ছাদে বাগান করার জন্য উপযোগী গাছ নির্বাচন ও পরিচর্যা

পূর্ব প্রকাশের পর

এ সময় চারা গাছটির অতিরিক্ত শিকড়/ মরা শিকড় সমূহ কেটে ফেলতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে মাটির  বলটি যেন ভেঙ্গে না যায়।

* রোপিত গাছটিতে খুটি দিয়ে বেধে দিতে হবে।

* রোপণের পর  গাছের গোড়া ভালভাবে পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিতে হবে।

*             সময়ে সময়ে প্রয়োজন মত গাছে পানি সেচ ও উপরি সার প্রয়োগ, বালাই দমন ব্যবস্থা নিতে হবে।

*             রোপণের সময় হাফ ড্রাম প্রতি ২/৩ টি সিলভা মি*ড ট্যাবলেট সার গাছের গোড়া হতে ৬ ইঞ্চি দুর দিয়ে মাটির ৪ ইঞ্চি গভীরে প্রয়োগ করতে হবে।

*             গাছের বাড়-বাড়তি অনুযায়ী ২ বারে টব প্রতি ৫০/১০০ গ্রাম মিশ্র সার     প্রয়োগ করে ভাল ভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।

* গাছের রোগাক্রান্ত ও মরা ডালগুলো ছাটাই করতে হবে এবং কর্তিত স্থানে বোর্দপেষ্ট লাগাতে হবে।

পরিচর্যাঃ

ডাল-পালা ছাঁটাই  :

কুল খাওয়ার পর ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি গাছের সমস্ত ডাল কেঁটে দিতে হবে। তাছাড়াও মরা ও রোগাক্রান্ত ডাল গুলো কেটে বোর্দ পেষ্ট লাগাতে হবে।

টব বা ড্রামের মাটি পরিবর্তনঃ

প্রতি বছর না হলেও ১ বছর অন্তর অস্তর টবের পুরাতন মাটি পরিবর্তন করে নতুন গোবর মিশ্রিত মাটি দিয়ে পুনরায় টবটি/ ড্রামটি ভরে দিতে হবে। এ সময় খেয়াল রাখতে হবে গাছ যেন  বেশী ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। তাই এক স্তর বিশিষ্ট ড্রামের পরিবর্তে দ্বিস্তর বিশিষ্ট ড্রাম ব্যবহার করা উত্তম।

বালাই দমন  :

বালাই দমনে পরিবেশ বান্ধব আইপিএম বা আইসিএম পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ প্রয়োজন ব্যতিরেকে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার না করে জৈব রাসায়নিক বালাই নাশক যেমন- নিমবিসিডিন, বাইকাও-১ ব্যাবহার করা যেতে পারে।

মিলি বাগ  :

পেয়ারা, কুল, লেবু, আম, করমচা, জলপাই, বেগুন প্রভৃতি গাছে এ পোকার আক্রমণ দেখা যায়।

লক্ষণঃ

* পাতার নিচে সাদা তুলার মত দেখা যায়।

* পোকা উড়তে পারেনা।

* টিপ দিলে হলুদ পানির মত বের হয়ে আসে।

* গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে, পাতা লাল হয়ে যায়, পাতা ও ফল ঝরে  পড়ে, ফলের আকার বিকৃত হয়ে যায় ।

* অনেক সময় পাতায় শুটি মোল্ড রোগের আক্রমণ হয়।

দমনঃ

হাত বাছাইয়ের মাধ্যমে পোকা দমন করতে হবে। প্রয়োজনে জৈব বালাই নাশক প্রয়োগ করতে হবে।

সাদা মাছি  :

পেয়ারা, লেবু, জলপাই, বেগুন প্রভৃতি গাছে এ পোকার আক্রমণ দেখা যায়।

লক্ষণঃ

* পাতার নিচে সাদা তুলার মত মাছি পোকা দেখা যায়।

* পোকা উড়তে পারে।

* গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে, পাতা লাল হয়ে যায়, পাতা ঝরে পড়ে, পরবর্তী মৌসুমে ফলের উৎপাদন ব্যাপক হারে হ্রাস পায়।

* পাতায় শুটি মোল্ড রোগের আক্রমণ হয়।

দমনঃ প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হুইল পাউডার মিশিয়ে পাতার নিচে ¯েপ্র করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।

স্যুটি মোল্ডঃ

ছত্রাক দ্বারা সংগঠিত হয়। পাতার ওপর কাল কাল পাউডার দেখা দেয়।  গাছের ফলন ব্যহত হয়। আক্রমণ ব্যাপক হলে পাতা ও ফল ঝরে যায়।

দমনঃ

টিল্ট-২৫০ ইসি, প্রতি লিটার পানিতে ০.৫০ মিঃলিঃ মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

 

লেখক  :

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ প্রজনন)

বি.এ.আর.আই, গাজীপুর।

 

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare