কৃষিতে শ্রম সাধনা

ড. মো. আবু বকর*

(পুনঃ প্রকাশ)

বেচে থাকার জন্য যে কোন প্রাণীরই খাদ্যের প্রয়োজন হয়। অনরূপভাবে মানুষকেও দুয়িায় বেঁচে থাকার মানসে  খাদ্যের অন্বেষন করতে হয়েছে। মানুষসহ সকল জীবের খাদ্যের সংস্থানের বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা একটি বুনিয়াদী বিষয় জানিয়ে দিয়েছেন আর তা হচ্ছেঃ “ওয়ামা মিন্ দা-ব্বাতিন্ ফিল আরদ্বে ইল্লা আ’লাল্লাহি রিজ্কো হা” (সুরাঃ হুদ-আঃ ৭)।

অর্থাৎ জমিনে বিচরনশীল এমন কোন জীব নেই যার রিজিক এর দায়িত্ব আল্লাহ পাকের উপর ন্যস্ত নয়। আল্লাহ পাকের এ ঘোষনা প্রকাশের পর কোন বুদ্ধিমান মানুষ না রিজিকের জন্য বিচলিত হতে পারে আর না সে তা অন্বেষন থেকে উদাসীন থাকতে পারে। কারন আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন সমগ্র সৃষ্টি কুলেরই রিজিক এর ব্যবস্থা করে থাকেন ঠিকই তবে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন সৃষ্টির সর্বোৎকৃষ্ট জীব “আশরাফুল মাখলুকাত” হিসাবে। ফলে মানুষের জীবন জীবিকার অন্বেষন পদ্ধতি ও অন্যান্য জীবের জীবিকা অন্বেষন পদ্ধতি এক নয়। মানুষকে তার জীবিকা অন্বেষন করার জন্য শ্রম সাধনার শর্ত রেখেছেন। তার ফলশ্রুতিতে উদ্ভব হয়েছে কৃষি কাজের। বস্তুতঃ মানুষের আহার্য্য বস্তুর সবই কৃষি উৎপন্ন দ্রব্য থেকে উদ্গত। কৃত্রিম উপায়ে তৈরি কোন বস্তুই মানুষের খাদ্য হিসাবে নির্ধারিত হয়নি না কোন খনিজ উপাদান বা আকরিক মানুষের মুল খাদ্য বস্তুর তালিকাভূক্ত হয়েছে। কাজেই যুগে যুগে কৃষিকে একটি সম্মানজনক পেশা হিসাবেই শ্রদ্ধার দৃষ্টিতে দেখা হয়েছে। এ পেশায় নিয়োজিত মানুষ ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে জাতির  জন্য সম্পদ সৃষ্টি করে অনেক নবী এ পেশা অবলম্বনে বিশেষত পশু পালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেছেন বলে ইতিহাস রয়েছে। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) ছোট বেলায় বকরী চড়াতেন আর পশু পালন মৎস্য চাষ পোল্ট্রি পালন কৃষিরই একটি অংশ। এই কৃষি একটি শ্রম সাপেক্ষ পেশা। শ্রম ব্যতিত উন্নত কৃষি সম্ভব হতে পারে না। পৃথিবীর প্রথম মানুষ ও প্রথম নবী হযরত আদম (আঃ) ও হযরত হাওয়া (আঃ) কে যখন পৃথিবীতে আসার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পেরণ করছিলেন তখন তাদেরকে এই নির্দেশ দিয়েছিলেনঃ “কুলনাহ বিতু মিন্হা যামীয়া’ ফাইম্মা ইয়া’ তিয়ান্নাকুম মিন্নী হুদান কামান্ তাবিয়া’ হুদায়া ফালা খাওফুন আ’লাইহিম ওয়ালাহুম ইয়াহ্যানুন্”। (সুরাঃ বাকারা—আঃ ৩৮)।

অর্থাৎ আমি বললাম তোমরা সকলেই এখান থেকে নেমে যাও। অতঃপর আমার নিকট হতে যে পথ নির্দেশনা যাবে, সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা কর তাহলে (দুনিয়ার জীবন যাপন এবং পরকালের সাফল্য অর্জনে) তোমাদের কোন চিন্তা ও ভাবনা থাকবে না)।

ইতিহাস সাক্ষী আদম (আঃ) এর দুনিয়ায় পদার্পন করা থেকে শুরু করে দুনিয়ায় মানুষ তার জীবিকার অন্বেষনে শ্রম নিয়োজিত করেছে। সাধারন জ্ঞান সম্পন্ন কোন মানুষ এটা মনে করে নেয়নি যে তার জীবিকা অতি প্রকৃত বা অলৌকিক ভাবে তার কাছে এসে যাবে এবং এটা আল্হর সাধারণ রীতি বা সুন্নত ও নয়। আজকের পৃথিবীতে খাদ্যে উৎপাদনের জন্য যে পদ্ধতিতে কৃষি কাজ করা হচ্ছে নবী আদম (আঃ) থেকে এ পদ্ধতির কৃষি হয়তো চালু ছিলনা। তবে পৃথিবীতে বিভিন্ন গমনযোগ্য এলাকায় যে সকল ফলফলাদি ছিল তা আহরন করতেও নবীকে শ্রম সাধনা করতে হয়েছে। নবী মুসা (আঃ) এর উম্মত যাদেরকে বনি ইসরাইল বলা হয় তাদের একদল পরিশ্রম ব্যতীতই আল্লাহর পক্ষ থেকে আহার্য্য বস্তু পাচ্ছিলেন মুসা (আঃ)  তাদের জন্য আল্লাহর কাছ থেকে এ ব্যবস্থা করেছিলেন। তাদের জন্য বর্ষন করেছেন “মান্না” ও “সালওয়াঃ নামক এক রকমের আসমানী খাদ্য। কিন্তু তাতেও তারা সর্বক্ষন সন্তুষ্ট থাকতে পারলোনা। তারা বললোঃ “ওয়াইজ কুলতুম ইয়ামুসা লান নাছবেরা আ’লা তোয়ামেও ওয়াহেদীন। ফাদ্’উ লানা রাব্বাকা ইয়ূ খরিজলানা মিম্মাতুম্ বিতুল আবদ্ধু মিম্ বাক্বলিহা ওয়াকিছছাইহা ওয়াফুমিহা, ওয়া আ‘দাছিহা ওয়া বাছোয়ালিহা, ক্বালা আতাছতাবদিলুনাল্লাজী হুয়া আদনা বিল্লাজি হুয়া খাইরঃ (সুরাঃ বাকারা–আয়াত- ৬১)।

(অর্থাৎ স্মরন কর  হে বনি ইসরাঈল) তোমরা যখন বলেছিলে হে মুসা (আঃ) আমরা একই প্রকার খাদ্যে সন্তুষ্ট থাকতে পারবনা। আপনি আপনার রবের নিকট প্রার্থনা করুন তিনি যে আমাদের জমির ফসল, শাক, সবজি রসুন, পিয়াজ, ডাল ইত্যাদির উৎপাদন করেন। তখন মুসা (আঃ) বলিলেনঃ একটি উত্তম জিনিসের পরিবর্তে তোমরা কি একটি সামান্য জিনিস গ্রহণ করতে চাও?।

তাদরে প্রতি প্রদত্ত করুনার উল্লেখ করে পবিত্র কোরআনের অন্যত্র বলা হয়েছেঃ “ওয়া যোয়াল্লালনা আ’লাইকুমুল গামামা ওয়া আনজালনা আ’লাইকুমুল “মান্না” “ওয়াস্সালওয়া” কুলু মিন তোয়াইয়্যেবাতি মা রাজাকনা কুম ওয়মা যোয়ালামুনা ওয়ালা কিন কানু আনফুসাহুম ইয়াযলিমুন” (সুরাঃ বাকারা– আঃ- ৫৭)।

অর্থাৎ আমরা তোমাদের উপর মেঘের ছায়াদান করিলাম “মান্না” ও “সালওয়া” নামক খাদ্য তোমাদের জন্য যোগান দিলাম এবং তোমাদের বলিলাম যে, আমরা তোমাদিগকে যে পবিত্র দ্রব্য সামগ্রী দান করিয়াছি তাহা খাও; তোমাদের পূর্ব পুরুষগণ যাহা করিয়াছে তা দ্বারা আমাদের উপর যুলুম করা হয় নাই; বরং তাহারা নিজেরা নিজেদেরই উপর যুলুম করিয়াছে।

রসূল মোহাম্মদ (সা) এর রেসালাত মেনে নিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী একদল কাফের ও অতিপ্রাকৃতভাবে নবী মোহাম্মদের কাছে কোন ধন ভান্ডার অবর্তীন করা কিংবা খাদ্যের জন্য একটি অলৌকিকভাবে বাগান পেয়ে যাওয়ার বিষয়ে আকাঙ্খা ব্যক্ত করে। বলা হয়েছেঃ “আও ইউল্কি ইলাইহি কানজুন আও তাকুনু লাহ জান্নাতু ইয়া’ কুলু মিনহা ওয়াকালখ যোয়ালিমুনা ইনতাত্তাবিউনা ইল্লা রাজুলাম মাহজু-রা।” (আল কোরআন- আঃ ৮)। (অর্থাৎ  তাঁর জন্য কোন ধন ভান্ডারই অবতীর্ন করা হতো অথবা তার নিকট হতো কোন বাগান যা হতে সে (নিশ্চিন্তে) ফলরুণজী লাভ করতো। আর এ যালেমরা বলে তোমরা তো এক যাদুগ্রস্থ ব্যক্তির পেছনে ছুটিয়াছ। অন্যত্র কাফের মুশরিকদের অনুরূাপ দাবীতে বলা হয়েছেঃ “ওয়াক্কালু লান নূ’মিনালাকা হাত্তা তাফজুরালানা মিনাল আরদ্ধে ইয়ামবু আ। আও তাকুনা লাকা  জান্নাতুম্মিন নাখ্লিও ওয়া ই’নাবিন ফাতু ফাজ্জিরাল আনহারা খিলালাহা তাফ্জিরা। আওতুছকিতাস সামায়া কামা যায়ম্তা আলাইনা কিছাফান আওতা’ তিয়া বিল্লাহি ওয়াল মালায়িকাতি ক্বাবিলা। আও ইয়াকুনা লাকা বায়তুন মিন যুখরুফিন আও তার ক্বণ ফিস সামায়ি ওয়া লান নু‘মিনা লি রুকিকা হাত্তা তুনায্যিলা’ লানা কিতাবান নুক্বরাইহু। ক্বল সোবহানা রাব্বি হাল কুনতা ইল্লা বাশারার রাসুলা? ওয়ামা মানা আন্নাসা আই ইয়ু’ মিনু ইজা যা হুমুল হুদা ইল্লা আন ক্কালু আবায়া সাল্লাহু বাশারার রুসুলা। কুল লাও কানা ফিল আয়দ্ধে মালাইকাতুই ইয়ামশুনা মুতমাইন্নিনা লামনাজ্জালনা আলাইহিম মিনাছ ছামায়ি মালাকার রাসুলা।” (সুরাঃ বলি ইসরাইল– আঃ ৯০-৯৫।

অর্থাৎ আর তারা বল্ল আমরা তোমার কথা মানবনা যতক্ষন পর্যন্ত না তুমি যমীনকে দীর্ন করে একটি ঝর্না প্রবাহিত না করিবে। কিংবা তোমার জন্য একটি খেজুর ও আঙ্গুর এর একটি বাগান রচিত না হবে, আম তুমি উহাতে ঝর্না ধারা প্রবাহিত করে না দেবে। অথবা তুমি আকাশ মন্ডলকে টুকরা টুকরা করে আমাদের উপর আপত্তি না করবে – যেমন তুমি দাবী করছো। কিংবা তুমি আসমানের উপর আরোহন করবে, আর তোমার এ আরোহনকে আমরা বিশ্বাস করবো না যতক্ষন তুমি আমাদের উপর এমন এক খানি লিপি অবতরন না করবে যা আমরা পড়তে পারবো। হে মুহাম্মদ (সঃ) তাদের বল পাক ও পবিত্র আমার খোদা আমি এক জন পয়গাম বাহক মানুষ ছাড়া আরও কি কিছু? লোকদের সামনে যখনই হেদায়েত আসিয়াছে তখনই উহার প্রতি ঈমান আনা হতে কোন জিনিসই বিরত রাখে নাই বরং বিরত রেখেছে শুধু তাদের একথাটি যে আল্লাহ কি মানুষকে নবী রাসুল বানিয়ে পাঠিয়েছেন? তাদেরকে বল যমীনে যদি ফেরেশতাগণ নিশ্চিন্তে চলা ফেরা করতো তাহলে আমরা অবশ্যই কোন ফেরেশতাকেই তাদের জন্য নবী করে প্রেরণ করতাম।

অর্বাচীন কাফির সম্প্রদায়ের অযৌক্তিক দাবী ও আকঙ্খা ্আল্লাহ তায়ালা পূরণ করেননি। নবী হতে হলে যেমন অতি মানব হওয়া যুক্তিগ্রাহ্য নয় তেমনি নবী রাসূল গণের জীবন জীবিকা ও খাদ্যের সংস্থান ও স্বাভাবিক পদ্ধতিতে আসবে এ জন্য অলৌকিকভাবে একটি খেজুর ও আঙ্গুর ফলের বাগান তার সাথে ঘুরে বেড়াবে আর নবী রাসূলগণ প্রয়োজনমত সেই বাগান থেকে আহার্য্য ফল সংগ্রহ করে যাবেন এটা মোটেই স্বাভাবিক বা যুক্তি সিদ্ধ পদ্ধতি নয়। মানুষের জীবন ধারনের জন্য জীবিকার অন্বেষন ও জীবন পরিচালনার জন্য কোন পদ্ধতি ও কার্যক্রম গ্রহণের কোন অবকাশই আর মানুষের জন্য থাকতো না। অথচ মানুষ না কোন অতীন্দ্রীয় লোকে বসবাসকারী জীব আর না তার জন্য অতীন্দ্রীয় কোন ব্যবস্থা শোভনীয় হতে পাবে। বরং দুনিয়া জাহানের বাস্তবতায় লালিত পালিত হয়ে জীবন যাপনের কঠোর নীতি নৈতিকতার মাধ্যমে তার জীবন চলবে এটাই যুক্তিসঙ্গত এবং সম্মান জনক। আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে আর তাই মাটিতেই নিহীত রয়েছে মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় রিজিকের উপাদান সমূহ। মানুষ সে রিজিকের অন্বেষনে তৎপর হয়ে সন্ধান করবে বিভিন্ন পন্থা আর এর মাধ্যমেই সে সৃষ্টিকূলে নিহীত বিভিন্ন তত্ত্ব ও তথ্যের সন্ধান লাভ করবে। এ অনুসন্ধান পরিচালনার সময় সে না নিজেকে কোন কিছুর সৃষ্টিকর্তা মনে করবে আর না অনুসন্ধানে প্রাপ্ত কোন নুতুন সত্যের সে মালিকানা দাবী করবে বরং সে সৃষ্টিলোকের রহস্যের সন্ধানে নিজেকে ¯্রষ্ঠার একজন নগন্য সৃষ্টি হিসাবে ¯্রষ্ঠার অনুগহ প্রার্থী হয়েই সর্বদা তার প্রতি কৃতজ্ঞ চিত্ত থাকবে। তবেই সে সত্য সন্ধানে সাফল্যের পাশাপাশি আল্লাহর অনুগত বান্দা হিসাবে আল্লাহর অনুগ্রহ পেতে সক্ষম হবে। এখানে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এবং তার বংশধরগণের মরু প্রান্তর থেকে রিজিক প্রাপ্তির কথা উল্লেখযোগ্য। পািবত্র কোরআনে সুরা ইব্রাহীমে উল্লেখ করা হয়েছেঃ “রাব্বানা ইন্নি আছকানতু মিন জুরিরয়াতি বি ওয়াদিন গাইরিজি যারয়িন ই’নদা বাইতিকাল মোহাররাম রাব্বনা লিইয়ু কিমুছ সালাতা ফাজ’য়াল আফ’য়িদাতাম মিনান্নাছি তাহ হ্বি ইলাইহিম ওয়ার যুক্কহুম মিনাছ ছামারাতি লা’ য়া’ল্লাহুম ইয়াশ কুরুন।” সুরাঃ ইব্রাহীম—আঃ ৩৭), অর্থাৎ হে আমদের রব আমি আমার বংশদর দিগের কতককে বসবাস করাইলাম অনূর্বর উপত্যকায় তোমার পবিত্র গৃহের নিকটে হে আমাদিগের প্রতিপালক এই জন্য যে ইহারা যেন সালাত কায়েম করে। অতএব তুমি কিছু লোকের অন্তর ইহাদের প্রতি অনুরাগী করে দাও এবং ফল ফলাদী দ্বারা ইহাদের রিজিকের ব্যবস্থা করিও যাতে উাহারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

নবী ইব্রাহীম (আঃ) আল্লাহর একজন অনুগত বান্দাহ হিসাবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট তার যে আকুতি পেশ করেছেন আল্লাহ তা পূরণ করেছেন। নির্জন মরুা প্রান্তরে রেখে যাওয়া ইসমাঈল ও তার স্ত্রীর বিবি হাজেরাকে পরি ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন যা মাটি থেকেই প্রবাহিত, আর যেখানে পানির উৎস পাওয়া যায় সেখানে কৃষি কাজের উৎকর্ষ বৃদ্ধি পায়। ফলে পানির উৎস ঘিরে জনপদ গড়ে উঠে, পয়দা হয় ফুল শোশোভিত ঘন উদ্যান। আল্লাহর অনুাগ্রহ এভাবেই মানুষের প্রতি নাযিল হয়। এটাই আল্লাহর নির্ধারিত স্বাভাবিক পদ্ধতি। ফাষ্টফুডের দোকানের ন্যায় সুন্দর মোড়কে প্যাকেট হয়ে আসা খাদ্য যদি কোন নির্বোধ, আল্লাহর কাছ থেকে পাওয়ার আকাঙ্খা করে আল্লাহ তা প্রদানের ব্যপারে যথেষ্ট ক্ষমতাবান যা অতীতে আল্লাহ মানুষকে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের প্রতি আস্থাবান হওয়ার জন্য প্রদর্শন করেছেন। কিন্তু এটা মানুষের ফিতারাতের জন্য সঙ্গতি পূন সঠিক ও স্বাভাবিক পদ্ধতি নয় বলেই তা চালু রাখেননি। যে প্রাপ্তি যত কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত হয় তা মানুষের নিকট ততোই মর্যাদাপূর্ণ হিসাবে বিবোচিত হয়। আল্লাহ তায়ালা মাটিকে শস্য উৎপাদনের ক্ষেত্র বা মাধ্যম বানিয়েছেন। এ মাটি পৃথিবী পৃষ্টের সর্বত্র একই রকম শস্য উৎপাদনে সক্ষম হয় না। কোন মাটির উর্বরতা কম আর কোন মাটির উর্বরতা বেশী। কাজেই কম উর্বর মাটিতে শস্য উৎপাদনে তূলনামূক ভাবে বেশী শ্রম সাধনা করতে হয়। এতদুদ্দেশ্যে আল্লাহর ঘোষনা হলঃ “ওয়াল বালাদুত তোয়াইয়াব ইয়াখ্রুজু নাবাতুহ বিইজনি রাব্বি। ওয়াল্লাজি খাবুছাত্ লাইয়াখ্রুজু ইল্লা নাকিদা কাজালিকা নুর্ছারিফুল আয়াতিহী লি ক্বাওমি ইয়াশ কুরুন” (সুরায়ঃ আল আন আম– আয়াত- ৫৮) প্রকৃতপক্ষে অবিশ্বাসী ও সন্দেহ বাদীদের অমূলক ধারনা আদৌ সঠিক নয় যে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁর বান্দাদের জীবিকার সংস্থান অতিপ্রাকৃত অলৌকিক উপায়ে করে দেবেন বরং তা হবে বাস্তব ভাবে বা লৌকিকভাবে অলৌকিকতার ছোয়া তাতে থাকবেনা। তাহলে মানুষ সত্য গ্রহণ ও অনুসরন করা থেকে এ কথা বলেই ফিরে থাকবে যে আমরা প্রকৃতির

ক্রোড়ে লালিত পালিত মানুষ আমাদের পক্ষে অতিপ্রাকৃত জিনিসের উপর নির্ভর করা কি করে সম্ভব? কাজেই কৃষি কাজের

মত সম্মানজনক ও গৌরবময় এ পেশায় শ্রম সাধনা একটি অতি সম্মানজনক বিষয়। এ ব্যাপারে হীনমন্যতার কোনই অবকাশ নেই।

—————————————–

*লেখকঃ চীফ সায়েন্টিফিক অফিসার ও প্রকল্প পরিচালক (অবসর প্রাপ্ত),

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, জয়দেবপুর, গাজীপুর।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare