প্রশ্নোত্তরে কৃষি

কৃষিবিদ ড. এম. এ. মান্নান

প্রশ্ন ঃ আসসালামু আলাইকুম, আমার আশা নয় বিশ্বাস আপনারা সবাই ভাল আছেন। আমরা আপনাদের কৃষিবার্তার মাধ্যমে বিভিন্ন ভাবে উপকৃত হচ্ছি। আমাদের ৫ টি মুরগি ও প্রায় ৩০ টি বাচ্ছা রয়েছে। মুরগি ও বাচ্ছা গুলোর মুখে গুটি উঠেছে এবং মুরগি ও বাচ্ছা গুলো ক্রমে ক্রমে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। আমরা কোন টিকা দেইনি। এখন আমাদের করণীয় কি?

মোঃ সাইফুল ইসলাম (সবুজ)

গ্রামঃ কান্দাপাচুরিয়া

উপজেলাঃ নারগপুর, জেলাঃ টাঙ্গাইল

উত্তর ঃ ভাই সবুজ, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।

    আপনার মুরগী ও বাচ্চার বসন্ত হয়েছে। এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ।

   শুধুমাত্র মুখেই নয় ইতিমধ্যে আপনার মুরগী ও বাচ্চার কানের লতি, জুটি, পালকবিহীন স্থানে আরও বসন্ত বা গুটি উঠে থাকবে।

   পটাশ বা ফিটকিরীর পানিতে তুলা ভিজিয়ে ক্ষতস্থান পরিস্কার করে দিতে হবে।

   পাশ্ববর্তী প্রাণীসম্পদ অফিসের সাথে যোগাযোগ করে প্রতিষেধক টিকা দিতে হবে। ধন্যবাদ

প্রশ্ন ঃ  কৃষিবার্তার সকলকে আমার সালাম, আমার একটি কাঁঠাল গাছ আছে বয়স ৫০-৬০ বৎসর। গাছে প্রচুর মুচি আসে। কিন্তু দুঃখের বিষয় মুচি থেকে কাঁঠাল হবার পর সকল কাঁঠাল পচে যায়। এজন্য আমি কোন সার প্রয়োগ করিনি। কী ব্যবস্থা নিলে কাঁঠালের মুচি পচা হতে মুক্তি পাওয়া যাবে সে সম্পর্কে জানলে খুবই উপকৃত হব।

মোঃ রাসেল মিয়া

মুগদিয়া, হাজীবাড়ী

থানাঃ কটিয়াদী, জেলাঃ কিশোরগঞ্জ।

উত্তরঃ আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল। কাঁঠালের মুচি পঁচা রোগ কাঁঠালের প্রধান রোগ। এটি একটি ছত্রাকজনিত রোগ।

             আক্রান্ত মুচি কেটে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।

             গাছ সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

             মুছিতে ১% বোর্দ মিক্সচার বা ২ গ্রাম রিডমিল গোল্ড প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ১২-১৪ দিন অন্তর অন্তর ২-৩ বার স্প্রে  করতে হবে।

আশা করি, আপনার কাঁঠাল মুচি পচা রোগ থেকে আপনার কাঁঠাল নিরাপদ থাকবে। ধন্যবাদ

প্রশ্ন ঃ  কৃষিবার্তার মান্নান স্যার ও কৃষিবার্তায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমার সালাম। আমি কৃষিবার্তার একজন নিয়মিত পাঠক। স্যার আমার একটি আম গাছ আছে। প্রচুর আম ধরে কিন্তু বাদুরে নষ্ট করে ফেলে। কী ব্যবস্থা নিলে উপকার পাব?

মোঃ ফিরোজ মাহমুদ (হৃদয়)

রাজপুর ডিগ্রী কলেজ

উপজেলাঃ বেলকুচি, জেলাঃ সিরাজগঞ্জ

উত্তর ঃ ভাই হৃদয় তোমাকে ধন্যবাদ। কলেজ পড়–য়া ছেলে ফল নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ আছে দেখে ভাল লাগল।

             গাছ এর উপরে জাল দিয়ে ঘিরে দিতে হবে।

             টিনের পাত্র ঝুলিয়ে রাতে আওয়াজ তুলে বাদুর তাড়ানো যায়।

             একটি মরা বাদুড় গাছে টানিয়ে রাখলে ভয়ে অন্যান্য বাদুর আর আসবেনা।

             এভাবে আপনি আপনার আম কে বাদুড় থেকে রক্ষা করতে পারেন এবং কৃষি বিষয়ক যে কোন সমস্যা হলে আমাদেরকে জানাবে তোমাকে আবারও ধন্যবাদ।

প্রশ্ন ঃ  আমি আমার জমিতে বোরো মৌসুমে ধান আবাদ করে ভাল ফল পেয়েছি। আমাদের এলাকায় আমন মৌসুমে ১৫-২০ দিনের ধানের চারা ১ম বীজ তলা থেকে উঠিয়ে পুনরায় ১০-১২ টি চারা একত্রে রোপণ করে রাখে। সেখান থেকে আবার চারা উঠিয়ে প্রধান জমিতে রোপণ  করা হয়। এতে রোগ বালাই এর আক্রমন কম থাকে। এবং ধানের শীষ লম্বা হয়। ফসল পুষ্ট হয়। তাই ফলন ভাল আসে। এমন করার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে কিনা?

মোঃ আব্দুস সাত্তার, অবঃ সরকারী কর্মকর্তা

হাতিবান্দা, ঝিনাইগাতি, শেরপুর।

উত্তর ঃ জনাব মোঃ আব্দুস সাত্তার, আপনার বাড়ী পাহাড়ের পাদদেশে। পাহাড়ী ঢলের সম্ভাবনা বেশী সে ক্ষেত্রে ধানের চারা গুলোকে একটু ঐধৎফবহরহম বা “শক্তকরণ” করে নেওয়া ভাল। বলন বা ঐধৎফবহরহম হচ্ছে “চারা” কে শক্ত করার একটি পদ্ধতি। এতে চারাকে প্রথম বীজ তলা থেকে উঠায়ে ২য় বীজ তলায় লাগানো হয়। এবং ২য় বীজ তলা থেকে উঠায়ে জমিতে লাগানো হয়। এতে ১ম বীজতলা থেকে ২য় বীজ তলায় লাগনোর পর যে সকল চারা যথাযথ শক্তি সঞ্চয় করতে পারে নাই সেগুলো মারা যায় বা দুর্বল হয়ে যাবে। এতে শক্তিমান চারা গুলো বাছাই হয়ে যায়। একটি ধাক্কা খেয়ে চারাটি প্রতিকূল পরিবেশে টিকে যাবার শক্তি সঞ্চয় করে। এমন অবস্থায় যখন জমিতে লাগানো হয় তখন তুলনা মূলক ভাবে শক্তিমান থাকে তাই তার মূল ভালো ভাবে বিস্তৃত হয়। কান্ডের গঠন ও ভাল হয়। পোকা ও রোগ প্রতিরোধী হয় তাই রোগও পোকার আক্রমণ কম হয়। ফলন ভাল হয়। এ কাজটি যে কোন চারার জন্যই প্রযোজ্য। সবজী, ফলদ বা বনজ গাছের চারার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সবজী, ফলদ ও বনজ চারার ক্ষেত্রে হার্ডেনিং এর অনুশীলন সর্বদা এবং সব এলাকায় হয়ে থাকে। তবে ধানের ক্ষেত্রে সব এলাকায় এবং সব মৌসুমে হয় না। আশা করি হার্ডেনিং বা ‘বলন’ সম্পর্কে আপনি ধারণা পেয়েছেন।

আপনি/আপনারা এমন যে কোন ধরনের প্রশ্নের জন্য আমাদেরকে লিখবেন বা ফোন করবেন ০১৯১৫৪৭৩৩০৮ নাম্বারে। উত্তর পেয়ে যাবেন পরবর্তী সংখ্যায়।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *