ছাদ কৃষিঃ অনিবার্য বাস্তবতা

সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে সাথে দিন দিন শহরাঞ্চলের উপর যেমন মানুষের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে তেমনি পরিবেশের উপর ঝুঁকিও বাড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ কোটি লোক নগরে বসবাস করে। ২০২০ সালে শতকরা ৫০ ভাগ অর্থাৎ সাড়ে আট কোটি লোক নগরে বাস করবে এবং ২০৫০ সালে  ১০০%  অর্থাৎ ২৭ কোটি লোক নগরে বসবাস করবে। তখন গ্রাম ও নগর মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে। শহরাঞ্চলের শিল্পকারখানা ও যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোয়া বায়ুমন্ডলকে মাত্রাতিরিক্তভাবে দূষিত করছে। এক জরিপে দেখা গেছে কোন কোন শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা সহনশীল পর্যায় থেকে ও দুই থেকে আড়াই গুণ বেশি। শহরে ইট-কাঠের ভবনের বদলে দ্রুতই বৃদ্ধি পাচ্ছে ইস্পাতের কাঠামো ও কাঁচে মোড়ানো বহুতল ভবন। এর ফলে নির্দিষ্ট এলাকার তাপমাত্রা আশপাশের এলাকার তুলনায় বেড়ে যাচ্ছে এবং শহর জুড়ে তৈরি হচ্ছে অসংখ্য হিট আইল্যান্ড বা তাপদ্বীপ।

নগর কেন্দ্রিক এমন অসহনীয় অবস্থায় ছাদ বাগান এনে দিতে পারে একটু স্বস্তির সুবাতাস। পরিবেশগত দিক থেকেও ছাদ কৃষি অনেক সুফল বয়ে আনবে।  ছাদ কৃষি তথা নগরীয় কৃষির যত সম্প্রসারণ ঘটবে নগরে ততই কার্বনডাই-অক্সাইডের পরিমাণ ও তাপমাত্রা হ্রাস পাবে। বাড়বে বৃষ্টিপাত বাড়বে আর হ্রাস পাবে শব্দ ও বায়ু দূষণ। তাছাড়া তাজা, বিষমুক্ত, উন্নত স্বাদ, নির্মল বিনোদন সর্বোপরি পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মেটানোর জন্য টবের মাধ্যমে ছাদ চাষাবাদ একটি টেকসই প্রযুক্তি। বিগত দুই শতক ধরে পৃথিবীর বহু ধনী ও দরিদ্র দেশে ছাদ কৃষি কার্যক্রম ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ছাদ কৃষি কর্মে উদ্বুদ্ধ হয়ে এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন ও উত্তর আমেরিকার লাখ লাখ নগরবাসী তাদের বাড়ি ভিটায়, বহুতল বাড়ির ছাদে, বারান্দায়, রাস্তার পাশে, নগরের অব্যবহৃত খালি জায়গায় বিভিন্ন ফসল উৎপাদনও প্রাণী পালন শুরু করেছে। আমাদের দেশে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ও অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে প্রতি বছর প্রায় ১% হারে কৃষি জমি হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে ১.৫% হারে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার একর জমিতে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে।

এ প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যত প্রজন্মের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আমাদের দেশের মাটি, জলবাযু, নগরের অবস্থান, জনসংখ্যা, মানুষের সংস্কৃতি, চাহিদা, খাদ্যাভাস প্রভৃতির সাথে সংগতি রেখে দেশের প্রতিটি নগরে গড়ে তুলতে হবে ছাদ কৃষি ব্যবস্থা। এব্যাপারে নগর পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি ও কৃষিবিদসহ সবাইকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। বিল্ডিং কোড-এর প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে ভবিষ্যতে যেসব স্থাপনা তৈরী হবে সে গুলোকে নগরীয় কৃষির উপযোগী করে নির্মাণ করতে হবে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের ব্যবস্থা রেখে পরিকল্পিত সবুজ আবাসন এবং সবুজ নগর গড়ে তুলতে হবে।

২. মার্চ মাস আমাদের মহান স্বাধীনতার মাস। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। হানাদারদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। যাঁদের রক্ত আর প্রাণের বিনিময়ে আমরা এ দেশ পেয়েছি তাদের জানাই সশ্রদ্ধ সালাম।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare