গোলআলুর গোলমাল

সম্পাদকীয়:
কৃষি সেক্টরে বর্তমান সময়ে যে বিষয়টি নিয়ে বেশি আলোচনা আর সমালোচনার ঝড় বইছে তা হলো গোলআলুর দাম৷ আমাদের দেশের আলু চাষিরা আলু নিয়ে মহা বিপাকে পড়েছে৷ চাষিরা আলুর দাম না পেয়ে রাস্তায় ঢেলে ভিন্ন ধমর্ী প্রতিবাদ করছে৷ চাষিরা উত্‍পাদন করে লাভের আশায়৷ আর সেখানে যদি উত্‍পাদন খরচও তুলতে না পারে তাহলে দেশের প্রান্তিক চাষিদের দুদর্শার আর সীমা থাকেনা৷ প্রতি কেজি আলু পাইকাড়দের কাছে চাষি বিক্রি করছেন দেড়-দুই টাকায়৷ কিন্তু রাজধানীতে বাজারভেদে সেই আলু ক্রেতাকে কিনতে হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়৷ আলুর উত্‍পাদন খরচ তুলতে না পারায় চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে৷ আবার ভোক্তাদের কিনতে হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি দামে৷ কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীদের লাভ ঠিকই থাকছে৷
আলু চাষিদের এ দুরবস্থার কারণ হিসাবে চাহিদার তুলনায় আমদানি বেশি, পর্যাপ্ত হিমাগারের অভাব, দূর্বল বাজার ব্যবস্থা, বেশি পরিবহন ব্যয়, এমনকি রফতানির ক্ষেত্র কম বলে জানা যায়৷ পচনশীল হওয়ায় আলু দু-তিন দিনের বেশি আড়তেও রাখা যায় না৷ ফলে বাধ্য হয়ে কম দামেই চাষিরা বিক্রি করেন৷ কিন্তু এর সুফল পান না ক্রেতারা৷ এ বছর ৮৫ লাখ টন উত্‍পাদন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আলু উত্‍পাদিত হয়েছে ৮৬ লাখ টনেরও বেশি৷ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী প্রতি কেজি আলু উত্‍পাদনে ছয় থেকে সাত টাকা খরচ পড়লেও স্থানীয় পাইকারি বাজারে দাম দেড়-দুই টাকা৷ কোথাও কোথাও দাম এক টাকারও কম৷ ব্যবসায়ী ও কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত হরতাল-অবরোধে পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেকে তখন ক্ষেত থেকে আলু তোলেননি৷ যারা তুলেছেন, তাদের অনেকে আলু কোথাও পাঠাতে পারেননি৷ হরতাল-অবরোধ শেষে পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলেও হঠাত্‍ করে আলুর সরবরাহ বেড়ে যায়৷ এর ফলে কৃষক পর্যায়ে ও স্থানীয় পাইকারি বাজারে দাম পড়ে যায়৷
আলু ছাড়া অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রেও প্রায়ই এরুপ অবস্থা দেখা যায়৷ অধিক উত্‍পাদন আশির্বাদ না হয়ে অনেক সময় কৃষকের অভিশাপ হিসাবে দেখা দেয়৷ এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য সরকারি পর্যায় থেকে কাঠামো গত পরিবর্তন আনতে হবে৷ আলু বিদেশে রফতানির সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে৷ মধ্যস্বত্বভোগী মুনাফাখোরদের দৌরাত্ম্ন কমিয়ে আনতে হবে৷ পরিবহন সেক্টরের নৈরাজ্য থেকে পরিত্রাণ দিতে হবে৷ তাহলেই কেবল অধিক উত্‍পাদনের সুফল পাওয়া যাবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন৷
২. মার্চ মাস আমাদের মহান স্বাধীনতার মাস৷ আসছে ২৬ মার্চ আমাদের গৌরবের মহান স্বাধীনতা দিবস৷ ১৯৭১ সালের দীর্ঘ নয় মাস লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা পেয়েছি মহান স্বাধীনতা৷ মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে যারাঁ আত্মদান করেছেন,পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন তাদের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা৷ দেশের প্রতিটি মানুষ, ব্যক্তি জীবন তথা জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বাধীনতার সুফল ভোগ করুক এই হোক আজকের প্রত্যাশা৷

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *