পিপিআরঃ ছাগল উৎপাদনে  প্রধান বাধা

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান

 

বাংলাদেশে ছগলের ভয়াবহ রোগের মধ্যে অন্যতম পিপিআর। এটি ভাইরাস জনিত একটি সংক্রমক রোগ। দেশের ছাগলের রোগের মধ্যে প্রায় ৫০-৯০% ই দখল করে রেখেছে এই ঘাতক পিপিআর।   ছাগল পালন কে ব্যাহত করছে এই রোগটি। দেশের ছাগল এর উৎপাদনকে ক্ষতির মধ্যে রাখছে এটি। একে আরো কিছু নামে অভিহিত করা হয়। তার মধ্যে গট প্লেগ (মড়ধঃ ঢ়ষধঁমব), সিউডো রিন্ডারপেস্ট অব স্মল রুমিনান্টস  কাটা  প্রভৃতি অন্যতম ।

পিপি আর এর পুরো নাম হল Peste des petits Ruminans। প্যারামিক্সোভিরিডি গোত্রের মরবিলি গণের একটি অন্যতম ভাইরাস এই রোগ সৃষ্টির জন্যে দায়ী। ছাগলের খুব পরিচিত এই রোগটি। প্রায় সব বয়সের ছাগলের জন্যে এটি ক্ষতিকর ।

যেভাবে ছড়ায় :

১। ভাইরাস যুক্ত বাতাস শ্বাসপ্রশ্বাস এর মাধ্যমে প্রবেশ করলে।

২। নাকের নিঃসরণ এর মাধ্যমে একজন প্রাণী হতে অন্য প্রাণীতে।

৩। খাবার ও পানিত দুষিত হলেও এই রোগ ছড়াতে পারে।

লক্ষণঃ যে লক্ষণ সমষ্টি দেখে সহজে চেনা যায় তার মধ্যে।

ক) ছাগলের দেহের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় প্রায় ১০৪-১০৪০ ফা (৪০-৪১) সে:।

খ) আক্রান্ত পশু তার শরীর এলিয়ে যায়, দেখেই মনে হয় অসুস্থ, দেহের চামড়া শুকিয়ে যায়, মাজল শুকিয়ে যায়।

গ) পশুর খাবার চাহিদা কমে যায়।

ঘ)জ্বর বাড়ার সাথে সাথে নাক দিয়ে পুঁজ মত পানি নিঃসৃত হয়, আস্তে আস্তে সেই পানির ঘনত্ব বাড়তে থাকে।

ঙ) নাকের ভিতর শক্ত আবরণ দেখা যায়। যার ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট অনুভব করে।

চ) চোখের কনজাংটিভা লাল হয়ে যায়।

ছ) দাতের মাড়িতে ঘা সৃস্টি হয়, যা পরবর্তিতে শক্ত আকার ধারণ করে। ফলে ছাগল তেমন খেতে পারে না।

জ) পরবর্তি বংকনিয়মনিয়া সৃষ্ট হয়। যার ফলে ছাগল হাঁপাতে থাকে।

ঝ) গর্ভবতী ছাগলের গর্ভপাত হয়ে যায়।

পর্যবেক্ষনঃ লক্ষণ দেখে চিকিৎসক বুঝতে পারেন। অতিরিক্ত প্রয়োজন হলে এলাইজা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হন।

চিকিৎসাঃ যদিও তেমন সস্তোষজনক চিকিৎসা নেই এই রোগের। তার পরেও লক্ষণ দেখে চিকিৎসা দিয়ে এর মৃত্যুহার অনেকটা কমিয়ে আনা যায়।

ক) কিছু এন্টিবায়োটিক দেয়া হয় যেমন, টেট্রাসাইক্লিন, আমক্সোসিলিন ইত্যাদি (চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে)।

খ) ছাগলের অস্থিরতা কমানোর জন্যে এস্ট্রিনজেন্ট গ্রুপের ওষুধ।

গ) হিস্টামিনের নিঃসরণ কমানোর জন্যে এ্যন্টিহিস্টামিন ।

ঘ) পানির ঘাটতি পুরণের জন্যে ইলেকট্রলাইট দেয়া যেতে পারে ।

প্রতিকারঃ কথায় আছে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। বর্তমানে বায়সিকিউরিটি মেনে এবং পিপিআর ভ্যাকসিন করে এর প্রাদুর্ভাব অনেকটায় কমানো যায়। প্রাণী সম্পদ অফিসে বর্তমানে খুব সহজেই পিপি- আর ভ্যাকসিন পাওয়া যায়।

 

লেখকঃ

শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক

ভেটেরিনারী অনুষদ, হাবিপ্রবি, দিনাজপুর

মোবাইলঃ ০১৭২৩৭৮৬৮৭৭

 

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *