বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক শিল্পঃ গুরুত্ব সমস্যা ও সম্ভাবনা

পূর্ব প্রকাশের পর ঃ

পোল্ট্রি উপ-খাত (চড়ঁষঃৎু ঝঁন-ংবপঃড়ৎ)

দেশে পোল্ট্রি শিল্প একটি লিডিং শিল্প হিসেবে উদিয়মান। এই শিল্পের বিগত দুই দশকে বৎসরিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০ শতাংশ। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরপত্তা অর্জনে এই শিল্পের রয়েছে অশেষ সম্ভাবনা। মানুষের দৈনন্দিন গৃহীত জৈব আমিষের প্রায় ৪৪ ভাগ আসে মাছ-মুরগী এবং গবাদিপশু জাত খাদ্য থেকে। বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক সস্তা মূল্যে জনগণকে প্রোটিন সরবরাহ করছে। পোল্ট্রি শিল্পে ইতোমধ্যে ৪০-৫০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ এবং ৬০ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ঋঅঙ) এর মতে প্রত্যেক ব্যক্তির বৎসরে ৫৬ কিলোগ্রাম মাংস এবং ৩৬৫টি ডিম খাওয়া উচিৎ। কিন্তু বাংলাদেশে মাথাপিছু বাৎসরিক গ্রহণ(রহঃধশব) মাত্র যথাক্রমে ১১.২৭ কেজি এবং ৩০টি ডিম। ফলে মানুষ অপুষ্টিতে ভূগছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে আমিষ ঘাটতিও বেড়ে যাবে। এ অবস্থায় দেশের পোল্ট্রিশিল্প স্বল্পমূল্যে আমিষ সরবরাহ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সাম্প্রতিককালে দুধ এবং ডিমের চাহিদা বেড়েছে যথাক্রমে ৬ এবং ৫.২ শতাংশ।

মাছ এবং গবাদিপশুর উৎপাদান দীর্ঘসময় সাপেক্ষ কিন্তু পোল্ট্রি উৎপাদনের তুলনামূলকভাবে কম সময় লাগে এবং তা সহজ হবে, যদি সরকারী এবং বেসরকারী উদ্যোগ পাশাপাশি থেকে কাজ করে। পোল্ট্রিশিল্প সম্ভবত: একমাত্র খাত যা স্বল্প জমিতে সর্বোচ্চ পরিমানে মুরগী এবং ডিম উৎপাদন করতে সক্ষম (াবৎঃরপধষ বীঢ়ধহংরড়হ)। অধিকন্তু জৈব জ্বালানী এবং জৈব সারও পোল্ট্রি শিল্প থেকে উৎপাদন করা সম্ভব। পোল্ট্রি খামার পূর্ণসময় এবং খন্ডকালীন কর্মসংস্থান এর সুযোগ দিচ্ছে, বিশেষ করে যুবক যুবতী, নারী এবং বয়ষ্কদের জন্য।

কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য যে, পোল্ট্রি খামারিরা তাদের খামার এবং বিনিয়োগ নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। প্রতি বছর হাজার হাজার পোল্ট্রি ফার্ম বার্ডফ্লু আক্রমনে ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছে। অনেক খামারীরা উচ্চ মূল্যে পোল্ট্রি সামগ্রী (ঈযরপশ ধহফ ঋববফ) ক্রয় করতে অক্ষম। তদুপুরি ডিম এবং মুরগীর যথাযথ মূল্য না পাওয়ায় তারা বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন। বহু সচ্ছল খামারিরাও রাতারাতি পথে বসে যান। গবেষকদের মতে কিছু কিছু রোগের সংক্রমন এবং পোল্ট্রি খাদ্যের উচ্চ মূল্য এই শিল্পের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে প্রধান বাধা।

বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার পশুসম্পদ শিল্পে, বিশেষত: পোল্ট্রি শিল্পে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। বাংলাদেশে প্রায় ৮০ হাজার পোল্ট্রি খামার এবং প্রায় দুইশত চড়ঁষঃৎু ভববফ সধহঁভধপঃঁৎরহম রহফঁংঃৎু কাজ করছে। বিগত ১৫ বছরে এই শিল্পের প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০ শতাংশ। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার পূরণের পাশাপাশি বিদেশে পোল্ট্রি পণ্য রপ্তানির সুযোগও অনেক। সুতরাং প্রাইভেট সেক্টরকে এগিয়ে আসতে হবে এবং গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। ধারনা করা যায় যে, ২০২১ সাল নাগাদ পোল্ট্রি শিল্পে বিনিয়োগ হবে ৬০,০০০ কোটি টাকার উপরে এবং এতে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান হবে।

পোল্ট্রি শিল্পের দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দিতে হবে। কোন কোন দেশ যেমন- থাইল্যান্ড বিগত ১৫ বৎসরে পোল্ট্রি খাতে লক্ষ্যনীয় উন্নয়ন অর্জন করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের অগ্রগতি তেমনটি নয়। পোল্ট্রি শিল্পের উন্নয়নের জন্য আমাদের প্রয়োজন উন্নত যন্ত্রপাতি এবং সহজলভ্য প্রযুক্তি।

পোল্ট্রি উপ-খাতের প্রধান প্রধান চ্যালেঞ্জ সমূহ

আমাদের পোল্ট্রি বার্ড এবং ডিম (ঈযরপশ ধহফ ঊমমং) ভারত থেকে আমদানি করা হয়, যে দেশটিতে বার্ড ফ্লু একটি নিত্য নৈমিত্তিক বিষয়। কাজেই ভারত থেকে পোল্ট্রি সমগ্রী আমদানি বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পকে ধবংশ করে দিতে সক্ষম। যেমনটি ঘটেছে সাম্প্রতিক বছর গুলোতে। শত শত পোল্ট্রি খামার ধ্বংস হয়ে গেছে এবং হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়েছে।

গেল বৎসর দেশের পোল্ট্রি খামারীরা ২৫ মিলিয়ন ডিম এবং ১.৭ মিলিয়ন কেজি মুরগীর মাংস স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করেছিল। অথচ রোগের কারণে তা শতকরা ২২ ভাগ হ্রাস পেয়েছে। এভিয়ান ইনফ্লুএঞ্জার কারণে পোল্ট্রি শিল্পে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এই বিশাল ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য খামারীরা উল্লেখযোগ্য কোন আর্থিক সহযোগীতা পায় নি। এক্ষেত্রে চিকিৎসা সেবা, বিশেষ করে ভেক্সিনেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজেই অবস্থার উন্নয়নের জন্য এবং পোল্ট্রির পণ্য রপ্তানীর লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং তার বাস্তবায়ন আবশ্যক।

সাম্প্রতিক জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভূট্টা আমদানির উপর নতুর কর আরোপ করেছে। যেহেতু ভূট্টা পোল্ট্রি খাদ্য উৎপাদনে একটি বড় উপকরণ, সেহেতু পোল্ট্রি খাদ্যের মূল্যও বৃদ্ধি পাবে, যা খামারীদের জন্য নতুন সমস্যা। আর্ন্তজাতিক বাজারেও পোল্ট্রি ফিড উপকরনের মূল্য অনেক বেড়েছে। ফলে ফিডের উৎপাদন খরচও বেড়েছে। পোল্ট্রি খামারের ক্ষেত্রে মোট খরচের ৬৫ থেকে ৭০ ভাগ ব্যয় হয় ফিডে। বিদ্যুতের লোড শেডিং এর কারনেও পোল্ট্রি শিল্প ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পোল্ট্রি সেক্টরে ব্যাংক সুদের হারও বেশ চড়া, যা গড়ে বাৎসরিক ১২ থেকে ১৪ শতাংশ এবং প্রকৃত কার্যকর সুদের হার প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ। অধিকন্তু ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও অনেক অদৃশ্য খরচ খামারীদেরকে বহন করতে হয়।

বর্তমানে ডিম এবং মুরগী মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে বন্টন হচেছ। ফলে খামারীরা প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত। বিগত আট দশ মাসে একই সাথে চড়া উৎপাদন খরচ এবং ডিম ও মুরগির স্বল্পমূল্যের কারনে তাদেরকে বিপুল পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। প্রকৃত খামারীরা মধ্যস্বত্বভোগীদের কারনে এই শিল্পের মুনাফা থেকে বঞ্চিত এবং ভোক্তা জনগনকে উচ্চমূল্য দিতে হচেছ।

ডেইরী উপ-খাত (উধরৎু ঝঁন-ংবপঃড়ৎ)

বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে ডেইরী উপ-খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। অধিকন্তু ইহা গ্রামীণ আর্থসামাজিক ব্যবস্থাপনায় একটি চালিকা শক্তি। কারণ, বেশীরভাগ কৃষক পরিবারই পরোক্ষ ভাবে গবাদি পশু পালনের সাথে সংশ্লিষ্ট। কিন্তু ডেইরী উৎপাদন আমাদের চাহিদার অনেক নিচে এবং চাহিদার বেশীর ভাগই বিদেশ থেকে আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। কাজেই যথাযথ প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে এই খাতকে জোরদার করা সময়ের দাবি। বাংলাদেশে রয়েছে ২৪.০৫ মিলিয়ন গরু এবং ০.০৯ মিলিয়ন মহিষ। এর মধ্যে ৪.৯ মিলিয়ন গাভী থেকে এবং ০.৩ মিলিয়ন মহিষ থেকে দুগ্ধ আহরণ করা হয়। বাংলাদেশের বেশীর ভাগ গবাদিপশুই দেশী জাতের, যার উৎপাদন ক্ষমতা খুবই কম। ৪.৯ মিলিয়ন দুধের গরু এর মধ্যে ৪.২ মিলিয়নই হল স্থানীয় জাতের এবং বাকি ০.৭ মিলিয়ন শংকর জাতের। দেশের প্রয়োজন বৎসরে মাথাপিছু ১২০ মি:লি: হারে মোট ৭.২৩ মিলিয়ন টন দুধ। যার মধ্যে আমরা এখন উৎপাদন করছি মাত্র ২.৬৮ মিলিয়ন টন এবং বাকী ৫২,০০০ টন গুড়া দুধ আমদানির মাধ্যমে প্রয়োজন পূরণ করছি। এখনও আমাদের দুধের ঘাটতি ৩.৯১ মিলিয়ন টন। কাজেই আমদানি বাদ দিয়ে আমাদের প্রয়োজন ৪.৫ মিলিয়ন টন। আমরা যদি গবাদি পশুর স্বাস্থ উন্নয়ন করতে পারি তাহলে দুগ্ধ উৎপাদন বার্ষিক ৩.৭ মিলিয়ন টনে উন্নীত করা সম্ভব।

বর্তমানে আমাদের মাথাপিছু বার্ষিক দুগ্ধ ভোগ ৩.১ কেজি। আমরা প্রতি বছর বিদেশ থেকে গুড়া দুধ আমদানির জন্য প্রায় ১০ বিলিয়ন টাকা ব্যায় করছি। আমাদের গবাদি পশু উৎপাদন উন্নয়নে প্রধান বাধা হল উন্নত জাত, মানসম্পন্ন গো-খাদ্য এবং চিকিৎসা সেবার অভাব।

আমাদের পশুপালন বিভাগকে আরও কার্যকর এবং দক্ষ হতে হবে। তাদেরকে উদ্যোগী (চৎড়ধপঃরাব) ভূমিকা পালন করতে হবে। দুগ্ধ এবং দুগ্ধজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ডেয়রী শিল্পের উন্নয়নে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে, তবে সে জন্য সরকারী উদ্যোগ এবং প্রণোদনা অত্যাবশ্যক।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করেণ যে, ডেইরী শিল্পের উন্নয়নে সরকারের যথাযথ দৃষ্টিভঙ্গি নেই। অথচ এই সেক্টর হাজারও যুবকের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগনের আয় বৃদ্ধি এবং দারিদ্র বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং সেই সাথে গুড়া দুধ আমদানির উপরেও চাপ কমাতে পারে। তরল দুধ প্রক্রিয়াকরণে মুষক (ঠঅঞ) মুক্ত সুবিধা ছাড়া আমাদের স্থানীয় দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিপননে কেবলমাত্র মুষক (ঠঅঞ) মুক্ত সুবিধা ছাড়া অন্য কোন সুবিধা নাই। আমাদেরকে দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণের প্যাকেজিং সামগ্রী আমদানি করতে ৭১ শতাংশ আমদানি শুল্ক দিতে হচেছ।

অধিকন্তু গরষশ ঃধহশবৎ, অপচনশীল (ধংবঢ়ঃরপ) ঢ়ধপশধমরহম আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। মিল্কিং মেশিন এবং কুলিং ট্যাংকার আমদানিতে দিতে হয় শতকরা ৮ ভাগ এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতিতে দিতে হয় শতকরা ২৩ ভাগ। এরূপ নিম্নমাত্রার সরকারী সহযোগীতার কারণে আমাদের স্থানীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবসায়ীরা বাজার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছেন না। বিগত বৎসর স্থানীয় ব্যবসায়ীরা প্রায় ১৫০ মিলিয়ন লিটার তরল দুধ প্রক্রিয়াজাত করেছে। চার বছর আগে এই তরল দুধের উৎপাদন ছিল ৮৫ মিলিয়ন লিটার।

বাংলাদেশ প্রতি বছর গুড়া দুধ আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মূদ্রা ব্যয় করছে। উচ্চ মাত্রার আমদানি শুল্ক এবং কর এর ফলে আমাদের স্থানীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবসায়ীরা গুড়া দুধ আমদানিকারকদের তুলনায় প্রতিকুল অবস্থায় পড়েন। ২০০৮-২০০৯ সালে যেখানে গুড়া দুধের আমদানি শুল্ক ছিল শতকরা ৫১.৫ ভাগ, তা বর্তমানে শতকরা ৩৩ ভাগ। সরকারের উচিৎ এই দিকটি বিবেচনা করে আমদানিজাত দুধের শুল্ক বাড়িয়ে দেয়া, যাতে করে আমাদের নিজস্ব উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াজাত দুগ্ধ পণ্য প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে পারে এবং এই সেক্টরে দেশী শিল্পের উন্নয়ন ঘটতে পারে।

বাংলাদেশের ডেইরী শিল্পের উন্নয়নে সমুহ সম্ভাবনা আছে, কারণ বিশ্বের অন্যান্য যে সকল দেশের রয়েছে সর্বোচ্চ সংখ্যক গবাদি পশু তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। কিন্তু উৎপাদন ক্ষমতা খুবই কম। কাজেই ধৎঃরভরপরধষ রহংবসরহধঃরড়হ এর মাধ্যমে স্থানীয় জাত এর উন্নয়ন করে আমাদের দুগ্ধ উৎপাদন বর্তমানের চাইতে দ্বিগুণ করা সম্ভব। তবে এই জন্য সরকারী সহযোগীতা একান্ত আবশ্যক। এই সেক্টরে সব ধরণের শুল্ক এবং কর মুক্ত সুবিধা দিতে হবে। যাতে করে নতুন নতুন বিনিয়োগকারীরা এসে এই সেক্টরের উন্নয়ন ঘটাতে পারেন। গো-খাদ্যে ভর্তূকি দিতে হবে, যাতে খামারীরা সল্প খরচে দুগ্ধ উৎপাদন করতে পারে।

দুগ্ধ শিল্পের উন্নয়নে সমন্নিত নীতিমালা আবশ্যক। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত তাদের সরকারী সহযোগীতা এবং যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ করে আজ বিশ্বের বৃহত্তম দুগ্ধ উৎপাদনকারী দেশ এবং তারা তা রপ্তানিও করে। শুল্ক মূক্ত সহযোগীতা সুবিধা পেলে স্থানীয় দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে যন্ত্রপাতি, পরিবহন সমগ্রী এবং প্যাকেজিং সামগ্রী আমদানী করা সহজ হবে এবং তা এই শিল্পের উন্নয়নে অত্যাবশ্যক।

চামড়া শিল্প উপ-খাত (খবধঃযবৎ ওহফঁংঃৎু ঝঁন-ংবপঃড়ৎ)

বাংলাদেশে সত্তরের দশক থেকে চামড়া শিল্পের ব্যাপক উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটেছে। আমাদের ৯৫ ভাগ চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য বিদেশে বাজারজাত হয়। ঈৎঁংযবফ ষবধঃযবৎ, ভরহরংযবফ ষবধঃযবৎ, ষবধঃযবৎ মধৎসবহঃং এবং ভড়ড়ঃবিধৎ ইত্যাদি আমাদের প্রধান চামড়াজাত পণ্য। অধিকাংশ চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্য রপ্তানী হওয়ায় জার্মানী, ইতালি, ফ্রান্স, নেদারলেন্ড, স্পেন, রাশিয়া, ব্রাজিল, জাপান, সিংঙ্গাপুর এবং তাইওয়ানে। এই রপ্তানি পণ্যের মূল্য সংযোজন গড়ে দেশের মধ্যে ৮৫ শতাংশ এবং বিদেশে ১৫ শতাংশ। দেশে বর্তমানে একশত আধুনিক ট্যানারী শিল্প কারখানা রয়েছে। এসব মূলত: ঢাকা শহরে অবস্থিত।

চামড়া খাতে রপ্তানীর পরিমান ১৭৮ মিলিয়ন বর্গফুট চামড়া এবং তা থেকে আয় হয় ১৬০ মিলিয়ন ডলার। বিশ্ব চামড়া বাজারে বাংলাদেশের অংশ মাত্র ২ ভাগ। আমাদের রপ্তানিযোগ্য চামড়া-পণ্য যেমন- জুতা, লেদার জ্যাকেট, হাত মুজা, ব্যাগ, পার্স, বেল্ট ইত্যাদি থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মূদ্রা অর্জিত হয়।

আমাদের কাঁচা চামড়ার গুণগতমান তুলনামূলক ভাবে ভাল। কুষ্টিয়ার কাল ছাগলের চামড়া অত্যন্ত সমাদিৃত। চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে কৃষকদের যতœও উন্নতমানের চামড়া উৎপাদনে সহায়ক।

বাংলাদেশের চামড়ার প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ সংগৃহীত হয় কোরবানীর পশু থেকে। এ চামড়া রপ্তানীযোগ্য ভাবে প্রক্রিয়াকরণের জন্য বাংলাদেশ সরকার ট্যনারী শিল্প উন্নয়নে পৃষ্ঠপোষকতার উদ্যোগ নিয়েছে। এর ফলে রপ্তানিযোগ্য চামড়া উৎপাদনের মাত্রা পূর্বের তলনায় দ্বিগুণ হবে বলে আশা করা যায়। একটি হিসাব থেকে জানা যায় যে, নব্বই দশক থেকে রপ্তানি বাজারে শতকরা ১০ ভাগ থেকে ১৫ ভাগ হারে রপ্তানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে বার্ষিক গড় রপ্তানী দাড়িয়েছে ২২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশের রপ্তানীযোগ্য চামড়া পশ্চিম ইউরোপ ও জাপান সহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে রপ্তানি হচ্ছে এবং বাস্তবায়ন চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চামড়া শিল্পে উৎপাদিত চামড়া কাচাঁমাল হিসাবে রপ্তানির পাশাপাশি দেশী চামড়া শিল্প বিকাশের সুযোগ রয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে এ পদক্ষেপ যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করেছে। কাজেই এ জাতীয় শিল্পের বিকাশে যথাযথ ভূমিকা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ণে বিরাট অবদান রাখবে এ আশা অত্যন্ত যুক্তিসংগত।

মৎস্য উপ-খাত (ঋরংযবৎরবং ঝঁন-ংবপঃড়ৎ)

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মৎস্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। মৎস্য চাষ উন্নত ব্যবস্থা এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে এ ভূমিকা আরও অধিক কার্যকরী এবং লাভজনক করে তুলতে পারে। “মাছে ভাতে বাঙ্গালী” এ প্রবাদটি অতি পুরোনো। এমন একটা সময় ছিল যখন বাংলার সাধারণ জলাধর যথা নদীনালা, খাল বিল, হাওর বাওর প্রভৃতিতে ছিল মাছে ভরা। এর জন্য কোন চাষাবাদ বা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু সময়ের আবর্তে আজ দেশের জলাধার গুলো প্রাকৃতিক ভাবে উৎপাদিত মৎস্য সম্পদ হারিয়ে ফেলেছে। এছাড়া মৎস্য চাষের উপযোগী অনেক নতুন নতুন জলাধার সৃষ্টি করা হলেও দেশে মোট মৎস্য চাষ উপযোগী জলাধার প্রয়োজনে তুলনায় অপ্রতুলই থেকে গেছে। তবে সার্বিক বিবেচনায় এ উপ-খাতটির অবদান উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে এ উপ-খাত জাতীয় জিডিপিতে ৪.৯২ ভাগ অবদান রেখে চলছে, সামগ্রিক কৃষি উৎপাদনে যার অবদান শতকরা ২৩ ভাগ।  মৎস্য চাষে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ফলে বর্তমানে শুধু মিঠা পানিতে নয় বরং সমুদ্র উপকূলেও এর চাষ ও আহরণ কার্যাদী সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে দেশের মৎস্য উৎপাদন ২৩২৮৫৪৫ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে যার মধ্যে ১৮,৪৮,৭৩৫ মেট্রিক টন মিঠা পানির মাছ এবং ৪,৭৯,৮১০ মেট্রিক টন লোনা পানির সামুদ্রিক মাছ।

বাংলাদেশের সাধারণ জনগোষ্ঠির আমিষের চাহিদা পূরণে মাছ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। সরবরাহকৃত প্রানীজ আমিষের প্রায় শতকরা ৬৩ ভাগ হচেছ মৎস্যজাত আমিষ। বাংলদেশের উৎপাদিত  প্রায় সকল প্রজাতির মাছই মানুষ খেয়ে থাকে এবং এর ফলে আমিষযূক্ত খাদ্য এবং অধিক পুষ্টিমান সমৃদ্ধ খাদ্য সরবরাহে মৎস্য উপ-খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ সেক্টরের কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে জনশক্তির কর্মসংস্থানের পরিধিও যথেষ্ট পরিমানে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক হিসাব মতে বর্তমানে বাংলাদেশে ১২,৮০,০০০ জন লোক মৎস্য চাষ ও আহরণে নিয়োজিত রয়েছে, যাদের মধ্যে ৭,৭০,০০০ জন দেশের অভ্যন্তরীণ মিঠা পানিতে এবং ৫,১০,০০০ জন লোনা পানিতে মৎস্য চাষে নিয়োজিত। এছাড়াও প্রায় ৩.০৮ মিলিয়ন মৎস্য এবং চিংড়ী চাষী তাদের জীবিকা অর্জনে সম্পূর্নভাবে মৎস্য চাষের উপর নির্ভরশীল। তদুপরি একটি বিরাট জনগোষ্টি মৎস্য বিপণন ও প্রক্রিয়াকরন সহ মৎস্য বিষয়ক শিল্পে কর্মরত রয়েছে। মৎস্য শিল্পের চাহিদারবৃদ্ধির সাথে সাথে বহু গবেষণা ষ্টেশন স্থাপনসহ প্রচুর হ্যাচারী ও মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ গুলোতে মৎস্য বিজ্ঞানের উপর উন্নতর শিক্ষাদান ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার ফলে প্রতি বৎসর মৎস্য বিজ্ঞানে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত জনশক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বর্তমানে মৎস্য ও মৎস্যজাত দ্রব্য রপ্তানি বৈদেশিক মূদ্রা আয় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। বিশেষত: চিংড়ী, কাকড়া ও অন্যান্য মৎস্য আইটেম রপ্তানি করে বৈদেশিক মূদ্রার একটি বড় অংশ আয় করেছে, যার পরিমাণ মোট বৈদেশিক মূদ্রা আয় এর প্রায় ৫.৭১ ভাগ। এক হিসাব  মতে শুধুমাত্র চিংড়ী রপ্তানি করে যে বৈদেশিক মূদ্রা আয় হয় তার পরিমাণ তৈরী পোশাক রপ্তানির পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

সরকারী উদ্যোগ ইলিশ মাছ প্রজননের পদক্ষেপ নেয়ার ফলে ইলিশ মাছের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচেছ। রপ্তানিমূখী আয়ের  সম্ভাবনার ফলে চিংড়ী চাষের নতুন নতুন খামার সৃষ্টি সহ চিংড়ী উৎপাদনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। দেশের প্রায় ১,৬৬,০০০ বর্গ কিলোমিটার সামুদ্রিক জলসীমায় সামুদ্রিক মৎস্য আহরণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের আর্ন্তজাতিক আদালত কর্তৃক বাংলাদেশ ও মিয়ানমার এর সমুদ্রসীমা পূন:নির্ধারণের ফলে এক লক্ষ এগার হাজার বর্গ কিলো মিটার সামুদ্রিক জলাশয় বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার সাথে যুক্ত হওয়ার ফলে সমুদ্র মৎস্য আহরণের ক্ষেত্র আরও বি¯তৃত হয়েছে। ফলে সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে বিপুল সম্ভাবনার দুয়ার খুলে গিয়েছে।

উপসংহার

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন খাত জিডিপিতে প্রায় ১৯ ভাগ অবদান রাখছে এবং মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৬০ ভাগ কর্মসংস্থান করছে। এক সময় কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধি ৬৫.৬৫ ভাগ ছিলো যা বর্তমানেও ২.৫৩ ভাগ। বাংলাদেশের দারিদ্র আজও ব্যাপক বি¯তৃত তদুপরি কৃষি খাতের অবদানের কারনে দেশটি আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন তা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে। তবে মৌলিক খাদ্যশস্যের চাহিদা বাড়ছে স্লথগতিতে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও দ্রুত সম্প্রসারণশীল শহরায়নের কারনে জনগন এখন চাচ্ছে রকমারী এবং উন্নতমানের খাদ্য এবং সেই সাথে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য। এসব কারণে কৃষকের সামনে এখন নানাবিদ নতুন ফসল, উচ্চমূল্য ফসল, মাছ-মাংস, ফল-মূল, তৈলবীজ, দৃগ্ধজাত খাদ্য উৎপাদন করে আয় বৃদ্ধির বিরাট সম্ভাবনাও সৃষ্টি হচ্ছে। বিদেশী ফসল দেশে উৎপাদনের মাধ্যমে রপ্তানি বাজারে প্রবেশের সুযোগও বাড়ছে। এই সব সুযোগ ও সম্ভবনাকে কাজে লাগাতে এবং সফল করতে কৃষি ব্যবসাকে (অমৎরনঁংরহবংং) কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের সাথে কাজ করতে হবে, যাতে নতুন নতুন ফসল এবং পণ্য উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াজাত হতে পারে এবং মূল্য-সংযোজন পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ হতে পারে।

দানাশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এ সাফল্য অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে যথেষ্ট বাধা বিপত্তির আশঙ্কা রয়েছে। এসকল বাঁধা দূরীকরণে যথাযথ সরকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা ও উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ এসকল শাক-সবজী, ফল-মূল ও মসলা উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছে। এক্ষেত্রে বাস্তবায়নাধীন বিপুল সংখ্যক প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কৃষক খামার ও খামারীগণকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে। ফলে উদ্যান ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ অনেক নতুন নতুন শস্য প্রর্বতন করা সম্বভ হয়েছে যা স্থানীয় বাজারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছে। ভবিষ্যতে এরূপ সহায়তা চালু থাকলে শাক-সবজি, ফল-মূল ও মসলা উৎপাদনে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানিমূখী পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

স্থানীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে পোল্ট্রি উপ-খাত মানসম্মত পোল্ট্রি সামগ্রী উৎপাদন করে চলেছে। সাধারণভাবে পোল্ট্রি ফার্মগুলো অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী এবং কিছু কিছু বিপত্তি ব্যাতিরেকে পোল্ট্রি ফার্ম গুলোর ব্যবস্থাপনা মোটামুটি টেকসই এবং শক্তিশালী। অন্যদিকে গবাদি-পশু ও দগ্ধ খামার উন্নয়নে সরকারী পদক্ষেপ শুধু সীমিত নয় বরং ক্ষেত্র বিশেষে নিয়ন্ত্রনকারী ভূমিকায় রয়েছে। ফলে এ উপ-খাত তেমন উন্নতি লাভ করতে পারেনি।

চিংড়ী উৎপাদনে উদ্ভাবিত প্রযূক্তি সহায়তা সম্প্রসারিত হলে আরও অধিক উৎপাদন সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে লেবার ও আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগী হলে এ উপ-খাত আরও অধিক অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

এগ্রিবিজনেস ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নে সরকারের সংশ্লিষ্টতা এবং সহায়তা একটি অতিব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকার পলিসি নির্ধারণে সঠিক ভূমিকা পালন করলে সরকারী ও ব্যক্তিমালিকানাধীন উভয় সেক্টরের এগ্রোপ্রোডাকশন এবং এগ্রিবিজনেসে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

দারিদ্র দূরীকরণ এবং কর্মসংস্থানের জন্য কৃষি ভিত্তিক শিল্পস্থাপনে উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরী। এর ফলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে অন্যদিকে তেমনি কৃষিজাত কাঁচা মালের বাজার উন্নত হওয়ার ফলে উৎপাদন ত্বরান্বিত হবে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগবৃদ্ধিসহ গ্রামীণ জনগণের আয় বৃদ্ধি ও দারিদ্র দুরীকরণে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

কৃষিজাত উৎপন্ন দ্রব্যের স্বাস্থ্যসম্মত সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণে হিমায়িত করণের মাধ্যমে সংরক্ষণসহ বিভিন্ন পদ্ধতির সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণ করার ফলে সংরক্ষিত কৃষিজাত পণ্য এখন সারা বছরব্যপী স্থানীয় বাজারে বিক্রয় সহ বিদেশে রপ্তানীর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগের ফলে শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে আগামী দশকটিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হবে এবং জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে শিল্প শতকারা ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ অংশীদার হবে বলে আশা করা যায়। এ ছাড়া শিল্প ক্ষেত্রে দেশের জনশক্তির শতকরা প্রায় ৩৫ ভাগ নিয়োজিত হবে বলে আশা করা যায়। উল্লেখিত পরিমাণ প্রবৃদ্ধি ও অগ্রগতি অর্জনের জন্য সাধারণ শিল্প ও কৃষিভিত্তিক শিল্প বিকাশে সরকারী পরিকল্পনায় উল্লেখযোগ্য পলিসিগত পরিবর্তন জরুরী হবে। এক্ষেত্রে রপ্তানী অগ্রাধীকার ভিত্তিক র্গামেন্টস শিল্পের রপ্তানি সংক্রান্ত সকল সমস্যা নিরসনে সার্বিক সহযোগীতা প্রদান করতে হবে।

কৃষি ভিত্তিক শিল্প বিকাশে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ আর তা হচ্ছে সরকারী ও ব্যক্তিমালিকানাধীন শিল্পোউদ্যোক্তাগনের পারস্পরিক সহযোগীতা। এ খাতে ব্যাপক উন্নয়ণের লক্ষ্যে অন্তত:পক্ষে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কৃষি ভিত্তিক শিল্প সকল করের আওতা বহির্ভূত রাখা প্রয়োজন। কাঁচামালের সরবরাহ চেইনে যথাযথ পরিবর্তন এনে সরবরাহের নিরবিচ্ছিন্ন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে, যাতে মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ থেকে কাঁচামালের সরবরাহকে নিরাপদ রাখা যায়। এছাড়া কাচাঁমালের উৎপাদন যথাযথ পর্যায়ে রাখার জন্য কৃষিবীমা প্রবর্তন করা প্রয়োজন।

 

লেখকঃ

ড. মোঃ মিজানুর রহমান১

ড. মোঃ মোশারফ হোসেন২

১। সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট ডিভিশন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড।

২। প্রাক্তন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও উচ্চশিক্ষা গবেষণা সমন্বয়কারী, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনষ্টিটিউট এবং ন্যাশনাল কনসালটেন্ট, এফএও।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *