কৃষি জমি হ্রাসে বাড়ছে কৃষিতে চ্যালেঞ্জ

কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ শক্তি। কৃষি কাজের অন্যতম মূলধন হলো জমি। একদিকে জনসংখ্যা বাড়ছে আর অন্যদিকে কৃষি জমি কমছে। যা কৃষির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম এ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এক গবেষণায় বলেছে, বাংলাদেশে মোট ভূমির পরিমাণ প্রায় ১৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন হেক্টর। যার প্রায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ জুড়ে বনভূমি। ২০ দশমিক ১ শতাংশে স্থায়ী জলাধার, ঘরবাড়ি, শিল্প-কারখানা, রাস্তাঘাট ইত্যাদি, অবশিষ্ট ৬৬ দশমিক ৬ শতাংশ জমি কৃষি কাজের জন্য ব্যবহার করা হয়। বাস্তবতা হলো কৃষি জমির পরিমাণ কমছে আশঙ্কাজনক হারে। জমি কমায় আগামী ১০ বছরেই আমাদের ভাতে মরার আশঙ্কা হয়ে দেখা দিতে পারে।

গবেষণায় বলা হয়, দেশে ২০০৩ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১১ বছরে মোট ২৬ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩১ একর বা ৮০ লাখ ৩৩ হাজার বিঘা কৃষি জমি অকৃষি খাতে চলে গেছে। এই হিসেবে বছরে এ রূপান্তরের পরিমাণ ৭ লাখ ৩০ হাজার ৩২৬ বিঘা জমি। আর প্রতিদিন কমছে দুই হাজার বিঘা কৃষি জমি। জলাশয় ভরাট করে প্রতিদিন মোট কৃষি জমি কমছে ৯৬ বিঘা। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিপুল পরিমাণ এ কৃষি জমির ৮০ শতাংশই বাড়ি নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে। দোকানপাট নির্মাণে ব্যবহৃত হচ্ছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ আর অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে কারখানা স্থাপন, তামাক ও চিংড়ি চাষ, ইটভাটা নির্মাণ প্রভৃতি। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার, কুষ্টিয়া ও মানিকগঞ্জ জেলাতে কৃষি জমির বাণিজ্যিক ব্যবহার সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। রাজশাহী, নাটোর, রাঙ্গামাটি ও হবিগঞ্জ জেলায় বাণিজ্যিকভাবে কৃষি জমি ব্যবহারে মধ্যম অবস্থানে রয়েছে। আর কৃষি জমির বাণিজ্যিক ব্যবহার অপেক্ষাকৃত কম হয় সাতক্ষীরা, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ এবং নেত্রকোনায়। ‘জাতীয় ভূমি ব্যবহার নীতি ২০১০’ এবং ‘কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি জোনিং আইন ২০১০’ অনুসারে কৃষি জমি কৃষি কাজ ব্যতীত অন্য কোন কাজে ব্যবহার করা যাবে না। কোন কৃষি জমি ভরাট করে বাড়িঘর, শিল্প-কারখানা, ইটভাটা বা অন্য কোন অকৃষি স্থাপনা কোনভাবেই নির্মাণ করা যাবে না উল্লেখ থাকলেও প্রতিনিয়তই কৃষি জমি ব্যবহত হচ্ছে অকৃষি কাজে। ২১টি জেলার ১৫২টি উপজেলায় ল্যান্ড জোনিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হলেও তদারকি নেই বলে অভিযোগ আছে। এমতাবস্থায়, দেশের কৃষি জমি সুরক্ষার জন্য বিদ্যামান আইনকে আরো কার্যকর করে কৃষি জমি সুরক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নতুবা ভবিষ্যতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা।

২. প্রিয় পাঠক, আগস্ট মাস শোকের মাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একটি কুচক্রী মহল। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি। সেই সাথে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা উপলক্ষে আমাদের সকল লেখক, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই ঈদ শুভেচ্ছা ।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare