কোরবানীর তাৎপর্য ও শিক্ষা

ড. মো. আবু বকর*

(পুনঃ প্রকাশ)

কোরবানী মুসলিম জীবনে ঐতিহাসিক তাৎপর্য মন্ডিত একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। অথচ এ ইবাদত বর্তমান সমাজে যে ভাবে পালিত হচ্ছে তাতে ইবাদত পালন কারীগণ (সম্মানজনক ব্যতিক্রম ব্যতীত) এর আসল তাৎপর্য ধারণ করেছেন না বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। মনে রাখা প্রয়োজন যে এ ইবাদতে মুসলিম মিল্লাতের পিতা ইব্রাহীম (আঃ) এর জীবনে ঘটে যাওয়া বিশেষ ঘটনার শিক্ষাকে মুসলিম জীবনে জাগরুক এবং জীবন্ত রাখার জন্যই মহান আল্লাহ সুন্নাতে ইব্রাহীমের এ বিধানটি উম্মতে মোহাম্মাদীর জন্য বিধিবদ্ধ ও পালনীয় করেছেন।

কোরবানীর মূল উদ্দেশ্য ঃ

১। আল্লাহর নির্দেশের কাছে আত্মসর্মপন

আরবদেশ সমূহে যেখানে কোরবানীর পশু হচ্ছে প্রধানত উট সেখানে কোরবানীর রীতি হচ্ছে কোরবানীর জন্য নির্ধারিত উটসমূহকে সারিবদ্ধভাবে দাড় করানো হয়। অত:পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলদেশ আঘাত করা হয়। আঘাতের ফলে গলদেশে থেকে রক্ত প্রবাহিত হয় রক্তের ধারা নিঃশেষ হয়ে গেলে জবাইকৃত উঠ গুলো মাটিতে পড়ে যায়। কোরবানীর এ দৃশ্য কোরবানী দাতার হৃদয়ে এ ভাবই জাগিয়ে তোলে যে এ ভাবে নিজের জীবন আল্লাহর কাছে বা আল্লাহর নির্দেশের কাছে কোরবানী হওয়ার জন্য তৈরি থাকতে হবে। এ কোরবানীকে যদি আপনজনকে কোরবানী করার মত মনে করা হয় তাহলে হৃদয়ে যে চিত্রটি ভেসে ওঠার কথা তা হচ্ছে এরূপ, যে ভাবে জেহাদের ময়দানে আল্লাহর সৈনিকগণ সারি বেধে দাঁড়ায়। তাদের কন্ঠ দেশে শত্র“র তীর কিংবা গুলি এসে বিদ্ধ হয় তারপর ছোটে রক্তের ঝর্ণা। এ পৃথিবীর আকাশ বাতাস জমীন তাদের জীবনোৎসর্গের স্বাক্ষ্য হয়ে থাকছে। এক একজন করে মাটিতে পড়ে গিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে তাদের জীবন পেশ করছে।

২। আল্লাহর মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য

মানুষের খাদ্য হিসেবে আল্লাহ তায়লা কিছু পশুকে হালাল করেছেন আবার কিছু কে করেছেন হারাম। কিন্তু যে সকল পশুর গোশত খাওয়া বৈধ করা হয়েছে তারও প্রধানতম শর্ত হল এ পশু জবাই কিংবা শিকার করতে তাতে আল্লাহ তায়ালার নাম উচ্চারণ করতে হবে, অন্যথায় তা হালাল হবে না। কারণ প্রকৃত পক্ষে এ পশু গুলোকে হত্যা করার কোন এখতিয়ার মানুষের নেই। আল্লাহ তায়ালা এ অধিকার মানুষকে দিয়েছেন বলেই মানুষ তাদেরকে জবাই করে খাওয়ার অধিকার পেয়েছে। অনুরূপ ভাবে কোরবানীর পশুর ক্ষেত্রেও একই বিধান। কোরবানীর পশু জবাই করার পূর্বে অবশ্যই আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা প্রদান করতে হবে। একই সাথে এ বিষয়টিও মনে জাগরুক রাখতে হবে যে এ নিয়ামত আল্লাহরই দান, এ পশু গুলোকে আল্লাহ ই মানুষের বশীভূত করে দিয়েছেন। অন্যথায় তাদের বশে এনে জবাই করা মানুষের পক্ষে সম্ভব হতোনা। কাজেই কোরবানীর উদ্দেশ্য এ কথারও বহিঃ প্রকাশ যে মুমিন ব্যক্তি প্রকৃত পক্ষে অন্তর থেকেই আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্বের প্রতি আস্থাশীল। পশুর গলায় ছুরি চালাবার পূর্বে “আল্লাহু আকবর” বলে সে তারই বাস্তব স্বীকৃতি ও নিদর্শন পেশ করে। এ কোরবানীর মাধ্যমে মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞতাও সে প্রকাশ করে।

৩। পশুত্ব ও কূ প্রবৃত্তির বিনাস সাধন

মূমিন যে কোরবানী করে তার গোশত বা রক্ত কিছুই আল্লাহর কাছে পৌঁছেনা। আল্লাহ তায়ালা বলেন “লাই ইয়ানাল্লাহা লুহুমুহা ওয়ালা দিমাউহা ওয়ালা কিইঁ ইয়ানালুহুত্ তাক্বওয়া মিনকুম” (সুরা আল হজ্জ, আয়াত ৩৭)। অর্থাৎ তাদের গোশত আল্লাহ তায়ালার নিকট পৌঁছেনা, রক্তও নয়। কিন্তু তোমাদের তাক্বওয়া তাঁর নিকট অবশ্যই পৌছে। কাজেই বিষয়টি স্পষ্ট যে গোশত ও রক্তের নাম কোরবানী নয় বরং কোরবানী হচ্ছে এ মানসিক অভিব্যক্তির নাম যে, সবকিছুই আল্লাহর জন্য এবং সবকিছুই তার নামে উৎসর্গের জন্য। মুমিন কোরবানীর মাধ্যমে কেবল মাত্র পশুর গলায় ই ছুরি চালায়না বরং তার সকল পশুত্ব ও কুপ্রবৃত্তির উপর ই ছুরি চালিয়ে তা নির্মূল করে। কোরবানীর এটাই হচ্ছে প্রকৃত অনুভূতি। এ অনুভূতি ব্যতীত যে কোরবানী হয় তা আসলে সুন্নাতে ইবরাহীম এর কোন কোরবানী নয় বরং তা হচ্ছে সামাজিক রসম। কোরবানীর মাধ্যমে খোদার রাহে নিজেকে উৎসর্গ করার যে প্রাণ শক্তি সঞ্চিত হওয়ার তা হয়না।

কোরবানীর ইতিহাস

সমগ্র দুনিয়া ব্যাপী মুসলিম জাতি কোরবানীর যে ধারা জারী রেখেছে তা প্রধানত: ইব্রাহীম (আঃ) কর্তৃক তার প্রিয় পুত্র ইসমাইলকে কোরবানীর ঘটনার স্মরণে। মুসলিম মিল্লাতের পিতা ইবরাহীম (আঃ) আল্লাহর নির্দেশে তার সর্বাধিক প্রিয় এক মাত্র পুত্র ইসমাঈল (আঃ) কে কোরবানী করার জন্য শুইয়ে দিয়ে তার গলায় ছুরি চালিয়ে ছিলেন। এটা ছিল ইব্রাহীম (আঃ) এর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এক কঠিন পরীক্ষা। নবী ইব্রাহীম এ পরীক্ষায় যথাযথ ভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ বিশেষ ঘটনাটি মানুষের জন্য শিক্ষনীয় ও স্বরণীয় করে রাখার জন্য উম্মতে মোহাম্মাদীর প্রতি এ বিধান ওয়াজিব করেছেন। এ ঘটনাটি কোরানুল কারীমের সুরায়ে আস সাফফাতে আল্লাহ তায়ালা বর্ণনা করেছেন এ ভাবে- “ফাআরদূবিহী কাইদান ফাজ্বাআলনা হুমুল আসফালীন। ওয়াক্বলা ইন্নী যাহিবুন ইলা রাব্বী সাইয়াহদীন। রাব্বি হাবলী মিনা ছলেহীন ফাবাশ্শারনাহু বি’গুলামিন হালীম। ফালাম্মা বালাগা মাআহুস সাইয়া ক্বলা ইয়া বুনাইয়্যা ইন্নী আরা ফিল মানামি আন্নী আয্বাহুকা ফানযুর মাযা তারা;  ক্বলা ইয়া আবাতিফ্’আল মা তু’মার সাতাজ্বিদুনী ইনশাআল্লাহ মিনাছ ছবিরীন। ফালাম্মা আসলামা ওয়াতাল্লাহু লিল জ্বাবীন। ওয়ানাদাই নাহু আইয়্যা ইবরাহীম। ক্বাদ ছাদ্দাক্বতার রু’ইয়া ইন্না কাজালিকা নায্যিল মুহসিনীন ইন্না হাযা লাহুয়াল বালউল মুবীন। ওয়াফাদাইনাহু বিযিবহীন আযীম। ওয়াতারক্বনা আলাইহি ফিল আখিরীন। সালামুন আলা ইবরাহীম কাযালিকা নাজ্বযিল মুহসিনীন। ইন্নাহু মিন ইবাদিনাল মু’মিনীন। (সুরা আস সাফফাত ৯৮-১১১) ‘অর্থাৎ (বস্তুত মূর্তি পুজক কাফেরগন) তার (ইব্রাহীমের) বিরুদ্ধে বিরাট চক্রান্তের সংকল্প করেছিল। কিন্তু আমি তাদেরকে পরাভূতহ করে দিলাম। আর ইবরাহীম বললেন আমি তো আমার রবের দিকে চললাম, তিনিই আমাকে গন্তব্যে পৌছিয়ে দিবেন। হে আমার রব, আমাকে একটি নেককার পুত্র দান করুন। অত:পর আমি তাকে একটি র্ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম। তারপর সে (ইসমাইল) যখন পিতার সাথে কাজ করার মত বয়সে উপনীত হলো তখন ইব্রাহীম (আঃ) বললেন। হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে আমি জবেহ করছি। এখন তোমার অভিমত কি বল? সে বলল হে আমার পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তা করুন। আল্লাহ চাহেত আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। যখন তারা উভয়ই আনুগত্য প্রকাশ এবং ইব্রাহীম তার পুত্রকে কাত করে শায়িত করল তখন আমি তাকে আহ্বান করে বললাম, হে ইব্রাহীম। তুমি তো স্বপ্নাদেশ সত্যিই পালন করলে। এভাবে আমি তাকে মুক্ত করলাম এক মহান কোরবানীর বিনিময়ে। আমি ইহা পরবর্তীদের স্বরণের জন্য রেখেছি। ইব্রাহীমের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। এভাবে আমি সৎকর্ম পরায়ণদের পুরস্কৃত করে থাকি।

এ ছিল আল্লাহর নবী ইব্রাহীম ও তদীয় পুত্র ইসমাঈল (আঃ) এর ধৈর্য্য ও আল্লাহর তায়ালার আদেশকে মেনে নেয়ার এক অভূতপূর্ব নজীর। যার ফলে তিনি হলেন আল্লাহর অতি প্রিয় পাত্র “খলিল” বা বন্ধু আর স্বয়ং ইসমাঈল (আঃ) হলেন জাবিহুল্লাহ বা আল্লাহর নামে জবাই হয়ে যাওয়া ব্যক্তি। এ ঘটনার মাধ্যমে একজন মুমিন আল্লাহর নির্দেশ পালনে কিরূপ আনুগত্য প্রদর্শন করবে তার একটি নমুনা পেশ করা হয়েছে। পেশকৃত এ নিদর্শনকে মানুষের শিক্ষনীয় করে রাখার জন্যই সুন্নাতে ইব্রাহীমের এ বিধানটিকে উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য পালনীয় করে রেখেছেন। তবে সাধারণ ভাবে কোরবানীর বিধান সকল নবীগণের শরীয়তেই বিদ্যমান ছিল। এতদ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, “ওয়ালিকুল্লি উম্মতিন যা’আলনা মান সাকান লিয়াজ্ কুরুছ্ মাল্লাহি আলা মা রাজ্বাকাহুম মিম বাহিমাতিল আন আম (সুরা হজ্জ, আ: ৩৪)।

অর্থাৎ আর আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানী বিধিবদ্ধ করে দিয়েছি যাতে তারা আল্লাহ তাদেরকে যে চতুস্পদ জন্তু দিয়েছেন তা জবেহ করার সময় তার উপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে। কাজেই কোরানুল কারীমের মাধ্যমে ইহাও প্রতিষ্ঠিত হল যে প্রত্যেক নবীর শরীয়তেই কোরবানী ইবাদতে বিদ্যমান ছিল। বিভিন্ন নবীর দেশ ও জাতীয়তার ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে কোরবানীর নিয়ম পদ্ধতি ও খুঁটিনাটি বিষয়গুলোতে ভিন্নতা থাকলেও এ বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে যে পশু কোরবানী করতে হবে শুধু মাত্র আল্লাহর জন্য এবং তা করতে হবে আল্লাহর নাম উচ্চারণ করেই।

উল্লেখ্য যে, মানব ইতিহাসের সর্বপ্রথম কোরবানী করেছেন হযরত আদম (আঃ) এর দু পুত্র হাবিল ও কাবিল। তাদের কোরবানীর বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “ওয়াতলু আ’লাইহিম নাবা আবনাই আদামা বিল হাক্বি। ইজ ক্বাররাবা কুরবানান ফাতুকুব্বিলা মিন আহাদিহিমা ওয়ালাম ইয়াতাক্বাব্বাল মিনাল আখার; ক্বালা লাআক্বতুলান্নাক; ক্বালা ইন্নামা ইয়াতাকাব্বালুল্লাহু মিনাল মুত্তাকীন (আল মায়েদা; আ-২৭)। অর্থাৎ (হে মোহাম্মদ সাঃ) তুমি এদের কাছে আদমের দুই পুত্রের কাহিনী যথাযথভাবে শুনিয়ে দাও। (কাহিনীটি এরূপ) যখন তারা দুজনই (আল্লাহর নামে) কোরবানী পেশ করলো, তখন তাদের মধ্যে একজনের কাছ থেকে কোরবানী কবুল করা হল, আরেক জনের কাছ থেকে তা কিছুতেই কবুল করা হল না, (যার কোরবানী কবুল করা হয়নি) সে বললো, আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করবো (যার কোরবানী কবুল হলো) সে বললো আল্লাহ তায়ালা তো শুধু পরহেজগার লোকদের কাছ থেকেই (কোরবানী) কবুল করেন।

কথিত আছে হযরত আদম (আঃ) অপর ছেলে কাবিল অমনোযোগ সহকারে খাবার অনুপযোগী খানিক পরিমাণ খাদ্যশস্য কোরবানী রূপে পেশ করলো। হাবিলের কোরবানী যা ছিল একটি সূদর্শন দুম্বা, আকাশ থেকে এক ঝলক আগুন এসে জ্বালিয়ে গেলো এবং এটা ছিল কবুল হওয়ার আলামত। অপর পক্ষে কাবিলের খাদ্য শস্য পড়ে থাকলো আগুন তা স্পর্শই করলো না। আর এটা ছিল কবুল না হওয়ার আলামত। আল কোরানে বর্ণিত কোরবানীর উক্ত ঘটনা থেকে জানা গেলো যে কোরবানীর রীতি স্বয়ং আদম (আঃ) এর যুগ থেকেই চালু ছিল।

কোরবানীর শিক্ষা

             কোরবানীর এ বিশ্বজনীন ইবাদতের মাধ্যমে মুসলিম মিল্লাতের জন্য প্রধান শিক্ষনীয় হলো আমাদের মহান প্রভু জগৎসমূহের প্রতিপালক মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তায়ালার নির্দেশের কাছে শর্তহীন আত্মসমর্পন। আলোচনায় ইতোপূর্বে উল্লিখিত হয়েছে যে, কোরবানীর গোশত বা রক্ত কিছুই আল্লাহ তায়ালার কাছে পৌঁছায়না, পৌঁছে কেবল তাকওয়া। কাজেই তাকওয়া বা খোদা ভীতি অর্জনই হচ্ছে কোরবানীর মূল শিক্ষনীয় বিষয়।

             দ্বিতীয়ত : কোরবানীর অন্যতম শিক্ষা হচ্ছে প্রিয় বস্তু আল্লাহর জন্য কোরবানী করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “লান্ তানালুল বিররা হাত্ত্বা তুনফিকু মিম্মাতুহিব্বুন”। অর্থাৎ তোমরা কখনও কল্যাণ লাভ করতে পারবেনা যতক্ষণনা তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু আল্লাহর জন্য খরচ করবে। নবী ইব্রাহীম খলিলুল্লাহর প্রতি আল্লাহর নির্দেশ ছিল তোমার প্রিয় বস্তু আল্লাহর নামে উৎসর্গ কর। তিনি ভেবে দেখলেন তাঁর কাছে সর্বাধিক প্রিয় হচ্ছে তাঁর একমাত্র পুত্র সন্তান ইসমাঈল। কাজেই তিনি তাকে আল্লাহর রাহে উৎসর্গের সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়নের সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

             তৃতীয় শিক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে মাল বা সম্পদের কোরবানী। প্রচলিত পশু কোরবানীতে প্রত্যেক কোরবানীদাতার কষ্টার্জিত সম্পদ ব্যয় করতে হয়। সম্পদের মোহ মানব প্রাকৃতির অতি স্বাভাবিক আকর্ষণ। আল্লাহর নির্দেশ পালনে এ সম্পদ দ্বিধাহীন ও সন্তুষ্ট চিত্ত্বে এ সম্পদ ব্যয় করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

             সর্বোপরি কোরবানীর সত্যিকার মর্যাদা লাভের জন্য। আল্লাহর খলীল হযরত ইব্রাহীম (আঃ) যে আবেগ, অনুভূতি ঐকান্তিকতা, প্রেম, ভালবাসা, ত্যাগের মনোভাব নিয়ে আল্লাহর সন্তোষ লাভের জন্য স্বীয় পুত্রকে কুরবানী দিতে উদ্ব্যত হয়েছিলেন আমাদেরকেও ঠিক তেমনি একই মনোভাবের পরিচয় দিতে হবে। অধিক মূল্য দিয়ে দৃষ্টি নন্দন কোন পশু জবাই করে তার রক্ত প্রবাহিত করা অথবা গোশত বিলিয়ে দেয়াকে কুরবানী বলে না। বরং কুরবানী হলো, আল্লাহর রাহে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দেয়ার নাম। কুরবানী দাতা কেবলমাত্র আক্ষরিক অর্থেও পশুর গলায় ছুরি চালায় না বরং তিনি একই সাথে নিজের নকস নামক পশুর গলায়ও ছুরি চালিয়ে থাকেন।

——————————————

*লেখকঃ

চীফ সায়েন্টিফিক অফিসার ও প্রকল্প পরিচালক (অবসর প্রাপ্ত),

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, জয়দেবপুর, গাজীপুর।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare