দেশী সবজি ও ফলের গুনাগুন

উম্মে নুসাইবা
রক্ত বাড়ায় কলার মোচা
সবজি বাজারে শোভা পাচ্ছে কলার মোচা৷ বর্তমান সবজিগুলোর মধ্যে দৃষ্টিনন্দন কলার মোচা আয়রণে ভরপুর৷ আয়রণ দেহে রক্ত বাড়ায়৷ রক্তের মূল উপাদান হিমোগ্লোবিনকে করে শক্তিশালী৷ ত্বক, চুল ভালো রাখতে এই সবজির আয়রণ রাখে গুরুত্বপূর্ণ অবদান৷ এতে ক্যালসিয়াম, আয়োডিন, ম্যাগনেশিয়ামের পরিমাণও রয়েছে যথেষ্ট৷ এই উপকরণগুলো দাঁতের গঠনেও রাখে অগ্রণী ভূমিকা৷ তবে কলার মোচা বেশি খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরি হয়৷ কলার মোচার খোসা খেতে হয় না৷ ভেতরের ফুলগুলো খেতে হয়৷ যেকোনো প্রকার রক্তশূন্যতার জন্য কলার মোচা ভীষণ জরুরি৷ এ ছাড়া এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’৷ রাতকানা রোগ আছে এমন শিশুদের জন্য কলার মোচা খুবই দরকারি৷ গর্ভস্থ শিশুর প্রায় ৭০ ভাগ মস্তিষ্কের গঠন মায়ের পেটে থাকাকালে হয়ে যায়৷ তাই যেসব মা কলার মোচা, কাঁচকলার তরকারি নিয়মিত খান, তাঁদের রক্তশূন্যতা সহজে আক্রমণ করে না৷ হাড়ের জটিল কোনো অপারেশনের পর বা প্লাস্টারের পর এই সবজির আয়রণ রক্ত বাড়াতে এবং হাড় দ্রুত শক্তিশালী হতে সাহায্য করে৷ মেনোপোজ হওয়া নারীদের হাড় শক্ত হওয়ার জন্যও দরকার এই সবজি৷ বয়স্ক নারী-পুরুষ ও বাড়ন্ত শিশু, খোলায়াড় বা যারা শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন তাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ এই সবজি৷ তাই টাটকা খাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ৷
উপকারী সবজি কচুর লতি
P1060469
এই মৌসুমের সবজি কচুর লতি৷ প্রচুর পরিমাণে আয়রণ রয়েছে এই সবজিতে৷ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে৷ গর্ভস্থ অবস্থা, খেলোয়াড়, বাড়ন্ত শিশু, কেমোথেরাপি দেওয়া হচ্ছে এমন রোগীদের জন্য কচুর লতি ভীষণ উপকারী৷ এতে ক্যালসিয়াম রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে৷ ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত করে ও চুলের ভংগুরতা রোধ করে৷ এই সবজিতে ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশের পরিমাণ খুব বেশি৷ এই আঁশ খাবার হজমে সাহায্য করে, দীর্ঘ বছরের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, যেকোনো বড় অপারেশনের পর খাবার হজমে উপকারী পথ্য হিসেবে কাজ করে এটি৷ দেহের বজর্্য বের করার জন্য চাপ দিলে যেকোনো অপারেশনের পর সেলাইয়ের স্থান দুর্বল হতে পারে৷ এর জন্য খেতে হবে প্রচুর পরিমাণে পানি, শাক-সবজি, বিশেষত কচুর লতি৷ তবে খেয়াল রাখুন যাদের কিডনিতে সমস্যা রয়েছে তারা চিকিত্‍সকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পান করবেন৷ বিশেষত যাদের কিডনিতে ডায়ালাইসিস হচ্ছে তারা পানি খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হবেন৷
ভিটামিন ‘সি’ও রয়েছে কচুর লতিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে, যা সংক্রামক রোগ থেকে আমাদের দূরে রাখে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে করে দ্বিগুণ শক্তিশালী৷ ভিটামিন ‘সি’ চর্মরোগের বিরুদ্ধে কাজ করে৷ কিছু পরিমাণ ভিটামিন ‘বি’ হাত, পা, মাথার উপরিভাগে গরম হয়ে যাওয়া, হাত-পায়ে ঝিঁ ঝিঁ ধরা বা অবশ ভাবএ সমস্যাগুলো দূর করে৷ মস্তিষ্কে সুষ্ঠুভাবে রক্ত চলাচলের জন্য ভিটামিন ‘বি’ ভীষণ জরুরি৷ এতে কোলেস্টেরল বা চর্বি নেয়৷ তাই ওজন কমানোর জন্য কচুর লতি খেতে বারণ নেই৷ খাবার হজমের পর বজর্্য দেহ থেকে সঠিকভাবে বের হতে সাহায্য করে৷ তাই কচুর লতি খেলে অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে খুব কম৷ আয়োডিনও বসতি গড়েছে কচুর লতিতে৷ আয়োডিন দাঁত, হাড় ও চুল মজবুত করে৷ অনেকেই কচুর লতি খান চিংড়ি মাছ দিয়ে৷ চিংড়ি মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে কোলেস্টেরল৷ তাই যারা হৃদরোগী, ডায়াবেটিস ও উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলজনিত সমস্যায় আক্রান্ত বা উচ্চ রক্তচাপে (হাই ব্লাড প্রেশারের) ভুগছেন তারা চিংড়ি মাছ শুঁটকি মাছ বর্জন করুন৷ ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, হাই ব্লাডপ্রেশার নিয়ন্ত্রণে থাকলে অল্প পরিমাণে চিংড়ি মাছ খেতে পারেন কচুর লতিতে৷ তবে মাসে এক দিন অবশ্য ছোট চিংড়ি মাছ দিয়ে খেতে পারেন৷ বড় চিংড়িতে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি, তাই পরিহার করা ভালো৷ কচুর লতি বাড়ায় না রক্তে চিনির মাত্রা৷ তাই ডায়াবেটিসের রোগীরা নিঃসংকোচে খেতে পারেন কচুর লতি৷ তবে কচুতে (যেটা মাটির নিচে থাকে) রয়েছে শর্করার পরিমাণ বেশি, যা ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য পরিমাণে অল্প খাওয়াই উচিত৷ মাটির নিচে জন্মানো সবজিতে শর্করা ও চিনির পরিমাণ বেশি থাকে৷ যেমন: আলু, গাজর, মুলা, ওল, মিষ্টি আলু, কচু ইত্যাদি৷ কিন্তু কচুর লতিতে চিনির পরিমাণ থাকে খুব সামান্য, তাই কচুর লতি সুস্থ-অসুস্থ সবাই খেতে পারে৷
সর্দি-কাশিতে আনারস
4_5115
আকাশভরা গনগনে রোদ৷ দুদণ্ড যেতে না যেতেই মেঘে মেঘে ছেয়ে যায় আকাশ৷ প্রবল বর্ষায় ডুবতে থাকে চরাচর৷ বছরের এই সময়ে এভাবেই রোদজলের খেলা চলে প্রতিদিন৷ আবহাওয়ার এই তারতম্যে তাই শরীরকে ক্ষণে ক্ষণে নতুন পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে হয়৷ দুর্বল শরীর সব সময় এই ধকল সহ্য করতে পারে না৷ তাই ছোটখাটো রোগবালাই লেগেই থাকে৷ এ দেশের মানুষ এ সময় সবচেয়ে বেশি ভোগে সর্দি-কাশিতে৷ খুব সাধারণ কিন্তু ভারি অস্বস্তিকর এই রোগের বিরুদ্ধে লড়তে হাতি-ঘোড়া মারার দরকার নেই৷ দরকার শুধু সচেতনতা৷ আর বিজ্ঞানীরাও দিয়েছেন জলবত তরলং এক সমাধান্ত পেট পুরে আনারস খান৷ সর্দি-কাশি একদমই পাত্তা পাবে না৷ এক গবেষণায় দেখা গেছে, আনারসের মধ্যে আছে একধরনের অ্যানজাইম, যা কাজ করে প্রদাহনাশক এবং মিউকোলাইটিক হিসেবে৷ যার জন্য সর্দি-কাশি, গলাব্যথায় আনারস এক মোক্ষম অস্ত্র৷ পৃথিবীজোড়া খ্যাতি আছে এই আনারসের৷ মেক্সিকানরা ব্রংকাইটিসে পথ্য হিসেবে খায় আনারস৷ আবার ভেনিজুয়েলার বাসিন্দারা গলাব্যথায় ওষুধের বিকল্প হিসেবে খায় আনারস৷ ব্রাজিলিয়ানরাও কিন্তু দারুণ ভক্ত এই আনারসের৷ নাক দিয়ে পানি গড়ালেই ফুটবলামুদে এই ব্রাজিলিয়ানরাও খেতে থাকে গাদা গাদা আনারস৷
—-০—-

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *