জৈব কৃষি কি শতভাগ পরিবেশ বান্ধব?

 

মোঃ মামুন-উর-রশিদ

 

আমাদের প্রায় সকলেই একটি বিষয়ে একমত যে জৈব কৃষি (Organic agriculture) শতভাগ পরিবেশ বান্ধব। তবে ২০১৩ সালের মাঝামাঝি “Hydrology and Earth System Science” জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধ কিছুটা হলেও এ বিশ্বাসের ভিতকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ইসরাইলের একদল গবেষক তাদের গবেষণায় এটা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন যে, জৈব কৃষিও পরিবেশ দূষণে ভূমিকা রাখতে পারে।

জৈব কৃষি ভূগর্ভস্থিত পানি দুষণে প্রচলিত রাসায়নিক পদার্থ নির্ভর কৃষি অপেক্ষা বেশী ভূমিকা রাখে। গবেষণাটি ১০০ হেক্টরের গ্রীণহাউজে পরিচালিত হয়। জৈব সার হিসাবে তারা কম্পোস্ট এবং রাসায়নিক সার প্রয়োগের জন্য তারা সেচের পানি যাকে ইরেজিতে বলে Fertization পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এরপর তারা মাটির ২.৫ মিটার গভীরে ভূগর্ভস্থিত মাটিতে নাইট্রেটের (যে আকারে উদ্ভিদ মাটি থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে)  ঘনমাত্রা পরীক্ষা করেন।  মনে রাখা ভাল যে, ২.৫ মিটার গভীরতায় ফসলের মূল প্রবেশ করে না এবং এই নাইট্রেট চুয়ানীর মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানিতে মিশে পানিকে দূষিত করে। তারা লক্ষ্য করেন যে জৈব সার প্রয়োগকৃত জমির নিচের মাটিতে নাইট্রেটের ঘনত্ব রাসায়নিক সার প্রয়োগকৃত জমির নিচের মাটি অপেক্ষা অনেক বেশী। জৈব সার প্রয়োগকৃত জমির ২.৫ মিটার নিচে নাইট্রেটের সর্বোচ্চ ঘনমাত্রা ৭২৪ মিগ্রাঃ/লিটার এবং গড়ে ৩৫৭ মিগ্রাঃ/লি। অন্যদিকে, রাসায়নিক সার প্রয়োগকৃত জমির নিচের মাটিতে নাইট্রেটের গড় মাত্রা মাত্র ৩৮ মিগ্রাঃ/লিটার। তবে উপরের স্তরের মাটিতে অর্থাৎ সেখানে ফসলের মূল পৌছুঁতে পারে সেখানকার নাইট্রেটের ঘনত্ব আবার বিপরীত। এক্ষেত্রে কম্পোস্ট প্রয়োগকৃত জমিতে এ মাত্রা সেখানে ১০৯ মিগ্রাঃ/লিটার সেখানে, রাসায়নিক সার প্রয়োগকৃত জমিতে এ মাত্রা ২৭০ মিগ্রাঃ/লিটার।গবেষণা ফলাফল পর্যবেক্ষণ  করে তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন  যে, জৈব সার সাধারণত জমি তৈরীর সময় প্রয়োগ করা হয় ফলে সদ্য অঙ্কুরিত উদ্ভিদ বা ছোট ছোট চারারা অতিরিক্ত নাইট্রেট গ্রহণ করতে পারে না যা Leaching বা চুয়ানীর মাধ্যমে ভূগর্ভস্থিত পানিতে চলে যায়। অন্যদিকে রাসায়নিক সার উদ্ভিদের বৃদ্ধির সাথে সংঙ্গতি রেখে প্রয়োগ করা হয় ফলে উদ্ভিদের পক্ষে বেশীরভাগ নাইট্রেট গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
যাহোক, গবেষণার ফলাফল দেখে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হ্ওয়ার সুযোগ নেই যে জৈব কৃষি প্রচলিত রাসায়নিক পদার্থ নির্ভর কৃষি অপেক্ষা বেশী পরিবেশ দূষণ ঘটায়। কেননা বিভিন্ন রাসায়নিক সার এবং কীটনাশক জমিতে প্রয়োগের পর তা শুধু মাটিতেই যায় না বরং একটি উল্লেখযোগ্য অংশ গড়িয়ে আশেপাশের নদীনালা খালবিলে চলে যায়। অন্যদিকে, জৈব সার মাটিতে বায়ু এবং পানি চালাচল বৃদ্ধির পাশাপাশি মাটির অনুজীব বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। তবে, জৈব কৃষি শতভাগ পরিবেশ বান্ধব এ কথাটি হয়ত আর বলা যাবে না।

 

লেখক,

পিএইডি ফেলো ,
চায়না এগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি, বেইজিং। এবং সহকারী অধ্যাপক,
কৃষি সম্প্রসারণ ও গ্রামীণ উন্নয়ন বিভাগ,
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

 

 

কৃষি ও নারী

মো: ফরহাদ হোসেন
উপজেলা কৃষি অফিসার,
কাউখালী, পিরোজপুর।

 

আমরা নারী সবই করি, কৃষিও নয় বাদ
গবেষনাও করছি মোরা, আনছি নতুন জাত।
সম্প্রসারণ-কৃষি শিক্ষা, নেই কোথায় আজ মোরা
মোদের খ্যাতি দেশ ছাড়িয়ে,ভাসছে জগৎজোড়া।
চাষীর দোরে ,মাঠে ঘাটে, শুনাই  কৃষি বানী
জমিন থেকে একএক করে,ফসল তুলে আনি।
বীজ বাছাইয়ের কাজটিও ভাই,আমরা সদা করি
যতœ করে বীজ রুপে তা, পাত্রে  রাখি ভরি।
সব্জি করি উঠোন ভরে,ফল ফলাদি আরও
কৃষি ভিত্তিক শিল্প গড়ায়, খাটছে মাথা কারও।
গরু-ছাগল,হাস-মুরগী আর পুকুর ভরে মাছ
আমরা নারী সবই পালি,লাগাই আরও গাছ।
কৃষি করি চাষী রুপে, ফলাই ফসল কত?
কৃষি কর্মীর কাজ উপদেশ, দিচ্ছি অবিরত।
স্কুল কলেজ ভার্সিটিতে শিক্ষক হয়ে পড়াই
কৃষি জ্ঞান আলোর মত,সারা দেশে ছড়াই।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *