পুষ্টিকর ফলঃ কলা

ড. সালমা লাইজু

 

কলা একটি সুস্বাধু পুষ্টিকর ফল, বড় আকৃতি হার্ব জাতীয় গাছে কলা ধরে থাকে। কলার উৎপত্তি স্থল দক্ষিণ আফ্রিকা। বিভিন্ন স্বাদ, বিভিন্ন বর্ণ এবং সুগন্ধের কলা পাওয়া যায়। কলা বীজযুক্ত, সামান্য বীজযুক্ত ও বীজহীন হয়ে থাকে। পৃথিবীতে প্রায় ৭০ জাতের কলা পাওয়া গেছে এবং ১০৭ টি দেশে কলা উৎপাদন হয়ে থাকে। একটি কলায় ৫০-১২৫ গ্রাম ওজনে হয়ে থাকে এবং এতে ৭৫% পানি ২৫% শূস্ক পদার্থ থাকে। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া এবং পাপুয়া নিউগিনির চাষিরা প্রথম কলার চাষ করে থাকেন। সময়ে এটি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিস্তার লাভ করে। ভারত পৃথিবীর মধ্যে শীর্ষ স্থানীয় কলা উৎপাদনকারি দেশ। কলা একটি আকর্ষণ খাবার, কলা বিষন্নতা দূর করে, আপনাকে স্মার্ট বানায়, সকালের আলসেমী দূর করে, কিডনী ব্যথা, ডায়বেটিস, অস্টিওপরোসিস এবং অন্ধাত্ব রক্ষা করে। একটি মশা কামড় দিলে কলার প্রলেপ উপকারী।

কলার ২৫টি উপাকারিতাঃ

১। ফুরফুরে মেজাজ মস্তিস্কের নিউরোট্রাস মিটার উন্নত করে, কলার পুষ্টি উপাদান সোরোটিানিন রুপান্তরিত হয় যা ট্রিপটোফেন উৎপন্ন করে যা বিষন্নতা রোধ করে।

২। দৈনিক দুটি কলা আপনার শরীরের শর্করা বজায় রাখে।

৩। প্র¯্রাব পায়খানার সময় শরীর থেকে যে ক্যালসিয়াম বের হয় কলা সেটি পূরুণ করে, হাড়কে শক্তিশালী করে।

৪।  উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন বি-৬ থাকার ফলে কলা ডায়বেটিস বিরুদ্ধে  প্রতিরোধ গড়ে তোলে। ¯œায়ুতন্ত্রের মজবুত করে, রক্তের শ্বেত রক্ত কনিকা উৎপাদনে সাহায্য করে এবং বাড়তি ওজন কমায়, শরীরের ফোলা ভাব দূর করে।

৫। কলায় ভিটামিন-কে এবং কম পরিমাণ লবন রয়েছে যা হাইপ্রেসার, হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি কমায় ও স্ট্রোকের বিরুদ্ধে কাজ করে। কলায় আয়রন অ্যানিমিয়া দূর করে কলাতে প্রচুর সোডিয়াম থাকে।

৬। খাবারের পর একটি কলা খেলে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক থাকে, সকালের অসুস্থতা এবং বমি বমি ভাব দূর করে।

৭। কলার খোসা দিয়ে ঘষে আচিল সারিয়ে তোলা সম্ভব।

৮। কলার খোসা একটি কাপড়ে পুটলি বেধে চামড়ার ব্যাগে ঘষলে সেটি দ্রুত উজ্জল হয়ে উঠবে।

৯। কলা ক্রনিক রোগ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে, উচ্চ মাত্রার অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকার জন্য ।

১০। কলাতে প্রচুর ভিটামিন-কে থাকার কারণে পরীক্ষার আগে একটি কলা খান আপনার ব্রেন ভাল কাজ করবে।

১১। উচ্চ মাত্রায় ট্রিপটোফেন থাকার জন্য কলা মানসিক অবসন্নতা দূর করে। যা স্টোরিওনিনে পরিবর্তিত হয়ে ব্রেনের নাভ মিস্টেমকে শক্তিশালী করে।

১২। কোন ভারী পরিশ্রমের কাজ করার পূর্বে ২ টি কলা খেলে আপনার শরীরের রক্তের সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে আপনার কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

১৩। কলাতে রয়েছে প্রচুর পেকটিন যা হজমে সাহায্য করে এবং শরীর থেকে বিষাক্ত দ্রব্য ও ভারী ধাতু বের করে দেয়।

১৪। কলা পাকস্থলীতে প্রিবায়োটিক হিসাবে কাজ করে যা হজমে সাহয্য করে, এমন ব্যাক্টেরিয়ার উৎপাদনের অনুকূল পরিবেশ তৈরী করে। এই হজমে সহায়ক এনজাইম পুষ্টি শোষণে সাহায্য করে।

১৫। কলাতে রয়েছে প্রচুর অ্যাশ যা কোষ্টকাঠিন্য দূর করে পাকস্থলীকে সুস্থ রাখে।

১৬। ডায়রিয়ার পর শরীর থেকে যে ইলেট্রোলাইট বের হয়ে যায় কলা তা পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে।

১৭। কলা প্রাকৃতিক এন্টাসিড।

১৮। কলা পেটের আলসাররের উপর প্রলেপ এবং কোটিং তৈরীর কাজ করে, করোসিভ এসিড থেকে রক্ষা করে।

১৯। কলা কিডনী ক্যান্সার থেকে বাঁচায়, চোখ ভাল রাখে, শরীরের মাংস পেশীকে মজবুত রাখে এবং ক্যালসিয়াম শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে হাড়কে শক্তিশালী করে।

২০। কলা প্রচন্ড গরম থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

২১। প্রচুর মুক্ত আয়ন থাকার জন্য কলা ক্রনিক রোগ থেকে রক্ষা করে।

২২। কলাতে প্রচুর পটাশিয়াম, ভিটামিন-বি এবং ম্যাগনেসিয়াম থাকার ফলে আপনার চরিত্রের দৃঢ়তা প্রদান করে।

প্রতিদিন প্রত্যেক মানুষের ২টি করে কলা খাওয়া প্রয়োজন। বসতবাড়ির আশে-পাশে, রাস্তার ধারে কলা চাষ করে কলার উৎপাদন বৃদ্ধি করার সুযোগ আছে। নিয়মিত কলা খেয়ে আমারা মেধাবী জাতি হিসাবে গড়ে উঠতে পারি অবশ্য সেই কলা হতে হবে কার্বাইড মুক্ত কীটনাশক মুক্ত।

————————————–

লেখকঃ

অতিরিক্ত উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নেত্রকোনা।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *