প্রসঙ্গঃ সম্ভাবনাময় চলনবিলের শুঁটকি

 

 

পত্রিকান্তরে সংবাদ থেকে জানা যায়, পাবনার চলনবিল এলাকায় শুঁটকির ব্যবসা করে জেলে পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাগ্য বদল হয়েছে। এর ফলে ঐ এলাকার গ্রামীণ অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটছে। চলনবিলের মাছের শুঁটকি সুস্বাদু হওয়ায় দেশে-বিদেশে এর ব্যাপক চাহিদা আছে। এ শুঁটকি ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের ২০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। চলনবিলের মাছকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ২৫০টি অস্থায়ী শুঁটকির চাতাল। দেশের সবচেয়ে বড় জলাভূমি চলনবিল মিঠা পানির মৎস্য ভান্ডার নামে পরিচিত। বর্তমান শুষ্ক মৌসুমে বিলে চলছে মাছ ধরার এক মহা উৎসব। চাতালে মাছ শুকানোর মৌসুম ও  শুরু হয়েছে। মাছ বিক্রি করে পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা আনতে বিল এলাকার ব্যবসায়ী, জেলে ও নারী-পুরুষ এখন মাছ ধরা ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

একসূত্র মতে জানা যায়, পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া চলনবিলে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭৫৭ হেক্টর আয়তনের ৩৯টি বিল, ৪ হাজার ২৮৬ হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট ১৬টি নদী ও ১২০ বর্গকিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট ২২টি খাল এবং অসংখ্য পুকুর। বর্তমান মৌসুমে প্রায় ৯০ কোটি টাকা মূল্যের ২৫০ থেকে ৩০০ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদনের সম্ভাবনা আছে। এবার বিলে মাছের পরিমাণ বেশি থাকায় শুঁটকির উৎপাদনও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাছ শুঁটকি শেষে এবিওসি গ্রেডে বাছাই করা হয়। ‘এ’ গ্রেডের শুঁটকি মাছ ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, আমেরিকা, মালয়েশিয়া, কাতার, ওমান, বাহরাইন, দুবাই, ইরাক, কুয়েত, লিবিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের ২০টি দেশে রপ্তানি করা হয়। প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে চলনবিলের সুস্বাদু শুঁটকির ব্যাপক চাহিদা আছে। এ ছাড়া ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রেডের শুঁটকি মাছ দিনাজপুর, সৈয়দপুর, নীলফামারী, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা হয়।

ঐ এলাকার শুঁটকি ব্যবসায়ীদের মতে, চলনবিলের শুঁটকি মাছের স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় দেশ-বিদেশে এর চাহিদা বেশি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শুঁটকি ব্যবসায়ীরা মাছ শুকানোর জন্য চাতাল করেছেন। মাত্র ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে এ ব্যবসা শুরু করা যায়। পানি কমতে থাকলে বিলের বিভিন্ন স্থানে সুতি জাল পাতা হয়। জালে ধরা পড়ে পুঁটি, খলসে, চেলা, টেংরা, বাতাসি, চিংড়ি, নলা, টাকি, গুচি, বাইম, বোয়ালসহ নানা জাতের মাছ। এসব মাছ চাতালে শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাত করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়। প্রতি কেজি শুঁটকি ১৭০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে মাছ বিক্রি করা হয়ে থাকে। অল্প পুঁজিতে মৌসুমী এ ব্যবসায় খুব সহজেই লাভবান হওয়া যায়। তবে ঠিক মতো পরিচর্চা করতে না পারলে শুঁটকি মাছে পোকা লেগে নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া আবহাওয়া খারাপ হলে বা রোদ না থাকলে বিপদে পড়তে হয়। এ ব্যাপারে উদ্যোক্তাদের সরকারি বেসরকারি পর্যায় থেকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হলে এ শিল্পের আরো বিকাশ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

২. প্রিয় পাঠক! আসছে নববর্ষ- ২০১৬ সাল। শুভ নববর্ষ উপলক্ষে আমাদের সকল পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়িদের প্রতি রইল আন্তরিক শুভকামনা। অনাবিল আনন্দ আর নিরাপদে কাটুক সবার আগামির দিনগুলো এ কামনাই করছি।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare