গুণে ভরা কদবেল

কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল করিম

কদবেল একটি সুপরিচিত প্রিয় ফল। সারা শরৎকাল  সেপ্টেম্বর-নভেম্বর) জুড়ে শহর বন্দর, হাট-বাজার, ট্রেন স্টেশন, বাস স্ট্যান্ডে কদবেল পাওয়া যায়। বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সুগন্ধ ও অম্ল মধুর স্বাদের জন্য কদবেলের কদর সবাইর কাছে। শিশু কিশোর ও মেয়েদের কাছে খুবই প্রিয়। গাছে পাঁকা কদবেল ঘরে রাখলে এর সুগন্ধে ঘর ভরে যায়। ফলটি দেখতে অনেকটা ক্রিকেট বলের মত। এর পাতা দেখতে অনেকটা কামিনী ফুলের পাতার মত। বর্তমানে বেশ বড় আকারের কদবেল বাজারে দেখতে পাওয়া যায়। এ জাতকে অনেকে “বনলতা” জাত বলে। কদবেলের ইংরেজি নাম ঊষবঢ়যধহঃ ঋড়ড়ঃ’ং ধঢ়ঢ়ষব বা গড়হশবু ঋৎঁরঃ. বৈজ্ঞানিক নাম ঋবৎড়হরধ খরসড়হরধ. এটি জঁ:ধপবধব পরিবারভুক্ত গাছ। আজকাল পাঁকা কদবেলের মধ্যে মসলা মাখিয়ে কাঠি ঢুকিয়ে ঘুঁটে তার শাঁস খাওয়ার প্রচলনই বেশী। অনেকে চাটনী বা আচার বানিয়ে খায়।

 

1444124690k

 

কদবেলের পুষ্টিমাণ যথেষ্ট। প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যোপযোগী পুষ্টি উপাদানে রয়েছে খনিজ পদার্থ ২.২ গ্রাম (যা সকল ফল থেকে বেশী); আঁশ- ৫.০ গ্রাম, খাদ্য শক্তি ৪৯ কিলো ক্যালোরী, আমিষ- ৩.৫ গ্রাম (যা অন্যান্য ফল বেশী), শর্করা ৮.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম- ৫৯ মি. গ্রাম, আয়রন- ০.৬ মি. গ্রাম এবং ভিটামিন-এ, বি ও সি রয়েছে  যথেষ্ট।

প্রাচীনকাল হতে আয়র্বেদ বা ইউনানী শাস্ত্রের চিকিৎসায় কদবেল একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল হিসেবে বিবেচিত এবং ভেষজ গুণে ভরপুর। এর ফল, পাতা, ছাল ও শাঁস ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

১। কদবেল মুখের রচি বৃদ্ধি করতে দারুন সাহায্য করে।

২। আয়ুর্বেদী চিকিৎসায় ডায়াবেটিসের একমাত্র ওষুধ হলো কদবেল।

৩। সর্দি, কাশি, হাপানী ও যক্ষায় অব্যর্থ ওষুধ কদবেল।

৪। বিষাক্ত পোকামাকড় কামড়ালে সেখানে ফলের শাঁসের প্রলেপ দিলে ভাল কাজ হয়।

৫। কচি পাতার রস ও দুধ মিছরির সাথে মিশিয়ে ছোট বাচ্চাদের খাওয়ালে পেটের অসুখ নিরাময় হয়।

৬। যকৃত ও কিডনীর বল বর্দ্ধক হিসেবে কাজ করে।

৭। এর বিচি হৃদরোগের নিরাময় করে।

৮। পেটের নানা প্রকার পীড়া দূর করতে কার্যকর।

৯। হিক্ক রোগে কাঁচা কদবেলের রস দারুন উপকারী।

১০। পিত্ত পাথুরীতে কচিপাতার রস কার্যকরী।

১১। ব্রণে কাঁচা কদবেলের রস লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

১২। কদবেল উদ্দিপক, মুত্র বর্ধক ও বল কারক।

১৩। বদহজমে ছোট এলাচ ও মধু দিয়ে কাঁচা কদবেল খেলে দারুন উপকার হয়।

কদবেল বাগান আকারে চাষ হয় না বললেই চলে। তবুও সখের বসে বাড়ীর আশে-পাশে ২/১ টি গাছ রোপণের মাধ্যমে আমাদের চাহিদা পূরণ হয়ে থাকে। যদি বাগান আকারে এবং বিজ্ঞান ভিত্তিক চাষ করা যায় তা হলে কদবেল রফতানী যোগ্য হতে পারে।

————————————-

লেখকঃ

সাবেক অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,

রাজশাহী। মোবাইল- ০১৭১২২৩৩০০৬

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare