বিনা’র আরেক সাফল্যঃ লবণাক্ততা সহিঞ্চু গমের উন্নত জাত উদ্ভাবন

ড. নিয়াজ পাশা

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) লবণাক্ততা সহিঞ্চু গমের উন্নত একটি জাত “বিনা গম ১” উদ্ভাবন করেছে। লাবণাক্ততায় আক্রান্ত দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জমিতে এ জাতটি ভাল ফলন দিবে। স্বাভাবিক জমিতেও এটি অনেক ফলন দিবে।

বৈশিষ্ট্যঃ “বিনা গম ১” এর উদ্ভাবক বিজ্ঞানী, উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড আবুল কালাম আজাদ এই জাতের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলেন, এ মিউট্যান্টটি অঙ্গজ বৃদ্ধি পর্যায় থেকে পরিপক্ক হওয়া পর্যন্ত ১২ ডি এস সি/ মি লবণাক্ততায়ও চেক জাত ‘বারি গম ২৫’  অপেক্ষা ১০-১৫% বেশী ফলন দিতে সক্ষম। লবণাক্ত জমিতে বয়স্ক গাছের উচ্চতা ৬৭-৯০ সেমি এবং অলবণাক্ত জমিতে ৯৮-১০৪ সেমি, গাছ হেলে পরে না, গাছের কান্ড এবং পাতার শীর্ষে মোমের আস্তর থাকে । জীবনকাল ১০৫-১১০ দিন।

ফলনঃ পরমাণু কৃষি বিজ্ঞানী ড আজাদ আরো বলেন, গমের দানা মাঝারি সাইজের এবং বাদামী রঙের। “বিনা গম ১” জাতটি একই সাথে পাকে; লবণাক্ত জমিতে ২.২৩ -৩.৫ টন / হেক্টর; গড়ে ২.৯ টন / হেক্টর এবং অলবণাক্ত জমিতে ৩.৫–৪.৫ টন / হেক্টর ; গড়ে ৩.৮ টন/ হেক্টর ফলন দিবে। এক হাজার দানার ওজন হবে ৩৬.৬ গ্রাম।

চাষ পদ্ধতিঃ “বিনা গম ১” এর চাষাবাদ পদ্ধতি অন্য গম জাতের মতই। নভেম্বরের ১৫ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বীজ বপন করা যায় । তবে এই সময় জমির লবণাক্ততা ৫ ডি এস সি / মি অধিক না হওয়াই ভাল । ২-৪ টি চাষ ও মৈ দিয়ে জমি প্রস্তত করে ১২ ইঞ্চি বা ৩০ সেমি দুরত্বে সারি করে এবং সারিতে গাছ থেকে গাছের দূরত্বে গাছ রাখতে হবে ।

ড আজাদ বলেন, প্রতি হেক্টর লবণাক্ত জমিতে ২২০-২৬০ কেজি ইউরিয়া; ১২৫-১৫০ কেজি টি এস পি; ১২০-১৪০ কেজি এম ও পি; ৬৫-৮৫ কেজি জিপসাম; ৬ কেজি করে জিংক সালফেট ও বোরিক এসিড এবং অলবণাক্ত জমিতে ৪০ কেজি ইউরিয়া; ২০  কেজি এম ও পি বেশী দিতে হবে। ইউরিয়া সারের অর্ধেকসহ বাকী রাসায়নিক সার জমি প্রস্তুতকালে শেষ চাষের সময় এবং  বাকী ইউরিয়া বীজ বপনের ২০-২৫ দিন পর ছিটিয়ে দিতে হবে। তাছাড় জমিতে হেক্টর প্রতি ৫ টন করে পঁচা গোবর বা কম্পোস্ট সার জমি প্রস্তুতকালে ব্যবহার করলে ভাল ফলন পাওয়া যাবে। এর ফলে রাসায়নিক সার হিসাব করে কম ব্যবহার করতে হবে । গমে খুবই কম সেচ লাগে । বৃষ্টিপাত ৮০ মিলি এর কম হলে ১ম সেচ ২০-২৫ দিন পর এবং অপর সেচটি ফুল আসা শুরু হলে দিতে হবে । “বিনা গম ১” জাটি কাল দাগ (ইষধপশ ঢ়ড়রহঃ) এবং পাতা পোড়া (খবধভ নষড়পয) সহণশীল । জাব পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কীটনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে।

বিনা’র মহাপরিচালক ড শমশের আলী “বিনা গম ১” সম্পর্কে বলেন, এই জাতটি চাষ সম্প্রাসারণের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ত জমিকে চাষাধীনে আনা সম্ভব হবে। অলবণাক্ত জমিতেও এটি বেশী ফলন দিবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, এই জাতটি যেহেতু চাষে অল্প দিন লাগে, তাই গম চাষ করেও অন্য ফসল চাষ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, লবণাক্ত জমিতেঃ গম-বোনা আউস/পতিত-রোপা আমন এবং অলবণাক্ত জমিতেঃ  গম – নাবি বোরো ধান বা আউশ ধান রোপা আমন  শস্য বিন্যাসে চাষ করা যাবে। আবার অলবণাক্ত জমিতেঃ গম গ্রীস্মকালিন গম রোপা আমন ধানের চাষ করা যাবে। “বিনা গম ১” খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ।

————————————–

লেখকঃ

কৃষি প্রকৌশলী এবং  কৃষি সাংবাদিক ।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *