মাছের পানি ব্যবহার কওে মাটিবিহীন সবজি উৎপাদন

মো. শাহীন সরদার

অ্যাকোয়াপনিক্্র  পদ্ধতি যার অর্থ মাছের পানি ব্যবহার করে মাটিবিহীন সবজি উৎপাদন। ড্রামে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ করা হয়। মাছ চাষের জন্য ব্যবহৃত পানি দিয়েই মাটিবিহীন বিভিন্ন প্রজাতির সবজি চাষ প্রক্রিয়াই অ্যাকোয়াপনিক্্র । যেখানে শুধুমাত্র মাছ চাষের জন্য কিছু খাদ্য সরবরাহ করা হয়, মাছের বর্জ্য ও পানির এই পুষ্টি দিয়েই কোনরকম রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও মাটিবিহীন পদ্ধতিতে পাওয়া যায় সতেজ শাকসবজি। ফলে পুরোপুরি রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মুক্ত জীববৈচিত্র বান্ধব পরিবেশে অল্প জায়গা থেকে বছরব্যাপী শুধু মাছের পানি ব্যবহার করে  বাসার ছাদ বা বারান্দায় একই সঙ্গে মাছ ও প্রচুর শাকসবজি উৎপাদন করা যায়।

অ্যাকোয়াপনিক্স  পদ্ধতিতে সমন্বিতভাবে মাছ ও শাকসবজি উৎপাদন পদ্ধতি দেশে সর্বপ্রথম প্রবর্তক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের একোয়াকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. এ. সালাম। বাসার পুরোটো ছাদ জুড়ে গড়ে তুলেছেন একোয়াপনিক্সে চাষ। তিনি পুষ্টি প্রবাহ পদ্ধতি, মিডিয়া বেস পদ্ধতি, উলম্ব পদ্ধতি, এরোপনিক্স বা ঝর্ণা পদ্ধতি ব্যবহার করে একই সঙ্গে তেলাপিয়া, কমন কার্প, মাগুর, শিং ও পাঙ্গাস মাছ চাষের সাথে  প্রচুর শাকসবজি টমেটো, কলমি, কচু, ঢেঁড়স, পুদিনা, লালশাক, পুইশাক, বরবটি, ধুন্দল, চিচিঞ্চা, স্টবেরী, পেপে, করলা, ভুট্ট্রা, চালকুমড়া, লেটুস, কাকড়োল, ওলকফি ও বেগুন উৎপাদন করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের কৃষি গবেষণায় অনবদ্য (অ্যাকোয়াপনিক্সে) অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ গত ১৬ জুলাই রোববার অর্জন করেন “বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২২”।

ছাদটি খুব বড় নয়, কিন্তু এখানে কোনো গাছের রোগ ও পোকার আক্রমণের তেমন কোনো সুযোগ নেই, কারণ, এখানে মাটির ব্যবহার হচ্ছে না। এতে মাটির জীবাণুগুলো এখানে ফসলে ছড়াতে পারছে না। ব্যবহার হচ্ছে কোকো ডাস্ট। কোনো গাছেই মরা, রোদে ঝলসে যাওয়া বা ছত্রাকে আক্রান্ত কোনো পাতা নেই। গাছগুলি একেবারে তরতাজা। এখানে মাটি ও পানিতে গাছবান্ধব অনুজীবের পরিমাণ বাড়াতে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। সারাক্ষণ পানি থেকে মাটি ও ফসলের খাদ্য তৈরির এই কার্যক্রমটি চলছে চালু এক যন্ত্রের মতো। এ যেন জীবন্ত মাছ ও গাছ গাছালির এক কারখানা।

একোয়াপানিক্সের মাধ্যমে সহজেই বাড়ির আঙ্গিনায়, বাড়ির পিছনে বা উঠানে, ব্যালকনিতে বা ছাদে শাক-সবজি ও মাছ উৎপাদন করে একদিকে যেমন নিজের পরিবারকে তরতাজা শাক-সবজি ও মাছ  উপহার দেওয়া যায় অপরদিকে পারিবেশিক ভারসাম্যতা ও খাদ্যমান বজায় রাখা যায়।

একোয়াপনিক্স এর সুবিধা সমূহ:

  •  একোয়াপনিক্স  প্রক্রিয়ায় চাষাবাদ করতে মাটির প্রয়োজন হয় না ।
  •  মাটিবাহিত রোগ এবং অনুজীব দ্বারা আক্রান্ত হয় না ।
  •  কোন পৃকার রাসায়নিক সার, কীটনাশক দেওয়ার প্রয়োজন নেই ।
  •  তুলনামূলক ভাবে ভূমির পরিমাণ কম লাগে এবং কোন প্রকার আগাছা দমনের প্রয়োজন নেই তাই শ্রমিক খরচ কম।
  •  বাড়ীর ছাদ বা আঙ্গিনায় সহজেই এই পদ্ধতি স্থাপন করা যায়।
  • প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে কম খরচে অনেক বেশি ফলন পাওয়া যায়।

এই পদ্ধতিতে মাছের অব্যবহৃত খাদ্য ও বর্জ্য থেকে উৎপন্ন অ্যামোনিয়া মাছের ট্যাংক এ জমা হয় যা মাছের জন্য খুব ক্ষতিকর। অ্যামোনিয়া যুক্ত পানি সবজির মাচায় সরবরাহ করা হয়। সেখানে মিডিয়াম হিসেবে ব্যবহৃত হয় নুড়ি পাথর, বালি বা কাঠের গুড়া ইত্যাদি। এই সকল মিডিয়িমে জমাকৃত নাইট্রোসোমোনাস ব্যাকটেরিয়া অ্যামোনিয়াকে ভেঙ্গে নাইট্রাইট এ পরিণিত করে, পরে নাইট্রোব্যাকটর নাইট্রাইটকে ভেঙ্গে নাইট্রেটে পরিণত করে। এই নাইট্রেট মাছের জন্য ক্ষতিকর নয় কিন্ত গাছের জন্য মূল্যবান পুষ্টি হিসেবে কাজ করে। এই প্রক্রিয়ায় অ্যামোনিয়া ও নাইট্রাইট এর পরিমাণ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি থাকে ।

বিভিন্ন প্রকার একোয়াপনিক্স

একোয়াপনিক্সের অনেক ধরণ সম্ভব। এটা খুব সহজ পুকুরের পানিতে ভাসমান সবজির মাচা হতে শুরু করে খুব জটিল অধিক ঘনত্বের মাছের ট্যাঙ্কের পানি ব্যবহার করে সবজির চাষ হতে পারে।

মিডিয়ার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন প্রকার একোয়াপনিক্স নিয়ে আলোচনা করা হলো।

সার্বক্ষণিক পানির প্রবাহ

সবজি উৎপাদনের পাত্রে দুই ভাবে পানি সরবরাহ করা যায়। প্রথমত সাধারণ পানির প্রবাহ, এই পদ্ধতিতে পাম্পের সাহায্যে সবজির পাত্রে সব সময় পানি পাম্প করা হয়। এই পানি মিডিয়ার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুনরায় মাছের ট্যাঙ্কে ফিরে আসে। এটা হচ্ছে একোয়াপনিক্সের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি।

সেচকৃত পানি উৎপাদন

মিডিয়ার মধ্য দিয়ে সরাসরি প্রবাহিত হয় সাথে সাথে মাছের ট্যাঙ্কে ফিরে আসে। এতে সফল পুষ্টি মিডিয়ার মাঝে জমার জন্য পর্যন্ত সময় পায়না। এই অসুবিধা দূর করার জন্য পানি সরবরাহের পাইপে অনেকগুলি ছিদ্র করে বা অনেকগুলি পাইপে বিভক্ত করে সমস্ত মিডিয়াতে পানিকে ছড়িয়ে দিলে অনেক বেশী মিডিয়া এই পানি দ্বারা সিক্ত হবে এবং গাছ অনেক বেশী পুষ্টি পাবে। এভাবে পানিকে সব মিডিয়ার মাঝে পৌঁছানো সম্ভব না হয় তবে জৈবিক ফিল্টার ঠিকমত কাজ করতে পারবে না এবং সব পুষ্টি আহরণ করা সম্ভব হবে না। ফলের গাছের বৃদ্ধিও ভাল হবে না।

এই পদ্ধতির অসুবিধা দূর করার জন্য যে পাইপ দ্বারা সবজি উৎপাদন পাত্রের পানি মাছের ট্যাঙ্কে ফিরে আসে তা একটু উপরে স্থাপন করলে পাত্রে সব সময়ই কিছু পানি থেকে যাবে ফলে অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটবে। তবে এই পদ্ধতিরও অনেক অসুবিধা আছে। যেমন এতে গাছের শিকড় জলমগ্ন হয়ে যেতে পারে। উৎপাদন পাত্রের কোন কোন অংশ স্থির এবং অক্সিজেনহীন হতে পারে যা গাছের জন্য ক্ষতিকর। সবচেয়ে ভাল হয় যদি মিডিয়ার ৯০% সময়ে সিক্ত থাকে তবে জৈবিক ফিলট্রেশন ভাল হয় এবং ব্যাকটেরিয়ার কলোনী অধিক কাজ করতে পারে। সাথে সাথে মিডিয়ার কোন অংশে যান পানি স্থির না থাকে বা পানি চলাচল বন্ধ না হয়।

পানির প্রবাহ এবং নির্গমন

এই পদ্ধতিতে একটি সাম্প ট্যাঙ্ক থাকে যেকান থেকে পানি উপরে অবস্থিত মাছের ট্যাঙ্কে পাম্প করে নেওয়া হয়। এই মাছের ট্যাঙ্কের পানির উচ্চতা একটি নির্দিস্ট সীমার উপরে উঠলেই অতিরিক্ত পানি সবজির ট্যাঙ্কে প্রবাহিত হয় এবং এখান হতে পানি পুনরায় সাম্প ট্যাঙ্কে ফিরে আসে। এই পদ্ধতিতে একটি সময় নিয়ন্ত্রক যন্ত্র যোগ করা থাকে যা নির্দিষ্ট সময় অন্তর সাম্প ট্যাঙ্ক হতে পানি মাছের ট্যাঙ্কে পাম্প করে উত্তোলন করে এবং সবজির ট্যাঙ্কে পানি সরবরাহ হয়। অত:পর এই পানি সাম্প ট্যাঙ্কে ফিরে আসে। এই পদ্ধতির বড় সুবিধা হলো মাছের ট্যাঙ্কে কোন পাম্প থাকে না। মাছের ট্যাঙ্কের পানির উচ্চতা সব সময় একই রকম থাকে ফলে পাম্প নষ্ট হলে বা ইলেকট্রিসিটি চলে গেলেও পানির ট্যাঙ্ক পরিপূর্ণই থাকে।

সহজ পানির প্রবাহ এবং নিঃসরণ

সম্ভবত একোয়াপনিক্সের সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হচ্ছে এটি। এই পদ্ধতিতে পাশাপাশি মাছের ট্যাঙ্ক এবং সবজির পাত্র স্থাপন করা হয়। মাছের ট্যাঙ্কের পানি সরাসরি সবজির মাচায় পাম্প করে সরবরাহ করা হয় এবং পানি পুনরায় মাছের ট্যাঙ্কে ফিরে আসে। এই পদ্ধতিতে যদি পাম্প নষ্ট হয় বা ইলেকট্রিসিটি চলে যায় তবে পানি মাছের ট্যাঙ্কে গিয়ে পরে ফলে কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এই পদ্ধতি খুবই কম্প্যাক্ট ।

দুই পাম্প বিশিষ্ট সাম্প পাম্প

এই পদ্ধতিতে মাছের ট্যাঙ্কের পানি সবজির মাচায় পাম্পের সাহায্যে সরবরাহ করা হয়। সবজির মাচায় সরবরাহকৃত পানি সাম্প ট্যাঙ্কে এসে জমা হয়। সাম্প ট্যাঙ্কের পাম্পের সাথে একটি ভাসমান ভাল্ব যুক্ত করা থাকে যা পানির উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে সুইচ অন হয়ে পাম্প চালু হয়ে পানি মাছের ট্যাঙ্কে সরবরাহ করে। ভাসমান ভাল্বের উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফলে সাম্প ট্যাঙ্কে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি থাকতে পুনরায় সুইচ অফ হয়ে যায় ফলে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়। ফলে সাম্প ট্যাঙ্কের পানিতে ছোট আকারের মাছ পালন করা যায়।

এই পদ্ধতিরও কিছু সুবিধাও অসুবিধা রয়েছে। সুবিধা গুলির মধ্যে প্রধান হলো সাম্প ট্যাঙ্কের পানি দিনে বেশ কয়েক বার পাম্প করে মূল মাছের ট্যাঙ্কে নেওয়া হয় ফলে সরবরাহকৃত পানিতে অক্সিজেন যোগ হওয়া মাছের ট্যাঙ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। এই পদ্ধতিতে অনেকগুলি ট্যাঙ্ক এবং পাইপ মাটিতে সামান্য উপরে স্থাপন করা হয় যাতে ছোট আকারের মাছকে নার্সিং বা অন্যান্য প্রজাতির মাছও পালন করা যায়। এই পদ্ধতির অসুবিধার মধ্যে প্রধান হলো এতে দুটি পাম্পের প্রয়োজন হয় বলে খরচ বৃদ্ধি পায়। এই পদ্ধতি যদি ইলেকট্রিসিটি চলে যায় এবং সবজির মাচা যদি পানিতে পরিপূর্ণ থাকে তবে সাম্প ট্যাঙ্ক উপচিয়ে পানি বাইরে পড়তে পারে ফলে পানির অপচয়ের সম্ভাবনা থাকে।

পানির প্রবাহ ও নিঃসরণের বেশ কিছু সংস্করণ প্রচলিত আছে। এর মধ্যে প্রথমত সবজির মাচায় পানি সরবরাহের জন্য সময় নিয়ন্ত্রন সুইচ লাগানো থাকে। এই পদ্ধতিতে সবজির মাচায় একটি উলম্ব পাইপ স্থাপন করা হয়। যদি মাচায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি সরবরাহ হয় তবে উম্ব পাইপের উপর দিয়ে পানি সাম্প ট্যাঙ্কে গিয়ে পরে। যখন পাম্প বন্ধ থাকে তখন উলম্ব পাইপের গোড়ার ছিদ্র দিয়ে পানি ধীরে ধীরে এসে সাম্প ট্যাঙ্কে পরে।

পানির প্রবাহ ও নিঃসরণের অপর পদ্ধতিটি হলো অটো সাইফোন পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে সবজির মাচার পানি একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় এলে সাইফলের চারিদিকে একটি প্রেসারের সৃষ্টি হয় এবং হঠাৎ করেই পানি দ্রুত সাম্প ট্যাঙ্কের নিঃসরণ হয়। এই পদ্ধতিতে উৎপাদন মাচায় পানি খুব দ্রুত পানি সাম্প ট্যাঙ্কে এসে জমা হয়।

অটো সাইফন কিছুটা অসুবিধার সৃষ্টি করতে পারে কারণ অটো সাইফন হঠাৎ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এটা বন্ধ হলেও খুবই মজার একটি পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখার জন্য।

অন্য ভাবে একোয়াপনিক্স স্থাপন করা গেলেও প্রথমত খুব সহজ পদ্ধতি দিয়ে এটা আরম্ভ করা উচিৎ। এর ফলে একোয়াপনিক্সের সুবিধা-অসুবিধাগুলি জেনে পরে আরও বড় ধরণের একোয়াপনিক্সের প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে। পানির প্রবাহ এবং নি:সরণ পদ্ধতিতে সব সময় পানি প্রবাহ পদ্ধতির চেয়ে অনেক গুরুত্ব বহন করে। উলম্ব পাইপ সময় নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হচ্ছে খুবই সহজ এবং নবীন চাষীদের জন্য ভাল কারণ এতে তেমন একটা ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না।

উলম্ব পদ্ধতি একোয়াপনিক্স  নিয়ে আলোচনা করা হলো

উলম্ব পদ্ধতি

উলম্ব পদ্ধতি হলো একটি গাছের ওপরে আরেকটি গাছ জন্মানো। এ পদ্ধতিতে স্বল্পজায়গায় অনেক গাছ একসঙ্গে লাগানো যায়। এ ছাড়া এ পদ্ধতিতে কোনো কীটনাশক ও সারের প্রয়োজন না হওয়ায় অল্প খরচে অনেক লাভবান হতে পারবে কৃষকরা। উলম্ব পদ্ধতি সম্পর্কে ড. সালাম জানান, উলম্ব পদ্ধতিতে ৪ ইঞ্চি ব্যাস ও ৪.৫ ফুট লম্বা একেকটি প্লাস্টিকের পাইপের মাঝে ১৩-১৫টি ছিদ্র করে তা নারকেলের ছোবড়া দিয়ে ভর্তি করা হয় যাতে পাইপটি বেশি ভারী না হয় এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে পারে। পাইপের প্রতিটি ছিদ্রের মাঝে একটি করে শাকসবজির চারা যেমন স্ট্রবেরি, লেটুস, টমেটো, কচু, শিম, পেঁপে, শসা, পুদিনা, ঢেঁড়স, ওলকপি ইত্যাদি চাষ করেন তিনি। চারাগুলোর শিকড়কে এমনভাবে পাইপের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়া হয়, যাতে তা নারকেলের ছোবড়ার মাঝে ভালোভাবে ছড়িয়ে থাকে। এরপর পাইপগুলোকে উলম্বভাবে একটি বাঁশের সঙ্গে ঝুলিয়ে দিয়ে নিচের দিকে একটি প্লাস্টিকের মগ যুক্ত করে তাতে একটি চিকন পাইপ লাগিয়ে একটি নির্গমন পাইপের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেয়া হয়। ফলে পাইপের ওপর দিয়ে প্রবাহিত পানি পাইপের মাঝে অবস্থিত নারকেলের ছোবড়া ও গাছের শিকড়ের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নির্গমণ পাইপের সাহায্যে পুনরায় মাছের ট্যাঙ্কে এসে পড়ে।

উলম্ব পদ্ধতির পাশাপাশি আনুভূমিকভাবে দোতলা-তিনতলা পদ্ধতিতে একটি মাচার ওপর কয়েক সারি ছিদ্রযুক্ত পাইপ স্থাপন করে প্রতিটি ছিদ্রের মাঝে একটি করে ছিদ্রযুক্ত প্লাস্টিকের গ্লাসে ইটের খোয়া দিয়ে তার মাঝে সবজির চারা রোপণ করেও অল্প স্থান থেকে অধিক ফসল উৎপাদন করে ভূমির ওপর চাপ কমানো সম্ভব।

ড. সালাম বলেন, এ পদ্ধতিতে পাইপের এক পাশ থেকে মাছের পানি সরবরাহ করা হয় এবং অন্য পাশ দিয়ে পানি মাছের ট্যাঙ্কে ফিরে আসে। এরপর একটি ৫০০ লিটারের প্লাস্টিকের পানির ট্যাঙ্কের ওপরের মাথা কেটে পানি দিয়ে পূর্ণ করে তাতে প্রতি ১০ লিটার পানিতে একটি তেলাপিয়া মাছের পোনা ছেড়ে তাদের চাহিদা অনুযায়ী দুই বেলা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত ভাসমান খাবার সরবরাহ করা হয়। মাছের ট্যাঙ্কে যাতে অক্্িরজেনের অভাব না হয় তার জন্য একটি বায়ু পাম্পের সাহায্যে পানিতে অক্্িরজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। এবার মাছের ট্যাঙ্কের পানিকে একটি ছোট্ট পাম্পের সাহায্যে প্রতিটি পাইপের ওপর দিয়ে তার মাঝে সরবরাহ করা হয়। এ পদ্ধতিতে মাছের ট্যাঙ্কে অ্যামোনিয়াযুক্ত দূষিত পানি নারকেলের ছোবড়া ও গাছের শিকড়ের মাঝে বসবাসকারী ডি-নাইট্রিফায়িং ব্যাকটেরিয়া প্রথমে অ্যামোনিয়াকে ভেঙে নাইট্রাইট ও পরে নাইট্রোব্যাকটর নাইট্রেটে পরিণত করে যা পাইপে অবস্থিত গাছকে পুষ্টির জোগান দেয় এবং পরিষ্কার ও নিরাপদ পানি মাছের ট্যাঙ্কে ফিরে আসে। এখানে কোনো ধরণের মাটি, রাসায়নিক সার বা পেস্টিসাইড ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। মাটিতে যে স্থানে একটি মাত্র গাছের চারা লাগানো যায় সে একই পরিমাণ স্থানে এ পদ্ধতিতে ১৩-১৫টি চারা লাগানো সম্ভব।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সর্ম্পকে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. এম এ সালাম জানান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে একোয়াপনিক্্র ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করতে চাই। যেখানে প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রদর্শণীর ব্যবস্থা থাকবে। ফলে সারাদেশসহ বিদেশ থেকে লোক এসে এ পদ্ধতি সর্ম্পকে জানতে পারবে এবং পদ্ধতির বিস্তৃতি ঘটবে। একোয়াপনিক্্র ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

————————————–

লেখকঃ

শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক, মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,

ময়মনসিংহ, ২২০২, পোস্টাল: ২৩০/ই, শাহজালাল হল, বাকৃবি।

মোবাইল- ০১৭৩৭৭২১৬০৩।

FacebookTwitterGoogle GmailEmailYahoo MailYahoo MessengerShare

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *