জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০১৮ সফল হোক

জাটকা সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিবারের ন্যায় এ বছরও ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ ‘ জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০১৮’ উদযাপন করা হচ্ছে। ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে এবছরের শ্লোগান হলো-‘জাটকা ধরে করবো না শেষ, বাঁচবে জেলে হাসবে দেশ’। বিশেষজ্ঞগণের মতে, বছরে যে পরিমাণ জাটকা ধরা হয়, তার অর্ধেক রক্ষা করা গেলেও ইলিশের উৎপাদন ৫০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব হবে। প্রজনন মৌসুমে যদি সর্বাধিক সংখ্যক ইলিশ ডিম ছাড়তে পারে এবং ছোট ইলিশ নির্বিঘেœ বড় হতে পারে, তা হলেই বাংলাদেশের ছোট-বড় নদীগুলো আবার রূপালী ইলিশে ভরে উঠবে। দেশের ধনী-গরীব সবাই উপভোগ করতে পাববে সুগন্ধী ইলিশের স্বাদ। দেশের রপ্তানি আয়েও ইলিশের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে তিন হাজার ৬৮০ টন ইলিশ রপ্তানি করা হয়। উৎপাদন বাড়ার সাথে সাথে ২০১০-১১অর্থ বছরে ইলিশ রপ্তানির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় আট হাজার ৫৩৮ টনে এবং তাতে আয় হয় তিন হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট  এর সূত্রে জানা যায়,আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা ও অমাবস্যার সময় ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। ওই সময় সমুদ্রের লোনা পানি থেকে ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য নদীর মিঠা পানিতে আসে। এ সময়ে নদীতে পোনা ছাড়ার সংখ্যা ছিল ৪২ হাজার কোটি। একটি ইলিশ মাছ ১০ থেকে ১২ লাখ পোনা ছাড়তে পারে। গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, এ বছর আড়াই শতাংশ বেশি পোনা উৎপন্ন হয়েছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ইলিশের সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুম। আশ্বিনের বড় পূর্ণিমার আগে ও পরে ইলিশের ব্যাস ও পরিপক্কতার মান সর্বোচ্চ পাওয়া যায়। আর জানুয়ারি -ফেব্রুয়ারি ইলিশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রজনন মৌসুম। ইলিশের প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র প্রায় ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার। আগে এই এলাকায় প্রতিবছর বড় পূর্ণিমার ৩ দিন আগে ও ১১ দিন পরে মোট ১৫ দিন মা ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করা হতো। ২০১৬ সাল থেকে বড় পূর্ণিমার ৪ দিন আগে ও পূর্ণিমার দিন এবং পরের ১৭ দিনসহ মোট ২২ দিন ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়। এতে পূর্ণিমার সাথে পরবর্তী অমাবশ্যাকে যুক্ত করা হয়। এ কারণে গত দুই বছর ধরে ইলিশ আহরণের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বছর নদীতে যে পরিমাণ পোনা আছে, তাতে চলতি (২০১৭-১৮) অর্থবছরে ৬ লাখ টনের বেশি ইলিশ পাওয়া যেতে পারে। প্রতি কেজি ৪০০ টাকা হিসেবে যার বাজার মূল্য হবে ২৪ হাজার কোটি টাকা।

প্রতি বছর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা ধরার ওপর আট মাস নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হয় মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত মাত্র চার মাস। বাকি চার মাস জেলে পরিবারের সদস্যদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। আমরা মনে করি এ অবস্থা উত্তরণে সরকারের উচিত বাকি চার মাসের জন্যও জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। সব দিক বিবেচনায় এবারের জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে আমরা তার সার্বিক সফলতা কামনা করি।

২. ফেব্রুয়ারি মাস ভাষার মাস। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ভাষা শহীদদের প্রতি আমাদের বিন¤্র শ্রদ্ধাঞ্জলি। কৃষিবার্তা পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের সকল পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি রইল মাতৃভাষা দিবসের রক্তিম শুভেচ্ছা।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare