প্রসঙ্গঃ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা

এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে প্রণোদনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ২৪ আগষ্ট ২০১৬ তারিখ সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী একথা জানান। পুনর্বাসন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রণোদনা হিসেবে ৪ লাখ ১৮ হাজার ৫১১ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ৪২ কোটি ৯ লাখ টাকার ধানের চারা, সার ও বীজ সহায়তা দেওয়া হবে। কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, বন্যায় অধিক ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ জেলায় পুনর্বাসন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এখানে ১৭ হাজার ২১১ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে ৫৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকার আমন ধানের চারা ও বীজ দেওয়া হবে। এছাড়া চলতি অর্থবছরে ৬৪ জেলায় মাষকলাই, গম, ভুট্টা, সরিষা, চীনাবাদাম, ফেলন, খেসারি, বোরো ধান, মুগ ও তিল উৎপাদন বৃদ্ধিতে ৪ লাখ ১ হাজার ৩০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে ৪১ কোটি ৫৬ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকার ধানের চারা, বীজ ও সার দেয়া হবে। এবারে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, বগুড়া, সুনামগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, শরীয়তপুর, মুন্সীগঞ্জসহ ১৬ জেলায় বন্যায় আমন বীজতলা, শাকসবজি ও অন্য ফসলসহ প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়। ১ লাখ ৫৮ হাজার হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবারের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষয় ক্ষতি যে ব্যাপক তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমত পরিস্থিতিতে কৃষকের পাশে দাঁড়ানো অত্যাবশ্যক। যদিও অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি পুষিয়ে নিতে কৃষক বেশ পারদর্শী। তবুও কৃষকের পাশে সরকারের পক্ষ থেকে যে পুনর্বাসন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে তাতে কৃষকরা আশান্বীত হয়েছেন। সরকারের এ উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়।

কৃষকের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া, পারিবারিক পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দানা শস্য বিশেষ করে ধানের উৎপাদন অব্যাহত রাখা, দুর্যোগ মোকাবেলায় কৃষকদের সক্ষমতা বাড়ানো সরকারের অন্যতম কর্তব্য। কিন্তু হতাশার বিষয় হলো, সরকারের প্রণোদনা, ভর্তুকি কিংবা পুনর্বাসন সহায়তা অনেক সময় প্রান্তিক চাষিদের কাছে পৌঁছায় না। সমাজের কিছু দুষ্ট টাউট প্রকৃতির লোকজন আত্মসাত করে ফেলে। এলাকার ফড়িয়া, মুনাফাখোর ও রাজনৈতিক ব্যক্তি বর্গের কারণে ক্ষদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা নিষ্পেষিত হচ্ছে। এর আগের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সেচ পাম্প ব্যবহারকারী কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত ভর্তুকির টাকা চলে গেছে সেচ ম্যানেজারদের পকেটে। অতীতের এসব ঘটনার কারণে অনেকেই সন্দেহ করেন যে, এবারের প্রণোদনা প্রকৃত প্রান্তিক চাষিদের কাছে পৌঁছবে কি না!

পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে কৃষকদের হাতে সরাসরি ভর্তুকির টাকা দেওয়া হয়। এতে উৎপাদনে কৃষকের উৎসাহ বাড়ে। আমাদের দেশেও এক টাকা প্রণোদনা দিলে ১১ টাকা রিটার্ণ আসে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। তাই কৃষকদের অবশ্যই প্রণোদনা দিতে হবে। তবে তা যেন সঠিকভাবে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে পৌঁছায় সে বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

২. প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মুসলিম জাহানে ফিরে এলো পবিত্র ঈদুল আযহা। আমাদের সকল পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়িদের জানাই ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা। ত্যাগের মহিমায় সবার জীবন উদ্ভাসিত হোক এই কামনা করি।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare