দেশের চামড়া শিল্পের চলমান সংকট

মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা সমাগত। দেশে প্রতিবছর এক কোটির কিছু বেশি পশু কোরবানি দেওয়া হয়। এর মধ্যে থাকে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ গরু কোরবানী করা হয়ে থাকে।  গড়ে তোলা হয়েছে পাঁচ লাখের বেশি খামার।  সূত্র মতে, কোরবানীর জন্য এবার দেশে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার গরু, মহিষ, ভেড়া ও ছাগল উৎপাদন করা হয়েছে।

দেশের অন্যতম রপ্তানি আয় আসে চামড়া শিল্প থেকে। চামড়া শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের অর্ধেক জোগান আসে কোরবানীর মৌসুমে। কোরবানীর পর সারা দেশ থেকে সংগ্রহকৃত কাঁচা চামড়া রাজধানীর বিভিন্ন আড়তে জমা হয়। পরে সেই চামড়া ট্যানারি মালিকরা কিনে প্রক্রিয়াজাত করে থাকেন। কিন্তু চামড়া শিল্পনগরীর রাস্তাঘাট ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় এবার কাঁচা চামড়াবাহী গাড়ি বিকল হয়ে এগুলো নষ্ট হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। সম্প্রতি কোরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহ, পরিবহন ও সংরক্ষণ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) নেতারা এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। বিএফএলএলএফই-এর চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন জানান, কোরবানি ঈদের সময় কাঁচা চামড়াবাহী ট্রাক পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভাঙা সড়কে ট্রাক আটকে গেলে ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হবে। এতে  ট্রাকভর্তি চামড়া পচন ধরতে পারে, যা জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার কাঁচা চামড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর হাজারীবাগে নিয়ে আসেন। তবে এবার হাজারীবাগে কাঁচা চামড়া প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আছে। ভাঙা রাস্তাঘাটের জন্য হেমায়েতপুরে চামড়া নিয়ে যাওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থায় এবার কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, পরিবহন ও সংরক্ষণের ব্যাপারে প্রচণ্ড অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

তাছাড়া হাজারীবাগের সব ট্যানারি সাভারে স্থানান্তর করা হয়নি। ইতিমধ্যে ১৫৫ টি ট্যানারির মধ্যে মাত্র ৬৭ টি পুরোদমে উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে। বাকি ট্যানারিগুলো এখনো উপযুক্তভাবে গড়ে উঠতে পারেনি। চামড়া শিল্পনগরীর সব কারখানায় গ্যাস সংযোগ থেকে শুরু করে অন্যান্য সুবিধা দেওয়া না হলে সংকট আরো বেড়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় চলতি বছরে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে কি না সে আশংকা থেকেই যাচ্ছে। চলতি বছর ৩১ কোটি ৫০ লাখ বর্গফুট চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তর থেকে চামড়া কিনতে স্থানীয় ট্যানারিগুলো ব্যর্থ হলে চামড়া দেশের বাহিরে পাচার হয়ে যেতে পারে বলে আশংকাও রয়েছে।

পরিশেষে, দেশের অন্যতম আয়ের এ চামড়া শিল্প যাতে কোন ভাবে বাধাগ্রস্থ না হয় সেজন্য সরকারি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে যথাযথ নজর দিতে হবে। এছাড়া কোরবানির ঈদের সময় চামড়া কেনার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে চামড়া সংগ্রহের প্রবাহ যাতে বাড়ানো যায়।

২. মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা সমাগত। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে এগিয়ে যেতে হবে আগামীর পথ ধরে। আমাদের সকল পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা তথা শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি ঈদুল আযহার অগ্রীম শুভেচ্ছা রইল।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare