প্রসঙ্গ: কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা

 

বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়নের জন্য বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে সহ¯্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। যা ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি (ঝউএ) নামে প্রতিস্থাপিত হয় । ঝউএ এর মেয়াদ ২০১৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত। এসডিজি (ঝউএ)’সহ ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের কৃষি বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণকর্মী ও কৃষকদের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশ ইতোমধ্যেই দানাদার খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ বিশ্বে ধান উৎপাদনের চতুর্থ, সবজি উৎপাদনে তৃতীয় ও ফল উৎপাদনের হার বিবেচনায় সপ্তম অবস্থানে রয়েছে।

প্রতিবছর কৃষি আবাদী জমি কমে গেলেও আধুনিক ও লাগসই কৃষি প্রযুক্তিসমূহের কার্যকরী সম্প্রসারণের কারণে আমাদের দানাদার খাদ্যশস্যের উৎপাদন এখন ৪ কোটি মেট্রিক টন ছাড়িয়ে গেছে এবং যা ক্রমান্বয়ে আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। উল্লেখ্য, স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭১ সালে দেশের মোট দানাদার ফসল উৎপাদনের পরিমাণ ছিল মাত্র ১ কোটি ১০ লাখ মেট্রিক টন। অথচ, বিগত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশে সর্বমোট ৪১৩.২৫ লক্ষ মেট্রিক টন দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয় এবং যা ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ছিল ৩২৮.৯৫ লক্ষ মেট্রিক টন। শুধু খাদ্যশস্যই নয়, অন্যান্য শস্য উৎপাদনের পরিমাণও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিগত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে উৎপাদিত আলুর পরিমাণ ছিল ১০৩.১৭ লক্ষ মেট্রিক টন, যা ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ছিল মাত্র ৫২.৬৮ লক্ষ মেট্রিক টন। এছাড়া বর্তমানে দেশের ফসল আবাদের নিবিড়তা বৃদ্ধি পেয়ে ২১৫% হয়েছে, যা ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ছিল ১৭৯%।

দেশের কৃষি পণ্যের ব্যাপক উৎপাদন হলেও কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে কৃষক বঞ্চিত হচ্ছে প্রায়শঃ। ধানের উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না চাষীরা। আলু, টমেটোসহ নানা সবজির দাম না পেয়ে রাস্তায় ফেলে প্রতিবাদ জানাতে দেখা গেছে কৃষকদের। এ নিয়ে মিডিয়াতে নানা প্রতিবেদন প্রচার হয়ে থাকে। কিন্তু কাজের কাজ তেমন একটা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এভাবে ধানের দাম না পেলে আগামী মৌসুমে ধান উৎপাদনে কৃষক নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বে বলে অনেকে আশংকা প্রকাশ করছেন। ফলে সরকারের নেওয়া নানা পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ব্যর্থ হতে পারে । পরিশেষে, ধানের উৎপাদন ধরে রাখা, কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং চাষিদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য চাষিদের পাশে সরকারি পর্যায় থেকে দাঁড়াতে হবে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে তবেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে।

২. মার্চ মাস আমাদের মহান স্বাধীনতার মাস। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।  হানাদারদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। যাঁদের রক্ত আর প্রাণের বিনিময়ে আমরা এ দেশ পেয়েছি তাদের জানাই সশ্রদ্ধ সালাম।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare