টাঙ্গাইলে সবজি চাষিরা হতাশ

এ কিউ রাসেল

টাঙ্গাইলে এ বছর শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হওয়ার পরও মাথায় হাত পরেছে সবজি চাষিদের। ন্যায্যমূল্য না পেয়ে তারা হতাশ। বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনে সবজি চাষিরা তাদের উৎপাদিত সবজি স্থানীয় ও দূরবর্তী বাাজরে বিক্রি করতে পারছেনা। অনেক কৃষকের সবজি ঘরেই পঁচে নষ্ট হচ্ছে। তার উপর এবার প্রত্যেক চাষিকেই শীতকালিন সবজি উৎপাদনে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মওসুমে জেলায় শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৮৮৪ হেক্টর জমিতে। গত ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবাদ করা হয়েছে ৯ হাজার ৯৩৭ হেক্টরে। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ তিন হাজার ৫৩১ টন। গত বছর  টাঙ্গাইলে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ১১ হাজার ১০৮ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয় ১০ হাজার ৮৭৩ হেক্টরে। বিপরীতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় দুই লাখ সাত হাজার ৭৩১ টন। আর উৎপাদন দাঁড়ায় দুই লাখ ৫২ হাজার ৭৫৫ টন। গত বছর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও এবার আবাদ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা দুটোই ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। শীতকালীন অর্থাৎ রবি মওসুমের মেয়াদ ১৬ অক্টোবর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত।

জেলায় সবজি চাষের একটি উল্লেযোগ্য এলাকা হচ্ছে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পাছ বিক্রমহাটি। পাছ বিক্রমহাটি ছাড়াও আশপাশের রাবনা, তাড়াবাড়ি, রসুলপুর, ভাটচান্দা ও সদুল্লাপুরে প্রচুর সবজির আবাদ হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে এখান থেকে সবজি কিনে নিয়ে যান। সবজি চাষির বলরাম সরকার প্রতি বছরের মতো এবারো ৯ বিঘা জমিতে সবজি আবাদ করেছেন। সবই ফুলকপি ও বাঁধাকপি। তবে ফুলকপিই বেশি। তিনি ওই দিন ৩০০ পিস ফুলকপি বিক্রি করেন। প্রতিটির ওজন গড়ে সোয়া কেজি। প্রতিটির দাম সাত টাকা। হতাশার সাথে তিনি জানান, গত বছর এ সময়ে এ মাপের একটি কপির দাম ছিল ১৮ টাকা। এ বছরও শুরুর দিকে এ আকারের একটি কপি বিক্রি হয়েছে কমপক্ষে ১৪-১৫ টাকায়।

বলরাম সরকার জানান, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বড় বড় ব্যবসায়ীরা এখান থেকে সবজি কিনে নিয়ে যান। কিন্তু এবার রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দূরের কোনো ব্যবসায়ী সবজি কিনতে আসতে পারছেন না। আবার পরিপক্ব সবজিতেও রাখা যায় না। এ জন্য বাধ্য হয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে অর্ধেকেরও কম দামে সবজি বিক্রি করতে হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে সবজি চাষিদের লোকসান গুনতে হবে। তিনি জানান, এবার সবজির দাম কম হলেও চাষাবাদে খরচ হয়েছে গতবারের চেয়ে বেশি।

পাছ বিক্রমহাটি গ্রামের সবজি চাষি মন্টু সরকার জানান, এখন সবজি (কপি) সংগ্রহের উপযুক্ত সময়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আবাদ হয়েছে বেশি। কিন্তু এবার দাম কমে গেছে অর্ধেকে। তিনি জানান, গত বছর এ সময় তে যে কপির দাম ছিল ২০ টাকা, এবার তার দাম ৮-১০ টাকা। গত বছর ২৫ শতাংশ জমির ফুলকপি বিক্রি করেন ৫০ হাজার টাকা। এবার ভালো ফলন হওয়ার পরও সমপরিমাণ জমির ফুলকপি বিক্রি করেছেন মাত্র ২৫ হাজার টাকা।

বলরাম সরকার ও মন্টু সরকারের মতো জামাল উদ্দিন, আবু হানিফসহ আরো অনেক সবজি চাষিই জানালেন তাদের হতাশার কথা। আবু হানিফ বলেন, গত বছর সবজির ভালো দাম পেয়েছিলাম। তাই এবার আরো বেশি জমিতে সবজির আবাদ করছি। ফলনও ভালো হয়েছে। কিন্তু তারপরও এবার লোকসান হলো।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আজিজ উল্ল্যাহ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সবজির বা¤পার ফলন হয়েছে। আবাদের পরিমাণ আরো বাড়বে। তবে এ বছর উৎপাদন বেশি হওয়ার জন্য আর পরিবহন সমস্যার কারণে সবজি দাম কিছুটা কমেছে।

 

লেখকঃ

গোপালপুর, টাঙ্গাইল।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare