কোরবানী পশুর মাংস সংরক্ষণ ও রান্নাবিষয়ক পরামর্শ

সালমা আক্তার
বছর ঘুরে আবারও এলো কোরবানীর ঈদ৷ ত্যাগের মহিমায় আরও একবার উদ্বুদ্ধ হবার পালা৷ সবাই গরু, ছাগল কিনতে ব্যস্ত সময় পার করছেন৷ ইনশাআল্লাহ কোরবানি ও করবেন৷ কিন্তু কোরবানীর পশুর মাংস সংরক্ষণের কিছু নিয়ম আছে তা মেনে চললে মাংসের অপচয় রোধ করা সম্ভব হয়৷ নিম্নে তা উল্লেখ করা হলো৷
মাংসের সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতিঃ
কোরবানির ঈদে মাংসের সরবরাহ থাকে প্রচুর৷ তৈরি করা যায় বিভিন্ন স্বাদের ও বিভিন্ন ঢঙের মাংসের আইটেম৷ মাংস প্রাণিজ প্রোটিনের খুব ভালো উত্‍স৷ কাজেই সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারলে কোরবানির ঈদের পর্যাপ্ত মাংস দিয়ে কাটিয়ে দেওয়া যাবে নির্দ্বিধায় দুই মাস৷
* হালকা লবণ ও হলুদ দিয়ে মাংসগুলোকে তাপ দিলে তা অনেক দিন সাধারণ তাপমাত্রায়ই রাখা যায়৷
* আবার ভিনেগার দিয়েও মাংস সংরক্ষণ করা যায়৷ কোনো টিন বা বোতলে ভিনেগারে মাংস সম্পূর্ণভাবে ডুবিয়ে রাখলে মাংস ভালো থাকে অনেক দিন৷
* আর ভিনেগার যদি না পাওয়া যায়, তাহলে
তার বদলে লেবুর রস ব্যবহার করা যেতে পারে৷ মাংসের টুকরোগুলোকে লেবুর রস দিয়ে মাখিয়ে ক্যানড করলে মাংস ভালো থাকে অনেক দিন৷
* ভিনেগার বা লেবুর রস ব্যবহার করলে মাংস সংরক্ষণের পাত্রটি ডিপ ফ্রিজে না রেখে রেফ্রিজারেটরে সাধারণ তাপমাত্রায় রাখতে হবে৷
* মাংস সংরক্ষণের সবচে য়ে আদি পদ্ধতি হলো মাংস রোদে শুকিয়ে নেও য়া৷ হালকা লবণ দিয়ে মেখে নিয়ে রোদে ভালোভাবে শুকালে এই মাংস ভালো থাকে অনেক দিন৷ তবে শুকানোর পর অবশ্যই মাংসগুলো টিনে ভালো করে এঁটে রাখতে হবে, নয়তো পোকামাকড়ের আক্রমণে তার আবার পুষ্টি অপচয় হবে৷
চর্বি ছাড়া মাংস খানঃ
সাধারণত মাংস কাটা হয় কিউব আকারে৷ এভাবে কাটলে মাংসের মধ্যে চর্বির স্তরগুলো থেকেই যায়৷ এ জন্য মাংসের টুকরাগুলো স্তরে স্তরে কেটে চর্বির অংশটুকু বাদ দিন৷ সিনা, রান যেকোনো অংশ থেকেই এভাবে চর্বি বাদ দি য়ে শুধু লাল মাংসটুকু রাখা যেতে পারে৷
যাদের কোলেস্টেরলে সমস্যা রয়েছে, তাঁরা মাংস প্রথমে সেদ্ধ করে পানিটুকু ফেলে দিন৷ এরপর ইচ্ছামাফিক রান্না করুন৷ এতেও চলে যাবে অনেকখানি চর্বি৷
গ্রিল করা মাংসে চর্বি প্রায় থাকেই না বলা যায়৷ রোস্ট বা অন্য কোনোভাবে রান্না না করে তাই গ্রিল খাওয়া অনেক স্বাস্থ্যকর৷
সাদা সিরকা, লেবুর রস ও লবণ মাখিয়ে কাঁচা মাংস ভিজিয়ে রাখুন সারা রাত৷ এভাবে রাখলে মাংসের প্রায় ৮০ শতাংশই চর্বিই চলে যা য়৷ এরপর তা সংরক্ষণ করা যেতে পারে অথবা রান্না করতে পারেন আপনার পছন্দমতো৷
কোন অংশের মাংস দিয়ে কী রান্না করবেন?
সব গোশত দি য়ে সব ধরনের আইটেম তৈরি করা যা য় না৷ তাই রান্নার আগে তাকে ওই গোশত সম্পর্কে সচেতন হ য়ে রান্না শুরু করতে হবে৷ এবার জেনে নিন কোন অংশের গোশত দি য়ে কি কি তৈরি করা যাবে৷
রানের গোশতঃ কোরমা, টিকি য়া, বিফ বার্গার, কোপতা, বিরিয়ানি ইত্যাদি তৈরি করা যাবে৷
পেটের দু’পাশের গোশতঃ শিক কাবাব, হাঁড়ি কাবাব, কিমা, কোপ্তা, শামি কাবাব তৈরি করা যায়৷
হাঁটু থেকে পা য়ের অংশ পর্যন্ত : স্যুপ ও কারির জন্যে ভালো৷
সিনার গোশতঃ তেহারি, কারি, রোস্ট ও কোমরের গোশত দিয়ে রোস্ট, কোরমা, বিরিয়ানি তৈরি করা যাবে৷
গোশত তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হতে পেঁপে দিতে পারেন অথবা তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হও য়ার জন্য ব্যবহার করতে পারেন সামান্য চিনি৷
গোশতের টেস্ট গোশত কষানোর ওপর নিভর্র করে৷ গোশত কষানোর পর পানি দিয়ে ফুটিয়ে ঢেকে আঁচ মধ্যম করে দিন৷ আস্তে আস্তে গোশত সিদ্ধ হয়ে আসবে৷
গোশত রান্নার সময় ঢেকে রান্না করবেন এতে খাবারের মান ভালো থাকে৷ এছাড়া গোশতও তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়ে যায়৷

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *