কৃষি ভিত্তিক শিল্প স্থাপনে মৌমাছি পালন

ড. মো. আবু বকর*

মৌমাছি পালন ও মধু শিল্প

ইতোপূর্বে কৃষি ভিত্তিক শিল্প (Agrobased Industry Development) প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মহাগ্রন্থ আল কোরআনে উল্লিখিত এ বিষয়ের কিছু উদ্ধৃতি পেশ করা হয়েছে। এ পর্যায়ে মৌমাছি পালন ও মধু শিল্পের বিষয়ে কিছু আলোকপাত করা হচ্ছে। আমরা ইতোপূর্বেও উল্লেখ করেছি যে কোরআন মজিদ কোন বিজ্ঞানের গ্রন্থ নয় কিংবা নয় ইহা কোন শিল্পের বর্ননা সম্বলিত গ্রন্থ। কাজেই এ গ্রন্থ অধ্যয়ন করে শিল্প ও বিজ্ঞানের কার্যক্রমে (Methodology) বিস্তারিত বিবরণ আশা করা যায় না। তবে এ গ্রন্থ অধ্যয়ন চিন্তার দিগন্ত প্রসারিত করার তত্ত্বের (Theory) সন্ধান পাওয়া যায়। মহান আল্লাহ মানুষ ও সমগ্র সৃষ্টির ¯্রষ্ঠা ও পালনকর্তা হিসাবে এ তত্ত্ব উদঘাটনে নিদর্শন (Indication) প্রদান করেন যেন চিন্তাশীল মানুষ সঠিক চিন্তা ও গবেষণা মাধ্যমে প্রকৃত সত্যে ও তথ্যের সন্ধান পেতে পারে। মৌমাছি পালনের মাধ্যম মধু আহরণকে কৃষি ভিত্তিক শিল্পের একটি বিশেষ দিক। এ বিষয়ে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মানুষ ও সমগ্র সৃষ্টি মহান প্রভু, আল্লাহ বলেন:

“আর লক্ষ্য কর, তোমাদের রব মধু মক্ষিকার প্রতি এই কথা অহী করিয়াছেন যে, পাহাড়ে-পর্বতে, গাছে আর উপরে ছড়ানো লতাপাতায় নিজেদের ছাতা (মৌচাক) নির্মাণ কর। আর সব রকমের ফলের রস চুষিয়া লও এবং তোমাদের রব’ এর নির্ধারিত পথে চলিতে থাক। এই মৌমাছির ভিতর হইতে রং বেরং এর শরবত বাহির হয়। উহাতে নিরাময়তা রহিয়াছে লোকদের জন্য। নিশ্চয়ই ইহাতেও একটি নিদর্শন রহিয়াছে সেই লোকদের জন্য যাহারা চিন্তা ও গবেষণা করে।” (সুরাঃ আন নহল-আঃ ও ৬ ৮ – ৬৯)

কোরআনে কারীমের আলোচ্য আয়াত দুইটিতে যা বলা হল তা প্রথমে আলোচনা করা যাক। আয়াত দুইটির প্রথমটিতে আল্লাহ তায়ালা তার একটি ক্ষুদ্র সৃষ্টি মধুমক্ষিকা বা মৌমাছিকে কিছু নির্দেশনা প্রদান করেন। আর এ নির্দেশনা পালনের ফলে সৃষ্টিলোক তথা মানব সমাজের কি কি উপকার বা কল্যাণ লাভ হবে তা বলা হয়েছে দ্বিতীয় আয়াতটিতে। সৃষ্টিকুলে আল্লাহর নির্দেশ পালনের মাধ্যমে কল্যাণ পাওয়ার জন্য মানুষের মেধা ও বুদ্ধিমত্তাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। এ উদ্ধৃতিও দ্বিতীয় আয়াতের শেষ ভাগে করা হয়েছে।

লক্ষণীয় আল্লাহ তায়ালা প্রথম আয়াতে বলেন “আর লক্ষ্য কর তোমাদের ‘রব’ মধুমক্ষিকার প্রতি এই কথা অহী করিয়াছেন।” অর্থাৎ বুঝা যাচ্ছে যে দুনিয়া জাহানের সব কিছু আল্লাহর প্রত্যাদেশ এর মাধ্যমে জীবন পরিচালনার নির্দেশ প্রাপ্ত হয়েছে যা থেকে ক্ষুদ্র মৌমাছি ও বাদ পড়েনি। যার ফলেই সমগ্র সৃষ্টিতে শৃঙ্খলা ও নিয়মতান্ত্রিকতা বিরাজমান। আর মহান আল্লাহ এমন মহাজ্ঞানী ¯্রষ্ঠা, পালনকর্তা ও নিয়ন্ত্রণকর্তা যিনি এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করে অস্তিত্বে আনতে ক্লান্ত হয়ে যাননি। স্থানের সীমাবদ্ধতা হতে তিনি মুক্ত। “ওয়াছিয়া কুরছিও হুসসামাওয়াতি ওয়াল আরদ্ব।”

তাঁর আসন আকাশ ও জমিনের ব্যপ্তিসম। আর তিনি এমন ¯্রষ্ঠা যিনি সম্মুখের ও পশ্চাতের, উপস্থিত ও অনুপস্থিত সকল বিষয়েই অবগত আছেন। তারই অগাধ জ্ঞানের মহা সমুদ্র থেকে যাকে খুশী কিঞ্চিৎ জ্ঞান দান করে থাকেন। তিনি এমন ¯্রষ্ঠা, পালনকর্তা ও নিয়ন্ত্রণকর্তা যিনি এ মহাসৃষ্টিকে সচল ও সুবিন্যস্ত রাখতে সামান্যতমও ক্লান্ত হয়ে পড়েন না। তাকে নিদ্রা কিংবা তন্দ্রায় স্পর্শও করতে পারেনা। সে মহা পরাক্রমশালী ও মহান ¯্রষ্ঠা মৌমাছিকে নির্দেশনা প্রদান করে জানিয়ে দিলেন যে তা যেন পাহাড়-পর্বতে, গাছের ডালে, লতাপাতায় তাদের মৌচাক তৈরি করে সেখানে বিভিন্ন ফলের মধ্যে থেকে রস চুষে মৌচাকে জমা করে এবং সেই সাথে এই নির্দেশনাও যে “তোমাদের রব এর নির্ধারিত পথে চলিতে থাক।” পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাবে যে ¯্রষ্ঠা ও প্রভূর এ নির্দেশনা মৌমাছিকুলে অক্ষরে অক্ষরে পালিত হচ্ছে এক বিন্দু ও অন্যথা হচ্ছেনা।

মৌমাছিদের বোধ শক্তি ও বুদ্ধিমত্তা খুবই তীক্ষ্ম। ক্ষুদ্র ও দূর্বল এ প্রাণীটির কর্মপদ্ধতি মানুষের সমাজ পরিচালনার সাথে খুবই সংগতিশীল। মৌমাছিদের সমগ্র আইন শৃঙ্খলা একটি বড় মৌমাছির হাতে থাকে এবং সে ই হয় মৌমাছিদের শাসক (রানী)। তার সুশৃঙ্খল সংগঠন ও কর্মবন্টনের ফলে গোটা ব্যবস্থা বিশুদ্ধ ও সুশৃঙ্খল রূপে পরিচালিত হয়ে থাকে। স্বয়ং এ “রানী” মৌমাছি তিন সপ্তাহ সময়ের মধ্যে ছয় হাজার থেকে ১২ হাজার পর্যন্ত ডিম পাড়ে। তার দৈহিক গড়ন ও অন্য মৌমাছির চাইতে ভিন্ন ধরণের হয়ে থাকে। রানী মৌমাছি কর্মবন্টন পদ্ধতি অনুসারে প্রজাদেরকে বিভিন্ন দায়িত্বে নিযুক্ত করে থাকে। প্রজাদের মধ্যে কেউ হয় শ্রমিক যারা স্থাপত্য বিষয়ে অভিজ্ঞ কর্মীদের কাজের যোগান দিয়ে থাকে। কেউ হয় পাহাড়াদার যে কিনা দ্বার রক্ষকের কর্তব্য পালন করে থাকে এবং অজ্ঞাত ও অন্য জনকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়না। কেউ কেউ ডিমের রক্ষনাবেক্ষণ করে। আবার কেউ নিযুক্ত থাকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুদের লালন পালনে। এ ছাড়া অন্য একটি দল রয়েছে যারা প্রকৌশল ও স্থাপত্য সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত থেকে চমৎকার ভাবে বাসস্থান নির্মাণ করে। মৌমাছিদের একটি প্রধান গ্রুপ রয়েছে যারা বিভিন্ন প্রকার ফুল ও ফলের উপর বসে রস চুষে নেয়। এ রস তাদের পেটে যেয়ে মধুতে রূপান্তরিত হয় যা এ মৌমাছিরা তাদের বিশেষভাবে নির্মিত চাকে সংরক্ষণ করে। যদি কোন মৌমাছি আবর্জনার স্তুপে বসে যায় তাহলে চাকের পাহারাদার মৌমাছি তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়না এবং রানী মৌমাছির নির্দেশে তাকে হত্যা করা হয়। তাদের এই সুশৃঙ্খল জীবন যাপন ও ব্যবস্থাপনা হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত অহীর ফলাফল যা মৌমাছিকূল সঠিকভাবে পালন করে যাচ্ছে।

এবারে দ্বিতীয় আয়াতটি আলোচনা করা যাক। দ্বিতীয় আয়াতটির প্রথম অংশে বলা হয়েছে “এই মৌমাছির ভিতর হইতে রং বেরং এ শরবত বাহির হয়। উহাতে নিরাময়তা রহিয়াছে মানুষের জন্য।” আমরা জানি মৌমাছি সারাবছর ধরে মধু সংগ্রহ করে। তবে খাদ্য ও ঋতুর বিভিন্নতা তথা ফুল ও ফলের প্রকার ভেদ ও প্রাচুর্য্য ভেদে মধুর রংয়েরও তারতম্য হয়ে থাকে। এ কারনেই কোন বিশেষ অঞ্চলে কোন বিশেষ ধরণের ফুল ও ফলের প্রাচুর্য থাকলে সে এলাকার মধুতে তার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। কোন বিশেষ মৌসুম বা এলাকায় মধুর রং হাল্কা হলদে রং এর আবার অন্য ঋতুতে মধুর রং হাল্কা লাল রং হয়ে থাকে। দুধ মানুষের জন্য একটি আদর্শ ও সুষম (Balanced) পানীয় যা গরু মহিষ, ভেড়া বকরী ইত্যাদি প্রাণী হতে আমরা পেয়ে থাকি। এ দুধ পেতে ও এ সকল প্রাণীকে যথপোযুক্ত খাদ্য প্রদান করতে হয়। এক্ষেত্রে এমনটি কখনও হয়না যে লাল রং এর ঘাস খাওয়ানোর কারণে দুধের লালচে রং হয়েছে অথবা হলুদ ফুল ও পাতা সম্বলিত খাবারের কারণে দুধের রং হলুদাভ হয়েছে। বরং সর্বদাই দুধের রং সাদা-ই থেকে গেছে। এটা আল্লাহর নির্দেশের ফল। দ্বিতীয় লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে এই যে, মধু শুধুমাত্র একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর পানীয়ই নহে বরং এতে রয়েছে রোগ সমূহের প্রতিশেধক ও নিরাময়তা। নবী মোহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবীদের কে বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের জন্য মধু সেবনের পরামর্শ দিতেন। কথিত আছে একদা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছে কোন এক সাহাবী তার ভাইয়ের অসুখের বিবরণ দিলে হুজুর (সাঃ) তাকে মধু পান করার পরামর্শ দেন। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর নির্দেশক্রমে বার বার তা সেবনের ফলে রোগী রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করেন। আমাদের দেশেও অতি প্রাচীনকাল থেকেই কফজনিত বিভিন্ন রোগের জন্য সরাসরি মধু সেবনের প্রচলন রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন বনৌষধীর সাথে মিশিয়ে মধু সেবন অতি প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থা হিসাবে পালিত হয়ে আসছে।

আয়াতের মাধ্যমে নছিহত প্রদানের শেষ অংশে উপসংহার টানা হয়েছে এই বলে যে, “নিশ্চয়ই ইহাতে ও নিদর্শন রহিয়াছে সেই লোকদের জন্য যাহারা চিন্তা ও গবেষণা করে। বস্তুতঃ এ উপসংহারে বান্দাদেরকে তাদের ‘রব’ এর কাছ থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুসরণ ও সঠিক অনুসরণের বিষয়ে গবেষণা করারই নছিহত করা হয়েছে। মধুমক্ষিকার প্রতি এ মহা সৃষ্টির মহান রবের প্রত্যাদেশ বিষয়ে উপরোাল্লিখিত আলোচনা থেকে জানা গেল যে মধুমক্ষিকার জীবন পরিচালনার জন্য আল্লাহ তায়ালা ‘অহী” করেছেন। মধুমক্ষিকা অহীর সে নির্দেশনা মোতাবেক জীবন পরিচালনা করার কারনে তাদের জীবনে শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তীতা এবং শান্তি বিরাজমান। প্রকৃতপক্ষে অহীর জ্ঞান প্রদান শুধু মধুমক্ষিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, মাছকে গভীর পানিতে সাতাঁর কাটা, পক্ষীকূলকে শূন্যে উড়ে বেড়ানো, সদ্যজাত শিশুকে দুগ্ধ পান শিক্ষা দেওয়া মোট কথা সমগ্র সৃষ্টি কূলকে তাদের জীবন ধারন ও জীবন পরিচালনার সঠিক পদ্ধতি শিক্ষা প্রদানেও মহান আল্লাহ অহী করেছেন। তাই মধুমক্ষিকার ন্যায়, অন্যান্য সকল সৃষ্টিও তাদের জন্য তাদের রব’ কর্তৃক নির্ধারিত বিধানের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে এবং সে কারনে সকল প্রাকৃতিক পরিবেশে শান্তি শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তীতা বিরাজিত। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম শুধু মানুষ ও তার নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ও প্রকৃতি। মানুষই তাদের জন্য তাদের রব এবং প্রত্যাদিষ্ট পন্থা পরিহার করে তাদের নিজ খেয়াল খুশীমত প্রণীত বিধানের আওতায় জীবন পরিচালনা করছে এবং ক্ষেত্র বিশেষে তা করতে বাধ্য হচ্ছে। আর এর ফলে মানুষের সমাজে নেমে এসেছে বিপর্যয়। মানুষ প্রতিনিয়ত লিপ্ত হচ্ছে হানাহানিতে। বিঘিœত হচ্ছে মানব জীবনের শান্তি শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা। মানুষ যদি তাদের ‘রব’ এর নির্দেশ মোতাবেক জীবন যাপন করতো তা হলে তাদের জীবনেও নিরাপত্তা ও প্রশান্তি এবং শৃঙ্খলা ফিরে আসতো। এরপর আরো লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে মধুমক্ষিকার মাধ্যমে মানুষের জন্য পানীয়ের ব্যবস্থা করা যাতে রয়েছে সর্বোৎকৃষ্ট পানীয়ের গুণাবলী ও মানুষের রোগব্যধীর শিফা ও নিরাময়তা। আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পৃথিবীর সবকিছুই নিয়ন্ত্রণের এখতিয়ার দিয়েছেন। এ এখতিয়ার মানুষ দুইভাবে ভোগ করতে পারে। প্রথমতঃ আল্লাহকে ‘ইলাহ’ ও ‘রব’ মেনে এবং তাঁরই নির্দেশের কাছে পরিপূর্ন আত্মসমর্পনের মাধ্যমে। যার ফলে মহান আল্লাহ তার বান্দার প্রতি খুশী হন এবং সন্তুষ্টির সাথে তার করুনাধারা বৃদ্ধি করেন। এতদপ্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “মানুষ যদি আমার প্রদত্ত নেয়ামত ও করুনার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়া প্রকাশ করতো তাহলে আমি আমার নেয়ামতকে আরও বৃদ্ধি করে দিতাম। “আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর এটাই ইচ্ছা মানুষ তার বান্দা হিসাবে তারই নির্দেশের দিকে আত্মসমর্পিত হয়ে মানুষের জন্য তৈরী করে রাখা নেয়ামত ও কল্যাণ লাভ করুক। সৃষ্টির সব কিছুই মানুষের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। সুতরাং মানুষ সবকিছুর উপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করতে পারে তারই ‘রব’ আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পনের মাধ্যমে।

আল্লাহর সৃষ্টি থেকে আপাত কল্যাণ লাভ ও নিয়ন্ত্রন লাভ অবিশ্বাসীগণেরও হতে পারে এ বিবেচনায় যে সৃষ্টির বস্তুগত গুনাবলী থেকে কল্যাণ লাভ এর ক্ষেত্রে বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীর ক্ষেত্রে কোন প্রভেদ রেখা সকল বস্তুর ¯্রষ্ঠা আল্লাহ রাব্বুুল আলামীন করে দেননি। কাজেই একজন বিশ্বাসী মধু পান করলে যে স্বাদ পাবেন এবং রোগ নিরাময়ের যে কল্যাণ লাভ করবে একজন অবিশ্বাসীও তেমনি স্বাদ পাবে ও তারই কল্যাণ লাভ করবে। তবে সামগ্রীকভাবে দুনিয়ার জীবন যাপনের ক্ষেত্রে যে শান্তি ও নিরাপত্তা পাওয়ার অঙ্গীকার বিশ্বাসী ও আত্মসমর্পনকারীগণের জন্য করা হয়েছে তা থেকে অবিশ্বাসীগণ বঞ্চিত থাকবেন। আর পরকালের প্রাপ্তির কোন আশাই তো অবিশ্বাসীগণ করতে পারেনা।

সর্বশেষে যে বিষয়ে আলোকপাত করা দরকার তা হলো এই যে, মহান আল্লাহ মৌমাছির প্রতি মধু তৈরী করে মৌচাকে জমানোর যে শিক্ষা অহী করলেন তা থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ মানুষের রয়েছে এ বিষয়টিও আল্লাহ প্রদত্ত নছিহতে সংশ্লিষ্ট রয়েছে। যেখানে দ্বিতীয় আয়াতের শেষ অংশে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই এতেও একটি নিদর্শন রয়েছে সেই সব লোকদের জন্য যারা চিন্তা ও গবেষণা করে। মানুষ তার চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে জানতে পেরেছে যে মৌমাছি মধু তৈরীর একটি কারখানা বিশেষ। পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে মানুষ এও জেনেছে যে মৌমাছি মানুষের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে থাকে। ফলে মধু তৈরী শিল্প প্রতিষ্ঠা খুবই সহজ বিষয় হয়ে যায় মানুষের কাছে। মধু শিল্পের বিষয়ে কৃষি বার্তায় ইতোপূর্বে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ইহা একটি লাভজনক কৃষি ভিত্তিক শিল্প যা দয়াময় আল্লাহ তায়ালা মানুষকে শিখিয়েছেন অহীর জ্ঞানের মাধ্যমে। মানুষ সহজেই এ শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হতে পারে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে তাঁরই নির্দেশ মোতাবেক দুনিয়ায় জিন্দেগী। পরিচালনার তৌফিক দান করুন। (পূনঃ প্রকাশিত)

————————————–

*লেখকঃ চীফ সায়েন্টিফিক অফিসার ও প্রকল্প পরিচালক (অবসরপ্রাপ্ত), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, জয়দেবপুর, গাজীপুর।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare