জন্য এসব কুল রাজধানী ঢাকার পাইকারী মোকামে যাচ্ছে৷ এই কুলবাগানকে ঘিরে এলাকার অর্ধশত বেকার মানুষের কর্মের সংস্থান হয়েছে৷ চোখ ধাঁধানো এই কুলবাগান দেখে বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক মানুষ সফল এই কুলচাষির কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে তাদের পতিত জমিতে কুলচাষ শুরু করেছে৷ কুলচাষি নারায়ণ হালদার জানান, তিনি ২০০৯ সালে প্রথমে তিনটি আপেল কুলের চারা রোপন করে এ চাষ শুরু করেন৷ এর পর থেকে প্রতিবছর সে কুলচাষের আয়তন বাড়িয়ে চলছেন৷ এ বছর প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে আপেল ও নারিকেল জাতের কুল চাষ করেছেন৷ বর্তমানে তাঁর বাগানে আপেল ও নারিকেলজাত মিলে দুই হাজার কুলের গাছ রয়েছে৷ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাষ করায় কুলগাছে ব্যাপক ফলন হচ্ছে৷ এক মৌসুমে একটি গাছ থেকে সে সর্বোচ্চ ৩২০ কেজি পর্যন্ত আপেল কুল পেয়েছেন৷ ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু করে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫০ লাখ টাকার কুল বিক্রি করেছেন৷ ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা না হলে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার কুল বিক্রি হতো৷ লাভজনক হওয়ার কারণে তিনি প্রতিবছরই কুলচাষের আয়োতন বৃদ্ধি করে চলেছেন৷ গত বছর প্রায় ৪০ লাখ টাকার কুল বিক্রি করেছেন৷ আগামী বর্ষা মৌসুমে সে আরো কয়েক বিঘা জমিতে কুল গাছ রোপণের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু করেছেন৷ তাঁর টক-মিষ্টি প্রজাতির এই কুলের চাহিদা রয়েছে প্রচুর৷ মৌসুমের শুরু থেকে প্রতিদিনই বাগেরহাট থেকে পরিবহন যোগে প্রথমে ঢাকায় পাইকারী মোকামে যাওয়ার পর সেখানে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে এসব কুল বিক্রি হচ্ছে৷ পরবতর্ীতে রাজধানী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ফলের দোকানে এই কুল বিক্রি হয়৷ সরকারের সহযোগীতা পেলে আগামীতে তাঁর বাগানের কুল বিদেশে রপ্তানি করতে পারবেন বলে তিনি আশা করেন৷ তিনি আরো জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগে থেকেই জমি প্রস্তুত করে জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু করে ওই মাসের মধ্যে কুল গাছ রোপণ করা হয়৷ ছয় মাস ধরে গাছের বিভিন্ন পরিচযর্া করার পর ডিসেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে কুল বাজারজাত করা যায়৷ তাঁর এই কুল বাগানে গড়ে প্রতিদিন পঞ্চাশ জন কর্মচারী কাজ করছে৷ এলাকার এসব বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে তাঁর কুলবাগানের মধ্যে দিয়ে৷ এবার কুল থেকে তাঁর যা আয় হয়েছে তার এক চতুর্থাংশ টাকা ব্যয় হয়েছে কুলবাগানের পিছনে৷ তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে সদর উপজেলার গোটাপাড়া, পশ্চিমবাগ, নওয়াপাড়া ও হাড়িখালীসহ বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক মানুষ তাদের বাড়িতে পতিত জমিতে কুলচাষ করেছে৷ তাঁর মতে, যে কেউ একটু উদ্যোগী হলে বাড়ির একটু ফাঁকা জায়গায় ব্যবসায়িক ভিত্তিতে কুল চাষ করতে পারবেন৷ তিনি মনে করেন কুল চাষে আগ্রহীদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, সরকারের সহযোগীতা ও কৃষি বিভাগ এগিয়ে এলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কুলচাষে বিপ্লব ঘটতে পারে৷ কর্মসংস্থান হতে পারে এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের৷ পাশাপাশি কুল দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে৷ সফল এই কুলচাষি নারায়ণ হালদার দুই ছেলে মেয়ের পিতা৷ তাঁর ছেলে বিদেশে ল পড়ছে এবং মেয়েও থাকে বিদেশে৷ কুল বাগানে এলাকার ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র হাসিব, ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী মিতু আক্তার ও পূর্নিমা আক্তারের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা জানায়, পড়ালেখার ফাঁকে তাঁরা শখের বসে এ বাগানে এসে কুল ছিঁড়ে প্রতিদিন গড়ে ১০০ টাকা আয় করেছে৷ কুল ছিড়া সহজ, তবে গাছের কাটার দিকে লক্ষ্য রেখে কুল ছিড়তে হয়৷ কুল ছিড়ে যে টাকা আয় হয় সেই টাকা দিয়ে তাদের পড়ালেখার পাশাপাশি অন্য খরচ মিটে যায়৷ কুল বাগানে জোজিনা বেগম ও আলেয়া বেগমের সঙ্গে কথা হলে জানান, সংসারে কাজের ফাঁকে তাঁরা এই বাগানে কুল ছিড়তে এসেছে৷ এই মৌসুমে কুল ছিড়ে প্রতিদিন তাদের ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা আয় হয়৷ এই টাকা তাঁরা ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার পিছনে এবং সংসারে ব্যয় করছেন৷ কুলবাগানের অন্যতম কর্মচারী শিবেন দাসের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, হালদার বাবুর কুলবাগানকে ঘিরে এই গ্রামের বেশ কয়েকজন বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে৷ তাঁরা এই বাগানে কাজ করে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেতন পায় এবং এই টাকা দিয়ে তাদের সংসার চলে৷ তিনি আরো জানান, হালাদার বাড়ির বাগান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৩৮ মণ কুল ঢাকায় পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে৷ গোটাপাড়া গ্রামের যুবক আল আমীন জানান, সে তাঁর বাড়ির পাশে নারায়ণ হালদারের বাগানের কুল দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের বাড়িতে কুল চাষ শুরু করেছেন৷ সে এরই মধ্যে বুঝতে পেরেছে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কুল চাষ করা গেলে অনেকাংশে লাভজনক৷ গাছ রোপণ করার পর মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে কুলের ফলন পাওয়া যায়৷ গাছ ঠিকমত পরিচর্যা করা গেলে কয়েক বছর ধরে ওই গাছে কুল ধরবে৷ সে আরো জানায়, গোটাপাড়া গ্রামের মনির গাজী, নওয়াপাড়া গ্রামের মজিদ হাওলাদার ও পশ্চিমবাগ গ্রামের মনিরুল ইসলামসহ আরো অনেকে তাঁর মতো হালদার বাড়ির ওই বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে কুলচাষ করছে৷ নওয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আবুল বাশার জানান, হালদার বাড়ির বাগানের কুল দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের বাড়িতে কুল চাষ শুরু করেছে৷ সে এরই মধ্যে বুঝতে পেরেছে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কুল চাষ করা গেলে অনেকাংশে লাভজনক৷ গাছ রোপণ করার পর মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে কুলের ফলন পাওয়া যায়৷ গাছ ঠিকমত পরিচর্যা করা গেলে কয়েক বছর ধরে ওই গাছে কুল ধরবে৷ বাগেরহাট কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হীরেন্দ্র নাথ হাওলাদার জানান, সদর উপজেলার গোটাপাড়া গ্রামের নারায়ণ হালদার দেশের গর্ব৷ তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কয়েক বছর ধরে কুল চাষ করছেন৷ কুলচাষে সে শতভাগ সফল হয়েছে এবং তাঁর দেখা দেখি এলাকার অনেকেই কুলচাষ শুরু করেছে৷ তিনি আরো জানান, এই অঞ্চলের মাটি কুল চাষের জন্য উপযোগি৷ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কুলগাছ রোপণ ও সঠিক ভাবে পরিচর্যা করা গেলে কুলচাষ একটি লাভজন ব্যবসা৷ এ ক্ষেত্রে আগ্রহীরা কৃষি বিভাগের সহযোগীতা চাইলে অবশ্যই তাদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে৷ এ ক্ষেত্রে সরকার আগ্রহীদের সহজ সত্তে ঋণ দিলে এই অঞ্চলে উত্‍পাদিত কুল দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানী করা যাবে৷ বাগেরহাট কৃষি বিভাগের হিসাব অনুয়ায়ী জেলায় মোট এক লাখ ২৩ হাজার ৯০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফল চাষ হচ্ছে৷ এর মধ্যে শুধুমাত্র কুল চাষ হয় দুই হাজার বিঘা জমিতে৷ লেখক : সিনিয়র সহ-সম্পাদক, মফস্বল বিভাগ দৈনিক কালের কন্ঠ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা,ঢাকা৷ ০১৭১১-৩৬৪৪৮৫ কুল চাষে কোটিপতি কৃষিবিদ জাহেদুল আলম রুবেল মাঠে-ঘাট, পুকুরপাড়, মত্‍স্য ঘেরের চারপাশের গাছে ভরে গেছে কুলে-কুলে৷ সবুজ পাতায় ঢাকা ডালে-ডালে থোকায় থোকায় রঙ বেরঙয়ের কুল সব বয়সের মানুষের নজর কাড়ছে৷ বাগেরহাটের গোটাপাড়ার হালদার বাড়ির কুল ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকা শহরেও ৷ আধুনিক পদ্ধতিতে কুল চাষ করে নারায়ণ হালদার এলাকায় সাড়া জাগিয়েছেন৷ অধিক লাভের আশায় এ অঞ্চলের শিক্ষিত বেকার যুবক থেকে শুরু করে কৃষকরা কুল চাষে ঝুকে পড়েছেন৷ সফল এ চাষি একমাসে ওই বাগান থেকে অর্ধকোটি টাকার কুল বিক্রি করেছেন৷ কৃষি বিভাগের কাছে সফল এ কুলচাষি এখন দেশের গর্ব৷ বাগেরহাট শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে উত্তর দিকে ভৈরব নদী পার হয়ে গোটাপাড়া গ্রামে হালদার বাড়িতে সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাটি দিয়ে উচু বাঁধ তৈরি করে (বিশেষ পদ্ধতিতে লবণ পানি প্রতিরোধ করে) একই জমিতে খন্ডখন্ড করে কুল, ধান ও মাছের চাষ করা হচ্ছে৷ বাড়ির চতুর্দিকে যতদূরে চোখ যায় শুধু কুল আর কুল৷ পাখিকূলের হাত থেকে কুল বাঁচাতে গোটা বাগান ঘিরে রাখা হয়েছে জাল দিয়ে৷ স্কুল, কলেজ পড়ুয়া শিক্ষাথর্ী থেকে শুরু করে নানা বয়সী নারী ও পুরুষেরা গাছ থেকে কুল ছিড়ঁছেন৷ তিন দফা হাত বদলের পর বাজারজাত করার জন্য এসব কুল রাজধানী ঢাকার পাইকারী মোকামে যাচ্ছে৷ এই কুলবাগানকে ঘিরে এলাকার অর্ধশত বেকার মানুষের কর্মের সংস্থান হয়েছে৷ চোখ ধাঁধানো এই কুলবাগান দেখে বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক মানুষ সফল এই কুলচাষির কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে তাদের পতিত জমিতে কুলচাষ শুরু করেছে৷ কুলচাষি নারায়ণ হালদার জানান, তিনি ২০০৯ সালে প্রথমে তিনটি আপেল কুলের চারা রোপন করে এ চাষ শুরু করেন৷ এর পর থেকে প্রতিবছর সে কুলচাষের আয়তন বাড়িয়ে চলছেন৷ এ বছর প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে আপেল ও নারিকেল জাতের কুল চাষ করেছেন৷ বর্তমানে তাঁর বাগানে আপেল ও নারিকেলজাত মিলে দুই হাজার কুলের গাছ রয়েছে৷ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাষ করায় কুলগাছে ব্যাপক ফলন হচ্ছে৷ এক মৌসুমে একটি গাছ থেকে সে সর্বোচ্চ ৩২০ কেজি পর্যন্ত আপেল কুল পেয়েছেন৷ ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু করে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৫০ লাখ টাকার কুল বিক্রি করেছেন৷ ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতা না হলে ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকার কুল বিক্রি হতো৷ লাভজনক হওয়ার কারণে তিনি প্রতিবছরই কুলচাষের আয়োতন বৃদ্ধি করে চলেছেন৷ গত বছর প্রায় ৪০ লাখ টাকার কুল বিক্রি করেছেন৷ আগামী বর্ষা মৌসুমে সে আরো কয়েক বিঘা জমিতে কুল গাছ রোপণের প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু করেছেন৷ তাঁর টক-মিষ্টি প্রজাতির এই কুলের চাহিদা রয়েছে প্রচুর৷ মৌসুমের শুরু থেকে প্রতিদিনই বাগেরহাট থেকে পরিবহন যোগে প্রথমে ঢাকায় পাইকারী মোকামে যাওয়ার পর সেখানে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে এসব কুল বিক্রি হচ্ছে৷ পরবতর্ীতে রাজধানী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন ফলের দোকানে এই কুল বিক্রি হয়৷ সরকারের সহযোগীতা পেলে আগামীতে তাঁর বাগানের কুল বিদেশে রপ্তানি করতে পারবেন বলে তিনি আশা করেন৷ তিনি আরো জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগে থেকেই জমি প্রস্তুত করে জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু করে ওই মাসের মধ্যে কুল গাছ রোপণ করা হয়৷ ছয় মাস ধরে গাছের বিভিন্ন পরিচযর্া করার পর ডিসেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে কুল বাজারজাত করা যায়৷ তাঁর এই কুল বাগানে গড়ে প্রতিদিন পঞ্চাশ জন কর্মচারী কাজ করছে৷ এলাকার এসব বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে তাঁর কুলবাগানের মধ্যে দিয়ে৷ এবার কুল থেকে তাঁর যা আয় হয়েছে তার এক চতুর্থাংশ টাকা ব্যয় হয়েছে কুলবাগানের পিছনে৷ তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে সদর উপজেলার গোটাপাড়া, পশ্চিমবাগ, নওয়াপাড়া ও হাড়িখালীসহ বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক মানুষ তাদের বাড়িতে পতিত জমিতে কুলচাষ করেছে৷ তাঁর মতে, যে কেউ একটু উদ্যোগী হলে বাড়ির একটু ফাঁকা জায়গায় ব্যবসায়িক ভিত্তিতে কুল চাষ করতে পারবেন৷ তিনি মনে করেন কুল চাষে আগ্রহীদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, সরকারের সহযোগীতা ও কৃষি বিভাগ এগিয়ে এলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কুলচাষে বিপ্লব ঘটতে পারে৷ কর্মসংস্থান হতে পারে এই অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের৷ পাশাপাশি কুল দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে৷ সফল এই কুলচাষি নারায়ণ হালদার দুই ছেলে মেয়ের পিতা৷ তাঁর ছেলে বিদেশে ল পড়ছে এবং মেয়েও থাকে বিদেশে৷ কুল বাগানে এলাকার ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র হাসিব, ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী মিতু আক্তার ও পূর্নিমা আক্তারের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা জানায়, পড়ালেখার ফাঁকে তাঁরা শখের বসে এ বাগানে এসে কুল ছিঁড়ে প্রতিদিন গড়ে ১০০ টাকা আয় করেছে৷ কুল ছিড়া সহজ, তবে গাছের কাটার দিকে লক্ষ্য রেখে কুল ছিড়তে হয়৷ কুল ছিড়ে যে টাকা আয় হয় সেই টাকা দিয়ে তাদের পড়ালেখার পাশাপাশি অন্য খরচ মিটে যায়৷ কুল বাগানে জোজিনা বেগম ও আলেয়া বেগমের সঙ্গে কথা হলে জানান, সংসারে কাজের ফাঁকে তাঁরা এই বাগানে কুল ছিড়তে এসেছে৷ এই মৌসুমে কুল ছিড়ে প্রতিদিন তাদের ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা আয় হয়৷ এই টাকা তাঁরা ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখার পিছনে এবং সংসারে ব্যয় করছেন৷ কুলবাগানের অন্যতম কর্মচারী শিবেন দাসের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, হালদার বাবুর কুলবাগানকে ঘিরে এই গ্রামের বেশ কয়েকজন বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে৷ তাঁরা এই বাগানে কাজ করে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেতন পায় এবং এই টাকা দিয়ে তাদের সংসার চলে৷ তিনি আরো জানান, হালাদার বাড়ির বাগান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৩৮ মণ কুল ঢাকায় পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে৷ গোটাপাড়া গ্রামের যুবক আল আমীন জানান, সে তাঁর বাড়ির পাশে নারায়ণ হালদারের বাগানের কুল দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের বাড়িতে কুল চাষ শুরু করেছেন৷ সে এরই মধ্যে বুঝতে পেরেছে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কুল চাষ করা গেলে অনেকাংশে লাভজনক৷ গাছ রোপণ করার পর মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে কুলের ফলন পাওয়া যায়৷ গাছ ঠিকমত পরিচর্যা করা গেলে কয়েক বছর ধরে ওই গাছে কুল ধরবে৷ সে আরো জানায়, গোটাপাড়া গ্রামের মনির গাজী, নওয়াপাড়া গ্রামের মজিদ হাওলাদার ও পশ্চিমবাগ গ্রামের মনিরুল ইসলামসহ আরো অনেকে তাঁর মতো হালদার বাড়ির ওই বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে কুলচাষ করছে৷ নওয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আবুল বাশার জানান, হালদার বাড়ির বাগানের কুল দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের বাড়িতে কুল চাষ শুরু করেছে৷ সে এরই মধ্যে বুঝতে পেরেছে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কুল চাষ করা গেলে অনেকাংশে লাভজনক৷ গাছ রোপণ করার পর মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে কুলের ফলন পাওয়া যায়৷ গাছ ঠিকমত পরিচর্যা করা গেলে কয়েক বছর ধরে ওই গাছে কুল ধরবে৷ বাগেরহাট কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হীরেন্দ্র নাথ হাওলাদার জানান, সদর উপজেলার গোটাপাড়া গ্রামের নারায়ণ হালদার দেশের গর্ব৷ তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কয়েক বছর ধরে কুল চাষ করছেন৷ কুলচাষে সে শতভাগ সফল হয়েছে এবং তাঁর দেখা দেখি এলাকার অনেকেই কুলচাষ শুরু করেছে৷ তিনি আরো জানান, এই অঞ্চলের মাটি কুল চাষের জন্য উপযোগি৷ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কুলগাছ রোপণ ও সঠিক ভাবে পরিচর্যা করা গেলে কুলচাষ একটি লাভজন ব্যবসা৷ এ ক্ষেত্রে আগ্রহীরা কৃষি বিভাগের সহযোগীতা চাইলে অবশ্যই তাদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে৷ এ ক্ষেত্রে সরকার আগ্রহীদের সহজ সত্তে ঋণ দিলে এই অঞ্চলে উত্‍পাদিত কুল দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানী করা যাবে৷ বাগেরহাট কৃষি বিভাগের হিসাব অনুয়ায়ী জেলায় মোট এক লাখ ২৩ হাজার ৯০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির ফল চাষ হচ্ছে৷ এর মধ্যে শুধুমাত্র কুল চাষ হয় দুই হাজার বিঘা জমিতে৷ লেখক : সিনিয়র সহ-সম্পাদক, মফস্বল বিভাগ দৈনিক কালের কন্ঠ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, বারিধারা,ঢাকা৷ ০১৭১১-৩৬৪৪৮৫

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *