পটল চাষ করে পারুল আক্তার অভাব দূর করেছে

কৃষিবিদ ফরহাদ আহাম্মেদ
পারুল আক্তারের নাম এখন আর গ্রামে কারও নিকট অজানা নেই৷ স্বামী আর চার ছেলে নিয়ে তার সংসার ৷ সংসার যে খুব বেশি স্বচ্ছল৷ সে ও তার ছেলে মহর এবার ২৬ শতাংশ জমিতে বিষমুক্ত পটল চাষ করে বাম্পার ফলন ফলিয়েছে৷ পারুল ঢাকার ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের ফুকুটিয়া গ্রামের ফালু মিয়ার স্ত্রী ৷ ফালু মিয়া বাজারে তাদের উত্‍পাদিত সবজি বিক্রি করে৷ বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এস ডি আই তাদের দুজনকেই বিষমুক্ত সবজি উত্‍পাদন ও বাজারজাতকরণ-এর উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে৷ তারা দুজনেই বিষমুক্ত সবজি চাষের কলাকৌশল রপ্ত করে নিয়েছে৷ তারা শত্রু পোকা, বন্ধু পোকা চিনে৷ তারা জানে জমিতে বিষ (কীটনাশক) প্রয়োগ করলে শত্রু পোকার সাথে সাথে বন্ধু পোকাও মারা যায়৷ এজন্য তারা আর জমিতে বিষ প্রয়োগ করতে রাজি নয়৷ তারা বিষমুক্ত সবজি চাষের কলাকৌশল পূর্বে জানত না৷ এস ডি আই থেকে তারা এ বিষয়গুলো প্রথম শুনেছে৷ এবার তারা এ প্রতিষ্ঠান থেকে সেঙ্ ফেরেমেন ফাঁদ, উপকারী পোকা হিসাবে ব্রাকন পোকা , ট্রাইকোগামা পোকা নিয়ে পটলের জমিতে প্রয়োগ করেছে৷ফলে জমিতে একটি পোকাও আক্রমণ করেনি৷ এবার পটল চাষ করে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা লাভ করেছে৷ যা পূর্বে কখনও পায়নি৷ বিষমুক্ত পটল বলে তাদের পটলের অনেক কদর রয়েছে বাজারে ৷ এভাবে আরও মাস দুয়েক লাভ করার আশা করছে ফালু মিয়া৷ পারুল বলেছেন “বাইচা থাকতে কোন দিনও বিষ দিয়া পোকা মারুম না, এগুলো খুব খারাপ৷” কথাগুলো বলতে গিয়ে কেন জানি ফালুর স্ত্রী আবেগপ্রবণ হয়ে গিয়েছিল৷ বলছিলেন “একদিন বিষ প্রয়োগের পর তার ছেলেও অসুস্থ হয়ে পড়েছিল৷ যেদিন আমার ছেলে জমিতে বিষ দিত সেদিন ভালভাবে সে ঘুমাতে পারত না , খেতে পারত না, বমি করতে চাইতো ৷ আর এবার কোন সমস্যাই হয় নাই্ ৷ এবার আমি ও আমার ছেলে মহর সকল কাজ করেছি৷ কেউ অসুস্থ হই নাই৷ এই ফাঁদ আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে দিয়েছে৷” তার জমি দেখার জন্য বিভিন্ন গ্রাম থেকে কৃষক ও এনজিও প্রতিনিধি আসে বিষমুক্ত সবজি চাষের কৌশল দেখার জন্য৷ সে অন্যান্য কৃষকদেরকে প্রত্যেকটি বিষয় তার সাধ্যমত বুঝিয়ে দেয়৷ এ প্রকল্পে এর কৃষি সমন্বয়কারী এস এম আওলাদ হোসেন জানান, প্রকল্পের আওতাধীনে বিভিন্ন গ্রামের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২০০ জন চাষির মধ্যে ফুকুটিয়া গ্রামেরই ৪৯ জন চাষি বিষমুক্ত সবজি চাষ ও বাজারজাতকরণ করছে৷ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তিনি জানান এসডিআই একটি ব্যতিক্রমধর্মী উন্নয়নমূলক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, যার মূল লক্ষ্য হলো উন্নত কৃষি প্রযুক্তি দানের মাধ্যমে কৃষকদের জীবনযাত্রার মানোন্বয়ন করা৷ আশা করছি এর মাধ্যমে দেশের সকল মানুষ রোগমুক্ত জীবন লাভ করবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য ও জীব বৈচিত্র রক্ষা পাবে ৷”
এসডিআই এর প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ কামরুজ্জামান বলেন “বিষমুক্ত সবজি উত্‍পাদন করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে,কাজেই তাদের এ সাফল্যকে ধরে রাখার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নেয়া হচ্ছে৷ অদূর ভবিষ্যতে আমরা একে বাস্তবে রূপ দিতে পারব৷ এর মাধ্যমে কৃষক ও দেশের সকল পর্যায়ের ব্যবসায়ী ও ভোক্তা লাভবান হবে৷”

লেখক: কৃষি সাংবাদিক
সহকারী অধ্যাপক, শহীদ জিয়া মহিলা কলেজ, ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল৷ মোবাইল: ০১৭১১-৯৫৪১৪৩

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *