নিরাপদ মৎস্য উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণঃ স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ ও করণীয়

ড. মোঃ মুনিরুজ্জামান

(পূর্ব প্রকাশের পর)

 

BAU Gang magur

*             অভ্যন্তরীণ বাজারে মৎস্য ও মৎস্য পণ্য বাজারজাত করতে ও আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানীর ক্ষেত্রে মৎস্য ও মৎস্য পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০০৮ (সংশোধিত) অবশ্যই মেনে চলতে হবে। মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় বিধি ৫(২) ১৫ (১) অনুযায়ী  অনেকগুলো সুবিধা বিদ্যমান থাকা প্রয়োজন। নি¤েœ  কিছু সুবিধাবলী উল্লেখ করা হলো :

*             কারখানার মেঝে মসৃণ, পানি নিরোধক এবং ঢালু হতে হবে।

*             স্বাস্থ্যসম্মত নিষ্কাশন ব্যবস্থা  থাকতে হবে।

*             কারখানার ভিতরের দেওয়াল মেঝে হতে কমপক্ষে ১.৮ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত মসৃণ, পানি নিরোধক ও হালকা রংয়ের হতে হবে।

*             কারখানার ভিতরের ছাদের উচ্চতা এমন হতে হবে যেন ছাদের নিচে সহজে চলাফেরা ও কাজ করা যায় এবং মেঝের সঙ্গে দেওয়ালের, দেওয়ালের সঙ্গে দেওয়ালের এবং দেওয়ালের সঙ্গে ছাদের সংযোগস্থলসমূহ অধিবৃত্তাকার হতে হবে।

*             জানালা এবং অন্যান্য খোলা অংশ সমূহ এমনভাবে নির্মিত হতে হবে যেন কারখানায় ধূলা-বালি ঢুকতে না পারে এবং ঐগুলো কীট-পতঙ্গ রোধক জাল দ্বারা আচ্ছাদিত হতে হবে।

*             দরজা মসৃণ, অশোষক, স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হওয়ার ব্যবস্থা সম্পন্ন এবং কীট-পতঙ্গ রোধক জাল দ্বারা আচ্ছাদিত হতে হবে।

*             প্রক্রিয়াজাকরণ এলাকার প্রবেশ পথে হাত ধৌত করার বেসিন এবং উপযুক্ত পরিস্কারক ও জীবাণুনাশক দ্রব্যাদির সংস্থান থাকতে হবে।

*             প্রক্রিয়াজাকরণ এলাকার প্রবেশ পথে পাদুকার তলদেশ জীবাণুমুক্ত করার জন্য জীবাণুনাশক তরল পদার্থের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

*             কারখানার কর্মীদের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার এবং  শৌচাগারের প্রবেশ পথের নিকট হাত ধৌত করার বেসিন এবং উপযুক্ত পরিস্কারক ও জীবাণুনাশক দ্রব্যাদির সংস্থান থাকতে হবে।

*             কর্মীদের পোষাক-পরিচ্ছেদ পরিবর্তনের জন্য কারখানার সন্নিকটে বা প্রবেশ পথে প্রয়োজনীয় স্থান ও সুবিধা থাকতে হবে এবং উক্ত স্থান প্রক্রিয়াজাকরণ এলাকা হতে আলাদা হতে হবে।

*             শেলফিশ এবং ক্রাশ্টাশিয়ান ব্যতীত অন্যান্য মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণে তার-জাল সম্বলিত পাত্র ব্যবহার করা যাবে না।

*             প্রক্রিয়াজাতকরণে এনামেল বা গ্যালভানাইজড পাত্র ব্যবহার করা যাবে না।

*             প্রত্যক হিমাগারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাপমাত্রা রেকর্ড করা যায় এমন তাপমাত্রামাপক যন্ত্র থাকতে হবে।

*             হিমাগারের তাপমাত্রা স্থিরভাবে -১৮ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড থেকে -২৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড বা তার নি¤েœ রাখার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

*             চিল রুমের তাপমাত্রা ০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড থেকে ৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডের মধ্যে রাখার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

*               বরফ মজুদ কক্ষের  তাপমাত্রা ০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডের মধ্যে রাখার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

উপসংহার

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী পণ্য হলো মৎস্য ও চিংড়ি। মাছ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদেয় খাদ্য উপাদান এবং অথচ পচনশীল। চাষ ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ও উপযুক্ত পরিচর্যার অভাবে মাছ ও চিংড়ি জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত বা দূষণযুক্ত হতে পারে। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষার্থে এর সঠিক গুণগতমান বজায় রাখা প্রয়োজন। মৎস্য বিশেষ করে চিংড়ির ক্ষেত্রে সরবরাহ বা বিপণন ব্যবস্থাকে সরলীকরন করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সুফলভোগীদেরকে বিভিন্ন আইন ও বিধিমালা এবং জিএপি ও হ্যাসাপ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং এগুলোর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ মৎস্য ও চিংড়ি উৎপাদনের স্বার্থে ব্যাপক প্রচারণা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়নের নিমিত্ত মৎস্য অধিদপ্তর কর্ত”ক প্রকল্প গ্রহণ করা যেতে পারে। এর জন্য সরকারের পাশাপশি সংশ্লিষ্ট  সুফলভোগীদের এবং বেসরকারী সংস্থাসমূহকেও এগিয়ে আসতে হবে।

————————————–

লেখকঃ

সিনিয়র সহকারী পরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তর, জেলা মৎস্য দপ্তর, মুন্সীগঞ্জ।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare