“বাংলাদেশ উপকূলে সীউইড চাষ : সম্ভাবনা ও গবেষণা অগ্রগতি” শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত

 

জান্নাত ঝুমা

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক আয়োজিত “বাংলাদেশ উপকূলে সীউইড চাষ : সম্ভবনা ও গবেষণা অগ্রগতি” শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অদ্য ১৭ এপ্রিল ২০১৯, বুধবার ঢাকার  ফার্মগেটের  কেআইবি থ্রি ডি সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইনস্টিটিউটের চলমান “বাংলাদেশ উপকূলে সীউইড চাষ এবং সীউইডজাত পণ্য উৎপাদন গবেষণা” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় প্রতিমন্ত্রী  জনাব মোঃ আশরাফ আলী খান খসরু, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মশালার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। কর্মশালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ রইছউল আলম মন্ডল, কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সম্মানীয় অতিথি হিসেবে কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জনাব আবু সাইদ মোঃ রাশেদুল হক। কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ।

কর্মশালার প্রধান অতিথি মাননীয় প্রতিমন্ত্রী  জনাব মোঃ আশরাফ আলী খান খসরু, এমপি তার বক্তব্যে বলেন, মৎস্য খাতের উন্নয়ন ভাবনায় আমরা এতদিন শুধুমাত্র প্রচলিত মৎস্যসম্পদ যেমন মাছ ও চিংড়িকেই বিবেচনা করে আসছি। কিন্তু, এর বাইরেও আমাদের জলাশয়ে বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন প্রচুর অপ্রচলিত মৎস্যসম্পদ রয়েছে। এরমধ্যে কাঁকড়া, কুচিয়া, ওয়েস্টার, শামুক, ঝিনুক, সীউইড ইত্যাদি অন্যতম। অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বসম্পন্ন এসব  অপ্রচলিত জলজসম্পদের উন্নয়ন, সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট বিগত কয়েক বছর যাবত গবেষণা পরিচালনা করে আসছে। অমিত সম্ভাবনাময় আমাদের সমুদ্র সম্পদের সর্বোচ্চ ও সহনশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবী। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসুরী জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও প্রাজ্ঞ নেতৃত্বে ঐতিহাসিক সমুদ্র বিজয়ের ফলে বঙ্গোপসাগরের তলদেশীয় ও ভাসমান মৎস্যসম্পদ আহরণের এক নবদিগন্তের সূচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে আমাদের সমুদ্রসীমায় মৎস্যসম্পদের মজুদ নির্ণয় এবং আহরণক্ষেত্র চিহ্নিতকরণের লক্ষ্যে “আর ভি মীন সন্ধানী” নামক জাহাজের মাধ্যমে বর্তমানে জরিপ কাজ পরিচালিত হচ্ছে।  এসব জরীপের ভিত্তিতে প্রাপ্ত তথ্য আমাদের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের স্থায়ীত্বশীল  উন্নয়ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করি।

তিনি আরো বলেন,  সীউইড আমাদের দেশে সামুদ্রিক স¤পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নতুন উদ্যোগ। সীউইডের  খাদ্যমান ও অন্যান্য উপযোগিতা সম্পর্কে আমাদের  দেশের মানুষ এখনও ততটা অবহিত ও সচেতন নন। তাই সীউইড  চাষ, এর পুষ্টিমান এবং বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে আমাদের দেশের মানুষকে সচেতন করে তোলতে হবে। শুধুমাত্র কক্সবাজারস্থ সমুদ্র উপকূলে নয়, অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলেও সীউইড চাষ প্রযুক্তিকে ছড়িয়ে দিতে হবে। এতে উপকূলীয় দরিদ্র জনসাধারণের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কর্মশালার বিশেষ আতিথি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মোঃ রইছউল আলম মন্ডল বলেন, ২০২১ সালে মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে এসডিজির অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন এবং সুনীল অর্থনীতির ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে সামুদ্রিক সম্পদের যথাযথ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই। তাই সীউইডসহ বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন অন্যান্য অপ্রচলিত মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। আশার কথা যে, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ইতোমধ্যে শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া, ওয়েস্টার, সীউইড ইত্যাদি অপ্রচলিত জলজসম্পদ নিয়ে গবেষণা পরিচালনা শুরু করেছে। ইনস্টিটিউট থেকে ইতোমধ্যে মিঠাপানির ঝিনুকে মূক্তা উৎপাদন, ঝিনুক ও কাঁকড়ার পোনা উৎপাদন এবং সীউইড চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। এসব প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে বাংলাদেশে মূক্তা, কাঁকড়া ও সীউইড চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলার ১৪৭টি উপজেলায় প্রায় ৩ কোটি লোক বসবাস করে যাদের অধিকাংশই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সামুদ্রিক সম্পদ আহরণের সাথে জড়িত। সীউইড চাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে উপকূলীয় জনসাধারণের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি তাদের জীবন মানের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব বলে আমি মনে করি। সেই সাথে, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর পুষ্টি চাহিদা পূরণে সীউইড খাওয়ার অভ্যাস আমাদের গড়ে তোলা প্রয়োজন। আজকের এই কর্মশালায়  বিশেষজ্ঞদের  নিকট থেকে যেসব সুপারিশ এসেছে তা ইনস্টিটিউটের ভবিষ্যত গবেষণা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও মৎস্য অধিদপ্তরের সম্প্রসারণ কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে আমি আশা রাখি।

কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জনাব মোঃ তৌফিকুল আরিফ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এর “বাংলাদেশ উপকূলে সীউইড চাষ এবং সীউইডজাত পণ্য উৎপাদন গবেষণা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক জনাব মোঃ মহিদুল ইসলাম।

মূল প্রবন্ধের ওপর নির্ধারিত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন  ড. এস.এম. রফিকুজ্জামান, বিভাগীয় প্রধান, ডিপার্টমেন্ট অব ফিসারিজ বায়োলজি এন্ড অ্যাকোয়াটিক এ্যানভাইরনমেন্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর এবং ড. মোঃ শাহাদাৎ হোসেন, অধ্যাপক, ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্স এন্ড ফিসারিজ, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

উক্ত কর্মশালায় বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণ কর্মী, সরকারী ও বেসরকারী সংস্থার প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, জেলে ও মৎস্যজীবী সমিতির প্রতিনিধিবৃন্দ সহ মোট ১৫০ জন উপস্থিত ছিলেন।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare