পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পেয়ারার নতুন রোগ সনাক্ত

মোঃ ইমরুল কায়েস

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে পেয়ারার এক ধরণের পচা রোগ সনাক্ত করেছে বিশ^বিদ্যালয়টির একদল গবেষক। গবেষকরা বলছেন, প্রথমে পেয়ারার গায়ে সাদা এক ধরণের ছত্রাক দিয়ে লক্ষণ শুরু হলেও পরে পেয়ারার দ্রুত পচন বাড়তে থাকে এবং গাছের সকল পেয়ারা নিচে ঝরে পড়ে। গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক জেহাদ পারভেজ বলেন, পটুয়খালী জেলার দুমকি উপজেলাধীন শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন পেয়ারা গাছে ২০১৭ সালের বর্ষা মৌসুমে এক নতুন ধরণের রোগের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যায়। এই রোগটি বর্ষা মৌসুমে বেশি দেখা যায়। ফলে হুমকির মুখে পড়ে যায় পেয়ারার চাষ। তিনি আরো বলেন, তার নেতৃত্বে উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ শহিদুল ইসলাম, কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের ড. নেছার উদ্দিন আহমেদ ও শিক্ষার্থী মোঃ রুবেল মাসুদ ও শাহ আলম সহ পাঁচজনের একটি গবেষক দল রোগটির কারন অনুসন্ধানের জন্য গাছের আক্রান্ত ফল সংগ্রহ করে বিভাগীয় গবেষণাগারে ২০১৭ সালের জুন মাস থেকে ২০১৮ সাল পর্য়ন্ত গবেষণা চালিয়ে রোগটির কারন হিসেবে Phytophthora fruit rot  নামক এক ধরণের ছত্রাক চিহ্নিত করেন। রোগটি হচ্ছে ফাইটোফথোরা ছত্রাক জনিত রোগ। ছত্রাকটির বৈজ্ঞানিক নাম Phytohpthora nicotianae। ভারতে এই রোগটি ২০০৭ সালে প্রথম পরিলক্ষিত হয়। তিনি আরো বলেন, জুন থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে  গাছের পরিপক্ক ফলে রোগটি আক্রান্ত করে। বাতাসে আর্দ্রতা খুব বেশী থাকলে ৩/৪ দিনের মধ্যে সংক্রমিত পেয়ারার পুরো পৃষ্ঠ ছত্রাকের সাদা মাইসেলিয়ম দ্বারা আবৃত হয়ে যায়। বেশিরভাগ আক্রান্ত ফল মাটিতে ঝরে পড়ে। ঘন পাতা দিয়ে আবৃত ফলগুলো দ্রুত আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশী পরিলক্ষিত হয়। সাদা মাইসেলিয়াম দ্বারা আবৃত ফলের ভিতরের টিস্যু নরম হয়ে যায় এবং রং পরিবর্তন হয়।

আর্দ্র আবহাওয়া, তাপমাত্রা ২৮-৩২০ সে., ঘনভাবে গাছ লাগানো, দূর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ফলে ক্ষত তৈরী হওয়া রোগের অনুকূল অবস্থা। বৃষ্টিচ্ছটায় ছত্রাক স্পোর ছড়িয়ে পড়ে রোগটির বিস্তার ঘটায়। মাটিতে স্পোর হিসেবে এক মৌসুম  থেকে অন্য মৌসুম  পর্যন্ত ছত্রাকটি বেঁচে থাকে।

গবেষক জেহাদ পারভেজ বলেন, পেয়ারার চাহিদা দেশে এবং বিদেশেও অনেক। ফলে এর চাষ আমাদের দেশে বেড়ে চলছে। এর রপ্তানির সম্ভাবনাও অনেক। আমাদের গবেষক দল বাংলাদেশে এই প্রথম ছত্রাকের নরম পচা রোগটির সন্ধান পেল। রোগটি অনুকূল আবহাওয়ায় মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে। রোগটি এক পর্যায়ে পুরো গাছের সব পেয়ারা সংক্রমিত করে। এতে পেয়ারা চাষের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। পরবর্তীতে রোগটি কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এ বিষয়ে আমাদের গবেষণা করার পরিকল্পনা আছে। তা না হলে একটি সম্ভাবনাময় ফসলের চাষ শুরুতেই চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি আরো বলেন, এখন আমাদের একটাই টার্গেট Phytophthora fruit rot  নামক এক ধরনের ছত্রাক নিয়ে মলিকুলার লেভেলে কাজ করা এবং এর দ্বরা ঘটিত রোগের উপযোগী দমন ব্যবস্থা বের করা।

পেয়ারা এ অঞ্চলের একটি সম্ভাবনাময় ফল। বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর জেলায় পেয়ারা বাণিজ্যিকভাবে চাষ বেশি হয়। সারা বছর চাষ হলেও জুনের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবর এর মাঝামাঝি পর্যন্ত বেশি উৎপাদিত হয়।

————————————–

লেখকঃ পবিপ্রবি প্রতিনিধি, দুমকি, পটুয়াখালী। মোবাইলঃ ০১৭০৭৬৩২৮৫২

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare