গবাদী প্রাণীর প্রজনন সমস্যা ২য় পর্ব

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান

গত সংখ্যায় আমরা গবাদী প্রাণীর প্রজণন সমস্যার কিছু অংশ আলোচনা করেছি। আমরা আশা করছি আপনারা তা পড়েছেন এবং মনে রেখেছেন। “মাসিক কৃষিবার্তা” সর্বদা পাঠকদের বাস্তবিক চাহিদাকে মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ লেখা প্রকাশ করে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার চেষ্টা করছি আমরা। প্রজননের কোন সমস্যা থাকলে তার সমাধান না করে শুধুই খাওয়ার বিষয় নিয়ে চিন্তা করলে ভাল ফল পাওয়া যায়না। এক্ষেত্রে আমাদের আসল কারণ জেনে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্তই প্রয়োজন।

গত সংখ্যায় আমরা গাভীর অনুর্বরতা নিয়ে কথা বলেছিলাম, আজকে যে বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি তা হলো-গাভীর গর্ভ ধারণের সমস্যা নিয়ে। অনেক বার বীজ বা ষাঁড় দেখানোর পরেও কেন তা বাচ্চা গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয় না। গুরুত্ব পূর্ণ একটা বাস্তবিক বিষয়। কিছুদিন আগে একটা অভিযোগ এসেছিল এক খামারীর কাছ থেকে বেশ কয়েকবার পাল দেখানোর পরেও বাচ্চা ধারণ করছেনা। সেক্ষেত্রে তার করনীয় কী। বিষয়টা শুনতে যতটা না সহজ, তার আসল কারণ সনাক্ত করা ততটা সহজ নয়।

ইংরেজিতে এটাকে বলে (ভধরষঁৎব :ড় পড়হপবরাব) এটা অনেক বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তার কারণ যেকোন একটা বা অনেকগুলো হতে পারে।

বয়সের বিষয়ঃ এক্ষেত্রে প্রথমে লক্ষনীয় হচ্ছে গাভী বা বকনার বয়স। ছোট বকনা অল্প বয়সের হলে, সে কেমন প্রজনন এর জন্য হিট প্রদর্শণ করেছে কিন্তু বাচ্চা গ্রহণের জন্য উপযুক্ত শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পূর্ণ হয়না। অথবা খুব বেশি বয়স হলেও এমন সমস্যা হতে পারে। সাধারণত গবাদী প্রাণীর বিভিন্ন জাতের বিভিন্ন বয়সে গর্ভধারণ করার যোগ্যতা অর্জন করে। এক্ষেত্রে বয়সগুলো নিম্নরূপ;

গাভী- ১০-১৮ মাস

ছাগল- ৬-১০ মাস

ঘোড়া- ১৫-২৪ মাস

কুকুর- ৬-১২ মাস

এবং ভেড়ার ক্ষেত্রে ৭-১০ মাস। বয়সে প্রজনন বৈশিষ্ট প্রকাশ পায়। তবে এই সময়ের পরেও কিছু সময় লাগতে পারে তা প্রাণীর দেহের গঠনের উপর এবং সরবরাহ কৃত পুষ্টির উপর। সঠিক সময়ে সঠিক পুষ্টি পেলে দ্রুত প্রজণনক্ষম হয়ে উঠে। এই সময়ের পুর্বে যদি গাভী হীটে আসে তাহলে তাকে ষাড় দেখানো উচিত না। এতে করে পরবর্তী সমস্যা দেখা দিতে পারে।

দক্ষ টেকনেশিয়ান এর অভাবঃ বাংলাদেশে গাভীর প্রজনন মুলত আগে ষাড় দেখানোর উপর নির্ভর ছিল। তবে বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্সিমেনেশন (অৎঃরভরপরধষ রহংবসরহধঃরড়হ)  কৃত্রিম প্রজণন এর মাধ্যমে প্রসেসিং করা সিমেন (বাংলার সাধারণ মানুষ তা বীজ নামে চেনে)। এটাকে গাভীর প্রজনন তন্ত্রের ইউটেরাস এ স্থাপন করা হয়, এক্ষেত্রে দক্ষতার প্রয়োজন। বাংলাদেশে সাধারণত বিভিন্ন কোম্পানি তাদের টেকনেশিয়ান দ্বারা এই কাজ করায়ে থাকে। সরকারি ভাবে উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসে একজন করে কৃত্রিম প্রজনন টেকনেশিয়ান কর্মী নিয়োগ প্রাপ্ত থাকেন যারা এ আই (অৎঃরভরপরধষ রহংবসরহধঃরড়হ) করে থাকেন। এক্ষেত্রে কিছু অদক্ষ টেকনেশিয়ান ইউটেরাসের বডিতে সিমেন স্থাপন করতে ব্যর্থ হলে সেই গাভীর গর্ভ ধারণ নিশ্চিত হয়না। সাইভিক্স (পবৎারী) এর মুখে যদি সিমেন স্থাপন করা হয় তাহলে প্রজননে সক্ষম হতে পারেনা। এক্ষেত্রে আনাডীর মত প্রয়োগ করার ফলে প্রজনন তন্ত্রের নরম টিস্যু ক্ষতিগ্রস্থ হয়, ফলে অনেক সময় গাভীকে হিট দেখানোর পর রক্ত বের হতে দেখা যায়।

সঠিক ভাবে হীটে আসা বুঝতে না পারা এবং সঠিক সময়ে প্রজননের ব্যবস্থা না করাঃ

গাভীর ক্ষেত্রে প্রজনন সফলতা নির্ভর করে থাকে মানুষের তথা মালিকের সচেতনতার উপর। কারণ গৃহপালিত প্রাণী তার নিজের প্রয়োজন পুরা করতে পারেনা, যেমন পারে বন্য প্রাণিরা। এক্ষেত্রে গাভীর ডাকে আসা বা হীটে আসা নির্ধারণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ন। শুধু তাই ই নয় সঠিক সময়ে তাকে ষাড় দেখাতে হবে নতুনা তা কার্যকরী হবেনা। গাভীর ডিম্ব সে সময় পর্যন্ত বেচে থাকে তার মধ্যে যদি স্পার্ম এসে মিলিত হতে না পারে তাহলে তা ব্যর্থ হয়ে যায়। সাধারণত স্পার্ম কৃত্রিম ভাবে সিমেন দেয়া হলে বাচে এবং ষাড় দেখানোর ফলে প্রায় ৩০ ঘন্টা পর্যন্ত গাভীর প্রজননতন্ত্রের মধ্যে বেঁচে থাকতে পারে।

এজন্য উপযুক্ত সময় হল, গাভীর হিট দেখার পরে ১২ ঘন্টার পর থেকে ১৮ ঘন্টার মধ্যে বীজ দিতে হবে। এটার ফলে বীজ দেখার পর ইনফান্ডিবুলেমে যেতে প্রায় ৪-৮ ঘন্টা সময় লাগবে অন্যদিকে ডিম্বকে আসতে প্রায় ৪-৫ ঘন্টা সময় লাগে ।

তার ফলশ্রুতিতে স্পার্ম ও ওভামের মিলনের ফলে গাভী বাচ্চা ধারণ করতে সমস্যা হবে না।

সিমেনের সমস্যাঃ ত্রুটি পূর্ণ ষাড় দিয়ে যদি গাভীকে প্রজণন করার চেষ্টা করা হয় তাহলেও গাভীর প্রজণন ব্যবহত হয়। ষাড় দেয়ার পরেও আবার সে হীটে আসে বা গরম হয় । এর কয়েকটি কারণ হতে পারে-।

অস্বাভাবিক স্পার্মঃ প্রজনন ক্ষমতা অর্জন করতে হলে স্পার্কে অবশ্যই হতে হবে মোটাইল (গাতিশীল), সঠিক আকৃতি ও গঠনের। কিছু সমস্যা দেখা যায় কিছু ষাড়ের স্পার্মের সেক্ষেত্রে হতে পারে তা, দুইটা মাথা, দুইটা লেজ, বাকানো লেজ, মোটা ঘাড় ইত্যাদি। স্পার্মের প্রতিটি অংশই নিজ নিজে কাজে সফল হওয়ায় মাধ্যমে জাইগোটে পরিণত হয়।

শুক্রানুর সংখ্যা যদি কম থাকে। প্রতি মিলি সিমেনে  ৮০০-২০০০ মিলিয়ন হতে হবে যার মধ্যে কেবল মাত্র একটি শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করতে পারবে।

ষাড় যদি কোন রোগে আক্রান্ত থাকে বিশেষ করে ব্রুসেলোলিস (ইৎঁপবষষড়ংরং), ট্রাইকোমোনাস ফিটাস (ঞৎরপযড়সড়হধং ভবঃঁং), ক্যামফাইলো ব্যকটেরিয়া ফিটাস (পধসঢ়যুষড়নধপঃবৎ ভবঃঁং) রোগে। তাহলে বীজের মাধ্যমে তা গাভীতে এবং বাচ্চাতে সংক্রামিত হয়ে থাকে। যার ফলে গাভীর প্রজনন সমস্যা সহ গর্ভপাত হতে পারে।

লক্ষণঃ

সাধারণত একবার বীজ দেখানোর পরে এক মাস পরে আবার গাভী গরম হয়। পাশপাশি সিমেন প্রয়োগ করার পরে গাভীর যোনি থেকে রক্ত পড়তেও দেখা যেতে পারে।

গাভী দেখতে সুস্থ তার পরেও বীজ দেয়ার পরে গর্ভ ধারণের কোন বৈশিষ্ট প্রকাশ পায়না।

সিমেন দেয়ার পরেও আবার হীতে আসে গাভী পরের ইস্ট্রাস (ঊং:ৎড়ঁং পুপষব) চক্রে। তখন তাকে আবার সিমেন দেয়ার প্রয়োজন পড়ে।

রোগ নির্নয়ঃ

স খামারীর কাছে সঠিক ভাবে তার পূর্বের ইতিহাস জানলে বোঝা যায় সহজে।

স সঠিকভাবে রেক্টাল পালপেশন করে জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের অবস্থা পর্যাবেক্ষণ করা।

সমাধানঃ

             প্রথম একবার দেখার পর আসল কারণ জানা কঠিন হয়ে পরে। তাই তখন এক মাস অপেক্ষা করার পর অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি ডাক্তারকে দেখাতে হবে। তিনি রেকটাল ঢ়ধষঢ়ধঃরড়হ  মাধ্যমে ভিতরে কোন সমস্যা আছে কিনা তা জানার চেষ্টা করবেন। আবার গরম হওয়ার পরে ডাক্তারের পরামর্শ ক্রমে দ্বিতীয় বার সিমেন প্রয়োগ করবেন।

             বেশি গাভী থাকলে একজন গাভীর হিটে আসা না আসা লক্ষ্য করলে ভাল হয়। প্রত্যেহ সকালে গরুর অবস্থা দেখে তা নির্ণয় করা যাবে। সেক্ষেত্রে প্রধান বৈশিষ্ট হল-

             যোনিপথ দ্বারা মিউকাস পড়তে দেখা যাবে, একটা গাভী অন্য গাভীর উপর লাফ দিয়ে উঠবে। গাভী খাওয়া বন্ধ করে চিৎকার করতে থাকবে। আর গরম দেখার প্রায় ১২ ঘন্টা পরে ষাড় বা সিমেন প্রয়োগ করতে হবে।

             সিমেন প্রয়োগের সময় ১ ডোজ জি এন আর এইচ ইঞ্জেকশন করা যেতে পারে। তাহলে কন্সেপশান রেট ভাল থাকে।

             যদি গাভীর হিটে আসার পর অভিক্ষ ভেটেরিনারিয়ানের সাথে সাক্ষাত করে পরামর্শ গ্রহণ করা।

             গাভীর ক্ষেত্রে সাধারণত হিটে আসে খুব সকালে সেক্ষেত্রে তাকে সিমেন প্রয়োগ করাতে হবে শেষ বিকাল বেলা  না হলে সন্ধ্যাবেলা। আর যদি সন্ধার সময় গরম হয় তাহলে পরদিন সকালে বীজ দিতে হবে। প্রয়োজনে  দুইবার এ আই (অৎঃরপরভরধষ ওঘংবসরহধঃরড়হ) করলে কনসেপসন (পড়হপবঢ়ঃরড়হ) হার বেশি থাকে।   অভিজ্ঞ টেকনেশিয়ান দ্বারা বীজ দিয়ে নিতে হবে।

রিপিট ব্রিডিং (জবঢ়বধঃ ইৎববফরহম)

বাংলাদেশের গাভী গুলোর মধ্যে আরো একটই সমস্যা হল পুনঃ পুনঃ গরম হওয়া। একে বলা হয় রিপিট ব্রিডিং (জবঢ়বধঃ নৎববফরহম ) এই গাভী আপাতত  দৃষ্টিতে কোন রোগে আক্রান্ত বলে মনে হয়না। প্রথম একটা বা দুইটা বাচ্চাও দিয়েছিল আগে। কিন্তু বর্তমানে তা আর গর্ভ ধারণ করছেনা। পর পর তিন বার বীজ দেখানোর পরেও আবার হিটে আসে। বাংলাদেশের ১৩-২২ শতাংশ ও ভারতে ১৯-২১ শতাংশ গাভী এবং মহিষ গাভী প্রায় ৬.৪৮ শতাংশ রিপিট ব্রিডার হিসেবে চিহ্নিত আছে (পশু চিকিৎসা বিদ্যা, প্রফেসর ডঃ আব্দুস সামাদ)

যখন কোনো গাভী সঠিক সময়ে (১৮-২১ দিন) গরম হয় ও কোনো প্রকার অসুস্থতার লক্ষণ থাকে না এবং কমপক্ষে ২ বার প্রজনন করানোর পরেও গর্ভধারণে ব্যর্থ হয় তখন তাকে বার বার গরম হওয়া গাভী বলে। ৩ বার প্রজনন করানোর পরেও গর্ভধারণে ব্যর্থ হওয়ার হার প্রায় ১০০%। এতে করে বাছুর প্রদানের সংখ্যা কমে যায়। বার বার প্রজনন করানো ও চিকিৎসা করানোর খরচ বেড়ে যায়। অনেক সময় উন্নত মানের গাভী অকালে বাতিল করতে হয়, ফলে খামারি মানসিক চাপে পড়েন ও অর্থনৈতিকভাবে খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন। কারণগুলো বাস্তবপক্ষে কিছু ক্ষেত্রে ভুল সময়ে প্রজনন করানোর ফলে হয়ে থাকে। কিছু গাভীতে প্রজণন তন্ত্রের বার্সা ও ডিম্বনালির জটিলতা ও জরায়ু সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। কাছাকাছি সময়ে গরম হওয়া এ ক্ষেত্রে গাভী প্রজনন করানোর ১৭-২৪ দিনের মধ্যেই আবার গরম হয়।

কারণ-

             এই গাভীর মধ্যে যদি কোন হরমোন এর ক্ষরণ ও কার্যকারীতা কম হয় তখন এই সমস্যা হতে পারে।

সনিষেকের অকার্যকারিতা (ঋবৎঃরষরুধঃরড়হ ভধরষঁৎব)।

             আয়ানাটোমিক দিম্বক্ষরণ (অহড়াঁষধঃরড়হ)।

             সঠিক সময়ে গরম হওয়া নির্ধারণ করতে পারেনা।

             জননতন্ত্রে সংক্রমণ।

             কৃত্রিম প্রজননের সমস্যা।

             অপর্যাপ্ত নিম্নমানের সিমেন।

প্রধানত ৮১৮৭ শতাংশ জীবাণু ঘটিত এবং অবশিষ্ঠ ১৮১৩ শতাংশ সংক্রামক নয় এমন কোন কারণে প্রাণী গর্ভধারণ না করে পুণঃ পুণঃ গরম হয়।

কঃ সংক্রমক কারণ

             বিভিন্ন ধরণের জীবাণু দ্বারা এই রোগ হতে পারে। তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য জীবাণু সমূহ হল- ক্যাম্পাইলোব্যকটর ফিটাস, স্টাফাইলোকোক্কাস এরিয়াস, স্ট্রেপ্টোকোক্কাস পাইয়জেন্স, করাইনিব্যকটেরিয়াম পাইয়োজেন্স, ব্যাসিলাস প্রজাতি, ইস্ক্রেসিয়া কোলাই, ট্রাইকোমোনাস ফিটাস, এবং ছত্রাক সহ আরো অনেক জীবাণু দ্বারা হতে পারে। তবে এদের প্রত্যেকের কিছু আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট আছে যা দেখে ডাক্তার সনাক্ত করে থাকেন।

             অল্প পরিমাণে জীবাণুর সংক্রামণ এবং সাব কিনিক্যাল এন্ড্রোমেট্রাইটিস এর কারণে গাভী বার বার গরম হয়।

             লুটিয়াল গ্রন্থির কার্যকারিতা তাড়াতাড়ি বন্ধ হলে বা স্বাভাবিক বা নিয়মিত ঋতুচক্রের মতো করপাছ লুটিয়াম স্বল্পস্থায়ী হলে এমন হতে পারে।

             যদি ডিম দেরিতে নিঃসরিত হয় এবং প্রজননে বীজের মান ভালো না হয়।

             কোন কারণে যদি পূর্বেই ভ্রণ মারা যায় এবং তার যথাযথ চিকিৎসার অভাব হবে  বা দুর্বল/নিম্নমানের ভ্রণ গ্রষ্টি হলে।

             জরায়ুর পরিবেশ ভালো না থাকলে। জরায়ুতে কোন সিস্ট বা টিউমার জাতিয় ফাব্রোসিস হলে।

             প্রাণীর দেহে হরমোন ব্যবহারের ফলে ডিম্বাশয়ে সিস্ট অথবা অন্য কোন প¦ার্শ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে।

             জন্মগত ত্রুটির কারণে গাভীর যোনি নালি বন্ধ থাকলে গাভী গরমের সময় যথারীতি প্রজনন করালেও শুক্রাণু ডিম্বানুর সাথে মিলিত হতে পারেনা।

জরায়ু সংক্রমণ সাধারণত ষাঁড় দ্বারা মিলনের সময়, অস্বাস্থ্যকর কৃত্রিম প্রজনন ও প্রসবের সময় ও পরে জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়ে থাকে। এছাড়াও কিছু বিষয় বার বার গরম হওয়াকে প্রভাবিত করে। যেমন-ওলান প্রদাহ রোগ বার বার গরম হওয়ার হার বৃদ্ধি করে ও উৎপাদন কমিয়ে দেয়। দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর। বাচ্চা প্রদানের সংখ্যার ওপর। জটিল প্রসবের ঘটনা। প্রথম প্রজনন করানোর আগে চিকিৎসা দেয়া প্রভৃতি।

রোগ নির্ণয়ঃ

             ভ্যাজাইনাল স্প¦কুলামের (ঠধমরহধষ ংঢ়বপঁষঁস) সাহয্যে পরীক্ষা করে যোনি নালী ও জরায়ু গ্রীবার অস্বাভাবিকতা নির্ণয় করা।

             রেক্টাল পরীক্ষার মাধ্যমে গাভীর ডিম্বাশয় ও জরায়ুর রোগ নির্ণয় করা যায়। সিরামে ফসফরাস হ্রাস মাত্রায় থাকে।

             ডিমাবশয়ে ফলিকুলার সিস্ট (ঋড়ষষরপঁষধৎ পুং:) থাকলে ইস্টেেট্রাজেনের (বং:ৎড়মবহ) প্রভাবে রক্তে নিউট্রোফিলের (হবঁ:ৎড়ঢ়যরষং) সংখ্যা খুবই বেড়ে যায়।

চিকিৎসাঃ

*             যদি মনে হয় গাভী সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত তাহলে সে অনুষায়ী চিকিৎসা করতে হবে।

*             লুগলস আয়োডিন সলুশন প্রস্তুত করে জরায়ুতে প্রয়েগ করা। স্টক সলুশনে পরিশ্রুত পানিতে পাতলা (০-) করে ২০ মিলিলিটার সলুশন জরায়ুর মধ্যে প্রয়োগ করতে হবে। লুগল’স আয়োডিন চিকিৎসায় ৬০-৭৫ শতাংশ পশু গর্ভধারণ করে।

*             প্রাথমিকভাবে গাভীর গরম হওয়ার সময় লিপিবদ্ধ করে বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে গাভীটি কাছাকাছি সময়ে গরম হচ্ছে অথবা দেরিতে গরম হচ্ছে।

*             ৩ বার প্রজনন করানোর পরও গর্ভধারণ না করলে আবার প্রজনন করানোর আগে ভালোভাবে ভেটেরিনারি ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা করতে হবে।

*             প্রজনন করানোর সময় গাভীকে ১০০-৫০০/স এহজয ১/স প্রয়োগ করা যেতে পারে।

*             জরায়ুতে গরম হওয়ার সময় ৮ম ঘণ্টা ও ৪তম ঘণ্টায় (ঢ়বহরপরষষরহ ৪০ ষধপ) প্রয়োগ করা যেতে পারে।

প্রতিরোধ:

১ সঠিক সময়ে প্রজনন করতে হবে। গরম হওয়ার ১২ ঘণ্টা পরে ও ১৮ ঘণ্টার মধ্যে।

২ গাভী গরম হলে দুধের   খুব কমে যায়।  এর মাত্রা নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা দেয়া যায়।

৩ প্রজননকারীকে সতর্কতার সাথে গর্ভে বাচ্চা আছে কিনা তা দেখে নিয়ে তারপর প্রজনন করতে হবে।

৪ প্রজনন করানোর সময় গাভীকে কোনো প্রকার ধকল দেয়া যাবে না যেমন- অনেক দূর হেঁটে নিয়ে যাওয়া, খাদ্য পরিবর্তন করা ইত্যাদি।

৫ পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য দিতে হবে।

৬ ভালো বীজ ও দক্ষ প্রজননকারী দ্বারা প্রজনন করাতে হবে।

৭ প্রয়োজনে ২ বার প্রজনন করানো যেতে পারে।

৮ প্রজনন করানোর পর ৩ সেকেন্ড গাভীর কাইটোরিসে ম্যাসেজ দিতে হবে।

৯ প্রজনন করানোর পর গাভীকে ঠান্ডা জায়গায় রাখতে হবে।

মিথ্যা গর্ভধারণঃ (চংবঁফড় ঢ়ৎবমহধহপু)

গাভীকে দেখে মনে হতে পারে সেটা বাচ্চা পেটে নিয়ে আছে, হিটে আসাও বন্ধ থাকে। কিন্তু কিছুদিন পরে দেখা যায় সেটা আসলে প্রেগনেন্ট ছিলনা। এটা খুব পরিচিত না হলেও দেখা যায়।

কারণঃ

কোন কারণে যদি করপাস লুটিয়াম( ঈড়ৎঢ়ঁং ষঁ:বঁস) থেকেই যায়, যা প্রোজেস্টেরণ (চৎড়মবং:বৎড়হব) হরমন নি:সরণ করে ফলে প্রেগনেন্সি দেখায়।

চিকিৎসাঃ

এক্ষেত্রে এক ডোজ ইস্ট্রজেন (ঝঃরষনবং:রৎড়ষ ড়ৎ বং:ৎড়মবহ) ইঞ্জেকশন দিতে হবে।

উপরের বিষয়গুলো খেয়াল করে গবাদী প্রাণী পালন করলে আমরা অবশ্যই লাভবান হতে পারবো। আর তা হবে নিজের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করা। আমাদের দেশ আরো এগিয়ে যাবে।

(চলবে)

সুত্র- ইন্টারনেট

পশু চিকিৎসা বিদ্যা -৩য় সংস্করণ  আব্দুস সামাদ স্যার।

————————————–

লেখকঃ

শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক, ভেটেরিনারি এন্ড এনিমেল

সায়েন্স অনুষদ, হাবিপ্রবি দিনাজপুর ।

মোবাইলঃ ০১৭২৩৭৮৬৮৭৭

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *