পুষ্টি ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় উচ্চ ফলনশীল ফল ড্রাগন

আবুল বাশার মিরাজ

ড্রাগন ফল। ত্রয়োদশ শতাব্দীতে সেন্ট্রাল আমেরিকায় উৎপত্তি Hylocereus Sp. গোত্রের এ ফলটি দণি এশিয়া প্রবর্তন করে বিংশ শতাব্দীর শেষে। লাল বা হলুদ বর্ণের আকর্ষণীয় এ ফল বাংলাদেশে প্রথম প্রর্বতন করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাাজম সেন্টারে ২০০৭ সালে। এ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. এ. রহিম থাইল্যান্ড, ফোরিডা ও ভিয়েতনামের জাতের ক্রস ঘটিয়ে নতুন বাণিজ্যিক জাত উদ্ভাবনে সাফলতা পান। অনেকে ফলটিকে পিটাইয়া, টিহায়া নামেও ডেকে থাকেন। ফলটি বর্তমানে আমাদের দেশের মানুষের কাছে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। ক্যাকটাস গোত্রের গাছটিকে অনেকে সবুজ ক্যাক্টাস বলে থাকেন। ড্রাগন ফল গাছে শুধুমাত্র রাতে ফুল দেয়। ফুল লম্বাটে সাদা ও হলুদ অনেকটা নাইট কুইন ফুলের মত। এ কারনে ড্রাগন ফুলকেও ‘মুন ফ্লাওয়ার’ বা ‘রাতের রাণী’ বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে। বর্তমানে পুষ্টি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তায় নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখা দিয়েছে ড্রাগন ফল।

ফলটির পুষ্টিগুণ সম্পর্কে ড. রহিম জানান, ড্রাগন ফল দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর। সব ধরণের ডায়েটের জন্য এ ফলটি উপযুক্ত। এ ফল শরীরের জন্য ফাইবার সরবরাহ করে যা পেটের পীড়া এবং লিভার এর জন্য উত্তম। খাবারের পর ডের্জাট হিসাবে পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এ ফল খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। এ ফলটি প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি, মিনারেল এবং উচ্চ ফাইবার যুক্ত। জুস তৈরির জন্যও ফলটি অত্যন্ত উপযোগী। প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে ফাইবার ০.৯ গ্রাম, ফ্যাট ০.৬১ গ্রাম, এ্যাশ ০.৬৮ গ্রাম, ক্যারোটিন ০.০১২ গ্রাম, পানি ৮৩.০ গ্রাম, ফসফরাস ৩৬.১ মি. গ্রাম, এসকোরবিক এসিড ৯.০ মি. গ্রাম, প্রোটিন ০.২২৯ গ্রাম, রিবোফাবিন ০.০৪৫ মি. গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৮.৮ গ্রাম, নায়াসিন ০.৪৩০ মি. গ্রাম ও আয়রন ০.৬৫ মি. গ্রাম থাকে। ডায়াবেটিক রোগীদের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক ফলটি। ফ্রেশ ফলের চেয়ে শুষ্ক ফল বেশ কার্যকরী। এ ফল সালাদের সাথেও ব্যবহার করা যায়।

ড. রহিম বলেন, ক্যাকটাস গোত্রের গাছ বিধায় বছরের যে কোন সময়ই এ গাছ লাগানো যায় তবে এপ্রিল-সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে লাগানো ভালই। প্রায় সব ধরণের মাটিতেই ড্রাগন ফল চাষ করা যায়। উচ্চ জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ বেলে-দোঁয়াশ মাটিই এ ফল চাষের জন্য উত্তম। তবে অবশ্যই পানি সেচ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ড্রাগন ফল প্রচুর আলো পছন্দ করে। তবে এতে ফল ধরতে একটু বেশি সময় লাগে। সেজন্য কাটিং এর মাধ্যমে বংশ বিস্তার করাই উত্তম। কাটিং থেকে উৎপাদিত একটি গাছে ফল ধরতে ১২-১৮ মাস সময় লাগে। এ ফলে রোগ বালাই খুবই একটা চোখে পড়ে না। ১২-১৮ মাস বয়সের একটি গাছে ৫-২০টি ফল পাওয়া যায় কিন্তু পূর্ণ বয়স্ক একটি গাছে ২৫-১০০টি পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। হেক্টর প্রতি ফলন ২০-২৫ টন।

ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ সম্পর্কে ড. রহিম বলেন, প্রায় সব ধরণের উঁচু মাটিতেই ড্রাগন ফলের চাষ করা যায়। প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। দেখতে মনোলাভা ফলটি সব ধরণের ডায়েটের জন্য এ ফলটি উপযুক্ত। উচ্চ ফলনশীল ফলটি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষের মাধ্যমে পুষ্টি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা অবদান রাখবে বলে আশাবাদ করেন তিনি।

————————————–

লেখকঃ

সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।

মোবাইলঃ ০১৭৪৪ ৪৩১০৪০

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *