কৃষির সাফল্য ধরে রাখতে কৃষকের স্বার্থ সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন

স্বাধীনতার পর জনসংখ্যা কয়েকগুণ বাড়লেও বাড়তি জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা জোগান দিয়েছে এ দেশের কৃষক। এদেশের কৃষক ক্রমেই ফসলের উৎপাদন বাড়িয়ে চলেছে। কিন্তু কৃষকের বোবাকান্না আড়ালেই থেকে যায়। কৃষকই আমাদের খাদ্যের জোগানদাতা, কৃষি উন্নয়নের অন্যতম রূপকার। তারপরও কৃষকের স্বার্থ উপেক্ষিত।

বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও আমাদের অর্থনীতি সচল থেকেছে যেসব কারণে তার অন্যতম কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির অব্যাহত গতি। অথচ দেশে খাদ্য উৎপাদনে প্রতিবন্ধকতা বাড়ছে সবার চোখের সামনেই। প্রায় প্রতিদিনই কৃষিজমি কমছে। সেচ দুষ্প্রাপ্য হচ্ছে, মাটি উর্বরতা হারাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় যেভাবে তামাক চাষ বাড়ছে তাতে কৃষির ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়তে বাধ্য। উত্তরের লালমনিরহাট জেলার ৬টি উপজেলায় গত বছরের চেয়ে এ বছর তামাক চাষ বেড়ে গেছে দুই গুণেরও বেশি। আর কুষ্টিয়ার ধান-গম-মসুর-আখ-ছোলা উৎপাদন হতো এমন ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে এখন শুধুই তামাক চাষ হচ্ছে। একইভাবে ক*বাজার, বান্দরবান এলাকার মতো আরও অনেক জায়গায় তামাক চাষ ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু এর ফলে খাদ্য উৎপাদন কমে যাচ্ছে। তাছাড়া তামাক চাষের পর বোরো চাষ করলে তার ফলন ৪ থেকে ৫ মণ কম হয়। তার পরও তামাক চাষ বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেই। কৃষকের স্বাভাবিক ফসল উৎপাদনে সহায়তার অভাবে দেশি-বিদেশি তামাক কোম্পানিগুলো ফাঁদে ফেলছে কৃষককে। তামাক চাষে প্রয়োজনীয় উপকরণ, অর্থ সহায়তা ও যথাসময়ে ফসল কিনে নেয়ার নিশ্চয়তা পেয়ে কৃষক তামাক চাষে ঝুঁকে পড়ছে।

সরকার যদি কৃষকের ফসলের ন্যায্য দাম নির্ধারণ করে সময় মতো বিক্রির ব্যবস্থা করে দেয় তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে বাধ্য। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, কৃষকের ধানের দাম ৫০০ টাকা মণ হওয়ায় প্রতি মণে ২০০ টাকা লোকসান গুণনতে হয়েছে। ডিজেল, সার, কীটনাশক, পাওয়ার টিলার ও পানির দাম শোধ করে তার হাতে কিছুই থাকে না। অথচ চাতাল ও মিল মালিকরা কম দামে ধান কিনে চাল বানিয়ে লাভ করছে। শাকসবজি, তরি-তরকারি বিক্রি করেও কৃষক লাভবান না হলেও ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে শহরে বেশি দামে বিক্রি করে। এসব ক্ষেত্রে এবং কৃষি বিভাগ বা সরকারের যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

এ অবস্থা চলতে থাকলে খাদ্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বা কৃষির সাফল্য বেশি দিন থাকবে না। তাই অবিলম্বে কৃষকের দিকে নজর দিতে হবে। কৃষি উপকরণ ও পণ্যের ব্যবসায়ী বা ধনী কৃষকের স্বার্থ দেখলে চলবে না, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকের স্বার্থরক্ষাই অগ্রাধিকার দাবি করে।

২. আসছে আগামী ২১ ফেব্র“য়ারি আমাদের মহান ভাষাদিবস ও আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস। মহান ভাষা দিবসে আমাদের সকল পাঠক,

লেখক, বিজ্ঞাপন দাতা ও শুভানুধ্যায়িদের জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare