কৃষি উৎপাদনে নেতৃত্বে বাংলাদেশ

ড. মো. দেলোয়ার হোসেন মজুমদার

অনেকটা নিশ্চিত করে বলা যায় গত কয়েক দশকে বাংলাদেশে কৃষি খাতে অভাবনীয় বিপ্লব সাধিত হয়েছে। কৃষির বিভিন্ন উপখাতের ক্রম অগ্রগতি বিশ্বের বিভিন্ন সূচকেও প্রভাব বিস্তার করেছে। পাল্টে দিয়েছে কৃষি উৎপাদনের পুরনো হিসাব নিকাশ। ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে সীমিত ভুখন্ডে অসীম সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পরিশ্রমী কৃষক, তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ এবং সরকারের বিভিন্ন তৎপরতায় উৎপাদন বিপ্লবে বাংলাদেশের এ অসামন্য অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে বলে মনে করেছেন কৃষি বিশ্লেষকরা ।

বিশেষজ্ঞরা জানান, স্বাধীনতা-পরবর্তী ৪৫ বছরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। এই সময়ে আবাদি জমির পরিমাণও অনেক কমে গেছে। উপরন্ত বন্যা, খরা, লবনাক্ততা ও বৈরী প্রাকৃতিক পরিবেশে ফসলহানির ঘটনা ও ঘটেছে। তবুও খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে উজ্জ্বল উদাহারণ (জড়ষব গড়ফবষ)। ধান, গম ও ভুট্রার ক্ষেত্রে বিশ্বের গড় উৎপাদনে পেছনে ফেলে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। শাকসবজি ও ফলমূলের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলু রপ্তানি এ দেশের কৃষির উল্লেখযোগ্য সাফল্য ।

খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের জন্য পথিকৃৎ। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ইতিমধ্যে ৮০টির অধিক ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবন করেছে ১৭ টি ধানেরজাত। এর বাইরে বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলো ১১৫টি হাইব্রিড ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে। এ ছাড়া ব্রি ও বিনার বিজ্ঞানীরা ১৬টি প্রতিকুল পরিবেশ সহিঞ্চু ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে লবণ সহিঞ্চু নয়টি, খরা সহিঞ্চু দুটি ও বন্যা সহিঞ্চু পাঁচটি ধানের জাত। সব মিলিয়ে ধান গবেষণা ও উৎপাদনে বাংলাদেশ ঈর্ষনীয় অগ্রগতি লাভ করেছে। স্বাধীনতার পর দেশে প্রতি হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। গত পাঁচ বছরে দেশের মানুষকে খাওয়াতে বাংলাদেশ সরকার কোনো চাল আমদানি করেনি। বরং শ্রীলঙ্কায় চাল রপ্তানি শুরু করেছে। গত ১৯১৩ সালে বাংলাদেশ প্রথম খাদ্যশস্য উৎপাদনে (চাল উৎপাদনে) স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। আর  ২০১৩ সালে বিশ্বে প্রথম বারের মতো জিঙ্ক সমৃদ্ধ ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন দেশের কৃষি গবেষকরা। হেক্টর প্রতি ধান উৎপাদনের দিক থেকে বিশ্বের অধিকাংশ দেশকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। মোট ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে চতুর্থ। আর মোট ফসল উৎপাদনে বিশ্বে দশম স্থান অধিকার করেছে বাংলাদেশ। (ঋঅঙ জবঢ়ড়ৎঃ -২০১৬)

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনষ্টিটিউট এ পর্যন্ত বিভিন্ন ফসলের প্রায় ৪৮০ জাত উদ্ভাবন করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএসআরআই) এ পর্যন্ত ২৮টি জাত অবমুক্ত করেছে।  বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) এ পর্যন্ত ৪৪টি  জাত অবমুক্ত করেছে (বিবিএস-২০১৫)। বাংলাদেশ  পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) বেশ কয়েকটি জাত উদ্ভাবন ছাড়াও পাটের জীবন রহস্য উম্মোচন করেছে। গত পাঁচ বছরে তারা ছয়টি জাত অবমুক্ত করেছে। আরও দুটিজাত অবমুক্তির অপেক্ষায় আছে। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও পাটের বহুমুখি ব্যবহারের ফলে কৃষক এখন পাটের উপযুক্ত মুল্য পাচ্ছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রতিবেদনে বলা হয় ২০১৪ সালে মাছ উৎপাদনে  বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। মাছ উৎপাদনে চীন বিশ্বসেরা, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছে যথাক্রমে ভারত ও মিয়ানমার। তারপরই বাংলাদেশ। এফএও পূর্বাভাস  দিয়েছে, ২০২২ সালনাগাদ বিশ্বের যে চারটি দেশ মাছ চাষে বিপুল সাফল্য অর্জন করবে তারমধ্যে প্রথম দেশটি হচ্ছে বাংলাদেশ। পরিসংখ্যান বুরোর (বিবিএস) হিসাবে বলা হয়, ২০১৩-১৪ সালে বাংলাদেশে ৩৪ লাখ ৫৫ হাজার টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে চাষের মাছের পরিমাণ ছিল প্রায় ২০ লাখ টন। জাটকা সংরক্ষণ সহ নানা উদ্যোগের ফলে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাছ ইলিশের উৎপাদন ৫২ হাজার টন  বেড়ে সাড়ে ৩ লাখ টন হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে দেশে তিন লাখ ৮৫ হাজার মে. টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে তাহা বেড়ে ৪ লাখ টন ছেড়ে যাবে বলে আশা করা যায় (আমাদের সময়, ০৬ এপ্রিল, ২০১৭)। আর এর মধ্যে মাছ রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৩৫ গুণ।

জাতিসংঘের  খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী  সবজি  উৎপাদনে  বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয়। দেশ স্বাধীনের  পর থেকে  এখন পর্যন্ত  দেশে  সবজির  উৎপাদন  বেড়েছে  ৫ গুণ। গত এক যুগে  রীতিমতো  ঘটে গেছে সবজি বিপ্লব। বর্তমানে বছরে প্রায় ১৪২ লক্ষ মে.টন সবজি উৎপাদন হচ্ছে (ডিএই,২০১৬)। এক সময় ভালো মানের সবজির জন্য শীতকাল  পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। টমেটো, লাউ, কপি বা  নানা পদের শাক শীতকাল  ছাড়া  বাজারে মিলতই না। গ্রীস্মকাল  ছিল সবজির  আকালের সময়। গত এক যুগে  পরিস্থিতি  বদলে গেছে। এখন প্রায়  সারা বছরই  ২০ থেকে  ২৫ জাতের সবজি  খেতে পারছে দেশের  মানুষ। কৃষকেরা  সারা বছরই  নানা ধরণের  সবজি চাষ করছেন। গত এক  দশকে বাংলাদেশে  সবজির  আবাদি  জমির পরিমাণ ৫ শতাংশ হারে বেড়েছে। এই হার বিশ্বে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে  জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য  সংস্থা (এফএও)। সরকারি হিসাব তো আছেই, আন্তজার্তিক  বিশ্লেষণে গেলেও রীতিমতো  গর্ব  করার মতো  তথ্য বেরিয়ে  আসে। জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার স্ট্যাটিসটিক্যাল  ইয়ারবুক অনুযায়ী  ২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সময়  বিশ্বে  সবচেয়ে বেশি হারে  সবজির  আবাদি জমির পরিমাণ  বেড়েছে বাংলাদেশে, বৃদ্ধির  হার ৫ শতাংশ। বাংলাদেশের পরেই রয়েছে নেপালে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

গত এক যুগে দেশে মাথা পিছু সবজির খাওয়ার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। পাশাপাশি গত এক বছরে শুধু সবজি রপ্তানিতে আয় বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। ১৯৯৪ সালে দেশে মাথাপিছু  দৈনিক সবজি খাওয়ার পরিমাণ ছিল ৪২ গ্রাম। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিউটের (বিএআরআই) হিসাবে ২০১৪ সালে দেশে মাথা পিছু সবজি খাওয়ার পরিমাণ ৭০ গ্রাম। বর্তমানে আলু সহ তা দাড়িঁয়েছে প্রায় ১৩৮ গ্রাম। উল্লেখ্য রাজধানীর প্রায় দেড় কোটি মানুষের সবজি চাহিদার একটি বড় অংশের জোগান আসছে পাশ্ববর্তী অঞ্চলগুলো থেকে। বাজার চাহিদার কারণে রাজধানীর চারপাশে সবজি উৎপাদনের বিশাল ক্ষেত্র গড়ে উঠেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৬০ ধরণের ও ২০০ জাতের সবজি উৎপাদন হচ্ছে। এসব সবজির ৯০ শতাংশ বীজই দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। কৃষিমন্ত্রী  মতিয়া চৌধুরী  সবজি বিপ্লব  নিয়ে বলেন, দেশের বিজ্ঞানীদের  উদ্ভাবিত  উন্নত জাত এবং সরকারের  বিভিন্ন  সহায়তার  সঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পরার্মশ ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও কৃষকের   পরিশ্রম  যুক্ত হয়েই  এই সফলতা  এসেছে।

আলু উৎপাদনে ও বাংলাদেশ বিরাট সাফল্য লাভ করেছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৯৬.০ লাখ মে. টন আলু উৎপাদন হয় দেশে। আর আমাদের চাহিদা বছরে ৭০-৭৫ লাখ মে. টন। বাকি আলু আমরা অনায়াসে বিদেশে রপ্তানী করতে পারি। রাশিয়া সহ কয়েকটি দেশে ইতিমধ্যে আলু রপ্তানী শুরু হয়েছে।

ফল উৎপাদনেও বাংলাদেশ যথেষ্ঠ সাফল্য লাভ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ৭০ প্রকারের প্রায় ৪৮ লক্ষ মে. টন ফল উৎপাদন হয়। চাহিদা প্রায় ১০৫ লাখ মে. টন। জন প্রতি প্রাপ্যতা ৭৮ গ্রাম/দিন আর প্রয়োজন ২০০গ্রাম/দিন/জন। ফল ভিটামিন ও খনিজ লবণের প্রধান উৎস। সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন অন্তত একটি ফল খাওয়া উচিত। ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন প্রথিকৃত। আম, কাঠাল, আনারস, লিচু ছাড়া ও ইদানিং কমলা উৎপাদন যথেষ্ঠ বেড়েছে। বিশেষ করে সিলেটে উৎপাদিত কমলা এখন পাহাড়ের তিন প্রাবত্য জেলায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। এতে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের “সাইট্রাস উন্নয়ন প্রকল্প” গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বর্তমানে বাজারে কমলা, আপেল কুল, বাউকুল এবং থাই পেয়ারা রীতিমত বিপ্লব ঘটিয়েছে। রাজশাহী সহ উত্তর বঙ্গের অনেক জেলায় এখন নিত্য নতুন আম, লিচুর ও পেয়ারার বাগান সৃজণ হচ্ছে।

বিশ্বে ফল উৎপাদন বৃদ্ধির হার এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। বিশ্বে মোট আম উৎপাদনের অর্ধেকের বেশি হচ্ছে দক্ষিন এশিয়ায়। বাংলাদেশ আম উৎপাদনে বিশ্বে এখন সপ্তম। খাদ্য ও কৃষিসংস্থার সর্বশেষ মূল্যয়নে বলা হয়েছে, প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টন আম উৎপাদনে মাধ্যমে এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। বিবিএসের তথ্যমতে ২০০৯-১০ অর্থবছরে উৎপাদন হয় ৮ লাখ ৪২ হাজার আর ২০১০-১১ অর্থবছরে উৎপাদন হয় ৮লাখ ৮৯ হাজার টন। ২০১১-১২ অর্থবছরে তা আরও বেড়ে দাড়াঁয় প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টনে। আর পেয়ারা উৎপাদনে বাংলাদেশ অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদন বিষয়ক প্রতিবেদনে এই তথ্য  উঠে এসেছে।

এফএওর বৈশ্বিক পরিসংখ্যান প্রতিবেদন বলছে, ফল উৎপাদনের দিক থেকে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল বিশ্বের  পর্যায়ক্রমে শীর্ষস্থানে রয়েছে। আর মোট ফল উৎপাদনের দিক থেকে বিশ্বে ২৮তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশের ফলের উৎপাদন বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ থেকে দ্রুত  গতিতে  বাড়ছে। এই তথ্য উল্লেখ করে কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, ২০১৫ এর পরিসংখ্যান  হিসাব করলে বাংলাদেশের অবস্থান  আরও এগোবে। কারণ এখনো  এই হিসাব  এফএও  প্রকাশ করেনি। এফএওর প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে ফলের উৎপাদন ১১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। আর হেক্টরপ্রতি ফলের উৎপাদন ১০ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদনের এই দুই দিকেই বাংলাদেশের  ফল উৎপাদন বৃদ্ধির হার বিশ্বে সর্বোচ্চ। আশা করা যায় ফল উৎপাদনে বাংলাদেশ একদিন স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে সহ কয়েকটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ল্যাংড়া ও আমরুপালি আম।

কৃষি খাতে বিভিন্ন সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ মানণীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত ২০ মে’২০১৪ সম্মাননা জানিয়েছে আমেরিকার কর্ণেল বিশ্ববিদ্যালয়। এতে বাংলাদেশের কৃষিখাতের উন্নয়নে, খাদ্য উৎপাদনে সফলতা অর্জনে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়নে শেখ হাসিনার অবদানকে সমর্থন জানানো হয়। জানা গেছে কৃষককে স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার পাশাপাশি রাসায়নিক সার, জ্বালানী, হাইব্রিড বীজ এবং আমদানি যোগ্য কীটনাশক সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভুর্তকি দিয়ে আমদানি করে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহয়তা করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর বাম্পার ফলনের মাধ্যমে দানাদার খাদ্যশস্যের মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আগের মেয়াদের দ্বিগুণ হয়ে এখন প্রায় ৪ কোটি টনের কাছাকাছি। FAO, এপ্রিল ২০১৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ি বিশ্বে মোট খাদ্য শস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দশম। সব খাদ্য শস্য মিলে মোট উৎপাদন প্রায় ৫.৫ কোটি মে. টন। আর প্রথম হলো চায়না, মোট উৎপাদন প্রায় ৫৫.০ কোটি মে. টন।

দানাদার খাদ্য উৎপাদনে মূল কৃষির পাশাপাশি এর উপখাত হিসেবে প্রোটিনের উৎস মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদিতেও স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে এখন বিদেশে ও রপ্তানী হচ্ছে। শ্রম ঘন শিল্প হিসেবে কৃষির অগ্রগতিতে গত কয়েক দশকে ভুমিকা রেখেছে কৃষি প্রযুক্তি। বীজ বপন, ধানকাটা, নিড়ানি, মাড়াই সহ বিভিন্নকাজে প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠেছে এদেশের কৃষক। এতে আগের চেয়ে অনেক আধুনিক হচ্ছে কৃষিপণ্যের উৎপাদন।

কৃষিখাতে এই অভাবনীয় সাফল্যের নোপথ্যে সরকারের নীতি ও পরিকল্পিত পদক্ষেপকে গুরত্বপূর্ণ ভুমিকায় দেখছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, সরকারের বাস্তবমুখী কৃষিনীতি এবং সে অনুযায়ী বাজেট সহ অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ দেশকে কৃষি উন্নয়নের এক রোল মডেল হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। কৃষিতে ভর্তুকি, সকল সার, বীজ ও সেচ ব্যবস্থাপনা অবকাঠামো ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়নের ফলে কৃষি পণ্যের নিরবিচ্ছিন্ন পরিবহন, উন্নত বীজের জন্য মৃতপ্রায় বিএডিসিকে শক্তিশালীকরণ, প্রভৃতি কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নকে ত্বরানিত করেছে। আধুনিক কৃষি বিপ্লবের অগ্রপথিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ  কৃষি বিপ্লবে বাংলাদেশের সাফল্যের নেপথ্যে বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিনের গবেষণার ফল এবং কৃষক পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের মাধ্যমে তাহা সম্প্রসারণের সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমেই কৃষিখাতে অভাবনীয় অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষির উপখাত- ডেইরি, ফিশারি, পোল্টির ক্ষেত্রে বিশাল বিপ্লব হয়ে গেছে। সরকারের দীর্ঘ মেয়াদে সমর্থন. ভুর্তকি মূল্যে বীজ, সার, কীটনাশকের জোগান দেওয়ার ফলে এ উপখাত গুলোর আরও অনেক সম্ভাবনা রয়েছে, যা কাজে লাগাতে হবে। দেশের কৃষি খাত যুগন্তকারী কাজ করছে, উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রচার-প্রচারণার ফলে কৃষি খাতে এখন তথ্যপ্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে, যার ফলে দ্রুত এ খাত এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এটা ঠিক আমরা এখনো কৃষকের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের সঠিকমূল্য দিতে পারছিনা। বাজার ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষিপণ্যের সঠিক মূল্য দেওয়া গেলে  কৃষকদের জীবনমান, সামাজিক মর্যাদা অনেক বেড়ে যেত। ১১কোটি মানুষ এখনও গ্রামে থাকে। কৃষকের জীবন মান উন্নত হলে দেশটা দ্রুত পাল্টে যাবে।

————————————–

লেখক:

কৃষিগবেষক ও পুষ্টিবিদ, উপ-পরিচালক (কৃষি সম্প্রসারণ ও গ্রামীণ অর্থনীতি),

জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি, গাজিপুর।

Email:dhossain1960@yahoo.com

মোবাইলঃ ০১৮১৫৫৯৭৩০৪

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *