প্রশ্নোত্তরে কৃষি

কৃষিবিদ ড. এম. এ. মান্নান

প্রশ্নঃ হ্যালো কৃষিবার্তা, অনেক শুভেচ্ছা নিন। কৃষি বার্তা আমার একটি প্রিয় পত্রিকা। পত্রিকাটা আমার খুবই প্রিয়। আমি নিজে পড়ি অন্যকেও পড়তে বলি। আমার একটি প্রশ্ন আছে আশা করি উত্তর জানাবেন। প্রশ্নটি হলো আমি একটি ডেইরী ফার্ম শুরু করতে চাই। ফার্মটি প্রথমে ছোট আকারেই করব মাত্র ২টি গাভী দিয়ে। এ ব্যপারে বিস্তারিত বলবেন এবং উন্নত গাভী কোথায় পাব তাও দয়া করে বললে কৃতার্থ হব।

মোছা: আলেয়া আক্তার, দৌলতপুর, মানিকগঞ্জ।

উত্তরঃ মোছা: আলেয়া আক্তার, কৃষি বার্তার পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ। একজন মহিলা হয়েও আপনি কৃষি বিষয়ে এতটা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এ জন্য আপনাকে আবারও ধন্যবাদ। আপনাকে দেখে অন্যান্য নারী উদ্যোক্তাগণও উৎসাহিত হবেন এটা আমরা আশা করি।  কৃষি উন্নয়ন শুরু হয়েছিল এক জন নারী বিবি হাওয়া (আঃ) এর মাধ্যমে। সুতরাং কৃষি নারীদের হাতের ছোয়ায় আরও সমৃদ্ধ হবে গতি পাবে এটাই স্বাভাবিক। আপনি ডেইরী ফার্ম শুরু করতে চান ২টি গাভী দিয়ে। কৃষি বিষয়ক ব্যবসা ছোট দিয়ে শুরু করা ভাল। ছোট আকার থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে বৃহদাকার ব্যবসা করলে সেখানে ভুল বা লোকসান হওয়ার সম্ভাবন থাকে না বা কম থাকে।

আজকাল উন্নত জাতের গাভী প্রায় সর্বত্রই পাওয়া যায়। আপনি যেহেতু মাত্র ২টা গাভী দিয়ে ডেইরী ফার্ম শুরু করতে চাচ্ছেন, সেহেতু আপনার আশে পাশে যাদের ডেইরী ফার্ম আছে তাদের থেকে অর্থাৎ পরিচিত লোক থেকে গাভী কিনবেন। এ ক্ষেত্রে হলষ্টাইন ফ্রিসিয়ান জাতের গাভী কিনবেন। ১ বার বাচ্চা দিয়েছে এমন দুধালো বা গর্ভবতী এমন গাভী কিনবেন। সে ক্ষেত্রে কোন ষাড়ের মাধ্যমে প্রজনন করানো হয়েছে তার সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। গাভীটি বর্তমানে গর্ভবতী হলে আগের বার কি পরিমাণ দুধ দিয়েছে তা নিশ্চিত হতে হবে। গাভীটি দুধালো হলে গাভীটি কি পরিমাণ দুধ দিচ্ছে তা নিজে দেখে গাভী ক্রয় করতে হবে। গাভীটির কোন টিকা দেওয়া আছে কি না তাও নিশ্চিত হতে হবে। সর্বোপরি বাজার যাচাই করে গাভী ক্রয় করতে হবে। এমন একটি গাভী ক্রয় করতে মোটামুটি ৫০ হাজার হতে ৮৫ হাজার টাকা লাগতে পারে।

যে ঘরে রাখবেন সে ঘরের মেঝেটি পাকা বা ব্রিক সোলিং হওয়া দরকার এবং ঘরে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো বাতাস প্রবাহের ব্যবস্থা থাকা দরকার। দুধালো গাভীর জন্য কাঁচা ঘাস প্রয়োজন। সবসময় কাঁচা ঘাস প্রাপ্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। নিজে ঘাস উৎপাদন করতে পারলে ভাল হয়। দানাদার খাদ্য সহজেই পাওয়া যাবে।

এতক্ষণ যে সব বিষয়গুলো বলা হল তা হচ্ছে আপনার আগ্রহের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে আপনাকে একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র। ডেইরী ফার্ম শুরু করার পূর্বেই উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে তাঁর অথবা তার প্রতিনিধির সরেজমিন পরামর্শ নিয়ে নিবেন। আপনি এ কাজে সাফল্য অর্জন করুন এবং আপনাকে দেখে অন্যান্য নারী উদ্যোক্তাগণ উৎসাহিত হবেন এই আশা রইল। আপনার উদ্যোগ ও উৎসাহের জন্য আবারও ধন্যবাদ।

প্রশ্নঃ কৃষিবার্তার সংশ্লিষ্ট সকলকে ছালাম ও শুভেচ্ছা। ধন্যবাদ সবাইকে, প্রশ্নোত্তর এর মত একটি অত্যন্ত উপকারী অধ্যায় কৃষিবার্তায় সংযোজন করার জন্য। আমি সরকারী ১ম শ্রেণীর কর্র্মকর্তার পদ থেকে সম্প্রতি এলপিআর-এ আছি। গ্রামের বাড়ীতে আমার জমিতে বোরো মৌসুমে ধান আবাদ করে ভাল ফল পেয়েছি।

আমাদের এলাকায় আমন মৌসুমে ১৫-২০ দিনের ধানের চারা ১ম বীজ তলা থেকে উঠিয়ে পুনরায় ১০-১২ টি চারা একত্রে রোপণ করে রাখে। সেখান থেকে আবার চারা উঠিয়ে প্রধান জমিতে রোপণ করা হয়। স্থানীয় ভাষায় এটাকে ‘বলন’ বলা হয়। এতে রোগ বালাই এর আক্রমণ কম থাকে। এবং ধানের শীষ লম্বা হয়। ফসল পুষ্ট হয়। তাই ফলন ভাল আসে। এমন করার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে কিনা? জনালে খুশি হব।

মোঃ হুমায়ন আহাম্মেদ

হাতিবান্দা, ঝিনাইগাতি, শেরপুর।

উত্তর ঃ জনাব মোঃ হুমায়ন আহাম্মেদ, কৃষি বার্তার পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার এলাকায় ‘বলন’ বলে যে চৎধপঃরপব টি আছে তা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত। আপনার বাড়ী পাহাড়ের পাদদেশে। পাহাড়ী ঢলের সম্ভাবনা বেশী সে ক্ষেত্রে ধানের চারা গুলোকে একটু ঐধৎফবহরহম বা “শক্তকরণ” করে নেওয়া ভাল। বলন বা ঐধৎফবহরহম হচ্ছে “চারা” কে শক্ত করার একটি পদ্ধতি। এতে চারাকে প্রথম বীজ তলা থেকে উঠায়ে ২য় বীজ তলায় লাগানো হয়। এবং ২য় বীজ তলা থেকে উঠায়ে জমিতে লাগানো হয়। এতে ১ম বীজতলা থেকে ২য় বীজ তলায় লাগনোর পর যে সকল চারা যথাযথ শক্তি সঞ্চয় করতে পারে নাই তারা মারা যায় বা দুর্বল হয়ে যাবে। এতে শক্তিমান চারা গুলো বাছাই হয়ে যায়। একটি ধাক্কা খেয়ে চারাটি প্রতিকুল পরিবেশে টিকে যাবার শক্তি সঞ্চয় করে। এমন অবস্থায় যখন জমিতে লাগানো হয় তখন তুলনা মূলক ভাবে শক্তিমান থাকে তাই তার মূল ভালো ভাবে বিস্তৃত হয়। কান্ডের গঠন ও ভাল হয়। পোকা ও রোগ প্রতিরোধী হয় তাই রোগও পোকার আক্রমণ কম হয়। ফলন ভাল হয়। একাজটি যে কোন চারার জন্যই প্রযোজ্য। সবজী, ফলদ বা বনজ গাছের চারার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সবজি, ফলদ ও বনজ চারার ক্ষেত্রে হার্ডেনিং এর অনুশীলন সর্বদা এবং সব এলাকায় হয়ে থাকে। তবে ধানের ক্ষেত্রে সব এলাকায় এবং সব মৌসুমে হয় না। আশা করি হার্ডেনিং বা ‘বলন’ সম্পর্কে আপনি ধারণা পেয়েছেন।

আপনার এমন যে কোন ধরণের প্রশ্নের জন্য আমাদেরকে লিখবেন বা ফোন করবেন ০১৯১৫৪৭৩৩০৮ নাম্বারে। উত্তর পেয়ে যাবেন পরবর্তী সংখ্যায়।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *