খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে হিমায়িত চিংড়ি

খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে দেশের তৃতীয় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী হিমায়িত চিংড়ি শিল্প। ওজন বাড়াতে গণহারে চিংড়ি মাছে অপদ্রব্য পুশ করার ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে রপ্তানিযোগ্য হিমায়িত চিংড়ির গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। ফুড সেফটি থাকছে না, যা মানবস্বাস্থ্যকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। বিশেষ করে বিদেশি বাজারে দীর্ঘ দিনের অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

পত্রিকান্তরে খবরে প্রকাশ,অপদ্রব্য পুশ করার বিষয়টি ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছার কারণে মৎস্য অধিদফতরের পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগ খুলনার দুটি মাছ কোম্পানির লাইসেন্স বাতিলের জন্য ইতিমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদান করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ দিন ধরেই হিমায়িত চিংড়ি বিশেষ করে গলদা ও বাগদা চিংড়ির ওজন বাড়াতে অপদ্রব্য যেমন জেলি, আইকা গাম ও আগার নামের এক প্রকার তরল পদার্থ পুশ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই অপদ্রব্য পুশের মাত্রা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। হিমায়িত চিংড়ির ছোট ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসায়ীরা ও অপদ্রব্য পুশের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। জানা যায়, বর্তমানে খুলনার মাছ কোম্পানিগুলো যে দামে গলদা ও বাগদা চিংড়ি কিনছে, তার চেয়ে ২০০-৩০০ টাকা (প্রতি কেজি) বেশি দামে আড়ত বা মোকামগুলোয় বিক্রি করছে।একাধিক চিংড়ি ব্যবসায়ীদের মতে, ২৪ টাকার আগার (এক প্রকার জেলি) এক কেজি চিংড়িতে পুশ করলে যে পরিমাণ ওজন ও গ্রেড বাড়ে এর বিক্রয়মূল্য হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। এটা না করলে কোনো ব্যবসায়ী টিকে থাকতে পারবেন না। ওই ব্যবসায়ীদের মতে, বেশ কয়েকটি কোম্পানির কর্মকর্তারাই অপদ্রব্য পুশ কাজে উৎসাহিত করছেন। সম্প্রতি দুটি কোম্পানিতে অভিযান চালিয়ে অপদ্রব্য পুশ করা চিংড়ি পাওয়া যায়। তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে দুই কোম্পানির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, সেজন্য কারণ দর্শাতে নোটিস প্রদান করা হয়েছে। মৎস্য অধিদফতর খুলনা কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১০ মাসে খুলনার মাছ কোম্পানি ও ডিপোগুলোয় ২১৩টি অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার কেজি অপদ্রব্য পুশ করা চিংড়ি নষ্ট করা হয়েছে এবং জরিমানা আদায় করা হয়েছে ৩৮ লাখ টাকা। ২০১২ সালে জরিমানা আদায়ের পরিমাণ ছিল ৪৪ লাখ টাকা।

পরিশেষে, দেশের তৃতীয় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী হিমায়িত চিংড়ি শিল্প যাতে সঠিক মান রক্ষা করে বিদেশি বাজার ধরে রাখতে পারে সেজন্য সংশ্লিষ্ট মহলকে আরো জোরদার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বিষয়টি একদিকে যেমন নৈতিকতা বিবর্জিত, অন্যদিকে বিদেশি বাজারে দেশের সম্মানহানীকর ও জনস্বাস্থ্য বিরোধীও বটে। অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় বারবার এধরনের জঘন্য কাজকে কোনমতে প্রশ্রয় দেওয়া যায় না।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare
, , , ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *