বোরো ধানের বাম্পার ফলন: ন্যায্য মূল্য নিয়ে শঙ্কা

চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে। প্রতি বছর বোরো ধান চাষে কম-বেশি দুর্যোগ লেগে থাকে। গত কয়েক বছর বন্যা, শিলাবৃষ্টি, ঝড়ের কারণে মাঠ থেকে অধিকাংশ কৃষক বোরো ফসল উঠাতে পারেননি। চলতি বোরো মৌসুমে নানা প্রতিকূলতার পরও ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। দেশের হাওর অঞ্চল সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণাসহ দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলে খোঁজ নিয়ে এবার বোরো ধানের আবাদের যে চিত্র পাওয়া গেছে তা খুবই আশাব্যঞ্জক।

বিশ্বব্যাংকের ‘কমোডিটি মার্কেট আউটলুক : এপ্রিল ২০১৯’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ কম থাকায় চলতি অর্থবছর চাল উৎপাদন রেকর্ড পরিমাণ বাড়তে পারে। বিশ্বব্যাংক আভাস দিয়েছে, চলতি বছর বাংলাদেশে চালের উৎপাদন দাঁড়াবে তিন কোটি ৫০ লাখ টন। উৎপাদনের দিক থেকে এটি হবে সর্বোচ্চ। এতে গত বছরের চেয়ে দেশে চালের উৎপাদন বাড়বে সাত শতাংশের বেশি। আর উৎপাদন বেড়ে যাওয়া ও আমদানিতে আবার শুল্ক আরোপ করায় এ বছর দেশে চাল আমদানি ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে যাবে। তবে ফলন বা উৎপাদন ভালো হলেও অনেক এলাকার কৃষক ন্যায্য দাম না পাওয়ার আশঙ্কায় ভুগছে। বাম্পার ফলনে গোলা ভরা ধানেও তাদের মুখে হাসি ফুটছে না। জানা যায়, আড়তগুলোতে প্রতি মণ মোটা ধান ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং চিকন ধান ৫০০ থেকে শুরু করে ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কৃষকদের দাবি, প্রতি বিঘা বোরো জমিতে সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি শ্রমিক, জ্বালানি তেলসহ সব মিলিয়ে ১২/ ১৩ হাজার টাকা ব্যয় হয়। বর্তমান ধানের বাজার মূল্যে কৃষকদের মুনাফা হয় না। এ দিকে বাজারে নতুন চাল আমদানি হওয়ায় চালের দামও কমে গেছে। বাজারে প্রতি কেজি চিকন ব্রি ধান ২৮/২৯ চাল পাইকারি ৩৬ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মোটা চাল ৩৩ টাকায় বিক্রি হয় বলে জানা গেছে। ফলে রাইস মিল মালিকরাও নতুন ধান কিনে লাভবান হচ্ছে না বলে তারা জানান।

বাংলাদেশের প্রান্তিক কৃষকরা লাভবান না হওয়ার পেছনে প্রথমত শ্রমিক মজুরী বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের উৎপাদনের খরচ আগের তুলনায় বেড়ে যায়। দ্বিতীয়ত অন্যান্য শিল্পের মতো কৃষি খ্যাতে প্রন্তিক কৃষকরা সরাসরি বিক্রয় কাজে অংশ নিতে না পারায় মধ্যস্বত্বভোগীরা বিভিন্নভাবে লাভবান হচ্ছে। মধ্যস্বত্বভোগিরা নিজেদের নির্ধারণ করে দেয়া অল্পদামে কৃষকদের থেকে পণ্য সংগ্রহ করে একটি নির্দিষ্ট সময় পর তা কয়েকগুণ লাভে বিক্রি করে। এতে কৃষির উৎপাদন বাড়লেও কৃষকরা লাভবান হতে পারছে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের ফসল সংগ্রহ করার সময় যেন তা প্রকৃত কৃষকদের কাছে থেকে করা হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে কৃষি বীমাসহ তাদের আর্থিক সুবিধা দানে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

২. পহেলা মে আন্তর্জাতিক মে দিবস। আমাদের দেশের সকল শ্রমজীবী মানুষের অধিকার যাতে সুনিশ্চিত হয়, শ্রমিক যাতে ন্যায্য মূল্য পায় এটাই হোক আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare