পুষ্টির প্রাকৃতিক উৎস

শাহনাজ বেগম

পুষ্টির প্রাকৃতিক উৎস

বিভিন্ন প্রকার খাদ্যবস্তুর সমন্বয়ে প্রস্তুত যে আহার্যে ক্যালরি, প্রোটিন, মিনারেল, ভিটামিন ইত্যাদি খাদ্যউপাদানগুলি দেহের চাহিদা অনুযায়ী থাকে; তাকে সুষম খাদ্য বা ইধষধহপবফ ফরবঃ বলে। সুস্থ দেহের জন্য আমাদেরকে অবশ্যই সুষম খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন খাদ্যের সমাবেশে প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান যোগানোই সুষম খাদ্য প্রস্তুতের উদ্দেশ্য। সুষম খাদ্য প্রস্তুত করতে আমাদেরকে তাই বিভিন্ন খাদ্য উপাদানগুলোর উৎস সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে

বিভিন্ন প্রকার খাদ্য উপাদানের উৎস

শর্করা/Carbohydrate: চিনি, মধু, গুড়, মিষ্টি ফল, চাল, আটা, ময়দা, আলুু, বিভিন্ন প্রকার সবজি ও ফলের আঁশ।

 

আমিষ / Protein: ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, ডাল, বীচি, তৈলবীজ, বাদাম ইত্যাদি।

চর্বি / Fat: উদ্ভিজ্জ তেল, ঘি, মাখন, মাছ/মাংসের চর্বি বা তেল ইত্যাদি।

মাল্টি ভিটামিন হিসাবে আমাদের যে উপাদানগুলো প্রয়োজন তার প্রাকৃতিক উৎস :

ভিটামিন A : কলিজা, ডিমের কুসুম, মাখন, পনির ননীযুক্ত দুধ, মাছ, গাঢ় লাল/ কমলা/ সবুজ ফল ও শাক-সবজি ইত্যাদি। এছাড়াও ডালডা, মার্জারিন, দুধেও কৃত্রিম ভাবে ভিটামিন অ সংযুক্ত করা হয়।

ভিটামিন D : সূর্যের আলো থেকে আমাদের চামড়ায় প্রাকৃতিক ভাবেই ভিটামিন উ তৈরী হয়। মাছের যকৃত, তেল, ঘি, ডিমের কুসুম, কলিজা, মাখন, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার এগুলো ভিটামিন উএর উৎস। এছাড়াও কৃত্রিম ভাবে শিশু খাদ্যে (দুধে) সংযুক্ত করা হয়।

ভিটামিন E : উদ্ভিজ্জ তৈল, ফল সবুজ সবজি, শস্য, ডিমের কুসুম, মাছ, মাংস, দুধ।

ভিটামিন K : টাটকা সবুজ সবজি, শস্য, ফল, মাছ, মাংস ইত্যাদি (এছাড়াও আমাদের অন্ত্রে এটি তৈরি হয়)।

ভিটামিন C : সতেজ সবুজ সবজি, ফল, আলু, টকজাতীয় ফল ইত্যাদি। শস্য ও ডাল বীচি জাতীয় খাবারে ঠরঃ ঈ থাকে না। তবে ৪৮ ঘন্টা (৩দিন) ভিজিয়ে রাখার পর অঙ্কুরোদগমের সময় ঠরঃ ঈ ভালো পরিমানে পাওয়া যায়।

 

ভিটামিন B1 : ঢেকি ছাটা চালে বেশি পাওয়া যায়। এছাড়াও ডাল, বাদাম জাতীয় খাদ্য ইত্যাদি।

ভিটামিন B2: দুধ, মাংস, কলিজা, দুধ, ফুসফুস/ গুর্দা ইত্যাদি। ফল ও সবজিতে অল্প ভিটামিন ই২পাওয়া যায়।

ভিটামিন B6 : ডিমের কুসুম, মাংস, মাছ, কলিজা, দুধ, আস্ত দানা শস্য, বাধা কপি এবং সবুজ সবজিতে পাওয়া যায়।

মোটামুটি সকল খাদ্যবস্তুর কোষে পাওয়া যায় বিশেষত শস্য ও মাংসে পাওয়া যায়। এছাড়াও কলিজা, ফুসফুস/ গুর্দা, মাছ, দুধ ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।

ভিটামিন ই১২ : দুধ, পনির, ডিম, কলিজা, এবং শাকসবজি।

Pantothemic acid : কলিজা, ফুসফুস/ গুর্দা, প্লীহা ইত্যাদিতে বেশি পাওয়া যায়।

ঈযড়ষরহব, ওহড়ংরঃড়ষ, ইরড়ঃরহ : ডিমের কুসুম, গম বীজ, কলিজা, মগজ, বৃক্ক, ফুসফুস/ গুর্দা, মাংস, সয়াবিন, বাদাম, ননীবিহীন দুধ ইত্যাদি কোলিনের উৎস। ডিমের সাদা অংশে থাকে বায়োটিন এবং কোলষ্ট্রামে Inositol পাওয়া যায়।

Bioflavonoid : টকজাতীয় ফল বিশেষত লেবু এবং সবজিতে পাওয়া যায়।

মিনারেল/Minerals:

ঘধ : খাবার লবন, প্রক্রিয়াজাত পনির, সসেজ (ঝধঁংধমব), শুটকি মাছ, মাখন এবং বাদামে প্রচুর পাওয়া যায়। এছাড়াও দুধ, ডিমের সাদা অংশ, মাংস, মাছ, সবজির মধ্যে বীট, (ঝঢ়রহধপয) পালং শাক, অন্যান্য শাক ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।

K (Potassium) : শস্য, শুকনা ফল, ফলের রস, সবজি পটাশিয়ামের ভালো উৎস। মাছ, মাংস, দুধ, দইতেও ভালো পরিমানে পাওয়া যায়।

Iron : কলিজা, বৃক্ক, মগজ, ডিমের কুসুম, মাংস, চিংড়ী, মাছ, অস্ত শস্য, বীচি জাতীয় খাবার, শুকনা ফল, বাদাম, মূলা, ফুল কপি, কলার মোচা/থোড়, সবজির পাতা ইত্যাদি।

Ca (Calcium) : দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার ক্যালসিয়ামের উৎকৃষ্ট উৎস। মটর বীচি, ডাল, আলু, ফুলকপি, শুকনা ফল, কচুর পাতা, ছোট মাছ ইত্যাদিতে ঈধ পাওয়া যায়।

Phosphate : দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, বীচি, গাজর, ফুলকপি, ভুট্টা, মটর, আলু, কলা, কচুর বীচি, কলিজা, ডিম, মাছ, মাংস, ইত্যাদিতে পাওয়া যায়।

Magnesium(Mg) : আস্ত দানা শস্য, বাদাম জাতীয় খাবার, মাংস, দুগ্ধ জাতীয় খাবার, কলা, গাঢ় সবুজ শাকসবজি, বাধাকপি, ফুলকপি ইত্যাদি।

Magnesium(Mn) : শস্য, বাদাম জাতীয় খাবার, কফি, চা, কলিজা, বৃক্ক, হাড়ে পাওয়া যায়।

Iodine: সামদ্রিক মাছ ও মাছের তেল ইত্যাদিতে পাওয়া যায়। এছাড়াও যেসব এলাকায় মাটিতে আয়োডিন আছে সেসব এলাকায় সবজিতেও পাওয়া যায়।

Copper : বাদাম জাতীয় খাবার, শুকনা ফল, শস্য, ডাল, মাছ, কলিজা, ফুসফুস/গুর্দা, মাংস, শাকসবজি ও ফলমূলে পাওয়া যায়।

Cobalt : দানা শস্য, বীচি ও মটরজাতীয় খাবারে পাওয়া যায়।

Chloride/Chlorine(Cl) : খাবার লবন থেকেই প্রধানত এটা পাওয়া যায়।

Fluoride: মাটি, পানি ও বাতাসে উপস্থিত ফ্লোরাইডের উপর নির্ভর করে খাদ্যবস্তুতে ফ্লোরাইডের উপস্থিতি। সামদ্রিক খাবার ও চা তে প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায়।

Sulphur : মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, পনির এবং বাদাম জাতীয় খাবারে ভালো পরিমানে পাওয়া যায়।

Zince: গরুর মাংস, কলিজা, গম, বীচি জাতীয় খাবার, শস্য, পনির, বাদামের মাখন, খৈ, বাদাম জাতীয় খাবারে পাওয়া যায়।

Chromium : প্রাণীজ খাবারে বেশি পাওয়া যায় এবং উদ্ভজ্জ খাবারে কম পাওয়া যায়।

Selenium: সামদ্রিক খাবার, বৃক্ক, মাংস এবং শস্যে তুলনামূলক ভাবে বেশি পাওয়া যায়।

আসুন প্রকৃতি প্রদত্ত বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে সর্বোত্তম পুষ্টি লাভ করি ও সুস্থ থাকি। প্রতিনিয়ত আমরা পুষ্টির বিভিন্ন উপাদান পাওয়ার জন্য বিভিন্ন রকমের ঔষধ, কৃত্রিম প্রক্রিয়াজাত খাবার ইত্যাদি গ্রহণ করে থাকি; অথচ এসব পুষ্টি উপাদান আমাদের চারিপাশে বিভিন্ন ভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে যা খুব সহজে ও কম মুল্যে আমরা পেতে পারি।

“ প্রকৃতি হলো স্রষ্ট্রা প্রদত্ত সব পুষ্টির আধার

খোঁজে পেতে চোখ-কান খোলা রাখুন সবার”

পুষ্টিবিদ নর্থ ইষ্ট মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটেল

দক্ষিন সুরমা, সিলেট।

 

মোবাইল: +৮৮০১৭১৬০২৮৭৭৭

+৮৮০১৮১১১৪০৩৮৯

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *