কৃষিতে ভর্তুকি বাড়ানো জরুরী

প্রতিবারের ন্যায় এবার ও জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদে জাতীয় বাজেট ঘোষণা করবেন মাননীয় অর্থ মন্ত্রী জনাব আবুল মাল আব্দুল মুহিত। এবারো বাজেটে কৃষি ভর্তুকি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন কৃষি সংগঠনের নেতারা। একই সঙ্গে কৃষির উপকরণ-সহায়তা কার্ড সরাসরি কৃষকদের হাতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মোট বাজেটের ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ বরাদ্দ ছিল কৃষিতে। চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে বাজেট হওয়া উচিত- এমন দাবি কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনের। বিভিন্ন কৃষি সংগঠনের নেতারা বলেন, বর্তমানে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গুলোতে এমনকি বিএডিসি তার চাহিদামতো বাজেট বরাদ্দ পাচ্ছে না। আর নিয়োগ দিতে পারছে না প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল। এ জন্য কৃষিখাতে চরম হতাশা দেখা দেয়। কৃষকরাও উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান দিনদিন কমে যাচ্ছে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরে দেশের জিডিপিতে কৃষির অবদান ছিল ১৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। এ বছরে কৃষিজাত পণ্য রপ্তানির মোট আয় ছিল ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০১১-১২ অর্থবছরে দেশের জিডিপিতে কৃষির অবদান ছিল ১৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে জিডিপিতে কৃষির অবদান ছিল ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এ বছর কৃষিজাত পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল মোট আয়ের ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, জিডিপিতে কৃষির অবদান কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ কৃষিতে অপ্রতুল বাজেট। কৃষি উৎপাদনের অন্যতম উপকরণ হলো বীজ। বলা হয়, ভালো বীজে ভাল ফসল। কিন্তু দেশে ভাল বীজের সরবরাহ দিনদিন কমে যাচ্ছে। দেশে হাইব্রিড-জিএমও ধরনের বীজের আগ্রাসন চলছে। নানা জটিলতায় বিএডিসির বীজ উৎপাদন দিনের পর দিন কমছে। বিএডিসি ২০১০-১১ অর্থবছরে এক লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৫ টন বীজ উৎপাদন করেছিল। ২০১১-১২ অর্থবছরে করেছে এক লাখ ৪৪ হাজার ২০০ টন এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরে তা আরও কমে গিয়ে এক লাখ ১২ হাজার ৭৫২ টন বীজ বিতরণ করে। তাই স্বনির্ভর হতে হলে বিদেশী বীজ বাদ দিয়ে দেশের আবহাওয়ায় উপযোগী বীজ উৎপাদন করতে হবে। এর জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে।

অন্যদিকে, আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে পোলট্রি শিল্প বিকাশে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আয়কর মওকুফসহ বেশ কিছু নীতি-সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন। বার্ড ফ্লু সংক্রমণে উৎপাদন ৪০ শতাংশ কমেছে। অনেক ফার্মই বন্ধের পথে। আগে দেড় লাখ খামার ছিল। এখন এ সংখ্যা নেমে এসেছে ৬০ হাজারে। ফলে কর্মসংস্থানও নেমে এসেছে অর্ধেকে। আর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা। এ জন্য পোলট্রি শিল্প খাত সুরক্ষায় আয়কর মওকুফের মেয়াদ চলতি বছরের জুলাই থেকে বৃদ্ধি করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা আগামী বাজেটে থাকা প্রয়োজন ।

এসএমই খাতের প্রবৃদ্ধির অবদান ২৫ শতাংশ। কিন্তু এ খাতে সুদহার অনেক বেশি। বর্তমানে কৃষিতে ঋণ ১৪ হাজার কোটি টাকা, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। কৃষিঋণ বাড়ানো দরকার। চরের কৃষকদের ভূমির মালিকানা, ফসলের বৈচিত্র সৃষ্টিসহ সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার ব্যাপারে সরকারের বিশেষভাবে বিবেচনা করা দরকার। এবার বাজেটে চরাঞ্চলকে বিশেষায়িত একটি কাঠামোতে আনা দরকার। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাজার ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর নির্দেশনা বাজেটে থাকা প্রয়োজন। গবেষণায় দেখা গেছে, কৃষিতে ভর্তুকি বাড়ালে তা অপচয় নয় বরং কয়েক গুন প্রবৃদ্ধি আনয়ন করে।স ম্পা দ কী য়

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *