দিনাজপুর জেলায় কলার আবাদ বাড়ছে

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুর জেলার তের উপজেলায় উচ্চ ফলনশীল কলার আবাদ বাড়ছে। অনেকে কলা আবাদ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে।

উচ্চফলনশীল কলা চাষে খরচ কম এবং লাভজনক। পরিচর্যায় শ্রম-সময় কম লাগে। ফলে জেলায় এ কলার আবাদ বাড়ছে। অনেক ভূমিহীন কৃষক জমি লিজ নিয়ে কলা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। জেলার তের উপজেলায় কলার আবাদ বেড়েছে। উচ্চফলনশীল জাত হিসেবে মেহের সাগর, সাগর, সবরি ও সুন্দরী (মালভোগ) জাতের চাষ বেশি হচ্ছে আর দেশী জাতের মধ্যে চিনিচম্পা। কলা আবাদ লাভবান হওয়ায় ভালো জাতের কলা উৎপাদনে চাষী ও ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতা বেড়েছে।

জেলার কাহারোল উপজেলায় দশমাইল মোড়, তের মাইল গড়েয়া, চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দরে কলা বিক্রির সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার গড়ে উঠেছে। এসব বাজারে দিনে ২০-২৫ ট্রাক কলা বিক্রি হয়। সদর উপজেলার বাহাদুর বাজার, এন এ মার্কেট, চক বাজার, শিকদার হাট, রেলবাজার এবং গোপালগঞ্জ বাজারেও কেনাবেচা হয়ে থাকে। জেলার উৎপাদিত কলা পাইকারি বাজারের মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছে।

কলাচাষী কুদ্দুস জানান, তিনি পর পর কয়েক বছর কলা চাষ করছেন। কলা চাষে স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করলে ভালো লাভ পাওয়া যায়। প্রতি একরে উৎপাদন খরচ পড়েছে গড়ে ৩৫ হাজার টাকা। বিক্রি হবে ৭০ হাজার টাকা। তিনি আরো জানান, তারা উৎপাদিত কলা মাঠ থেকে আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। ফলে বাজারজাত করার পরিবহন খরচ লাগছে না।

জেলার কৃষি সম্প্রসারণ পরিচালক মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, জেলায় চলতি বছরে ১ হাজার ১১৬ হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল কলার আবাদ হয়েছে।প্রতি একরে ৯০০ কাঁদি কলা পাওয়া যাবে।একর প্রতি উৎপাদন ব্যয় হয়েছে ৩৫-৪০ হাজার টাকা। প্রতি কাঁদি বিক্রি হবে ১০০-১২০ টাকা। প্রতি একরে উৎপাদিত কলা ৮০-৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হবে। তিনি আরো জানান, খরচের তুলনায় দ্বিগুণ আয় হওয়ায় জেলার চাষীরা কলা আবাদে ঝুঁকেছেন।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare