বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০১৮ সফল হোক

১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস। এ বছর বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হল  “কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ, ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী গড়া সম্ভব”। ১৯৮১ সাল থেকে বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রতিষ্ঠার দিনটি (১৬ অক্টোবর, ১৯৪৫) দারিদ্র্য ও ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৫০ টিরও বেশি দেশে বিশ্ব খাদ্য দিবস হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। একটি দেশের সামাজিক নিরাপত্তার জন্য সবার আগে প্রয়োজন খাদ্য নিরাপত্তা। কারন দেশের নাগরিকগণের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে খাদ্য অন্যতম। তাই গত কয়েক দশকে পৃথিবীর আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে চাষযোগ্য জমি সংরক্ষণ, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম বনায়ন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাংলাদেশ এবং পৃথিবীর সবগুলো উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশ, ব্যস্ত হয়ে আছে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। পৃথিবী জুড়ে গ্লোবাল ওয়ার্মিং এবং আরো কয়েকটি বিষয়ের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এখন সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যের মধ্যে একটি।

বাংলাদেশের কৃষকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যুগ যুগ ধরে আমাদের খাদ্য জোগান দিয়ে আসছে। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশ আজ আমাদের প্রধান খাদ্য চাল উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। স্বাধীনতার সময় যখন দেশে চাল উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১০ লক্ষ মেট্রিক টন, বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৪ কোটি ১৩ লক্ষ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ স্বাধীনতার পর জনসংখ্যা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেলেও চালের উৎপাদন বেড়েছে তিনগুণের বেশি। তারপরও দেশের কৃষিকে সুরক্ষিত ও খাদ্য নিরাপত্তার মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে হলে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কৃষি জমি অকৃষি খাতে চলে যাওয়া রোধ করা, পরিকল্পিতভাবে কৃষি পণ্যের বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধাদি যেমন- সেচ ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন, সময়মতো উন্নতমানের বীজ ও সার সরবরাহ এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল পুরোপুরি রক্ষা এবং পরিবার ভিত্তিক খামারগুলোকে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান নিশ্চিত করা গেলে কৃষি উৎপাদন যে আরও বেড়ে যাবে, তা অনেকটা জোর দিয়েই বলা যায়।

সর্বশেষে, সামাজিক নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে হলে কৃষি ব্যবস্থা জোরদার করণের মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র চক্রকে ভেঙ্গে ফেলতে হবে। যারা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পরিশ্রম করছেন, সেসব কৃষকদের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান, তাদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন সাধন করার মধ্যেই বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০১৮ পালনের সার্থকতা নিহিত। এগুলো নিশ্চিত করা গেলে আগামী ২০৩০ সালের আগেই ক্ষুধামুক্ত উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। আমরা বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০১৮ এর সফলতা কামনা করি।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare