বাকৃবি জার্মপ্লাজম সেন্টারের গবেষণা সম্ভাবনাময় “বাউ ড্রাগন ফল”

মো. শাহীন সরদার, বাকৃবি

আমেরিকায় উৎপত্তি ঐুষড়পবৎবঁং ংঢ়. গোত্রের এ ফলটি দক্ষিণ এশিয়া প্রবর্তন করে বিংশ শতাব্দীর শেষে। তবে ভিয়েতনামে এ ফল সর্বাধিক বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়। বর্তমানে এ ফলটি মেক্সিকো, সেন্ট্রাল ও দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ চীন, ইসরাইল, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বাংলাদেশেও চাষ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে এ্যাভোকেডো, ম্যাঙ্গোঁস্টিন, স্ট্রবেরী, কিউই, রাম্বুটান, লংগান, ল্যাংসাট, জাবাটিকাবা, শান্তল, পীচফল, আলুবোখারা, পার্সিমন, এগ ফ্রুট, সাওয়ার সপ, নাসপাতী, প্যসন ফ্রুুট, ড্রাগন ফ্রুট এবং ডুরিয়ান ইত্যাদি বিদেশী ফলের প্রবর্তন করা হয়েছে। এদের মধ্যে কিউই ও  ডুরিয়ান ছাড়া প্রায় সব ফলই এদেশে কমবেশী হচ্ছে এবং কোন কোনটা থেকে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়াও দেখা যাচ্ছে যে, এদেশের অনেক জায়গাতেই বিশেষ করে উত্তর বঙ্গ ও ময়মনসিংহে বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরী চাষ করা হচ্ছে।

বর্তমানে বিদেশী ফলগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষের মাধ্যমে পুষ্টি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা অবদান রাখার ক্ষেত্রে অনন্য এক সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে ড্রাগন ফলের চাষের মাধ্যমে। গবেষকরা মনে করেছেন অচিরেই এ ফলটি এদেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করা সম্ভব হবে। ২০০৭ সালে বাংলাদেশে এ ফল প্রথম প্রর্বতন করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাাজম সেন্টার। এ সেন্টারের পরিচালক বিখ্যাত গবেষক অধ্যাপক ড. এম. এ. রহিম থাইল্যান্ড, ফোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে এ ফলের জাত নিয়ে এসে নতুন জাতের উদ্ভাবনের মাধ্যমে সেন্টার থেকে এ ফলটি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

পুষ্টি মূল্য ও ব্যবহার

ফলটির পুষ্টিগুণ সম্পর্কে ড. এম. এ. রহিম জানান, সব ধরণের ডায়েটের জন্য এ ফলটি উপযুক্ত। এ ফল শরীরের জন্য ফাইবার সরবরাহ করে যা পেটের পীড়া এবং লিভার এর জন্য উত্তম। খাবারের পর ডের্জাট হিসাবে পূর্ব ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এ ফল খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। এ ফলটি প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, মিনারেল এবং উচ্চ ফাইবার যুক্ত। জুস তৈরির জন্যও ফলটি অত্যন্ত উপযোগী। প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে ফাইবার ০.৯ গ্রাম, ফ্যাট ০.৬১ গ্রাম, এ্যাশ ০.৬৮ গ্রাম, ক্যারোটিন ০.০১২ গ্রাম, পানি ৮৩.০ গ্রাম, ফসফরাস ৩৬.১ মি. গ্রাম, এসকোরবিক এসিড ৯.০ মি. গ্রাম, প্রোটিন ০.২২৯ গ্রাম, রিবোফাবিন ০.০৪৫ মি. গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৮.৮ গ্রাম, নায়াসিন ০.৪৩০ মি. গ্রাম ও আয়রন ০.৬৫ মি. গ্রাম থাকে। খাদ্যমানের এ প্রাচুর্যের জন্য হয়তোবা উৎপাদনকরী দেশগুলোতে প্রতিবেলার খাবারের সাথে এ ফল না থাকলে যেন তা অপূর্ণ থেকে যায়। ড্রাগন ফল দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধকর। এমন কথা প্রচলিত আছে যে, একটি তাজা ফল খেয়ে মানব শরীরকে সতেজ ও সুস্থ রাখা যায়। যে সমস্ত মানুষ ডায়াবেটিক রোগে ভোগেন তারা এ ফল খেয়ে শরীরের রক্তের গুকোজকে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। ফ্রেশ ফলের চেয়ে শুষ্ক ফল বেশ কার্যকরী। এ ফল সালাদের সাথেও ব্যবহার করা যায়।

রাতের রাণী ড্রাগন ফুল

ড্রাগন ফল ক্যাকটাস গোত্রের একটি ফল। গাছ দেখে সবাই একে চির সবুজ ক্যাক্টাস বলেই মনে করেন। এশিয়ার মানুষের কাছে এ ফল অনেক জনপ্রিয়, হালকা মিষ্টি-মিষ্টি। এ ফলকে ড্রাগন ফল ছাড়াও পিটাইয়া, টিহায়া ইত্যাদিও নামে ডাকা হয়। ড্রাগন ফল গাছে শুধুমাত্র রাতে ফুল দেয়। ফুল লম্বাটে সাদা ও হলুদ অনেকটা নাইট কুইন ফুলের মত। এ কারণে ড্রাগন ফুলকেও ‘মুন ফ্লাওয়ার’ বা ‘রাতের রাণী’ বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে। ড্রাগন ফলের গাছ লতানো ইউফোরবিয়া গোত্রের ক্যাকটাসের মত কিন্তু এর কোন পাতা নেই। ফুল স্বপরাগায়িত, তবে মাছি, মৌমাছি ও পোকা-মাকড় এর পরাগায়ন ত্বরান্বিত করে এবং কৃত্রিম পরাগায়নও করা যেতে পারে।

জলবায়ু ও মাটি

এ ফলটির জন্য শুষ্ক  ট্রপিক্যাল জলবায়ু প্রয়োজন। মধ্যম বৃষ্টিপাত এ ফলের জন্য ভালো। উপযুক্ত বৃষ্টিপাত ৬০০-১৩০০ মি.মি. ও তাপমাত্রা ৩৮-৪০ড় সে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে ফুল ঝরে পড়ে এবং ফলের পচন দেখা দেয়। প্রায় সব ধরণের মাটিতেই ড্রাগন ফল  চাষ করা যায়। তবে পানি জমে না এমন উঁচু জমিতে এ ফলটি চাষ করা ভাল। উচ্চ জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ বেলে-দোঁয়াশ মাটিই এ ফল চাষের জন্য উত্তম। তবে অবশ্যই পানি সেচ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। ড্রাগন ফল প্রচুর আলো পছন্দ করে।

জাত

বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সফলভাবে চাষ করার জন্য

বাউ ড্রাগন ফল -১ (সাদা)

বাউ ড্রাগন ফল -২ (লাল)

এছাড়া হলুদ ড্রাগন ফল, কালচে লাল ড্রাগন ফল চাষ করা যেতে পারে

রোপণ ও সার ব্যবস্থাপনা

গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৩ মি. এবং সারি থেকে সারির দূরত্ব ৩ মি. দিয়ে হেক্সাগোনাল পদ্ধতি ব্যবহার করে  এ গাছ লাগানো উত্তম। তবে অবস্থাভেদে দূরত্ব কম বা বেশি দেওয়া যেতে পারে। ড্রাগন ফলের  চারা রোপণের জন্য ২০-৩০ দিন আগে প্রতি গর্তে ৪০ কেজি পচা গোবর, ৫০ গ্রাম ইউরিয়া, টিএসপি ও এমপি ১০০ গ্রাম করে এবং জিপসাম, বোরাক্স ও জিঙ্ক সালফেট ১০ গ্রাম করে দিয়ে, গর্তের মাটি উপরে-নীচে ভালোভাবে মিশায়ে রেখে দিতে হবে। সার দেওয়ার ২০-৩০ দিন পরে গাছ লাগানো যাবে। এরপর প্রতি বছরে প্রতি গাছের জন্য ৪০ কেজি পচা গোবর ঠিক রেখে ইউরিয়া ৫০ গ্রাম, টিএসপি ও এমপি ১০০ গ্রাম এবং জিপসাম, বোরাক্স ও জিঙ্ক সালফেট ১০ গ্রাম করে বৃদ্ধিহারে প্রয়োগ করতে হবে। ক্যাকটাস গোত্রের গাছ বিধায় বছরের যে কোন সময়ই লাগানো যায় তবে এপ্রিল-সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে লাগানো ভালই। এ গাছ ১.৫-২.৫ মিটার লম্বা হয়। তবে এ গাছকে উপরের দিকে ধরে রাখার জন্য সিমেন্টের/বাঁশের খুঁটির সাথে উপরের দিকে তুলে দেওয়া হয় (ভিয়েতনাম সিস্টেম)। এছাড়া উপরের দিকে ছোট মোটর গাড়ীর (মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার) চাকা বাঁশের চ্যাগারের মধ্যে সেট করে খুব সহজেই এ গাছের লতা গুলোকে বাড়তে দেওয়া যায় (শ্রীলঙ্কা সিস্টেম)। থাইল্যান্ড ও ফোরিডাতে দুই পাশে দুটি খুটি পুতে মোটা তারের উপরে তুলে চাষ করা হয় (ফোরিডা সিস্টেম)। কাটিংকৃত কলম প্রতি গর্তে ৪-৫টি করে লাগানো হয়। এক্ষেত্রে যদি ভিয়েতনাম প্রদ্ধতি অনুসরণ করা হয় তাহলে পিলারের চারদিকে কলম লাগিয়ে পিলারের সাথে বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু যদি থাইল্যান্ড ও ফোয়াডা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় তাহলে গর্তে সোজা করে ৪-৫টি কলম রোপণ করা হয়।

বংশ বিস্তার

এ ফলের বংশ বিস্তার অত্যন্ত সহজ। বীজ দিয়েও বংশ বিস্তার করা যেতে পারে। তবে এতে ফল ধরতে একটু বেশি সময় লাগে। সেজন্য কাটিং এর মাধ্যমে বংশ বিস্তার করাই উত্তম। কাটিং এর সফলতার হার প্রায় শতভাগ এবং ফলও তাড়াতাড়ি ধরে। কাটিং থেকে উৎপাদিত একটি গাছে ফল ধরতে ১২-১৮ মাস সময় লাগে। সাধরণত বয়স্ক এবং শক্ত শাখা কেটে হালকা ছায়াতে বেলে দোঁআশ মাটিতে গোড়ার দিকের কাটা অংশ পুতে সহজেই চারা উৎপাদন করা যায়। ২০ থেকে ৩০ দিন পরে কাটিং এর গোড়া থেকে  শিকড় বেরিয়ে আসবে। তখন এটা মাঠে লাগানোর উপযুক্ত হবে। তবে উপযুক্ত পরিবেশ ও প্রয়োজন অনুযায়ী কাটিংকৃত কলম সরাসরি মূল জমিতে লাগানো যায়।

প্রুনিং ও ট্রেনিং

ড্রাগন ফল খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং মোটা শাখা তৈরী করে।  একটি এক বছরের গাছ ৩০টি পর্যন্ত শাখা তৈরী করতে পারে এবং ৪ বছর বয়সী একটি ড্রাগন ফলের গাছ ১৩০ টি পর্যন্ত প্রশাখা তৈরী করতে পারে। তবে শাখা-প্রশাখা উৎপাদন উপযুক্ত ট্রেনিং ও ব্যবস্থাপনার উপর নির্ভর করে। একটি গবেষণালয়ে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশের প্রোপটে ১৫-২০ মাস পর একটি গাছ ফল ধারণ করে। ফল সংগ্রহের পর ৪০-৫০ টি প্রধান শাখা রেখে ১/২টি  সেকেন্ডরী শাখা অনুমোদন করা হয়। তবে এটি েেত্র টারসিয়ারী ও কোর্য়াটারনারী প্রশাখা কে অনুমোদন করা হয়। ট্রেনিং এবং প্রুনিং এর কার্যক্রম দিনের মধ্যভাগে করাই ভালো। ট্রেনিং ও প্রুনিং করার পর অবশ্যই যে কোন ছত্রাকনাশ প্রয়োগ করতে হবে। অন্যথায় বিভিন্ন প্রকার রোগ বালাই আক্রমণ করতে পারে।

সেচ

ড্রাগন ফলে পানি খুব কম লাগে। তবে নালা পদ্ধতিতে নালার ভিতরে পানি রেখে পানির প্রয়োজনীয়তা মিটানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে দুই সারির মাঝখানে ৫০-১০০ সে. মি. আকারে নালা তৈরি করা যেতে পারে যাতে এতে ১-২ দিন পানি রেখে গাছে রস সরবরাহ করা যায়। তবে সেচের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে যে, এ গাছ অতিরিক্ত পানি সহ্য করতে পারে না।

অসময় ফল উৎপাদনের কলা কৌশল

বাউ জার্মপ্লাজম সেন্টারে পরীক্ষামূলক চাষে দেখা গেছে যে ফল আসা শুরু হয় মার্চ মাসে এবং সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সংগ্রহ করা যায়। ভিয়েতনামে  শীত কালে দিবসের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে প্রতি চার টি গাছের জন্য একটি করে ৭৫-১০০ ওয়াটের লাইট সন্ধ্যা থেকে ৫-৬ ঘন্টা জালিয়ে রেখে ফল আনা হচ্ছে।

রোগ বালাই ও পোকা-মাকড়

এ ফলে রোগ বালাই খুবই একটা চোখে পড়ে না। তবে কখনো কখনো এ ফল গাছে মূলপঁচা, কান্ড ও গোড়া পঁচা রোগ দেখা যায়।

মূল পঁচা

গোড়ায় অতিরিক্ত পানি জমে গেলে মূল পচে যায়। তবে এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে উঁচু জমিতে এ ফলের চাষ করা ভাল। এ রোগটি Fusarium sp দ্বারা সংঘটিত হয়।

কান্ড ও গোড়া পঁচা রোগ

ছত্রাক অথবা ব্যাকটিরিয়া দ্বারা এ রোগ হতে পারে। এ রোগ হলে গাছের কান্ডে প্রথমে হলুদ রং এবং পরে কালো রং ধারণ করে এবং পরবতীতে ঐ অংশে পচন শুরু হয় এবং পঁচার পরিমাণ বাড়তে থাকে। এ রোগ দমনের জন্য যে কোন ছত্রাকনাশক (বেভিস্টিন, রিডোমিল, থিওভিট) ইত্যাদি ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রয়োগ করে সহজেই দমন করা যায়।

পোকা-মাকড়

ড্রাগন ফলের জন্য ক্ষতিকর পোকা-মাকড় খুব একটা চোখে পড়ে না, তবে মাঝে মাঝে এফিড ও মিলি বাগের আক্রমণ দেখা যায়। এফিডের বাচ্চা ও পূর্ণ বয়স্ক পোকা গাছের কচি শাখা ও পাতার রস চুষে খায়, ফলে আক্রান্ত গাছের কচি শাখা ও ডগার রং ফ্যাকাশে হয়ে যায় ও গাছ দূর্বল হয়ে পড়ে। এ পোকা ডগার উপর আঠালো রসের মতো মল ত্যাগ করে ফলে শুটিমোল্ড নামক কালো ছত্রাক রোগের সৃষ্টি হয়। এতে গাছের খাদ্য তৈরি ব্যহত হয় ফলে ফুল ও ফল ধারণ কমে যায়। এ পোকা দমনে সুমিথিয়ন/ডেসিস/ম্যালাথিয়ন ইত্যাদি কীটনাশক প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২৫ মি.লি./৫ ক্যাপ ভালোভাবে মিশিয়ে স্প্রে করে সহজেই এ রোগ দমন করা যায়।

ফলন

১২-১৮ মাস বয়সের একটি গাছে ৫-২০টি ফল পাওয়া যায় কিন্তু পূর্ণ বয়স্ক একটি গাছে ২৫-১০০টি পর্যন্ত  ফল পাওয়া যায়। হেক্টর প্রতি  ফলন ২০-২৫ টন।

————————————–

লেখকঃ

শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ,

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।

মোবাইল-০১৭৩ ৭৭২১৬০৩

পোস্টাল ঠিকানাঃ ১০৯/গ, শাহজালাল হল,

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *