প্রসঙ্গ: কুলাউড়ার রাবার ও চা শিল্প

দেশের রপ্তানি শিল্পে নতুন সম্ভাবনাম শিল্প হিসেবে আলোচনায় আসা সাদা সোনা হিসেবে খ্যাত রাবার শিল্পের উপযোগী অঞ্চল হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বেছে নিয়েছেন সিলেট ও চট্টগ্রামকে। রাবার চাষের ব্যাপকতা এবং চাষীদের আগ্রহের কারণে সিলেটের মধ্যে অন্যতম রাবার চাষের অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া। সাদা সোনা রাবারের রাজধানী হিসেবে খ্যাত এ অঞ্চলের বিকাশমান শিল্পটি শুধুমাত্র সিন্ডিকেট চোরাকারবারীদের কারণে দিন দিন ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে। রাজধানী হিসেবে খ্যাত এ অঞ্চলটি চোরচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ায় ঐতিহ্য হুমকিতে রয়েছে এ দুটি শিল্প। এ কারণে শংঙ্কায় রয়েছেন এ দুই শিল্পের সাথে জড়িত এ অঞ্চলের মানুষ ও বাগান মালিকপক্ষ। অপরিকল্পিতভাবে এ শিল্পের কাঁচামাল সংগ্রহের কারণে অচিরেই ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে এ দুটি শিল্প এমন অভিমত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের। চোরচক্র প্রতিরোধে কি ভূমিকা রাখছে প্রশাসন এমন প্রশ্ন তুলেছেন এ শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ক্ষতিগ্রস্থরা। চোরচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়া কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা সরকারী রাবার বাগানটি এখন ধ্বংসের দোরগোড়ায়।

স্থানীয়দের অভিমত, সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও নানা ভাবে চোরচক্রের সাথে তাদের যোগসাজশে দিন দিন বাগানটি অতীত ঐতিহ্য হারিয়ে এখন মৃত্যু পথযাত্রী। এ বাগান ছাড়াও পুরো কুলাউড়া উপজেলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রায় ৩০টি রাবার বাগানেও জানান দিচ্ছে ধ্বংসের হাতছানি। ক্ষতিগ্রস্থ বাগান মালিকরা এখন এ শিল্পের ভবিষৎ নিয়ে শঙ্কিত।

রাবার শিল্পের মত নতুন করে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে চা-পাতা চোর সিন্ডিকেট। খোদ বাগান ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্টরা এ কাজে জড়িয়ে পড়ায় চা ও রাবার শিল্পের এ অঞ্চলটি তার অতীত ঐতিহ্য ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। দীর্ঘ দিন থেকে চা-পাতা চুরি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে চোরচক্র যেন বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। বাগান ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বড়কর্তাসহ সংশ্লিষ্টরাও এ কাজে জড়িয়ে পড়ায় এ শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মালিক পক্ষ। সম্প্রতি লুয়াইউনি-হলিছড়া চা বাগানের ম্যানেজার ও সহকারী ম্যানেজারসহ সংশ্লিষ্টদের ৫৩ লক্ষ টাকার চা পাতা আত্মসাতের ঘটনা জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে।

এছাড়া কুলাউড়া উপজেলার মিশন চৌমুহনী এলাকায় চুরি হওয়া চা-পাতা বোঝাই ট্রাক আটক করার পর থেকে সিন্ডিকেট চোরচক্রের গোমর অনেকটা বেরিয়ে আসে। কুলাউড়া উপজেলার ১৮টি চা বাগানের ৩/৪টি বাগান ছাড়া প্রতিটি বাগানেই গড়ে ওঠেছে সিন্ডিকেট। নানা কায়দায় কৌশলে সংশ্লিষ্টদেরকে ম্যানেজ করে এরা দিনের পর দিন চুরির মাধ্যমেই হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ কোটি টাকা।

এমতাবস্থায়, রাবার ও চা-পাতা চুরির সাথে সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট সকলকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। নতুবা সম্ভাবনাময় এ শিল্প ধংস হয়ে যাবে বলে বিশেষজ্ঞ মহল আশংকা করছেন।

২. আসছে ২০১৪ সাল ! ইংরেজি নববর্ষে আমাদের সকল পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়িদের প্রতি কৃষির্বাতা পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। বিদায়ী বছরের সকল জরা, ব্যর্থতার গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরে সকলের জীবন অনাবিল আনন্দে কানায় কানায় পূর্নতা পাক এ কামনা রইল।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare