কৃষিতে তারুণ্যের অংশগ্রহণ

বাংলাদেশের জাতীয় কৃষ্টি ও সমৃদ্ধি কৃষি নির্ভর একথা সর্বজনস্বীকৃত। দেশের উন্নতি আর অগ্রগতির মূলে কৃষি নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে।  এক সময় কৃষিকে শুধুমাত্র জীবন ধারণের অবলম্বন হিসেবে দেখা হলেও বর্তমানে কৃষিতে কর্মসংস্থান গড়ার কাজে মনযোগ দিয়েছেন দেশের শিক্ষিত যুবসমাজ।  এক সময় লেখাপড়া শিখে চাকুরির পেছনে দৌড়াতো যুব সমাজ। আজ সে চিত্র খানিকটা হলেও পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। এখন অনেক শিক্ষিত যুবকরা আধুনিক কৃষি ব্যবস্থায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করছেন। পত্রিকান্তরের রিপোর্টে এমন চিত্র উঠে এসেছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবি শিক্ষার্থীরা শিক্ষা শেষে আজ কৃষিতে বিনিয়োগ করছে। কৃষি আজ শুধু বেঁচে থাকার অবলম্বন নয়। কৃষি আজ মুনাফা লাভের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

এক রিপোর্টে দেখা যায় যে, বাংলাদেশ পল্লী ও কর্মসংস্থান ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) অর্থায়নে কৃষির বিভিন্ন খাতে প্রায় ২২ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষি উদ্যোগকে অর্থায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে নতুন ধরণের ফসল ও পণ্য উৎপাদনে যুক্ত হয়েছেন প্রায় তিন লাখ উদ্যোক্তা।  তাঁদের গড় বয়স ৩৫। গোলমরিচ, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ, টমেটো ও ড্রাগন ফলের মতো নিশ্চিত মুনাফা আছে এমন খাতগুলোতে এই তরুণেরা বিনিয়োগ করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেবে, দেশের কৃষিকাজ এখন তারুণ্যনির্ভর। এখন কৃষিকাজে জড়িতদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী। তরুণদের এই অংশগ্রহণের ফলে কৃষিকাজেও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে বলে মনে করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হামিদুর রহমান।  ফল উৎপাদনের সাফল্যের পেছনে তরুণ উদ্যোক্তাদের ভূমিকা যে ব্যাপক তা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ফলচাষিদের তালিকা থেকে জানা যায়।  মূলত ধনী কৃষকদের পরবর্তী প্রজন্ম নানা ধরণের ফল চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছে।  স্ট্রবেরি, মাল্টা, কমলা, ড্রাগন ফল থেকে শুরু করে বাজারে নতুন ওঠা কালো তরমুজ চাষেও এই তরুণদের প্রাধান্য বেশি দেখা যায়।

পিকেএসএফের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই তরুণ উদ্যোক্তাদের অনেকেই প্রবাস থেকে ফিরে এসেছেন। অনেকের পরিবারের কেউ কেউ প্রবাস থেকে যে অর্থ পাঠাচ্ছেন, তা এই ধরণের কৃষিভিত্তিক উদ্ভাবনী ও নতুন খাতে বিনিয়োগ করছেন।  দেশের ভেতরে সুপারশপ ও উচ্চবিত্ত এলাকার বাজারগুলোতে এসব নতুন ধরণের পণ্য বিক্রি বাড়ছে বলেও সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে পিকেএসএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুল কাদেরের মতে, তরুণদের হাত ধরে দেশের কৃষিখাত পারিবারিক চাহিদা মেটানোর পর্যায় থেকে দ্রুত বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরিত হচ্ছে।  তবে এই বদল ধরে রাখতে হলে কৃষকদের ধনী হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। উদাহরণ তৈরি করতে হবে যে, উচ্চশিক্ষা শেষে কৃষিতে এলে চাকরির চেয়েও ভালো ভবিষ্যৎ আছে।

দেশের কৃষি এখন প্রযুক্তি নির্ভর। মান্ধাতা আমলের সেই রুগ্নসার হালের গরু নেই, নেই স্থানীয় কম ফলনশীল ফসলের জাত। তার বদলে আধুনিক উচ্চ ফলনশীল জাত, হাইব্রিড ফল-ফসলের সাথে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে সমৃদ্ধ হয়েছে দেশের কৃষি। এ কারণে সবজি উৎপাদনে তৃতীয় এবং মাছ চাষে পৃথিবীর চতুর্থ স্থানে বাংলাদেশ।  আজকের কৃষিতে দেশের  তরুণদের অংশ গ্রহণ সত্যি আশাব্যঞ্জক। আমরা মনে করি, দেশে ও বিদেশে কৃষি পণ্যের ভালো দাম এবং বাজার যদি নিশ্চিত করা যায়, এর পাশাপাশি শিক্ষিত তরুনদের জন্য কৃষিতে বিনিয়োগের সুব্যবস্থা ও বাজারজাতকরণের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের কৃষি খাতকে লাভজনক পেশায় পরিণত করা সম্ভব হবে। এজন্য শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষায়িত স্কীম হাতে নেওয়া প্রয়োজন।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare