বন্যা পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসন ও কৃষিতে করণীয়

সম্প্রতি ভারি বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসে রাঙ্গামাটিতে দেড়শ’র বেশি লোকের মৃত্যু হয়েছে। কক্সবাজারেও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড় ধসের পাশাপাশি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়। টানাবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে প্রতিদিনই প্লাবিত হচ্ছে নতুন এলাকা, তলিয়ে যাচ্ছে ফসলের ক্ষেত। বাড়ি-ঘর, জনপদসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডুবে যায়। কয়েকশ’ স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়। বন্যার পানি কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বাড়ি-ঘর, ফসলাদি ডুবে যাওয়ায় মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে তাদের জীবনযাপন করতে হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির কারণে অনেক এলাকার পুকুর, ডোবা, ঘের তলিয়ে গেছে। এতে করে এসব জায়গায় চাষ করা মাছ ভেসে গেছে পানির তোড়ে। এছাড়াও বানের পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় অনেক এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যার সাথে সাথে নদী ভাঙ্গণও তীব্র হয়ে উঠেছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে অনেক বসতি ও জনপদ। ভাঙনের কবলে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, ব্রিজ, কালভার্ট, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। পানিবন্দি হয়ে পড়ায় অনেক এলাকায় শ্রমিকদের কাজ-কর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে অতি দরিদ্র শ্রেণির মানুষের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হয়ে পড়েছে। দুর্গত কয়েকটি এলাকায় সরকারের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই সামান্য বলে জানা গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় যে হারে পানি বাড়ছে তাতে করে আরও কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হবে বলে সংবাদ মাধ্যমে খবরে প্রকাশ।

কৃষিতে বন্যায় ক্ষতির প্রভাব পড়ে দীর্ঘমেয়াদি। এ কারণে কৃষক ভাইদের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নিতে এবং বন্যার পানি নেমে যাবার সাথে সাথে সব ধরণের ফসলের যতœ ও রবি ফসল চাষাবাদ কার্যক্রম যথারীতি চালিয়ে যেতে হবে। রোপা আমন ধানের আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ জমিতে, ভাল জায়গার সুস্থ গুছি থেকে কিছু অংশ তুলে নিয়ে ফাঁকা জায়গা পূরণ করে দিতে হবে। বন্যার পানি সরে যাওয়ার পর পরই চারার পাতার ৮-১০ সেঃ মিঃ (৩-৪ ইঞ্চি) আগা কেটে দিতে হবে এবং ছত্রাকনাশক স্প্রে করে দিতে হবে। চারা না পাওয়া গেলে স্থানীয় জাতের আউশ ধান (হাসিকলমি, সাইটা, গড়িয়া) এর গজানো বীজ  আশ্বিনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ছিটিয়ে বোনা যেতে পারে। বন্যার পানি সরে যাওয়ার পর মরিচ ও ডাল জাতীয় ফসলের সাথে আশ্বিন মাসে পাটের বীজ বোনা যেতে পারে। বন্যার পানি নেমে গেলে বিনা চাষে গিমাকলমি, লালশাক, ডাটা, পালং, পুঁইশাক, ধনে, সরিষা, খেসারী, মাসকালাই আবাদ করা যেতে পারে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলী জমির রস কমনোর জন্য মাটি আলগা করে ছাই মিশিয়ে এবং সামান্য ইউরিয়া ও পটাশ সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। এবছর লাগানো  ফলের চারার গোড়ার পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রয়োজনে গোড়ায় মাটি দিয়ে সোজা করে খুঁটির সাথে বেঁধে দিতে হবে। বন্যার পানি নেমে যাবার সাথে সাথে ভাসমান কঁচুরি পানার ওপর লাউ, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া ও অন্যান্য সবজির তৈরি চারা নির্ধারিত জায়গায় বসিয়ে দিতে হবে। পরিশেষে, জাতীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি তথা অব্যাহত রাখার স্বার্থে বন্যা পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। এ জন্য সরকারি বেসরকারি সংস্থা থেকে সমন্বিত পদক্ষেপ হাতে নিতে হবে।

২. আগস্ট মাস শোকের মাস। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে সপরিবারে হত্যা করে একটি কুচক্রী মহল। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare